সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  অক্টোবর ২০১৪

তোমরা “যাজকদের এক রাজ্য” হবে

তোমরা “যাজকদের এক রাজ্য” হবে

“আমার নিমিত্তে তোমরাই যাজকদের এক রাজ্য ও পবিত্র এক জাতি হইবে।”—যাত্রা. ১৯:৬.

১, ২. কেন নারীর বংশের সুরক্ষা প্রয়োজন ছিল?

ঈশ্বরের উদ্দেশ্য কীভাবে পরিপূর্ণ হবে, তা বোঝার জন্য বাইবেলের প্রথম ভবিষ্যদ্‌বাণীটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ঈশ্বর যখন এদনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: “আমি তোমাতে [শয়তান] ও নারীতে, এবং তোমার বংশে ও তাহার বংশে পরস্পর শত্রুতা জন্মাইব।” এই শত্রুতা বা ঘৃণা কতটা চরম হবে? যিহোবা বলেছিলেন: “সে [নারীর বংশ] তোমার [শয়তানের] মস্তক চূর্ণ করিবে, এবং তুমি তাহার পাদমূল চূর্ণ করিবে।” (আদি. ৩:১৫) শয়তান ও নারীর মধ্যে শত্রুতা এতটাই চরম হবে যে, নারীর বংশকে ধবংস করার জন্য দিয়াবল তার সমস্ত ক্ষমতা ব্যবহার করবে।

তাই, এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই, গীতরচক ঈশ্বরের লোকেদের সম্বন্ধে এই প্রার্থনা করেছিলেন: “দেখ, তোমার শত্রুগণ গর্জ্জন করিতেছে, তোমার বিদ্বেষিগণ মস্তক তুলিয়াছে। তাহারা তোমার প্রজাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করিতেছে, তোমার লুক্কায়িতগণের বিরুদ্ধে পরস্পর পরামর্শ আঁটিতেছে। তাহারা বলিয়াছে, আইস, আমরা উহাদিগকে উচ্ছিন্ন করি, আর জাতি থাকিতে না দিই।” (গীত. ৮৩:২-৪) শয়তানের লক্ষ্য ছিল নারীর বংশের ধারাকে ধবংস ও কলুষিত করা। তাই, সেই বংশের সুরক্ষা করার জন্য এবং মশীহ রাজ্য যে প্রতিষ্ঠিত হবে, তা নিশ্চিত করার জন্য যিহোবা আরও কিছু চুক্তি করেছিলেন।

 যে-চুক্তি বংশকে সুরক্ষা করে

৩, ৪. (ক) ব্যবস্থা চুক্তি কখন কার্যকর হয়েছিল আর ইস্রায়েল জাতি কী করার জন্য রাজি হয়েছিল? (খ) ব্যবস্থা চুক্তি কী সুরক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল?

অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের বংশধর বৃদ্ধি পেয়ে যখন লক্ষ লক্ষ হয়েছিল, তখন যিহোবা তাদের নিয়ে ইস্রায়েল জাতি গঠন করেছিলেন। ঈশ্বর মোশিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে এই জাতির সঙ্গে এক অদ্বিতীয় চুক্তি করেছিলেন। যিহোবা তাদের ব্যবস্থা দিয়েছিলেন এবং ইস্রায়েল জাতি তা পালন করার জন্য রাজি হয়েছিল। বাইবেল জানায়, মোশি “নিয়মপুস্তকখানি লইয়া লোকদের কর্ণগোচরে পাঠ করিলেন; তাহাতে তাহারা কহিল, সদাপ্রভু যাহা যাহা কহিলেন, আমরা সমস্তই পালন করিব ও আজ্ঞাবহ হইব। পরে মোশি সেই [বলিদানকৃত বৃষের] রক্ত লইয়া লোকদের উপরে প্রক্ষেপ করিয়া কহিলেন, দেখ, এ সেই নিয়মের” বা চুক্তির “রক্ত, যাহা সদাপ্রভু তোমাদের সহিত এই সকল বাক্য সম্বন্ধে স্থির করিয়াছেন।”—যাত্রা. ২৪:৩-৮.

ব্যবস্থা চুক্তি খ্রিস্টপূর্ব ১৫১৩ সালে কার্যকর হয়েছিল। সেই চুক্তির মাধ্যমে যিহোবা প্রাচীন ইস্রায়েল জাতিকে এক বিশেষ উদ্দেশ্যের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। ঈশ্বর তাদের বিচারকর্তা, ব্যবস্থাপক এবং রাজা হবেন। (যিশা. ৩৩:২২) লোকেরা যখন ঈশ্বরের ধার্মিক মানের প্রতি বাধ্য অথবা অবাধ্য হয়, তখন কী ঘটে, ইস্রায়েলের ইতিহাস তা তুলে ধরে। ঈশ্বরের ব্যবস্থার প্রতি বাধ্যতার অর্থ ছিল, ইস্রায়েলীয়রা পৌত্তলিকদের বিয়ে করতে পারবে না অথবা অন্য দেব-দেবীর উপাসনা করতে পারবে না। এই ব্যবস্থা অব্রাহামের বংশকে কলুষতা থেকে সুরক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।—যাত্রা. ২০:৪-৬; ৩৪:১২-১৬.

৫. (ক) ব্যবস্থা চুক্তির ফলে ইস্রায়েল জাতি কোন সুযোগ লাভ করেছিল? (খ) কেন ঈশ্বর ইস্রায়েল জাতিকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?

ব্যবস্থা চুক্তির অধীনে, যাজকদেরকে ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে সেবা করার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল। এই যাজকরা এমন আরেকটা যাজক দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিল, যারা ভবিষ্যতে আরও উত্তম উপায়ে মানুষের সেবা করবে। (ইব্রীয় ৭:১১; ১০:১) আসলে, ব্যবস্থা চুক্তি ইস্রায়েল জাতিকে “যাজকদের এক রাজ্য” হয়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছিল। এই বিশেষ সুযোগ লাভ করার জন্য ইস্রায়েলীয়দের যিহোবার আইনগুলোর প্রতি বাধ্য হতে হতো। (পড়ুন, যাত্রাপুস্তক ১৯:৫, ৬.) কিন্তু, তারা সেই বাধ্যতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিল। তারা মশীহকে অর্থাৎ অব্রাহামের বংশের মুখ্য অংশকে গ্রহণ করেনি। এর পরিবর্তে, তারা যিশুকে প্রত্যাখ্যান করেছিল আর ফল স্বরূপ, যিহোবাও তাদের প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

ইস্রায়েলের অবাধ্যতার অর্থ এই ছিল না, ব্যবস্থা চুক্তি ব্যর্থ হয়েছে (৩-৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)

৬. ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কী ছিল?

ইস্রায়েল জাতি যেহেতু ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকেনি, তাই তারা যাজকদের এক রাজ্য হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু, তার মানে এই নয়, ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে। সেই ব্যবস্থা নারীর বংশকে সুরক্ষা করেছিল এবং মশীহকে শনাক্ত করার জন্য লোকেদের সাহায্য করেছিল। খ্রিস্ট যখন পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং তাঁকে শনাক্ত করা হয়েছিল, তখনই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য  পরিপূর্ণ হয়েছিল। বাইবেল বলে: “খ্রীষ্টই ব্যবস্থার পরিণাম।” (রোমীয় ১০:৪) তাহলে, কোন দল যাজকদের এক রাজ্য হওয়ার সুযোগ লাভ করবে? যিহোবা এক নতুন জাতি গঠন করার জন্য আরেকটা বৈধ চুক্তি করেছিলেন।

এক নতুন জাতি গঠিত হয়

৭. যিহোবা যিরমিয়ের মাধ্যমে কোন ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন?

ব্যবস্থা চুক্তি বাতিল হওয়ার অনেক আগেই যিহোবা ভাববাদী যিরমিয়ের মাধ্যমে এই ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন, তিনি ইস্রায়েল জাতির সঙ্গে “এক নূতন নিয়ম” বা চুক্তি করবেন। (পড়ুন, যিরমিয় ৩১:৩১-৩৩.) সেই চুক্তি, ব্যবস্থা চুক্তি থেকে ভিন্ন হবে কারণ এই চুক্তি অনুযায়ী পাপের ক্ষমা লাভ করার জন্য পশুবলি দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কীভাবে সেটা সম্ভব হয়েছিল?

৮, ৯. (ক) যিশুর রক্তের মাধ্যমে কী সম্ভবপর হয়েছে? (খ) নতুন চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা কোন সুযোগ লাভ করতে পেরেছে? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

শত শত বছর পর, ৩৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ নিশান যিশু এক নতুন উদ্‌যাপন প্রবর্তন করেছিলেন আর সেটা হল প্রভুর সান্ধ্যভোজ। দ্রাক্ষারসের পাত্র নিয়ে যিশু তাঁর ১১ জন বিশ্বস্ত প্রেরিতকে বলেছিলেন: “এই পানপাত্র আমার রক্তে নূতন নিয়ম,” বা চুক্তি, “যে রক্ত তোমাদের নিমিত্ত পাতিত হয়।” (লূক ২২:২০) মথির বিবরণ অনুযায়ী, যিশু এই কথা বলেছিলেন: “ইহা আমার রক্ত, নূতন নিয়মের” বা চুক্তির “রক্ত, যাহা অনেকের জন্য, পাপমোচনের নিমিত্ত, পাতিত হয়।”—মথি ২৬:২৭, ২৮.

যিশুর বলিদানের রক্তের মাধ্যমে নতুন চুক্তি কার্যকর হয়েছিল। এই রক্ত এক বার দেওয়া হয়েছিল আর এর ফলে অনেক লোক অনন্তকালের জন্য পাপের ক্ষমা লাভ করতে সমর্থ হয়েছিল। যিশু নতুন চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি পাপী ছিলেন না আর তাই তাঁর ক্ষমা লাভ করার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু, ঈশ্বর যিশুর বলিদানের মূল্য মানুষের উপকারের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া, তিনি কিছু বিশ্বস্ত মানুষকে অভিষিক্ত করার জন্য তাঁর পবিত্র আত্মা ব্যবহার করতে পারেন এবং তাদের ‘পুত্ত্র’ হিসেবে দত্তক নিতে পারেন। (পড়ুন, রোমীয় ৮:১৪-১৭.) যিহোবা তাদেরকে তাঁর পুত্র যিশুর মতো দেখতে পারেন, যিনি কোনো পাপ করেননি। এই অভিষিক্ত ব্যক্তিরা “খ্রীষ্টের সহদায়াদ” হবে। এ ছাড়া, ইস্রায়েল জাতি যে-বিশেষ সুযোগ অর্থাৎ “যাজকদের এক রাজ্য” হওয়ার সুযোগ হারিয়েছিল, তারা সেই সুযোগও লাভ করবে। তাদের সম্বন্ধে প্রেরিত পিতর বলেছিলেন: “তোমরা ‘মনোনীত বংশ, রাজকীয় যাজকবর্গ, পবিত্র জাতি, [ঈশ্বরের] নিজস্ব প্রজাবৃন্দ, যেন তাঁহারই গুণকীর্ত্তন কর,’ যিনি তোমাদিগকে অন্ধকার হইতে আপনার আশ্চর্য্য জ্যোতির মধ্যে আহ্বান করিয়াছেন।” (১ পিতর ২:৯) স্পষ্টতই, নতুন চুক্তি অতীব গুরুত্বপূর্ণ! এই চুক্তি যিশুর শিষ্যদেরকে অব্রাহামের বংশের আরেকটা অংশ হয়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছিল।

নতুন চুক্তি কার্যকর হয়

১০. নতুন চুক্তি কখন কার্যকর হয়েছিল আর এর আগে কেন তা কার্যকর হয়নি?

১০ নতুন চুক্তি প্রভুর সান্ধ্যভোজের সময়ে কার্যকর হয়নি। কেন তা বলা যায়? কারণ এই চুক্তি কার্যকর করার জন্য যিশুকে স্বর্গে ফিরে গিয়ে ঈশ্বরের সামনে তাঁর বলিদানের মূল্য উপস্থাপন করতে হতো। এ ছাড়া, যারা “খ্রীষ্টের সহদায়াদ” হবে, তাদেরও পবিত্র আত্মা দ্বারা অভিষিক্ত হওয়া প্রয়োজন ছিল। তাই, ৩৩ খ্রিস্টাব্দের পঞ্চাশত্তমীর দিন নতুন চুক্তি কার্যকর হয়েছিল, যে-দিন যিশুর শিষ্যরা ঈশ্বরের আত্মা লাভ করেছিল।

১১. যিহুদি এবং অচ্ছিন্নত্বক পরজাতীয় ব্যক্তি, উভয়কেই আত্মিক ইস্রায়েলের অংশ হতে নতুন চুক্তি কীভাবে সাহায্য করেছিল আর কত জন ব্যক্তি নতুন চুক্তির অন্তর্ভুক্ত?

১১ যিহোবা যখন যিরমিয়ের মাধ্যমে ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ইস্রায়েলের সঙ্গে একটা নতুন চুক্তি করবেন, তখন সেটা ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা চুক্তির আর প্রয়োজন হবে  না। নতুন চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ব্যবস্থা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। (ইব্রীয় ৮:১৩) নতুন চুক্তির মাধ্যমে যিহুদি এবং অচ্ছিন্নত্বক পরজাতীয় ব্যক্তিরা, উভয়েই ঈশ্বরের রাজ্যের উত্তরাধিকারী হওয়ার সমান সুযোগ লাভ করবে কারণ তাদের ত্বকচ্ছেদ হবে “হৃদয়ের . . . ত্বক্‌ছেদ, যাহা অক্ষরে নয়, আত্মায়।” (রোমীয় ২:২৯) ঈশ্বর তাদের মনে ও তাদের হৃদয়ে তাঁর আইনগুলো দেবেন। (ইব্রীয় ৮:১০) ১,৪৪,০০০ জন অভিষিক্ত ব্যক্তি সেই নতুন চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। তারা এক নতুন জাতি গঠন করে, যেটাকে বলা হয় ‘ঈশ্বরের ইস্রায়েল’ বা আত্মিক ইস্রায়েল।—গালা. ৬:১৬; প্রকা. ১৪:১, ৪.

১২. কীভাবে ব্যবস্থা চুক্তি ও নতুন চুক্তির মধ্যে তুলনা করা যায়?

১২ কীভাবে ব্যবস্থা চুক্তি ও নতুন চুক্তির মধ্যে তুলনা করা যায়? ব্যবস্থা চুক্তি করা হয়েছিল যিহোবা এবং ইস্রায়েল জাতির মধ্যে আর নতুন চুক্তি করা হয়েছে যিহোবা ও আত্মিক ইস্রায়েলের মধ্যে। ব্যবস্থা চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ছিলেন মোশি আর নতুন চুক্তির মধ্যস্থতাকারী হলেন যিশু। ব্যবস্থা চুক্তি পশুর রক্তের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছিল আর নতুন চুক্তি যিশুর বলিদানের রক্তের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছিল। ব্যবস্থা চুক্তির অধীনে, মোশি ইস্রায়েল জাতির নেতা ছিলেন। আর মণ্ডলীর মস্তক যিশু হলেন নতুন চুক্তির অধীনস্থ ব্যক্তিদের নেতা।—ইফি. ১:২২.

১৩, ১৪. (ক) কীভাবে নতুন চুক্তি রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত? (খ) আত্মিক ইস্রায়েল যাতে স্বর্গে খ্রিস্টের সঙ্গে শাসন করতে পারে, সেজন্য কী প্রয়োজন?

১৩ কীভাবে নতুন চুক্তি রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত? এই চুক্তির ফলে এমন এক পবিত্র জাতি উৎপন্ন হয়েছিল, যে-জাতির স্বর্গরাজ্যে রাজা ও যাজক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই জাতিই অব্রাহামের বংশের আরেকটা অংশ গঠন করে। (গালা. ৩:২৯) তাই, নতুন চুক্তি নিশ্চয়তা দেয় যে, অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তি পরিপূর্ণ হবে।

১৪ নতুন চুক্তির ফলে আত্মিক ইস্রায়েল জাতি উৎপন্ন হয় আর এই চুক্তি হচ্ছে অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের জন্য “খ্রীষ্টের সহদায়াদ” হওয়ার বৈধ ভিত্তি। কিন্তু, কীভাবে অভিষিক্ত ব্যক্তিরা স্বর্গে যিশুর সঙ্গে রাজা ও যাজক হিসেবে শাসন করবে? আরেকটা বৈধ চুক্তির মাধ্যমে তা করা সম্ভব হয়।

যে-চুক্তি আরও ব্যক্তিকে খ্রিস্টের সঙ্গে শাসন করার সুযোগ দেয়

১৫. যিশু বিশ্বস্ত প্রেরিতদের সঙ্গে কোন ব্যক্তিগত চুক্তি করেছিলেন?

১৫ প্রভুর সান্ধ্যভোজ প্রতিষ্ঠা করার পর, যিশু তাঁর বিশ্বস্ত শিষ্যদের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছিলেন, যেটাকে রাজ্য চুক্তি বলা হয়। (পড়ুন, লূক ২২:২৮-৩০.) এই চুক্তির মধ্যে, অন্যান্য চুক্তির মতো যিহোবা জড়িত নন। এর পরিবর্তে, এটা হচ্ছে যিশু ও অভিষিক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এক ব্যক্তিগত চুক্তি। যিশু যখন বলেছিলেন: “আমার পিতা যেমন আমার জন্য নিরূপণ করিয়াছেন [‘আমার সঙ্গে এক চুক্তি করেছেন,’ NW],” তখন তিনি হয়তো সেই চুক্তি সম্বন্ধে উল্লেখ করছিলেন, যে-চুক্তির মাধ্যমে যিহোবা তাঁকে “মল্কীষেদকের রীতি অনুসারে অনন্তকালীন যাজক” করেছেন।—ইব্রীয় ৫:৫, ৬.

১৬. রাজ্য চুক্তি অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের জন্য কী সম্ভবপর করেছিল?

১৬ যিশুর সমস্ত পরীক্ষার সময়, ১১ জন বিশ্বস্ত প্রেরিত তাঁর প্রতি অনুগত ছিল। রাজ্য চুক্তি এই নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে, সেই প্রেরিতরা স্বর্গে সিংহাসনে বসবে এবং যিশুর সঙ্গে রাজা হিসেবে শাসন করবে ও যাজক হিসেবে সেবা করবে। তবে, সেই ১১ জন ব্যক্তিই শুধু এই বিশেষ সুযোগ লাভ করবে না। যিশু একটা দর্শনের মাধ্যমে প্রেরিত যোহনের সামনে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং এই কথা বলেছিলেন: “যে জয় করে, তাহাকে আমার সহিত আমার সিংহাসনে বসিতে দিব, যেমন আমি আপনি জয় করিয়াছি, এবং আমার পিতার সহিত তাঁহার সিংহাসনে বসিয়াছি।” (প্রকা. ৩:২১) তাই, ১,৪৪,০০০ জন অভিষিক্ত খ্রিস্টানের সঙ্গে রাজ্য চুক্তি করা হয়েছে। (প্রকা. ৫:৯, ১০; ৭:৪) এই চুক্তি হচ্ছে এক বৈধ ভিত্তি, যাতে অভিষিক্ত ব্যক্তিরা স্বর্গে যিশুর সঙ্গে শাসন করতে পারে। বিষয়টা এমন, যেন  এক কনেকে একজন রাজার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। সেই দু-জনের যখন বিয়ে হয়, তখন কনের পক্ষে রাজার সঙ্গে শাসন করা সম্ভবপর হয়। আসলে, বাইবেলে অভিষিক্ত খ্রিস্টানদেরকে খ্রিস্টের ‘কন্যা’ বা কনে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যে-“সতী কন্যা” খ্রিস্টের সঙ্গে বিয়ে করার জন্য বাগ্‌দত্তা।—প্রকা. ১৯:৭, ৮; ২১:৯; ২ করি. ১১:২.

ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতি অটল বিশ্বাস বজায় রাখুন

১৭, ১৮. (ক) সেই ছয়টা চুক্তি সম্বন্ধে বলুন, যেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং যেগুলো রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। (খ) কেন আমরা রাজ্যের প্রতি দৃঢ়বিশ্বাস বজায় রাখতে পারি?

১৭ আমরা এই দুটো প্রবন্ধে যে-চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, সেগুলো রাজ্যের এক বা একাধিক অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। (“যেভাবে ঈশ্বর তাঁর উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করবেন” শিরোনামের তালিকা দেখুন।) এটা স্পষ্ট যে, এই বৈধ চুক্তিগুলোর ওপর ভিত্তি করে রাজ্যের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে। আমরা এই বিষয়ে পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত থাকতে পারি, ঈশ্বর মানুষ ও পৃথিবীর জন্য তাঁর উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে মশীহ রাজ্যকে ব্যবহার করতে যাচ্ছেন।—প্রকা. ১১:১৫.

যিহোবা মশীহ রাজ্যের মাধ্যমে পৃথিবীর জন্য তাঁর উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করবেন (১৫-১৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৮ নিঃসন্দেহে, রাজ্যই হচ্ছে মানবজাতির সমস্যাগুলোর একমাত্র সমাধান। এই রাজ্য যে সমস্ত মানুষের জন্য স্থায়ী উপকার নিয়ে আসবে, সেই ব্যাপারে আমাদের পুরোপুরি আস্থা রয়েছে। তাই, আসুন আমরা উদ্যোগের সঙ্গে অন্যদের কাছে এই অপূর্ব সত্য জানাই!—মথি ২৪:১৪.