সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  সেপ্টেম্বর ২০১৪

বাবা-মায়েরা—আপনাদের সন্তানদের পালন করুন

বাবা-মায়েরা—আপনাদের সন্তানদের পালন করুন

“তুমি আপন মেষপালের অবস্থা জানিয়া লও [“ভাল করে জেনে রেখো,” বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন]।”—হিতো. ২৭:২৩.

১, ২. (ক) একজন ইস্রায়েলীয় মেষপালকের কিছু দায়িত্ব কী ছিল? (খ) কীভাবে বাবা-মায়েরা মেষপালকদের মতো?

প্রাচীন ইস্রায়েলে, মেষপালকদের জীবন অনেক কঠিন ছিল। শীত-গ্রীষ্ম উভয় ঋতুতেই তাদের বাইরে কাজ করতে হতো এবং হিংস্র পশু ও চোরের আক্রমণ থেকে তাদের মেষদের সুরক্ষা করতে হতো। মেষপালকরা নিয়মিতভাবে প্রতিটা মেষকে পরীক্ষা করত এবং যেগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ত কিংবা আঘাত পেত, সেগুলোর যত্ন নিত। তারা মেষশাবকগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিত কারণ সেগুলো পরিণত মেষের চেয়ে দুর্বল।—আদি. ৩৩:১৩.

খ্রিস্টান বাবা-মায়েদের, সেই মেষপালকদের মতো একইরকম গুণাবলি দেখাতে হবে। কারণ সন্তানদেরকে যিহোবার মান অনুযায়ী বড়ো করার দায়িত্ব বাবা-মার রয়েছে। (ইফি. ৬:৪) এই দায়িত্ব পালন করা কি সবসময় সহজ? না! সন্তানেরা অনবরত শয়তানের ছড়িয়ে দেওয়া ধ্যানধারণার মুখোমুখি হয়। সেইসঙ্গে সন্তানদের নিজেদেরও অসিদ্ধ প্রবণতা রয়েছে। (২ তীম. ২:২২; ১ যোহন ২:১৬) কীভাবে আপনারা আপনাদের সন্তানদের সাহায্য করতে পারেন? আপনাদের সন্তানদের পালন করার জন্য আপনারা যে-তিনটে বিষয় করতে পারেন, আসুন আমরা এখন সেগুলো আলোচনা করি: (১) তাদের জানুন, (২) তাদের খাদ্য দিন এবং (৩) তাদের নির্দেশনা দিন।

 আপনাদের সন্তানদের জানুন

৩. কীভাবে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের অবস্থা ভালো করে জানতে পারে?

একজন উত্তম মেষপালক সতর্কতার সঙ্গে তার প্রতিটা মেষকে পরীক্ষা করেন কারণ তিনি নিশ্চিত হতে চান, সেটা সুস্থসবল রয়েছে কি না। বাইবেল বলে: “তুমি আপন মেষপালের অবস্থা ভাল করে জেনে রেখো।” (হিতো. ২৭:২৩) একজন বাবা অথবা মা হিসেবে, আপনি “আপন মেষপালের” অর্থাৎ আপনার সন্তানদের অবস্থা ভালো করে জানতে চান। তা করার জন্য, আপনাকে আপনার সন্তানদের কাজ লক্ষ করতে হবে এবং তাদের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি জানতে হবে। কীভাবে আপনি তা করতে পারেন? আপনাকে সন্তানের সঙ্গে নিয়মিতভাবে কথাবার্তা বলতে হবে।

৪, ৫. (ক) সন্তানরা যাতে খোলাখুলিভাবে তাদের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করতে পারে, সেজন্য কোন ব্যাবহারিক পরামর্শগুলো সাহায্য করতে পারে? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।) (খ) সন্তানরা যাতে আপনাদের সঙ্গে সহজে কথাবার্তা বলতে পারে, সেজন্য আপনারা কী করেছেন?

কিছু বাবা-মা দেখেছে যে, সন্তানরা যখন কিশোর বয়সে পৌঁছায়, তখন তাদের সঙ্গে ভাববিনিময় করা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কিশোরবয়সিরা হয়তো তাদের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। আপনাদের সন্তানরাও যদি একইরকম আচরণ করে, তাহলে আপনারা কী করতে পারেন? এইরকম মনে করবেন না, তাদের সঙ্গে আপনাদের দীর্ঘসময় ধরে গুরুগম্ভীর আলোচনা করতে হবে। এর পরিবর্তে, তাদের সঙ্গে সহজ-স্বাভাবিক পরিবেশে কথা বলার চেষ্টা করুন। (দ্বিতীয়. ৬:৬, ৭) একসঙ্গে সময় কাটান। তাদের সঙ্গে হাঁটতে বের হোন। তাদেরকে আপনাদের সঙ্গে খেলাধুলা করার অথবা ঘরের বিভিন্ন কাজ করার আমন্ত্রণ জানান। সন্তানরা যখন সহজ-স্বাভাবিক থাকে, তখন তারা হয়তো তাদের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করতে আরও স্বচ্ছন্দবোধ করবে।

কিন্তু, আপনাদের সন্তান যদি তারপরও কথা বলতে না চায়, তাহলে? অন্য কিছু চেষ্টা করে দেখুন। যেমন, আপনার মেয়েকে তার দিনটা কেমন কেটেছে, তা জিজ্ঞেস করার পরিবর্তে আপনার দিনটা কেমন কেটেছে, সেটা তাকে বলুন। তখন সে হয়তো তার দিন কেমন কেটেছে, সেই বিষয়ে কথা বলতে স্বচ্ছন্দবোধ করবে। অথবা কোনো একটা বিষয়ে সে কী মনে করে তা বের করার জন্য, তাকে নিয়ে কথা না বলে, সেই বিষয়টা নিয়ে কথা বলুন। আপনি হয়তো সেই বিষয়ে তার বন্ধুবান্ধব কী মনে করে, সেটা জিজ্ঞেস করতে পারেন। তারপর আপনি তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, সে তার বন্ধুবান্ধবকে এক্ষেত্রে কী পরামর্শ দেবে।

৬. আপনাদের সন্তানরা কীভাবে বুঝতে পারবে যে, তাদেরকে আপনারা সময় দিতে চান এবং আপনাদের সঙ্গে সহজেই কথা বলা যায়?

আপনাদের সন্তানরা সেই সময়ে আপনাদের সঙ্গে ভাববিনিময় করতে আরও ইচ্ছুক হবে, যখন তারা বুঝতে পারবে, আপনারা সবসময় তাদের সময় দেন এবং আপনাদের সঙ্গে সহজেই কথা বলা যায়। আপনাদের যদি সবসময় এত ব্যস্ত বলে মনে হয় যে, তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন না, তাহলে তারা তাদের সমস্যা আপনাদের কাছে বলবে না। আপনাদের সঙ্গে সহজেই কথা বলা যায় কি না, সেই ব্যাপারে আপনারা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারেন? “তোমরা যেকোনো সময় আমার সঙ্গে কথা বলতে পারো,” শুধুমাত্র এই কথা বলার চেয়ে আরও বেশি কিছু করতে হবে। কিশোরবয়সি সন্তানদের এটা জানতে দিতে হবে, তারা যা বলে সেই বিষয়ে আপনি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। তাদেরকে এটাও জানতে দিতে হবে যে, তাদের সমস্যাগুলো আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কেইলা নামে উনিশ বছর বয়সি একজন মেয়ে বলে: “আমি আমার বাবার সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে কথা বলতে পারি। তিনি কথায় বাধা দেন না এবং বিচার করতে শুরু করেন না; তিনি শুধু শোনেন। এরপর তিনি সবসময় আমাকে সবচেয়ে ভালো উপদেশটাই দেন।”

৭. (ক) কীভাবে একজন বাবা অথবা মা ডেটিংয়ের মতো কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন? (খ) কীভাবে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের বিরক্ত করে ফেলতে পারে?

কখনো কখনো, আপনাদেরকে সন্তানদের সঙ্গে এমন বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে, যে-বিষয়ে কথা বলা কঠিন, যেমন ডেটিং। সেই বিষয়ে কথা বলার সময় এটা খেয়াল রাখুন যেন তাদেরকে বিষয়টা মোকাবিলা করার জন্য সঠিক উপায় শিক্ষা দেওয়া হয়। উদাহরণ স্বরূপ, ধরুন আপনি একটা রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে দেখেন, সেখানকার মেনুতে লেখা আছে, আপনি সেখানে যে-খাবারই খান না কেন, আপনার ফুড পয়জনিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন আপনি সম্ভবত সেই জায়গা ছেড়ে অন্য রেস্টুরেন্টে যাবেন। আপনাদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় ঘটতে পারে। তাদের প্রতি আপনাদের উপদেশের মধ্যে যদি শুধু সতর্কবাণী থাকে, তাহলে তারা হয়তো বিরক্ত হবে এবং আপনাদের কাছে উপদেশ চাওয়া বন্ধ করে  দেবে। (পড়ুন, কলসীয় ৩:২১.) এর পরিবর্তে, ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করুন। এমিলি নামে একজন যুবতী বোন বলে: “আমার বাবা-মা যখন আমার সঙ্গে ডেটিং নিয়ে কথা বলে, তখন তারা বিষয়টাকে নেতিবাচক হিসেবে তুলে ধরে না। তারা কারো সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এবং একজন বিবাহসাথি খুঁজে পাওয়ার আনন্দের ওপর জোর দেয়। এটা আমাকে এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে স্বচ্ছন্দে কথা বলতে সাহায্য করেছে। সত্যি বলতে কী, যেকোনো সম্পর্কের বিষয়ে তাদের কাছে লুকানোর পরিবর্তে আমি চাই তারাও সেটা জানুক।”

৮, ৯. (ক) ধৈর্যশীল হলে এবং কোনো বাধা না দিয়ে কথা শুনলে কী উপকার লাভ করা যেতে পারে? (খ) সন্তানদের কথা শোনার ক্ষেত্রে আপনারা কীভাবে সফল হয়েছেন?

ধৈর্যশীল হোন এবং সদয়ভাবে আপনাদের সন্তানদের কথা শুনুন। এটা প্রকাশ করবে যে, আপনাদের সঙ্গে সহজেই কথা বলা যায়। (পড়ুন, যাকোব ১:১৯.) কাতিয়া নামে একজন একক মা বলেন: “আগে আমি আমার মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অধৈর্য হয়ে পড়তাম। আমি তার কথা শেষ করতে দিতাম না। আমি ক্লান্তির অথবা ব্যস্ততার কারণে তার কথা শুনতে চাইতাম না। এখন আমি যেহেতু নিজের আচরণ পরিবর্তন করেছি, তাই আমার মেয়েও তার আচরণ পরিবর্তন করেছে। সে আরও সহযোগিতাপরায়ণ হয়ে উঠেছে।”

তাদেরকে জানার জন্য তাদের কথা শুনুন (৩-৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)

রোনাল্ড নামে একজন বাবা তার কিশোরবয়সি মেয়েকে নিয়ে একইরকম অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। তিনি বলেন: “সে যখন আমাকে বলেছিল, সে তার স্কুলের এক ছেলের প্রেমে পড়েছে, তখন আমি প্রথমে প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলাম। কিন্তু, যিহোবা তাঁর দাসদের প্রতি কতটা ধৈর্য ও যুক্তিবাদিতা দেখান, তা নিয়ে আমি গভীরভাবে চিন্তা করেছিলাম। তখন আমার মনে হয়েছে, মেয়েকে সংশোধন করতে চেষ্টা করার আগে, তাকে তার অনুভূতি প্রকাশ করার একটা সুযোগ দেওয়া আরও ভালো হবে। সেটা দিতে পেরেছি বলে আমি অনেক আনন্দিত! প্রথম বারের মতো আমি তার অনুভূতি বুঝতে পেরেছিলাম। সে তার কথা শেষ করার পর, আমার পক্ষে তার সঙ্গে প্রেমপূর্ণ উপায়ে কথা বলা আরও সহজ হয়ে গিয়েছিল। অবাক করার মতো বিষয়টা হচ্ছে, সে আমার পরামর্শ গ্রহণ করতে অনেক ইচ্ছুক ছিল। সে তার মনোভাব পরিবর্তন করার আন্তরিক ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল।” সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে কথাবার্তা বলার ফলে আপনারা সত্যিই তাদের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি সম্বন্ধে জানতে পারেন। ফল স্বরূপ, তারা যে-সমস্ত সিদ্ধান্ত নেয়, সেগুলোতে আপনারা আরও বেশি জড়িত হতে পারবেন। *

আপনাদের সন্তানদের খাদ্য দিন

১০, ১১. কীভাবে আপনারা আপনাদের সন্তানদেরকে সত্যে থাকতে সাহায্য করতে পারেন?

১০ একজন উত্তম মেষপালক জানেন, মেষেরা বিপথে চলে যেতে পারে। একটা মেষ হয়তো পাল থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে ঘাস খাওয়া শুরু করতে পারে। ধীরে ধীরে এটা আরও দূরে সরে যায় আর এভাবে পাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় ঘটতে পারে।  তারা ধীরে ধীরে সত্য থেকে সরে যেতে শুরু করতে পারে। তারা হয়তো কুসংসর্গ অথবা ক্ষতিকর আমোদপ্রমোদের দ্বারা প্রলোভিত হয়। (হিতো. ১৩:২০) কীভাবে আপনারা এইরকম এক পরিস্থিতি প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে তাদেরকে সাহায্য করতে পারেন?

১১ সন্তানদের শিক্ষা দেওয়ার সময় আপনারা যদি এমন কোনো দিক লক্ষ করেন, যেখানে তাদের উন্নতি করা প্রয়োজন, তাহলে তাদেরকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে দেরি করবেন না। এ ছাড়া, তাদেরকে নিজেদের উত্তম গুণাবলি আরও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করুন। (২ পিতর ১:৫-৮) তা করার একটা চমৎকার সময় হল, পারিবারিক উপাসনার সময়। ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসের রাজ্যের পরিচর্যা বলে: “পরিবারের মস্তকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে, তারা যেন এক অর্থপূর্ণ, নিয়মিত পারিবারিক বাইবেল অধ্যয়নের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টা নিশ্চিত করার ব্যাপারে যিহোবার কাছ থেকে প্রাপ্ত তাদের দায়িত্ব পালন করে।” আপনার সন্তানদের পালন করার জন্য আপনি কি এই সময়টাকে বিজ্ঞতার সঙ্গে ব্যবহার করছেন? এই বিষয়ে আস্থা রাখুন, তাদেরকে সাহায্য করার জন্য আপনি যে-প্রচেষ্টা করছেন, সেগুলোকে তারা সত্যিই উপলব্ধি করে।—মথি ৫:৬; মথি ৬:৩৩.

তাদেরকে ভালোভাবে খাদ্য দিন (১০-১২ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১২. (ক) নিয়মিত পারিবারিক উপাসনা থেকে অল্পবয়সিরা কীভাবে উপকৃত হয়েছে? (এ ছাড়া, “তারা এটা উপলব্ধি করে” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।) (খ) পারিবারিক উপাসনা থেকে আপনি ব্যক্তিগতভাবে কীভাবে উপকৃত হয়েছেন?

১২ ক্যারিসা নামে কিশোরবয়সি এক মেয়ে ও তার পরিবার তাদের পারিবারিক উপাসনা কার্যক্রম থেকে উপকৃত হয়েছে। সে বলে: “সকলে একসঙ্গে বসে কথা বলতে আমার ভালো লাগে। আমরা যখন তা করি, তখন আমাদের মধ্যে বন্ধন গড়ে ওঠে আর মনে রাখার মতো সুন্দর সুন্দর স্মৃতি তৈরি হয়। আমার বাবা নিয়মিতভাবে পারিবারিক উপাসনা পরিচালনা করেন। তিনি যে বিষয়টাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেন, এটা দেখা সত্যিই উৎসাহজনক আর এর ফলে আমিও বিষয়টাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে চাই। এই কারণে, আমার বাবা ও আধ্যাত্মিক মস্তক হিসেবে আমি তার প্রতি আরও সম্মান দেখাতে পারি।” ব্রিটনি নামে একজন অল্পবয়সি বোন বলে: “পারিবারিক উপাসনা আমাকে আমার বাবা-মার আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। এটা আমাকে বুঝতে সাহায্য করেছে, তারা আমার সমস্যাগুলো শুনতে চায় এবং সত্যিই আমার জন্য চিন্তা করে। এটা আমাদেরকে এক দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ পরিবার গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।” বাবা-মায়েদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, তাদের সন্তানদেরকে যিহোবাকে ভালোবাসতে শিক্ষা দেওয়া। পারিবারিক উপাসনা হল তা করার এক সর্বোত্তম উপায়। *

আপনাদের সন্তানদের নির্দেশনা দিন

১৩. কীভাবে একজন সন্তান যিহোবাকে সেবা করার জন্য অনুপ্রাণিত হতে পারে?

১৩ একজন উত্তম মেষপালক একটা লাঠি ব্যবহার করে তার মেষপালকে নির্দেশনা দেন ও সুরক্ষা করেন। তার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে মেষদের নির্দেশনা দিয়ে “উত্তম চরাণিতে” নিয়ে যাওয়া। (যিহি. ৩৪:১৩, ১৪) বাবা-মা হিসেবে আপনাদেরও একই লক্ষ্য রয়েছে। আপনারা সন্তানদের এই নির্দেশনা দিতে চান, যেন তারা যিহোবার সেবা করে। আপনারা চান, যেন সন্তানরা গীতরচকের মতো অনুভব করে, যিনি লিখেছিলেন: “হে আমার ঈশ্বর, তোমার অভীষ্ট সাধনে আমি প্রীত, আর তোমার ব্যবস্থা আমার অন্তরে আছে।” (গীত. ৪০:৮) আপনাদের সন্তানরা যখন সত্যিই এইরকম অনুভব করবে, তখন তারা নিজেদের জীবন যিহোবার কাছে উৎসর্গ করতে এবং বাপ্তিস্ম নিতে চাইবে। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাদের যথেষ্ট বোধগম্যতা এবং যিহোবাকে সেবা করার প্রকৃত ইচ্ছা থাকতে হবে।

১৪, ১৫. (ক) বাবা-মায়েদের লক্ষ্য কী হবে? (খ) কেন একজন কিশোরবয়সি ছেলে অথবা মেয়ের সত্য সম্বন্ধে সন্দেহ থাকতে পারে?

১৪ তবে এমনটা মনে হতে পারে, আপনাদের সন্তানরা যিহোবার সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে বৃদ্ধি করছে না। এমনকী যিহোবার সাক্ষিরা যা বিশ্বাস করে, সেটা আসলেই সত্য কি না, সেই ব্যাপারেও তারা সন্দেহ করতে পারে। তখন আপনারা কী করবেন? সন্তানদের সঙ্গে যুক্তি করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা করুন এবং তাদেরকে হৃদয় থেকে যিহোবাকে ভালোবাসতে সাহায্য করুন। ঈশ্বর তাদের জন্য যা-কিছু করেছেন, সেগুলোর জন্য উপলব্ধি দেখাতে শিক্ষা দিন। (প্রকা. ৪:১১) তারপর, তারা যখন প্রস্তুত হবে, তখন নিজেরাই যিহোবাকে সেবা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

১৫ আপনাদের সন্তানদের যদি সত্য সম্বন্ধে সন্দেহ থাকে, তাহলে ধৈর্যশীল হোন এবং তাদেরকে নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করুন। তাদেরকে এটা বুঝতে সাহায্য করুন, যিহোবার সেবা করাই হচ্ছে জীবনের সর্বোত্তম পথ এবং এর স্থায়ী উপকার রয়েছে। এ ছাড়া, তাদের সন্দেহের  পিছনে প্রকৃত কারণ কী, তা খোঁজার চেষ্টা করুন। উদাহরণ স্বরূপ, আপনাদের ছেলে কি বাইবেল যা বলে সেটার সঙ্গে সত্যিই দ্বিমতপোষণ করে, না কি সে কেবল অন্যান্য ছেলে-মেয়ের কাছে প্রচার করতে ভয় পায়? আপনাদের মেয়ে কি ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলো আসলেই বিজ্ঞতাপূর্ণ কি না, সেই ব্যাপারে সন্দেহ করে, না কি সে কেবল একাকী ও পরিত্যক্ত বোধ করে?

চলার পথে তাদের নির্দেশনা দিন (১৩-১৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৬, ১৭. সন্তানরা যাতে যিহোবার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, সেজন্য বাবা-মায়েরা কোন কোন উপায়ে সাহায্য করতে পারে?

১৬ কীভাবে আপনারা সন্তানদেরকে সত্য সম্বন্ধে সন্দেহ কাটিয়ে ওঠার জন্য সাহায্য করতে পারেন? অনেক বাবা-মা এই প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করে সন্তানদের সাহায্য করতে পেরেছে: “একজন খ্রিস্টান হওয়া কি তোমার কাছে সহজ বিষয়, না কি কঠিন বিষয়? তোমার কী মনে হয়, একজন খ্রিস্টান হলে কোন কোন উপকার লাভ করা যায়? কোন কোন ত্যাগস্বীকার করতে হয়? এখন আমরা যে-উপকার পাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে যে-উপকার পাব, সেই বিষয়ে চিন্তা করলে তোমার কেমন লাগে? সেগুলোকে কি তোমার ত্যাগস্বীকারের চেয়ে আরও বড়ো বলে মনে হয়?” খেয়াল রাখবেন, যেন প্রশ্নগুলো নিজের ভাষায় এবং আন্তরিক, সদয় ও আগ্রহজনক উপায়ে জিজ্ঞেস করা হয়। সন্তানরা যেন এইরকম মনে না করে, আপনারা তাদের দোষারোপ করছেন। কথাবার্তা বলার সময়, আপনারা হয়তো মার্ক ১০:২৯, ৩০ পদ আলোচনা করতে চাইবেন। কিছু অল্পবয়সি হয়তো দুটো তালিকা তৈরি করতে চাইবে, যেগুলোর একটার মধ্যে একজন খ্রিস্টান হওয়ার বিভিন্ন উপকার এবং অন্যটাতে বিভিন্ন ত্যাগস্বীকারের তালিকা থাকবে। এই তালিকা সন্তানদের কী সমস্যা রয়েছে, তা শনাক্ত করতে এবং সেগুলোর সমাধান খুঁজতে আপনাদেরকে এবং আপনাদের সন্তানদেরকে সাহায্য করবে। আমাদের যদি আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে বাইবেল শিক্ষা দেয় এবং ‘ঈশ্বরের প্রেম’ বই অধ্যয়ন করার প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাদের সন্তানদের সঙ্গে সেগুলো অধ্যয়ন করা কতই-না গুরুত্বপূর্ণ! আপনারা কি তা করছেন?

১৭ সন্তানরা যখন বড়ো হবে, তখন তারা যিহোবার সেবা করবে কি না, সেই বিষয়ে তাদের নিজেদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি সেটা বাছাই করেছেন বলে তারাও একইরকম বাছাই করবে, বিষয়টা এমন নয়। সন্তানদেরকে যিহোবার সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। (হিতো. ৩:১, ২) কিন্তু, আপনাদের সন্তান যদি ঈশ্বরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে না পারে, তাহলে? তাকে উৎসাহিত করুন যেন সে এই প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করার মাধ্যমে নিজের বিশ্বাস পরীক্ষা করে: ‘কীভাবে আমি জানি, ঈশ্বরের অস্তিত্ব রয়েছে? কীভাবে আমি জানি, যিহোবা সত্যিই আমার জন্য চিন্তা করেন? আমি কি সত্যিই এটা বিশ্বাস করি, ঈশ্বরের আজ্ঞার বাধ্য হলে আমি উপকার লাভ করব?’ বাবা-মায়েরা, উত্তম মেষপালক হোন এবং ধৈর্যের সঙ্গে আপনাদের সন্তানদের নির্দেশনা দিন। তাদেরকে এটা প্রমাণ করতে সাহায্য করুন, যিহোবাকে সেবা করাই হচ্ছে জীবনের সর্বোত্তম পথ। *রোমীয় ১২:২.

১৮. কীভাবে বাবা-মায়েরা সর্বমহান মেষপালক যিহোবাকে অনুকরণ করতে পারে?

১৮ সমস্ত সত্য খ্রিস্টান সর্বমহান মেষপালক যিহোবাকে অনুকরণ করতে চায়। (ইফি. ৫:১; ১ পিতর ২:২৫) বিশেষভাবে বাবা-মায়েদেরকে তাদের মেষপাল অর্থাৎ তাদের প্রিয় সন্তানদের বিষয়ে জানতে হবে। বাবা-মায়েদেরকে তাদের সন্তানদের নির্দেশনা দিতে হবে, যাতে তারা ঈশ্বরের বিভিন্ন প্রতিজ্ঞার স্থায়ী উপকার উপভোগ করতে পারে। হ্যাঁ, আপনাদের সন্তানদেরকে পালন করার জন্য যথাসাধ্য করুন এবং তাদের এমনভাবে মানুষ করুন যেন তারা যিহোবাকে ভালোবাসে!

^ অনু. 9 আরও পরামর্শের জন্য ২০০৮ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ১৮-২০ পৃষ্ঠা দেখুন।

^ অনু. 12 আরও তথ্যের জন্য ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ২৯-৩১ পৃষ্ঠার “পারিবারিক উপাসনা—রক্ষা পাওয়ার জন্য অপরিহার্য!” শিরোনামের প্রবন্ধটা দেখুন।

^ অনু. 17 আরও তথ্যের জন্য ২০১২ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ২২-২৫ পৃষ্ঠা দেখুন।