সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  আগস্ট ২০১৪

যিহোবা যেভাবে আমাদের নিকটবর্তী হন

যিহোবা যেভাবে আমাদের নিকটবর্তী হন

“ঈশ্বরের নিকটবর্ত্তী হও, তাহাতে তিনিও তোমাদের নিকটবর্ত্তী হইবেন।”—যাকোব ৪:৮.

১. মানুষ কী লাভ করতে চায় আর কে সেই চাহিদা পূরণ করতে পারেন?

প্রত্যেক ব্যক্তিই অন্যদের সান্নিধ্য লাভ করতে চায়। আমরা এমন পরিবার ও বন্ধুবান্ধব পেয়ে সুখী হই, যারা সত্যিই আমাদের ভালোবাসে, গুরুত্ব দেয় এবং বোঝে। তবে, যাঁর সঙ্গে আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, তিনি হচ্ছেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা যিহোবা।—উপ. ১২:১.

২. যিহোবা আমাদের কাছে কী প্রতিজ্ঞা করেন কিন্তু কেন অনেক লোক এই প্রতিজ্ঞায় বিশ্বাস করে না?

যিহোবা আমাদেরকে তাঁর বন্ধু হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, আমরা যদি তাঁর নিকটবর্তী হই, তাহলে তিনিও আমাদের নিকটবর্তী হবেন। (যাকোব ৪:৮) এটা জেনে আমরা আনন্দিত হই। কিন্তু অনেক লোক ভেবে থাকে, ঈশ্বর তাদের নিকটবর্তী হতে চান, এই বিষয়টা বিশ্বাস করা বাস্তবসম্মত নয়। তারা মনে করে, তারা তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার যোগ্য নয় অথবা তিনি তাদের কাছ থেকে অনেক দূরে। যিহোবার নিকটবর্তী হওয়া কি সত্যিই সম্ভব?

৩. যিহোবা সম্বন্ধে আমাদের কোন বিষয়টা বিশ্বাস করতে হবে?

হ্যাঁ, যিহোবা সম্বন্ধে জানা সম্ভব কারণ যারা তাঁর অন্বেষণ করে, ‘তিনি তাহাদের কাহারও হইতে দূরে নহেন।’ (পড়ুন, প্রেরিত ১৭:২৬, ২৭; গীতসংহিতা ১৪৫:১৮.) যদিও আমরা হলাম অসিদ্ধ মানুষ, কিন্তু তারপরও যিহোবা আমাদেরকে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক আছেন।  (যিশা. ৪১:৮; ৫৫:৬) গীতরচক নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যিহোবা সম্বন্ধে এই কথা বলেছিলেন: “হে প্রার্থনা-শ্রবণকারী, তোমারই কাছে মর্ত্ত্যমাত্র আসিবে। ধন্য সেই, যাহাকে তুমি মনোনীত করিয়া নিকটে আন।” (গীত. ৬৫:২, ৪) আসুন আমরা এখন বাইবেল থেকে দেখি, কীভাবে যিহূদার রাজা আসা ঈশ্বরের নিকটবর্তী হয়েছিলেন আর কীভাবে ঈশ্বরও আসার নিকটবর্তী হয়েছিলেন। *

প্রাচীন কালের একটা উদাহরণ থেকে শিক্ষা লাভ করুন

৪. রাজা আসা যিহূদার লোকেদের জন্য কোন উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন?

আসা সত্য উপাসনার পক্ষে উদ্যোগী ছিলেন। তিনি এমন এক সময়ে রাজা হয়েছিলেন, যখন সেই দেশে মন্দিরে বেশ্যাবৃত্তি ও প্রতিমাপূজা খুবই সাধারণ বিষয় ছিল, কিন্তু তিনি এই মন্দ বিষয়গুলো দূর করে দেওয়ার মাধ্যমে যিহোবার প্রতি বাধ্যতা দেখিয়েছিলেন। (১ রাজা. ১৫:৯-১৩) যেহেতু আসা নিজে যিহোবার নিকটবর্তী হয়েছিলেন এবং তাঁর আইন মেনে চলেছিলেন, তাই তিনি লোকেদেরকে ‘তাহাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অন্বেষণ এবং [তাঁহার] ব্যবস্থা ও আজ্ঞা পালন করিবার’ বিষয় বলতে পেরেছিলেন। যিহোবা তখন আসাকে আশীর্বাদ করেছিলেন আর এর ফলে তার রাজত্বের প্রথম দশ বছর দেশে পুরোপুরি শান্তি ছিল। এই শান্তি যে যিহোবার কাছ থেকে ছিল, তা আসা জানতেন আর তাই তিনি লোকেদের এই কথা বলেছিলেন: “আমরা তাঁহার অন্বেষণ করিয়াছি, আর তিনি সকল দিকে আমাদিগকে বিশ্রাম দিয়াছেন।” (২ বংশা. ১৪:১-৭) তাহলে, এর পরে কী ঘটেছিল?

৫. কোন পরিস্থিতিতে আসা ঈশ্বরের ওপর তার নির্ভরতা দেখিয়েছিলেন আর এর ফল কী হয়েছিল?

ধরুন, আপনি রাজা আসা। কূশদেশীয় সেরহ ১০,০০,০০০ সৈন্য ও ৩০০ রথ নিয়ে আপনার জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এগিয়ে আসছে। (২ বংশা. ১৪:৮-১০) তার কাছে আপনার সেনাবাহিনীর প্রায় দ্বিগুণ সৈন্য রয়েছে। আপনি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবেন? কেন ঈশ্বর এই আক্রমণ থামাননি, আপনি কি সেই প্রশ্ন তুলবেন? নিজের প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করবেন? না কি, আপনি সুরক্ষার জন্য যিহোবার ওপর নির্ভর করবেন? আসা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছিলেন, যিহোবার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে আর তিনি তাঁর ওপর পূর্ণরূপে নির্ভর করেন। আসা আর্তনাদ করে বলেছিলেন: “হে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, আমাদের সাহায্য কর; কেননা আমরা তোমার উপরে নির্ভর করি।” ঈশ্বর তাকে কীভাবে উত্তর দিয়েছিলেন? “সদাপ্রভু . . . কূশীয়দিগকে আঘাত করিলেন।” এক জন শত্রুও রক্ষা পায়নি।—২ বংশা. ১৪:১১-১৩.

৬. আমাদের কীভাবে আসাকে অনুকরণ করা উচিত?

কেন আসা পূর্ণরূপে এই নির্ভরতা রাখতে পেরেছিলেন যে, ঈশ্বর তার সুরক্ষা করবেন এবং তাকে নির্দেশনা দেবেন? বাইবেল বলে, ‘আসা সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যাহা ন্যায্য, তাহাই করিতেন’ এবং তার ‘অন্তঃকরণ সদাপ্রভুর উদ্দেশে একাগ্র ছিল।’ (১ রাজা. ১৫:১১, ১৪) আমাদেরও ঈশ্বরকে পূর্ণহৃদয়ে সেবা করতে হবে, যাতে আমরা এখন ও ভবিষ্যতে ঈশ্বরের নিকটবর্তী হতে পারি। আমরা যিহোবার প্রতি কৃতজ্ঞ কারণ আমরা যাতে তাঁর নিকটবর্তী হতে পারি, সেজন্য তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং তিনি আমাদেরকে তাঁর সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করেন। ঈশ্বর যে-দুটো উপায়ে তা করেছেন, আসুন আমরা সেগুলো এখন লক্ষ করি।

যিহোবা মুক্তির মূল্য ব্যবহার করে আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করেন

৭. (ক) যিহোবা এমন কী করেছেন, যেগুলো আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করে? (খ) সবচেয়ে মহৎ কোন উপায়ে ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করেন?

যিহোবা আমাদের জন্য এক অপূর্ব পার্থিব গৃহ সৃষ্টি করে মানুষের প্রতি তাঁর প্রেম প্রকাশ করেছিলেন। প্রতিদিন আমাদের বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রেম প্রকাশ করে চলেছেন। (প্রেরিত ১৭:২৮; প্রকা. ৪:১১) আর যিহোবা আমাদের আধ্যাত্মিক চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে আরও বড়ো উপায়ে তাঁর প্রেম প্রকাশ করেন। (লূক ১২:৪২) এ ছাড়া, তিনি আশ্বাস দেন, আমরা যখন প্রার্থনা করি, তখন তিনি ব্যক্তিগতভাবে তা শুনবেন। (১ যোহন ৫:১৪) তবে  সবচেয়ে মহৎ যে-উপায়ে যিহোবা আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করেন ও আমাদের জন্য তাঁর প্রেম প্রকাশ করেন, তা হল মুক্তির মূল্যের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে। (পড়ুন, ১ যোহন ৪:৯, ১০, ১৯.) যিহোবা নিজ পুত্রকে পাঠিয়েছেন, যেন তিনি আমাদের জন্য তাঁর জীবন বলি দেন। একমাত্র এই বলিদানের মাধ্যমেই আমরা সিদ্ধ মানুষ হিসেবে অনন্তকাল বেঁচে থাকার আশা লাভ করতে পারি।—যোহন ৩:১৬.

৮, ৯. যিহোবার উদ্দেশ্যের মধ্যে যিশুর ভূমিকা কী?

যিহোবা সকল মানুষের উপকারের জন্য মুক্তির মূল্যের ব্যবস্থা করেছিলেন আর এর মধ্যে সেই ব্যক্তিরাও রয়েছে, যারা এমনকী মুক্তির মূল্য প্রদান করার আগে বেঁচে ছিল। কীভাবে তা সম্ভব হয়েছিল? যিহোবা যখন আমাদের ভবিষ্যৎ ত্রাণকর্তা সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন, তখন তিনি মুক্তির মূল্য ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। কারণ তিনি জানতেন মানবজাতির জন্য তাঁর উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে না। (আদি. ৩:১৫) শত শত বছর পর, প্রেরিত পৌল ‘খ্রীষ্ট যীশুতে প্রাপ্য মুক্তির’ জন্য যিহোবাকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। পৌল ব্যাখ্যা করেছিলেন, ঈশ্বর ‘পূর্ব্বকালে কৃত পাপ সকল উপেক্ষা’ বা ক্ষমা ‘করিয়াছিলেন।’ (রোমীয় ৩:২১-২৬) তাই, আমরা যিশুকে ছাড়া ঈশ্বরের নিকটবর্তী হতে পারি না।

যিহোবা নম্র ব্যক্তিদেরকে একমাত্র যিশুর মাধ্যমেই তাঁর সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছেন। বাইবেল বলে: “ঈশ্বর আমাদের প্রতি তাঁহার নিজের প্রেম প্রদর্শন করিতেছেন; কারণ আমরা যখন পাপী ছিলাম, তখনও খ্রীষ্ট আমাদের নিমিত্ত প্রাণ দিলেন।” (রোমীয় ৫:৬-৮) আমরা যোগ্য বলে মুক্তির মূল্য দেওয়া হয়েছে এমন নয়, বরং এর পিছনে কারণ হচ্ছে যিহোবা এবং যিশু আমাদের অনেক ভালোবাসেন। যিশু বলেছিলেন: “পিতা, যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, তিনি আকর্ষণ না করিলে কেহ আমার কাছে আসিতে পারে না।” তিনি আরও বলেছিলেন: “আমা দিয়া না আসিলে কেহ পিতার নিকটে আইসে না।” (যোহন ৬:৪৪; ১৪:৬) যিহোবা পবিত্র আত্মার সাহায্যে লোকেদেরকে যিশুর মাধ্যমে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং তাঁর সঙ্গে এক উত্তম সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করেন, যাতে তারা অনন্তকাল বেঁচে থাকতে পারে। (পড়ুন, যিহূদা ২০, ২১.) আসুন আমরা এখন দ্বিতীয় উপায়টা দেখি, যেটার মাধ্যমে যিহোবা আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করেন।

যিহোবা বাইবেল ব্যবহার করে আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করেন

১০. বাইবেল কীভাবে আমাদেরকে ঈশ্বরের আরও নিকটবর্তী হতে সাহায্য করে?

১০ এই প্রবন্ধে আমরা এ-পর্যন্ত বাইবেলের ১৪টা বই থেকে শাস্ত্রপদ ব্যবহার করেছি। যিহোবা পবিত্র আত্মা ব্যবহার করে বাইবেলের লেখাগুলোকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, যাতে আমরা তাঁর নিকটবর্তী হতে পারি। বাইবেল ছাড়া কীভাবেই-বা আমরা জানতে পারতাম যে, আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকটবর্তী হতে পারি? এটি না থাকলে কীভাবেই-বা আমরা মুক্তির মূল্য সম্বন্ধে এবং যিশু যেভাবে আমাদেরকে যিহোবার নিকটবর্তী হতে সাহায্য করেন, সেই সম্বন্ধে জানতে পারতাম? বাইবেল থেকেই আমরা যিহোবার চমৎকার ব্যক্তিত্ব এবং মানবজাতির জন্য তাঁর উদ্দেশ্য জানতে পারি। উদাহরণ স্বরূপ, যাত্রাপুস্তক ৩৪:৬, ৭ পদে যিহোবা নিজেকে “স্নেহশীল ও কৃপাময় ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর এবং দয়াতে ও সত্যে মহান্‌; সহস্র সহস্র [পুরুষ] পর্য্যন্ত দয়ারক্ষক, অপরাধের, অধর্ম্মের ও পাপের ক্ষমাকারী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এইরকম একজন ব্যক্তির প্রতি কেই-বা আকৃষ্ট হবে না? যিহোবা জানেন, আমরা যখন তাঁর সম্বন্ধে আরও বেশি শিখব, তখন তিনি আমাদের কাছে আরও বাস্তব হয়ে উঠবেন এবং আমরা তাঁর আরও নিকটবর্তী বলে অনুভব করব।

১১. কেন যিহোবা সম্বন্ধে জানা গুরুত্বপূর্ণ? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

১১ যিহোবার নিকটবর্তী হোন বইয়ের ভূমিকায় এভাবে বলা হয়েছে, “আমরা যদি কোনো বন্ধুত্ব গড়ে তুলি, তা হলে সেই বন্ধন ব্যক্তিকে জানার, তার অদ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যগুলোতে মুগ্ধ হওয়ার এবং সেগুলোকে মূল্যায়ন করার ওপর ভিত্তি করে হয়। তাই, বাইবেলে প্রকাশিত ঈশ্বরের গুণাবলি ও পথগুলো, অধ্যয়নের জন্য এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।” আমরা বুঝতে পারি এমন সহজ উপায়ে বাইবেল লিখেছেন বলে আমরা যিহোবার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।

১২. কেন যিহোবা বাইবেল লেখার জন্য মানুষদের ব্যবহার করেছিলেন?

 ১২ যিহোবা বাইবেল লেখার জন্য স্বর্গদূতদের ব্যবহার করতে পারতেন। তারা আমাদের ব্যাপারে এবং আমাদের কাজের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী। (১ পিতর ১:১২) তারা মানবজাতির জন্য যিহোবার বার্তা নিখুঁতভাবে লিখতে পারত। কিন্তু, স্বর্গদূতেরা মানুষের মতো নয়। আমাদের যে-অনুভূতি, চাহিদা ও দুর্বলতা রয়েছে, তারা সেগুলো কখনোই অনুভব করে না। স্বর্গদূতেরা যে আমাদের চেয়ে অনেক আলাদা, তা যিহোবা জানেন আর তাই তিনি বিজ্ঞতা দেখিয়ে বাইবেল লেখার জন্য মানুষদের ব্যবহার করেছিলেন। আমরা যখন বাইবেল লেখকদের এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের হতাশা, সন্দেহ, ভয় ও ভুলভ্রান্তি সম্বন্ধে পড়ি, তখন আমরা তাদের কষ্ট অনুভব করতে পারি। আর যখন আমরা তাদের আনন্দপূর্ণ ঘটনা সম্বন্ধে পড়ি, তখন আমরা তাদের আনন্দও অনুভব করতে পারি। ভাববাদী এলিয়ের মতো, সমস্ত বাইবেল লেখক “আমাদের ন্যায় সুখদুঃখভোগী মনুষ্য ছিলেন।”—যাকোব ৫:১৭.

যোনা ও পিতরের সঙ্গে যিহোবা যেভাবে আচরণ করেছিলেন, তা কীভাবে আপনাকে তাঁর আরও নিকটবর্তী করে? (১৩, ১৫ অনুচ্ছেদ দেখুন।)

১৩. যোনার প্রার্থনা পড়ে আপনি কেমন অনুভব করেন?

১৩ উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ঈশ্বর যোনাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ কার্যভার দিয়েছিলেন, কিন্তু যোনা পালিয়ে গিয়েছিলেন। একজন স্বর্গদূত যদি এই ঘটনা লিখতেন, তাহলে তিনি যোনার অনুভূতি পুরোপুরিভাবে বর্ণনা করতে পারতেন না। যোনার নিজের ঘটনা, যেটার মধ্যে সাগরের গভীর থেকে ঈশ্বরের উদ্দেশে করা প্রার্থনাও রয়েছে, তা লেখার জন্য যিহোবা যোনাকেই বেছে নেওয়ায় আরও ভালো হয়েছে। যোনা বলেছিলেন: “আমার মধ্যে প্রাণ অবসন্ন হইলে আমি সদাপ্রভুকে স্মরণ করিলাম।”—যোনা ১:৩, ১০; ২:১-৯.

১৪. যিশাইয় নিজের সম্বন্ধে যা লিখেছিলেন, তা আমরা কেন বুঝতে পারি?

১৪ এ ছাড়া, যিশাইয় নিজের সম্বন্ধে যা লিখেছিলেন, সেখান থেকেও আমরা আরেকটা উদাহরণ লক্ষ করতে পারি। যিহোবার গৌরবের এক দর্শন দেখার পর তিনি যখন নিজের পাপপূর্ণ অবস্থা সম্বন্ধে বুঝতে পেরেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: “হায়, আমি নষ্ট হইলাম, কেননা আমি অশুচি-ওষ্ঠাধর মনুষ্য, এবং অশুচি-ওষ্ঠাধর জাতির মধ্যে বাস করিতেছি; আর আমার চক্ষু রাজাকে, বাহিনীগণের সদাপ্রভুকে, দেখিতে  পাইয়াছে।” (যিশা. ৬:৫) একজন স্বর্গদূত কখনোই নিজের সম্বন্ধে এভাবে বলতে পারতেন না, কিন্তু যিশাইয় বলতে পারতেন আর তিনি তা বলেছিলেন। আমরা যেহেতু যিশাইয়ের মতোই অসিদ্ধ, তাই তার কেমন লেগেছিল, তা আমরা কল্পনা করতে পারি।

১৫, ১৬. (ক) কেন আমরা অন্য মানুষের অনুভূতি বুঝতে পারি? উদাহরণ দিন। (খ) কোন বিষয়টা আমাদেরকে যিহোবার আরও নিকটবর্তী করবে?

১৫ স্বর্গদূতেরা নিজেদের সম্বন্ধে যাকোবের মতো বলতে পারত না, আমরা “যোগ্য নই” কিংবা পিতরের মতো এমনটাও বলতে পারত না, আমরা “পাপী।” (আদি. ৩২:১০; লূক ৫:৮) তারা ‘ভয় পাইত’ না, যেমনটা যিশুর শিষ্যরা কখনো কখনো পেয়েছিল। তাড়নার সময়ে সুসমাচার প্রচার করার জন্য স্বর্গদূতদের সাহসের প্রয়োজন ছিল না, যেমনটা পৌল ও অন্যদের প্রয়োজন হয়েছিল। (যোহন ৬:১৯; ১ থিষল. ২:২) এর কারণ হচ্ছে, স্বর্গদূতেরা সমস্ত ক্ষেত্রে সিদ্ধ এবং মানুষের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কিন্তু, যিহোবা বাইবেল লেখার জন্য যে-মানুষদের ব্যবহার করেছেন, তাদের মতো আমরা অসিদ্ধ আর তাই আমরা তাদের অনুভূতি বুঝতে পারি। আমরা যখন তাদের লেখা পড়ি, তখন আমরা ‘যাহারা আনন্দ করে, তাহাদের সহিত আনন্দ করিতে; যাহারা রোদন করে, তাহাদের সহিত রোদন করিতে’ পারি।—রোমীয় ১২:১৫.

১৬ যিহোবা অতীতে তাঁর বিশ্বস্ত দাসদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেছিলেন, আমরা তা নিয়ে ধ্যান করার মাধ্যমে আমাদের ঈশ্বরের বিভিন্ন চমৎকার বিষয় সম্বন্ধে জানতে পারব। আমরা দেখব যে, তিনি এক ধৈর্যশীল ও প্রেমপূর্ণ উপায়ে সেই অসিদ্ধ মানুষদের তাঁর নিকটবর্তী করেছেন। যতই আমরা যিহোবা সম্বন্ধে আরও ভালোভাবে জানব এবং গভীরভাবে তাঁকে ভালোবাসব, তিনি ততই আমাদের আরও নিকটবর্তী হবেন।—পড়ুন, যাকোব ৪:৮.

ঈশ্বরের সঙ্গে এক অটুট বন্ধন গড়ে তুলুন

১৭. (ক) অসরিয় আসাকে কোন উত্তম পরামর্শ দিয়েছিলেন? (খ) আসা কীভাবে অসরিয়ের পরামর্শ উপেক্ষা করেছিলেন আর এর পরিণতি কী হয়েছিল?

১৭ রাজা আসার কাছ থেকে আমরা আরও বেশি কিছু শিখতে পারি। আসা কূশীয় সেনাবাহিনীকে পরাজিত করার পর, ভাববাদী অসরিয় তাকে উত্তম পরামর্শ দিয়েছিলেন। অসরিয় বলেছিলেন: “তোমরা যতদিন সদাপ্রভুর সঙ্গে থাক, ততদিন তিনিও তোমাদের সঙ্গে আছেন; আর যদি তোমরা তাঁহার অন্বেষণ কর, তবে তিনি তোমাদিগকে তাঁহার উদ্দেশ পাইতে দিবেন; কিন্তু যদি তাঁহাকে ত্যাগ কর, তবে তিনি তোমাদিগকে ত্যাগ করিবেন।” (২ বংশা. ১৫:১, ২) তবে, আসা পরে এই উত্তম পরামর্শ মেনে চলেননি। ইস্রায়েলের উত্তর রাজ্য যখন যিহূদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিল, তখন আসা ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তিনি যিহোবার কাছে সাহায্য না চেয়ে বরং অরামীয়দের সঙ্গে মিত্রতা করেছিলেন, যারা পৌত্তলিক উপাসক ছিল। তাই, যিহোবা ভাববাদীর মাধ্যমে তাকে বলেছিলেন: “এ বিষয়ে আপনি অজ্ঞানের কার্য্য করিয়াছেন, কেননা ইহার পরে পুনঃপুনঃ আপনার বিপক্ষে যুদ্ধ উপস্থিত হইবে।” আর ঠিক সেটাই ঘটেছিল। (২ বংশা. ১৬:১-৯) এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

১৮, ১৯. (ক) আমরা যদি আগের মতো যিহোবার নিকটবর্তী না থাকি, তাহলে আমাদের কী করা উচিত? (খ) কীভাবে আমরা ক্রমাগত যিহোবার আরও নিকটবর্তী হতে পারি?

১৮ আমাদের কখনো যিহোবার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া উচিত নয়। আমরা যদি আগের মতো তাঁর নিকটবর্তী না থাকি, তাহলে আসুন আমরা অবিলম্বে হোশেয় ১২:৬ পদের কথা কাজে লাগাই। সেখানে বলা আছে: “তুমি আপন ঈশ্বরের কাছে ফিরিয়া আইস; দয়া ও ন্যায়বিচার রক্ষা কর; নিত্য আপন ঈশ্বরের অপেক্ষায় থাক।” আমরা যখন মুক্তির মূল্য নিয়ে ধ্যান করি এবং মনোযোগ সহকারে বাইবেল অধ্যয়ন করি, তখন আমরা দিন দিন যিহোবার আরও নিকটবর্তী হই।—পড়ুন, দ্বিতীয় বিবরণ ১৩:৪.

১৯ গীতরচক লিখেছিলেন: “ঈশ্বরের নিকটে থাকা আমারই পক্ষে মঙ্গল।” (গীত. ৭৩:২৮) এটা আমাদের প্রত্যেকের জন্যও মঙ্গলজনক। আসুন আমরা যিহোবা সম্বন্ধে নতুন নতুন বিষয় শেখার লক্ষ্যস্থাপন করি। আমরা যখন তা করি, তখন যিহোবার প্রতি আমাদের প্রেম আরও বৃদ্ধি পায়। আর আমরা যখন যিহোবার আরও নিকটবর্তী হই, তখন তিনিও আমাদের আরও নিকটবর্তী হবেন—এখন এবং চিরকাল!

^ অনু. 3 আসা সম্বন্ধে ২০১২ সালের ১৫ আগস্ট প্রহরীদুর্গ পত্রিকার “তোমাদের কার্য্য পুরস্কৃত হইবে” শিরোনামের প্রবন্ধ দেখুন।