সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  আগস্ট ২০১৪

আপনি কি “উপযুক্ত সময়ে খাদ্য” পাচ্ছেন?

আপনি কি “উপযুক্ত সময়ে খাদ্য” পাচ্ছেন?

আমরা মানবইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে বাস করছি। (২ তীম. ৩:১-৫) যিহোবার প্রতি আমাদের প্রেম এবং তাঁর ধার্মিক মান অনুযায়ী জীবনযাপন করার জন্য আমাদের দৃঢ়সংকল্প প্রতিদিন পরীক্ষিত হচ্ছে। যিশু এই কঠিন সময় সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন এবং তাঁর অনুসারীদের এই বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরার জন্য তারা প্রয়োজনীয় উৎসাহ লাভ করবে। (মথি ২৪:৩, ১৩; ২৮:২০) তাদের শক্তিশালী করার জন্য তিনি বিশ্বস্ত দাসকে নিযুক্ত করেছিলেন। এই দাস তাদের “উপযুক্ত সময়ে” আধ্যাত্মিক “খাদ্য” প্রদান করবে।—মথি ২৪:৪৫, ৪৬.

১৯১৯ সালে বিশ্বস্ত দাসকে নিযুক্ত করার পর থেকে সমস্ত ভাষা থেকে আগত লক্ষ লক্ষ ‘পরিজন’ ঈশ্বরের সংগঠনে একত্রিত হচ্ছে এবং আধ্যাত্মিক খাদ্য লাভ করছে। (মথি ২৪:১৪; প্রকা. ২২:১৭) কিন্তু, সব ভাষায় একই পরিমাণ বিষয়বস্তু পাওয়া যায় না এবং সকলেরই ইলেকট্রনিক যন্ত্রে আমাদের প্রকাশনা পড়ার সুযোগ নেই। উদাহরণ স্বরূপ, অনেকের কাছে সেইসমস্ত ভিডিও এবং প্রবন্ধ নেই, যেগুলো কেবল jw.org ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তার মানে কি এই যে, কেউ কেউ তাদের আধ্যাত্মিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? সঠিক উপসংহারে পৌঁছানোর জন্য চারটে মূল প্রশ্নের উত্তর বিবেচনা করুন।

 ১ যিহোবা যে-খাদ্য জুগিয়ে দেন, সেটার মধ্যে মূল উপকরণ কী?

শয়তান যখন যিশুকে পাথর থেকে রুটি তৈরি করার জন্য প্রলোভিত করেছিল, তখন যিশু এই উত্তর দিয়েছিলেন: “মনুষ্য কেবল রুটীতে বাঁচিবে না, কিন্তু ঈশ্বরের মুখ হইতে যে প্রত্যেক বাক্য নির্গত হয়, তাহাতেই বাঁচিবে।” (মথি ৪:৩, ৪) বাইবেলের মধ্যে যিহোবার বাক্য লিপিবদ্ধ রয়েছে। (২ পিতর ১:২০, ২১) তাই, বাইবেল হল আমাদের আধ্যাত্মিক খাদ্যের প্রধান উপকরণ।—২ তীম. ৩:১৬, ১৭.

যিহোবার সংগঠন পবিত্র শাস্ত্রের নতুন জগৎ অনুবাদ (ইংরেজি) বাইবেল সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে ১২০টারও বেশি ভাষায় প্রকাশ করেছে এবং প্রতি বছর আরও অনেক ভাষা এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এ ছাড়া, অন্যান্য বাইবেল সংস্করণের কোটি কোটি কপি, সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে হাজার হাজার ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে। এই বিস্ময়কর সাফল্য যিহোবার ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর তাঁর ইচ্ছা হল, যেন “সমুদয় মনুষ্য পরিত্রাণ পায়, ও সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পর্য্যন্ত পঁহুছিতে পারে।” (১ তীম. ২:৩, ৪) আর যেহেতু “[যিহোবার] সাক্ষাতে কোন সৃষ্ট বস্তু অপ্রকাশিত নয়,” তাই আমরা এই ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারি, যারা “আত্মাতে দীনহীন [“আধ্যাত্মিক চাহিদা সম্বন্ধে সচেতন,” NW],” তাদেরকে তিনি তাঁর সংগঠনের প্রতি আকর্ষণ করেন এবং আধ্যাত্মিক খাদ্য জুগিয়ে দেন।—ইব্রীয় ৪:১৩; মথি ৫:৩, ৬; যোহন ৬:৪৪; ১০:১৪.

২ আধ্যাত্মিক খাদ্য জোগানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রকাশনাগুলো কোন ভূমিকা পালন করে থাকে?

একজন ব্যক্তি যদি দৃঢ়বিশ্বাস গড়ে তুলতে চান, তাহলে তাকে বাইবেল পড়ার চেয়ে আরও বেশি কিছু করতে হবে। তিনি যা পড়েন, তা তাকে বুঝতে হবে এবং যা শেখেন, তা কাজে লাগাতে হবে। (যাকোব ১:২২-২৫) প্রথম শতাব্দীতে একজন ইথিওপীয় নপুংসক এই বিষয়টা উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি যখন ঈশ্বরের বাক্য পড়ছিলেন, তখন সুসমাচার প্রচারক ফিলিপ তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: “আপনি যাহা পাঠ করিতেছেন, তাহা কি বুঝিতে পারিতেছেন?” সেই নপুংসক তখন উত্তর দিয়েছিলেন: “কেহ আমাকে বুঝাইয়া না দিলে কেমন করিয়া বুঝিতে পারিব?” (প্রেরিত ৮:২৬-৩১) এরপর ফিলিপ সেই নপুংসককে ঈশ্বরের বাক্য সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞান লাভ করতে সাহায্য করেছিলেন। সেই নপুংসক যা শিখেছিলেন, সেটা তাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করেছিল যে, তিনি বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন। (প্রেরিত ৮:৩২-৩৮) একইভাবে, আমাদের বাইবেলভিত্তিক প্রকাশনাগুলো আমাদেরকে সত্য সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞান লাভ করতে সাহায্য করেছে। সেগুলো আমাদের অনুভূতিকে নাড়া দিয়েছে এবং আমরা যা শিখেছি, তা কাজে লাগাতে অনুপ্রাণিত করেছে।—কল. ১:৯, ১০.

প্রকাশনার মাধ্যমে যিহোবার দাসদেরকে ভোজন ও পান করার জন্য প্রচুর পরিমাণ আধ্যাত্মিক বিষয় প্রদান করা হয়। (যিশা. ৬৫:১৩) উদাহরণ স্বরূপ, ২১০টারও বেশি ভাষায় প্রাপ্তিসাধ্য প্রহরীদুর্গ পত্রিকা, বাইবেলের ভবিষ্যদ্‌বাণীর ব্যাখ্যা দেয়, গভীর আধ্যাত্মিক সত্যগুলো সম্বন্ধে আমাদের বোধগম্যতা বৃদ্ধি করে এবং আমাদেরকে বাইবেলের নীতি অনুযায়ী জীবনযাপন করার জন্য অনুপ্রাণিত করে। প্রায় ১০০টা ভাষায় প্রকাশিত সচেতন থাক! পত্রিকা যিহোবার সৃষ্টির কাজ সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করে এবং আমরা কীভাবে বাইবেলের ব্যাবহারিক পরামর্শ কাজে লাগাতে পারি, তা দেখায়। (হিতো. ৩:২১-২৩; রোমীয় ১:২০) বিশ্বস্ত দাস ৬৮০টারও বেশি ভাষায় বাইবেলভিত্তিক বিষয়বস্তু জুগিয়ে থাকে! আপনি কি প্রতিদিন বাইবেল পড়ার জন্য সময় আলাদা করে রাখেন? আপনি কি প্রতিটা নতুন পত্রিকা এবং প্রতি বছর আপনার ভাষায় যে-নতুন প্রকাশনাগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো পড়েন?

যিহোবার সংগঠন বিভিন্ন প্রকাশনা ছাড়াও, সেইসমস্ত বাইবেলভিত্তিক বক্তৃতার আউটলাইন তৈরি করে থাকে, যেগুলো আমাদের সভা ও সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। আপনি কি এই ধরনের সমাবেশে তুলে ধরা বক্তৃতা, নাটক, নমুনা ও সাক্ষাৎকার উপভোগ করেন? সত্যিই যিহোবা আমাদের জন্য আধ্যাত্মিক ভোজ জুগিয়ে থাকেন!—যিশা. ২৫:৬.

 ৩ প্রস্তুতকৃত প্রকাশনার সবগুলো যদি আপনার ভাষায় পাওয়া না যায়, তাহলে আপনি কি আধ্যাত্মিকভাবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবেন?

এর উত্তর হচ্ছে, না। আর যিহোবার দাসদের মধ্যে কেউ কেউ যদি কখনো কখনো অন্যদের চেয়ে বেশি আধ্যাত্মিক খাদ্য পেয়ে থাকে, তাহলে আমাদের তাতে অবাক হওয়া উচিত নয়। কেন? প্রেরিতদের কথা বিবেচনা করুন। তারা প্রথম শতাব্দীর অন্য অনেক শিষ্যের চেয়ে বেশি নির্দেশনা লাভ করেছিল। (মার্ক ৪:১০; ৯:৩৫-৩৭) তা সত্ত্বেও, অন্যান্য শিষ্য আধ্যাত্মিকভাবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়নি; তাদের যা প্রয়োজন ছিল, তা তারা পেয়েছিল।—ইফি. ৪:২০-২৪; ১ পিতর ১:৮.

এ ছাড়া, এই বিষয়টার প্রতি মনোযোগ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ যে, যিশু পৃথিবীতে থাকাকালীন যা যা বলেছিলেন এবং করেছিলেন, সেগুলোর সমস্তই সুসমাচারের বিবরণে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। প্রেরিত যোহন লিখেছিলেন: “যীশু আরও অনেক কর্ম্ম করিয়াছিলেন; সে সকল যদি এক এক করিয়া লেখা যায়, তবে আমার বোধ হয়, লিখিতে লিখিতে এত গ্রন্থ হইয়া উঠে যে, জগতেও তাহা ধরে না।” (যোহন ২১:২৫) যদিও প্রথম শতাব্দীতে যিশুর অনুসারীদের কাছে সিদ্ধ পুরুষ যিশু সম্বন্ধে আমাদের চেয়ে বেশি তথ্য ছিল, কিন্তু আমরা প্রয়োজনীয় বিষয় থেকে বঞ্চিত হইনি। যিহোবা এই বিষয়টার প্রতি লক্ষ রেখেছেন যেন আমরা যিশুর পদচিহ্নের অনুসারী হওয়ার জন্য যিশু সম্বন্ধে যথেষ্ট তথ্য জানতে পারি।—১ পিতর ২:২১.

প্রথম শতাব্দীর মণ্ডলীগুলোর উদ্দেশে প্রেরিতদের লেখা পত্রের বিষয়েও চিন্তা করে দেখুন। পৌলের লেখা পত্রগুলোর মধ্যে অন্ততপক্ষে একটা পত্র বাইবেলের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়নি। (কল. ৪:১৬) সেই পত্র পাইনি বলে কি আমাদের আধ্যাত্মিক খাদ্য অপর্যাপ্ত হয়ে গিয়েছে? না, তা নয়। আমাদের যা প্রয়োজন, তা যিহোবা জানেন আর আমাদের আধ্যাত্মিকভাবে সবল রাখার জন্য তিনি যথেষ্ট বিষয়বস্তু দিয়েছেন।—মথি ৬:৮.

আমাদের যা প্রয়োজন, তা যিহোবা জানেন আর আমাদের আধ্যাত্মিকভাবে সবল রাখার জন্য তিনি যথেষ্ট বিষয়বস্তু দিয়েছেন

বর্তমানে, যিহোবার দাসদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের চেয়ে বেশি পরিমাণ আধ্যাত্মিক খাদ্য লাভ করে। আপনি কি এমন কোনো ভাষায় কথা বলেন, যে-ভাষায় অল্প প্রকাশনা পাওয়া যায়? যদি তা-ই হয়, তাহলে এটা জেনে রাখুন, যিহোবা আপনার জন্য চিন্তা করেন। আপনার ভাষায় যে-বিষয়বস্তু রয়েছে, সেগুলো অধ্যয়ন করুন এবং সম্ভব হলে এমন কোনো ভাষার সভাতে যোগ দিন, যে-ভাষা আপনি বুঝতে পারেন। আর এই বিষয়ে আশ্বস্ত থাকুন, যিহোবা আপনাকে আধ্যাত্মিকভাবে সবল রাখবেন।—গীত. ১:২; ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫.

৪ আপনি যদি jw.org ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিষয়বস্তু না পান, তাহলে আপনি কি আধ্যাত্মিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বেন?

আমাদের ওয়েবসাইটে আমাদের প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকা ও অন্যান্য বাইবেলভিত্তিক প্রকাশনা পাওয়া যায়। এ ছাড়া, এই ওয়েবসাইটে এমন বিষয়বস্তু রয়েছে, যেগুলো বিবাহিত দম্পতি, কিশোর-কিশোরী ও অল্পবয়সি ছেলে-মেয়েদের জন্য সাহায্যকারী। এসব বিষয়বস্তু পারিবারিক উপাসনার সময় বিবেচনা করে পরিবারগুলো উপকৃত হয়। তা ছাড়া, আমাদের ওয়েবসাইটে বিশেষ কার্যক্রম যেমন, গিলিয়েড গ্র্যাজুয়েশন ও বার্ষিক সভা সম্বন্ধে রিপোর্ট থাকে এবং এই ওয়েবসাইট যিহোবার লোকেদের প্রভাবিত করে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আইনগত ঘটনা সম্বন্ধে বিশ্বব্যাপী ভ্রাতৃসমাজকে জানিয়ে থাকে। (১ পিতর ৫:৮, ৯) আর প্রচারের ক্ষেত্রে এই ওয়েবসাইট এক জোরালো হাতিয়ার, যেটার মাধ্যমে এমনকী সেই দেশগুলোতেও সুসমাচার জানানো যায়, যেখানে আমাদের কাজের ওপর সীমা আরোপ করা হয়েছে অথবা আমাদের কাজ নিষিদ্ধ।

কিন্তু, আপনার কাছে আমাদের ওয়েবসাইট দেখার সুযোগ থাকুক বা না থাকুক, আপনি আধ্যাত্মিকভাবে সবল থাকতে পারেন। বিশ্বস্ত দাস পর্যাপ্ত পরিমাণ ছাপানো বিষয়বস্তু প্রদান করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে, যাতে প্রত্যেক পরিজন আধ্যাত্মিকভাবে পুষ্ট থাকে। তাই, শুধুমাত্র jw.org ওয়েবসাইট দেখার জন্য আপনি কোনো যন্ত্র কেনার বাধ্যবাধকতা বোধ করবেন না। কেউ কেউ হয়তো আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কিছু বিষয়বস্তু ব্যক্তিগতভাবে প্রিন্ট করে, যাদের ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ নেই, তাদের দিতে পারেন। তবে মণ্ডলী থেকে তা করার প্রয়োজন নেই।

আমাদের আধ্যাত্মিক চাহিদার যত্ন নেওয়ার বিষয়ে যিশু তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেছেন বলে আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। শেষকালের কঠিন পরিস্থিতি যখন দ্রুত শেষ হচ্ছে, তখন আমরা এই আস্থা রাখতে পারি, যিহোবা ক্রমাগতভাবে “উপযুক্ত সময়ে” আধ্যাত্মিক “খাদ্য” জুগিয়ে যাবেন।