সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জুলাই ২০১৪

যিহোবার লোকেরা ‘অধার্ম্মিকতা হইতে দূরে থাকে’

যিহোবার লোকেরা ‘অধার্ম্মিকতা হইতে দূরে থাকে’

“যে কেহ প্রভুর নাম করে [“যিহোবার নামে ডাকে,” NW], সে অধার্ম্মিকতা হইতে দূরে থাকুক।” —২ তীম. ২:১৯.

১. কোন বিষয়টা আমাদের উপাসনায় এক বিশেষ ভূমিকা রাখে?

বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায়, অনেক দালানে অথবা জাদুঘরের বিভিন্ন শিল্পকর্মে খোদাই করে যিহোবার নাম লেখা রয়েছে। আপনি যদি কখনো এইরকম কোনো জায়গায় সেই নাম দেখে থাকেন, তাহলে নিঃসন্দেহে আপনি অত্যন্ত রোমাঞ্চিত হয়ে উঠেছিলেন। কারণ যিহোবার সাক্ষি হিসেবে, আমাদের উপাসনায় ঈশ্বরের নামের এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে পুরো পৃথিবীতে এমন আর কোনো দল বা লোক নেই, যারা আমাদের মতো এই ঐশিক নামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত আছে। তবে আমরা জানি, ঈশ্বরের নাম বহন করার বিশেষ সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জন্য দায়িত্বও চলে আসে।

২. ঈশ্বরের নাম বহন করার বিশেষ সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জন্য কোন দায়িত্ব চলে আসে?

শুধুমাত্র ঐশিক নাম ব্যবহার করলেই যে আমরা যিহোবার অনুগ্রহ লাভ করব, এমন নয়। আমাদের অবশ্যই তাঁর নৈতিক মানের সঙ্গে মিল রেখে জীবনযাপন করতে হবে। আর তাই বাইবেল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যিহোবার লোকেদের অবশ্যই ‘মন্দ হইতে দূরে যাইতে’ হবে। (গীত. ৩৪:১৪) প্রেরিত পৌল স্পষ্টভাবে এই নীতিটাই উল্লেখ করেছিলেন, যখন তিনি লিখেছিলেন: “যে কেহ যিহোবার নামে ডাকে, সে অধার্ম্মিকতা হইতে দূরে থাকুক।” (পড়ুন, ২ তীমথিয় ২:১৯.) যিহোবার সাক্ষি হিসেবে আসলেই আমরা তাঁর নামে ডাকার জন্য সুপরিচিত।  কিন্তু, কীভাবে আমরা অধার্মিকতা হতে দূরে থাকতে পারি?

মন্দ হতে “উঠিয়া যাও”

৩, ৪. কোন শাস্ত্রপদ দীর্ঘসময় ধরে বাইবেল পণ্ডিতদের কাছে আগ্রহ জাগিয়ে তোলার মতো এক বিষয় হয়েছে এবং কেন?

দ্বিতীয় তীমথিয় ২:১৯ পদে প্রাপ্ত পৌলের কথাগুলোর শাস্ত্রীয় প্রসঙ্গটা একটু বিবেচনা করুন। এই পদে প্রথমে “ঈশ্বর-স্থাপিত দৃঢ় ভিত্তিমূল” সম্বন্ধে আর এরপর সেটার ওপরে মুদ্রাঙ্কিত দুটো ঘোষণা সম্বন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ঘোষণাটা হল, “প্রভু [“যিহোবা,” NW] জানেন, কে কে তাঁহার,” যেটা স্পষ্টতই গণনাপুস্তক ১৬:৫ পদ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। (আগের প্রবন্ধটা দেখুন।) আর দ্বিতীয় ঘোষণাটা হল, “যে কেহ যিহোবার নামে ডাকে, সে অধার্ম্মিকতা হইতে দূরে থাকুক,” যেটা দীর্ঘসময় ধরে বাইবেল পণ্ডিতদের কাছে আগ্রহ জাগিয়ে তোলার মতো এক বিষয় হয়েছে। কেন?

পৌলের কথা থেকে বোঝা যায় যে, তিনি অন্য কোনো উৎস থেকে উদ্ধৃতি করেছিলেন। কিন্তু, ইব্রীয় শাস্ত্রে এমন কোনো পদ নেই, যেটা পৌলের এই উদ্ধৃতির সঙ্গে হুবহু মেলে। তাই, প্রেরিত আসলে কী বুঝিয়েছিলেন, যখন তিনি এই কথা বলেছিলেন: “যে কেহ যিহোবার নামে ডাকে, সে অধার্ম্মিকতা হইতে দূরে থাকুক”? এর ঠিক আগের উক্তিতে পৌল গণনাপুস্তক ১৬ অধ্যায় থেকে উদ্ধৃতি করেছিলেন, যেখানে কোরহের বিদ্রোহের বিবরণ রয়েছে। দ্বিতীয় ঘোষণাটাও কি একইভাবে সেই বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত ঘটনাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত?

৫-৭. মোশির দিনের কোন ঘটনা ২ তীমথিয় ২:১৯ পদে উল্লেখিত পৌলের কথার ভিত্তি জুগিয়েছিল? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

বাইবেল জানায়, মোশি ও হারোণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কোরহের সঙ্গে ইলীয়াবের ছেলে দাথন ও অবীরাম যোগ দিয়েছিল। (গণনা. ১৬:১-৫) তারা সকলের সামনে মোশির প্রতি অসম্মান দেখিয়েছিল এবং তার ঈশ্বরদত্ত কর্তৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সেই বিদ্রোহীরা যিহোবার লোকেদের মধ্যেই বাস করছিল এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছিল। তাই, যিহোবার অনুগত উপাসকদের এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য যখন যিহোবার সময় উপস্থিত হয়েছিল, তখন তিনি একটা স্পষ্ট আজ্ঞা দিয়েছিলেন।

সেই বিবরণ বলে: “তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি মণ্ডলীকে বল, তোমরা কোরহের, দাথনের ও অবীরামের আবাসের চতুর্দ্দিক্‌ হইতে উঠিয়া যাও। আর মোশি উঠিয়া দাথনের ও অবীরামের নিকটে গেলেন, এবং ইস্রায়েলের প্রাচীনবর্গ তাঁহার পশ্চাৎ গেলেন। পরে তিনি মণ্ডলীকে কহিলেন, বিনয় করি, তোমরা এই দুষ্ট লোকদের তাম্বুর নিকট হইতে উঠিয়া যাও, ইহাদের কিছুই স্পর্শ করিও না, পাছে ইহাদের সমস্ত পাপে বিনষ্ট হও। তাহাতে তাহারা কোরহের, দাথনের ও অবীরামের আবাসের চারিদিক্‌ হইতে উঠিয়া গেল।” (গণনা. ১৬:২৩-২৭) তারপর যিহোবা সমস্ত বিদ্রোহীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, অনুগত উপাসকরা, যারা সেই জায়গা থেকে উঠে আসার মাধ্যমে অধার্মিকতা হতে দূরে থেকেছিল, তারা রক্ষা পেয়েছিল।

যিহোবা হৃদয় পড়তে পারেন! যারা তাঁর লোক, তাদের আনুগত্য তিনি বুঝতে পারেন। তা সত্ত্বেও, তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল অর্থাৎ নিজেদেরকে অধার্মিক লোকেদের থেকে পৃথক করতে হয়েছিল। তাই, পৌল সম্ভবত গণনাপুস্তক ১৬:৫, ২৩-২৭ পদের বিবরণ সম্বন্ধেই উল্লেখ করেছিলেন, যখন তিনি এই কথা লিখেছিলেন: “যে কেহ যিহোবার নামে ডাকে, সে অধার্ম্মিকতা হইতে দূরে থাকুক।” আমরা যদি এইরকম উপসংহারে আসি, তাহলে সেটা পৌলের বলা এই বাক্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, “যিহোবা জানেন, কে কে তাঁহার।”—২ তীম. ২:১৯.

“মূঢ় ও অজ্ঞান বিতণ্ডা সকল অস্বীকার কর”

৮. কেন শুধু যিহোবার নামে ডাকা অথবা খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর সদস্য হওয়া যথেষ্ট নয়?

পৌল মোশির দিনের সেই ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তীমথিয়কে এটা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন যে, যিহোবার সঙ্গে মূল্যবান সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য তাকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধুমাত্র খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে থাকাই যথেষ্ট ছিল না, ঠিক যেমনটা মোশির দিনে কেবল যিহোবার নামে ডাকাই  যথেষ্ট ছিল না। বিশ্বস্ত উপাসকদের দৃঢ়তার সঙ্গে অধার্মিকতা হতে দূরে থাকতে হবে। তীমথিয়ের জন্য এর অর্থ কী ছিল? আর পৌলের অনুপ্রাণিত পরামর্শ থেকে আজকে যিহোবার লোকেরা কোন শিক্ষাগুলো লাভ করতে পারে?

৯. “মূঢ় ও অজ্ঞান বিতণ্ডা সকল” কীভাবে প্রাথমিক খ্রিস্টীয় মণ্ডলীকে প্রভাবিত করেছিল?

খ্রিস্টানদেরকে কোন ধরনের অধার্মিকতা হতে দূরে থাকতে হবে বা তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে, সেই বিষয়ে ঈশ্বরের বাক্য সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেয়। উদাহরণ স্বরূপ আমরা দেখি, ২ তীমথিয় ২:১৯ পদের ঠিক আগের ও পরের প্রসঙ্গে পৌল তীমথিয়কে বলছেন, যেন তিনি ‘বাগ্‌যুদ্ধ না করেন’ এবং ‘নিঃসার শব্দাড়ম্বর হইতে পৃথক্‌ থাকেন।’ (পড়ুন, ২ তীমথিয় ২:১৪, ১৬, ২৩.) মণ্ডলীর কিছু সদস্য তখন ধর্মভ্রষ্টদের শিক্ষাগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছিল। এ ছাড়া, অন্যেরা হয়তো বিভিন্ন বিতর্কিত ধারণা তুলে ধরছিল। যদিও বিতর্কিত ধারণাগুলো সরাসরি অশাস্ত্রীয় ছিল না, কিন্তু সেগুলো বিভেদ সৃষ্টি করেছিল। ফলে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিবাদ ও বিতর্ক শুরু হয়েছিল, যা আধ্যাত্মিকভাবে ক্ষতিকর এক পরিবেশ সৃষ্টি করছিল। তাই, পৌল “মূঢ় ও অজ্ঞান বিতণ্ডা সকল অস্বীকার” বা প্রত্যাখ্যান করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন।

১০. ধর্মভ্রষ্টতার মুখোমুখি হলে আমাদের কেমন প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত?

১০ বর্তমানে, যিহোবার লোকেরা সাধারণত মণ্ডলীর মধ্যে ধর্মভ্রষ্টতার মুখোমুখি হয় না। তা সত্ত্বেও, আমাদের কাছে যখন অশাস্ত্রীয় শিক্ষা প্রকাশ করা হয়, তখন সেটার উৎস যা-ই হোক না কেন, আমাদের তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। ধর্মভ্রষ্টদের সঙ্গে বিতণ্ডায় বা তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়া বিজ্ঞতার কাজ হবে না, তা সেটা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরিভাবে, তাদের ব্লগে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অথবা অন্য যেকোনো উপায়েই করা হোক না কেন। এমনকী তা করার পিছনে যদি সেই ব্যক্তিকে সাহায্য করার উদ্দেশ্য থাকে, তবুও সেটা সবেমাত্র আমরা যে-শাস্ত্রীয় নির্দেশনা বিবেচনা করেছি, সেটার বিপরীত কাজ হবে। এর পরিবর্তে, যিহোবার লোক হিসেবে ধর্মভ্রষ্টতাকে আমাদের পুরোপুরিভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। হ্যাঁ, সেটাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

ধর্মভ্রষ্টদের সঙ্গে তর্কবিতর্কে রত হওয়া এড়িয়ে চলুন (১০ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১১. কোন কারণে “মূঢ় ও অজ্ঞান বিতণ্ডা সকল” সৃষ্টি হতে পারে আর খ্রিস্টান প্রাচীনরা কীভাবে উত্তম উদাহরণ দেখাতে পারে?

১১ ধর্মভ্রষ্টতা ছাড়াও অন্যান্য বিষয় রয়েছে, যেগুলো আমাদের মণ্ডলীর শান্তিকে বিঘ্নিত করতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, আমোদপ্রমোদের বিষয়ে ভিন্ন মতামতের কারণে “মূঢ় ও অজ্ঞান বিতণ্ডা সকল” সৃষ্টি হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যখন এমন আমোদপ্রমোদের ব্যাপারে উৎসাহিত করে, যেগুলো যিহোবার নৈতিক মানকে লঙ্ঘন করে, তখন খ্রিস্টান প্রাচীনরা অবশ্যই শুধুমাত্র মতবিরোধ এড়ানোর জন্য এই ধরনের আচরণকে প্রশ্রয় দেয় না। (গীত. ১১:৫; ইফি. ৫:৩-৫) তবে, প্রাচীনরা ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে না দেওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক থাকে। তারা অনুগতভাবে খ্রিস্টান অধ্যক্ষদের উদ্দেশে দেওয়া শাস্ত্রীয় এই উপদেশ নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলে: “তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরের যে পাল আছে, তাহা পালন কর; . . . নিরূপিত অধিকারের উপরে কর্ত্তৃত্বকারীরূপে নয়, কিন্তু পালের আদর্শ হইয়াই কর।”—১ পিতর ৫:২, ৩; পড়ুন, ২ করিন্থীয় ১:২৪.

১২, ১৩. (ক) আমোদপ্রমোদ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যিহোবার সাক্ষিদের অবস্থান কী আর এক্ষেত্রে বাইবেলের কোন নীতিগুলো প্রযোজ্য? (খ) ১২ অনুচ্ছেদে আলোচিত নীতিগুলো কীভাবে অন্যান্য ব্যক্তিগত বিষয়েও প্রয়োগ করা যায়?

১২ যখন আমোদপ্রমোদের বিষয়টা আসে, তখন আমাদের কী এড়িয়ে চলা উচিত, সেই ব্যাপারে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার জন্য সংগঠন কোনো সুনির্দিষ্ট সিনেমা, ভিডিও গেম, বই অথবা সংগীত সম্বন্ধে সমালোচনা করে না। কেন? কারণ বাইবেল প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজ নিজ “জ্ঞানেন্দ্রিয় সকল . . . সদসৎ বিষয়ের বিচারণে” বা ভালো-মন্দ পৃথক করার জন্য পটু বা প্রশিক্ষিত করতে উৎসাহিত করে। (ইব্রীয় ৫:১৪) শাস্ত্রে এমন মৌলিক নীতিগুলো রয়েছে, যেগুলো একজন খ্রিস্টান আমোদপ্রমোদ বাছাই করার সময় বিবেচনা করতে পারেন। জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে, ‘প্রভুর প্রীতিজনক কি, তাহার পরীক্ষা করাই’ আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। (ইফি. ৫:১০) বাইবেল জানায় যে, পরিবারের মধ্যে কোন ধরনের আমোদপ্রমোদের বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হবে না, তা নির্ধারণ করার ব্যাপারে পরিবারের মস্তকের যথেষ্ট কর্তৃত্ব রয়েছে।—১ করি. ১১:৩; ইফি. ৬:১-৪.

 ১৩ ওপরে আলোচিত বাইবেলের নীতিগুলো কেবল আমোদপ্রমোদ বাছাইয়ের বেলায়ই প্রযোজ্য নয়। পোশাক-আশাক ও সাজগোজ, স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভাস এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত বিষয়ে মতামতও হয়তো বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তাই, যদি কোনো শাস্ত্রীয় নীতি লঙ্ঘন করা না হয়, তাহলে যিহোবার লোকেরা বিজ্ঞতা দেখিয়ে এইরকম বিষয়ে তর্ক করা এড়িয়ে চলে কারণ “যুদ্ধ করা প্রভুর দাসের উপযুক্ত নহে; কিন্তু সকলের প্রতি কোমল [“কৌশলী,” পাদটীকা, NW]” হতে হবে।—২ তীম. ২:২৪.

কুসংসর্গ এড়িয়ে চলুন!

১৪. কুসংসর্গ এড়িয়ে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতে গিয়ে পৌল কোন দৃষ্টান্ত ব্যবহার করেছিলেন?

১৪ যারা “যিহোবার নামে ডাকে,” তারা অন্য আর কোন উপায়ে ‘অধার্ম্মিকতা হইতে দূরে থাকিতে’ পারে? অধার্মিক আচরণ করে এমন লোকেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা এড়িয়ে চলার মাধ্যমে তারা তা করতে পারে। এই বিষয়টা লক্ষণীয় যে, পৌল ‘ঈশ্বর-স্থাপিত দৃঢ় ভিত্তিমূলের’ দৃষ্টান্ত তুলে ধরার পর আরও একটা দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছিলেন। তিনি এক ‘বৃহৎ বাটি’ সম্বন্ধে লিখেছিলেন, যেখানে “কেবল স্বর্ণের ও রৌপ্যের পাত্র নয়, কাষ্ঠের ও মৃত্তিকার পাত্রও থাকে; তাহার কতকগুলি সমাদরের; কতকগুলি অনাদরের পাত্র।” (২ তীম. ২:২০, ২১) এরপর তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, খ্রিস্টানদেরকে সেইসমস্ত “অনাদরের পাত্র” থেকে নিজেদের “শুচি” বা পৃথক করতে হবে।

১৫, ১৬. এক ‘বৃহৎ বাটীর’ দৃষ্টান্ত থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

১৫ এই দৃষ্টান্তের অর্থ কী? পৌল রূপক ভাষায় খ্রিস্টীয় মণ্ডলীকে এক ‘বৃহৎ বাটীর’ বা বাড়ির সঙ্গে এবং মণ্ডলীর সদস্যদেরকে “পাত্র” বা গৃহস্থালী সামগ্রীর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। একটা বাড়িতে কিছু পাত্র হয়তো ক্ষতিকর পদার্থ অথবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে দূষিত হয়ে পড়তে পারে। সেই বাড়ির কর্তা এই ধরনের সামগ্রীকে অন্যান্য পরিষ্কার পাত্র, যেমন রান্না করার পাত্র থেকে আলাদা রাখবেন।

১৬ একইভাবে, বর্তমানে যিহোবার যে-লোকেরা শুদ্ধ জীবনযাপন করার প্রচেষ্টা করে, তাদেরকে মণ্ডলীর সেই লোকেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করা এড়িয়ে চলতে হবে, যারা বার বার যিহোবার নীতিগুলোকে অবজ্ঞা করে। (পড়ুন, ১ করিন্থীয় ১৫:৩৩.) মণ্ডলীর ভিতরের কারো কারো ক্ষেত্রে  যদি এমনটা করা হয়, তাহলে মণ্ডলীর বাইরের সেই ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা করা থেকে ‘সরিয়া যাওয়া’ কতই-না গুরুত্বপূর্ণ, যাদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যক্তিই ‘অর্থপ্রিয়, পিতামাতার অবাধ্য, অসাধু, অপবাদক, প্রচণ্ড, সদ্‌বিদ্বেষী, বিশ্বাসঘাতক, ঈশ্বরপ্রিয় নয়, বরং বিলাসপ্রিয়’!—২ তীম. ৩:১-৫.

আমাদের দৃঢ় পদক্ষেপের প্রতি যিহোবা আশীর্বাদ করেন

১৭. অনুগত ইস্রায়েলীয়রা অধার্মিকতার বিরুদ্ধে কতটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অবস্থান নিয়েছিল?

১৭ ইস্রায়েলীয়দের যখন বলা হয়েছিল, “তোমরা কোরহের, দাথনের ও অবীরামের আবাসের চতুর্দ্দিক্‌ হইতে উঠিয়া যাও,” তখন তারা কীভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা বাইবেলে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। সেই বিবরণ বলে, ‘তাহাতে [“সঙ্গেসঙ্গে,” NW] তাহারা উঠিয়া গেল।’ (গণনা. ১৬:২৪, ২৭) এক্ষেত্রে তারা কোনোরকম দ্বিধা বা গড়িমসি করেনি। এ ছাড়া, এই শাস্ত্রপদ পরোক্ষভাবে আমাদের এটাও জানায়, তারা কতটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সেই নির্দেশনা পালন করেছিল। তারা “চারিদিক্‌ হইতে উঠিয়া গেল।” অনুগত ব্যক্তিরা কোনোরকম ঝুঁকি নিতে চায়নি। তাদের বাধ্যতা অসম্পূর্ণ বা অর্ধহৃদয়ের ছিল না। বরং তারা যিহোবার পক্ষে এবং অধার্মিকতার বিপক্ষে এক দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল। এই উদাহরণ থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

১৮. পৌল যখন তীমথিয়কে ‘যৌবনকালের অভিলাষ হইতে পলায়ন করিবার’ পরামর্শ দিয়েছিলেন, তখন তিনি কী বোঝাতে চেয়েছিলেন?

১৮ যখন যিহোবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে সুরক্ষা করার বিষয়টা আসে, তখন আমাদের দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। তীমথিয়কে পৌল এই বিষয়টাই বোঝাতে চেয়েছিলেন, যখন তিনি তাকে এই পরামর্শ দিয়েছিলেন, “তুমি যৌবনকালের অভিলাষ হইতে পলায়ন কর।” (২ তীম. ২:২২) সেই সময়ে তীমথিয় ইতিমধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, সম্ভবত তার বয়স তখন ৩০-এর কোঠায়। তবে, মূর্খতাপূর্ণ “যৌবনকালের অভিলাষ” যে সবসময় একটা নির্দিষ্ট বয়সসীমার লোকেদের মধ্যেই থাকে, এমন নয়। তীমথিয় যদি এই ধরনের অভিলাষের মুখোমুখি হতেন, তাহলে তাকে সেখান থেকে “পলায়ন” করতে হতো। অন্যভাবে বললে, তীমথিয়কে ‘অধার্ম্মিকতা হইতে দূরে থাকিতে’ হতো। যিশুও একইরকম শিক্ষা দিয়েছিলেন, যখন তিনি বলেছিলেন: “তোমার চক্ষু যদি তোমার বিঘ্ন জন্মায়, তবে তাহা উপড়াইয়া ফেলিয়া দেও।” (মথি ১৮:৯) বর্তমানে, যে-খ্রিস্টানরা এই পরামর্শের প্রতি মনোযোগ দেয়, তারা আধ্যাত্মিক হুমকির মুখোমুখি হলে কোনোরকম দ্বিধা বা গড়িমসি না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

১৯. বর্তমানে নিজেদেরকে আধ্যাত্মিক বিপদ থেকে সুরক্ষা করার জন্য কেউ কেউ কীভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে?

১৯ যিহোবার সাক্ষি হওয়ার আগে মদ্যপানের সমস্যা ছিল এমন কেউ কেউ এখন একেবারেই মদ না খাওয়ার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যেরা এমন আমোদপ্রমোদ এড়িয়ে চলে, যেগুলো এমনিতে হয়তো ভুল নয়, তবে তা তাদের মন্দ আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলতে পারে। (গীত. ১০১:৩) উদাহরণ স্বরূপ, সাক্ষি হওয়ার আগে একজন ভাই প্রায়ই এমন নাচের পার্টি উপভোগ করতেন, যেখানকার পরিবেশ অনৈতিক ছিল। কিন্তু সত্য জানার পর, তিনি এমনকী সাক্ষিদের সঙ্গে মেলামেশা করার সময়ও একেবারেই নাচতেন না। কারণ তার মধ্যে এইরকম ভয় কাজ করে, এর ফলে তার ভিতরে হয়তো অতীতের অনুপযুক্ত আকাঙ্ক্ষা বা চিন্তাভাবনা জেগে উঠতে পারে। অবশ্য, এর মানে এই নয় যে, খ্রিস্টানদেরকে মদ, নাচ অথবা ভুল নয় এমন অন্যান্য বিষয় থেকে একেবারে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু, আমাদের কাছ থেকে আশা করা হয়, যেন আমরা আধ্যাত্মিক বিপদ থেকে নিজেদের সুরক্ষা করার জন্য দৃঢ়তার সঙ্গে ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পদক্ষেপ নিই।

২০. ‘অধার্ম্মিকতা হইতে দূরে থাকা’ যদিও সহজ নয় কিন্তু কোন বিষয়টা আমাদের আস্থা ও সান্ত্বনা প্রদান করে?

২০ ঈশ্বরের নাম বহন করার বিশেষ সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বও আসে। আমাদের ‘অধার্ম্মিকতা হইতে দূরে থাকিতে’ এবং ‘মন্দ হইতে দূরে যাইতে’ হবে। (গীত. ৩৪:১৪) এটা ঠিক যে, সবসময় তা করা সহজ নয়। কিন্তু এটা জানা অত্যন্ত সান্ত্বনাদায়ক, যিহোবা সেই ব্যক্তিদের সবসময় ভালোবাসবেন, যারা “তাঁহার” এবং যারা তাঁর ধার্মিক নীতিগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলে।—২ তীম. ২:১৯; পড়ুন, ২ বংশাবলি ১৬:৯ক.