সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জুলাই ২০১৪

“তোমরাই আমার সাক্ষী”

“তোমরাই আমার সাক্ষী”

“সদাপ্রভু [“যিহোবা,” NW] কহেন, তোমরাই আমার সাক্ষী।”—যিশা. ৪৩:১০.

১, ২. (ক) একজন সাক্ষি হওয়ার অর্থ কী আর কোন ক্ষেত্রে জগতের সংবাদমাধ্যম লক্ষণীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে? (খ) কেন যিহোবাকে এই জগতের সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হয় না?

একজন সাক্ষি হওয়ার অর্থ কী? একটা অভিধানে এইরকম সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে: “এমন একজন ব্যক্তি, যিনি কোনো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন এবং যা ঘটেছে, সেটার বিবরণ দেন।” উদাহরণ স্বরূপ, দক্ষিণ আফ্রিকার পিটারমারিৎজ্‌বার্গ শহরে, ১৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটা সংবাদপত্র ছাপানো হচ্ছে, যেটার নাম এখন সাক্ষি (ইংরেজি)। এই নামটা উপযুক্ত কারণ একটা সংবাদপত্রের উদ্দেশ্য হল, বিশ্বে যে-ঘটনাগুলো ঘটছে, সেগুলোর সঠিক বিবরণ তুলে ধরা। সাক্ষি পত্রিকার প্রথম সম্পাদক অঙ্গীকার করেছিলেন, এই সংবাদপত্র “সত্য অর্থাৎ সম্পূর্ণ সত্য বলবে, সত্য ভিন্ন মিথ্যা বলবে না।”

তবে দুঃখের বিষয়টা হল, জগতের সংবাদমাধ্যম মানবইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘটনাকে ব্যাপকভাবে উপেক্ষা করেছে, এমনকী বিকৃত করেছে। নিশ্চিতভাবে সেই বিষয়টাও এর অন্তর্ভুক্ত, যে-সম্বন্ধে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তাঁর প্রাচীন কালের ভাববাদী যিহিষ্কেলের মাধ্যমে বলেছিলেন: “জাতিগণ জানিবে যে, আমিই সদাপ্রভু [“যিহোবা,” NW]।” (যিহি. ৩৯:৭) কিন্তু, নিখিলবিশ্বের সার্বভৌম শাসককে জগতের কোনো সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তাঁর প্রায় আশি লক্ষ সাক্ষি রয়েছে, যারা সমস্ত জাতির লোকের কাছে তাঁর সম্বন্ধে এবং মানবজাতির সঙ্গে তাঁর অতীত ও বর্তমান আচরণ সম্বন্ধে জানিয়ে থাকে। এ ছাড়া, ঈশ্বর ভবিষ্যতে মানবজাতিকে আশীর্বাদ করার জন্য যা করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন, সেই বিষয়ে এই সাক্ষিবাহিনী ঘোষণা করে থাকে। সাক্ষ্য দেওয়ার এই কাজকে আমাদের জীবনে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে ঈশ্বরদত্ত সেই নামের যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করি, যে-বিষয়ে যিশাইয় ৪৩:১০ পদে বলা আছে:  “যিহোবা কহেন, তোমরাই আমার সাক্ষী, এবং আমার মনোনীত দাস।”

৩, ৪. (ক) কখন বাইবেল ছাত্ররা একটা নতুন নাম গ্রহণ করেছিল আর এই বিষয়ে তাদের অনুভূতি কেমন ছিল? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।) (খ) এখন আমরা কোন প্রশ্নগুলো বিবেচনা করব?

যিহোবার নাম বহন করা কতই-না বিশেষ এক সুযোগ কারণ তিনি হলেন “যুগপর্য্যায়ের রাজা,” যিনি এই কথা বলেন: “আমার এই নাম অনন্তকালস্থায়ী, এবং এতদ্দ্বারা আমি পুরুষে পুরুষে স্মরণীয়”! (১ তীম. ১:১৭; যাত্রা. ৩:১৫; তুলনা করুন, উপদেশক ২:১৬.) ১৯৩১ সালে, বাইবেল ছাত্ররা যিহোবার সাক্ষি নাম গ্রহণ করে। এরপর, এই পত্রিকায় কৃতজ্ঞতার অভিব্যক্তিতে পূর্ণ এমন অনেক চিঠি প্রকাশ করা হয়েছিল। কানাডার একটা মণ্ডলী থেকে লেখা হয়েছিল, “আমরা ‘যিহোবার সাক্ষি,’ এই সুসংবাদ শুনে আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি এবং এই নতুন নামের যোগ্য হয়ে ওঠার জন্য আমাদের দৃঢ়সংকল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে পেরেছি।”

ঈশ্বরের নাম বহন করার বিশেষ সুযোগের জন্য আপনি কীভাবে উপলব্ধি দেখাতে পারেন? তা ছাড়া, আপনি কি ব্যাখ্যা করতে পারেন যে, আমাদের যিহোবার সাক্ষি নামটা শাস্ত্রীয় কোন প্রসঙ্গ থেকে নেওয়া হয়েছে?

প্রাচীন কালে ঈশ্বরের সাক্ষিরা

৫, ৬. (ক) ইস্রায়েলীয় বাবা-মায়েরা কোন উপায়ে যিহোবা সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিল? (খ) ইস্রায়েলীয় বাবা-মায়েদের আর কোন আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল আর বর্তমানের বাবা-মায়েদেরও কেন তা কাজে লাগাতে হবে?

যিশাইয়ের দিনে, ইস্রায়েলীয়রা প্রত্যেকে আলাদা আলাদাভাবে যিহোবার “সাক্ষী” ছিল এবং একটা জাতি হিসেবে ঈশ্বরের “দাস” ছিল। (যিশা. ৪৩:১০) ইস্রায়েলীয় বাবা-মায়েরা একটা যে-উপায়ে সাক্ষ্য দিয়েছিল তা হল, তারা তাদের সন্তানদের কাছে তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে ঈশ্বরের আচরণ সম্বন্ধে জানিয়েছিল। উদাহরণ স্বরূপ, প্রতি বছর নিস্তারপর্ব পালন করার নির্দেশ দেওয়ার সময় লোকেদের বলা হয়েছিল: “তোমাদের সন্তানগণ যখন তোমাদিগকে বলিবে, তোমাদের এই সেবার তাৎপর্য্য কি? তোমরা কহিবে, ইহা সদাপ্রভুর উদ্দেশে নিস্তারপর্ব্বীয় যজ্ঞ, মিস্রীয়দিগকে আঘাত করিবার সময়ে তিনি মিসরে ইস্রায়েল-সন্তানদের গৃহ সকল ছাড়িয়া অগ্রে গিয়াছিলেন, আমাদের গৃহ রক্ষা করিয়াছিলেন।” (যাত্রা. ১২:২৬, ২৭) বাবা-মায়েদেরকে তাদের সন্তানদের কাছে এটাও ব্যাখ্যা করতে হতো যে, যিহোবার উপাসনা করার জন্য ইস্রায়েলীয়দের  প্রান্তরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাইতে মোশি যখন প্রথম বার মিশরের শাসকের কাছে গিয়েছিলেন, তখন ফরৌণ বলেছিলেন: “সদাপ্রভু কে, যে আমি তাহার কথা শুনিয়া ইস্রায়েলকে ছাড়িয়া দিব?” (যাত্রা. ৫:২) নিশ্চিতভাবে, তাদের এটাও বলতে হতো, দশটা আঘাতে দেশ বিধবস্ত হয়ে যাওয়ার এবং সূফসাগরে মিশরের সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ইস্রায়েলীয়রা রক্ষা পাওয়ার পর, ফরৌণের সেই প্রশ্নের উত্তর সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। যিহোবা ছিলেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আর তিনি এখনও সর্বশক্তিমান। এ ছাড়া, যিহোবা যে সত্য ঈশ্বর এবং তাঁর প্রতিজ্ঞা পরিপূর্ণকারী, ইস্রায়েল জাতি সেটারও চাক্ষুষ সাক্ষি হয়েছিল।

যে-ইস্রায়েলীয়রা যিহোবার নাম বহন করার বিশেষ সুযোগের প্রতি উপলব্ধি দেখিয়েছিল, তারা নিঃসন্দেহে সেই চমৎকার ঘটনা শুধুমাত্র তাদের সন্তানদের কাছেই বলেনি কিন্তু সেইসঙ্গে তাদের ঘরে দাস হিসেবে সেবারত বিদেশিদের কাছেও বলেছিল। একইরকম গুরুত্বপূর্ণ আরেকটা আদেশও দেওয়া হয়েছিল আর তা হল, ইস্রায়েলীয়রা যাতে তাদের সন্তানদেরকে ঈশ্বরের পবিত্রতার মানদণ্ড পালন করার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়। যিহোবা বলেছিলেন: “তোমরা পবিত্র হও, কেননা আমি সদাপ্রভু তোমাদের ঈশ্বর পবিত্র।” (লেবীয়. ১৯:২; দ্বিতীয়. ৬:৬, ৭) বর্তমানের খ্রিস্টান বাবা-মায়েদের জন্য কতই-না চমৎকার এক আদর্শ! কারণ তাদেরও একইভাবে সন্তানদেরকে পবিত্রতার পথে চলার জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে আর এভাবে তারা ঈশ্বরের গৌরবান্বিত নামের প্রতি সম্মান নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাদের সন্তানদের সাহায্য করবে।—পড়ুন, হিতোপদেশ ১:৮; ইফিষীয় ৬:৪.

সন্তানদের যিহোবা সম্বন্ধে শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে আমরা তাঁর নামের গৌরব নিয়ে আসি (৫, ৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)

৭. (ক) ইস্রায়েলীয়রা যখন যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত ছিল, তখন আশেপাশের জাতির ওপর এটার কেমন প্রভাব পড়েছিল? (খ) যারা ঈশ্বরের নাম বহন করে, তাদের কোন দায়িত্ব রয়েছে?

তাই, ইস্রায়েলীয়রা যখন বিশ্বস্ত ছিল, তখন তারা ঈশ্বরের নামের বিষয়ে চমৎকার সাক্ষ্য দিয়েছিল। তাদের এই কথা বলা হয়েছিল: “পৃথিবীস্থ সমস্ত জাতি দেখিতে পাইবে যে, তোমার উপরে সদাপ্রভুর নাম কীর্ত্তিত হইয়াছে, এবং তাহারা তোমা হইতে ভীত হইবে।” (দ্বিতীয়. ২৮:১০) কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, ইস্রায়েলীয়দের ইতিহাস দেখায় যে, তারা অধিকাংশ সময়ই অবিশ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। তারা বার বার মানুষের নির্মিত প্রতিমার উপাসনা করার জন্য ফিরে গিয়েছিল। এ ছাড়া, তারা যে-কনানীয় দেবতাদের উপাসনা করত, তারা সেগুলোর মতোই নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছিল। তারা তাদের সন্তানদের বলি দিত এবং দরিদ্রদের অত্যাচার করত। যে-পবিত্রতম ব্যক্তির নাম আমরা বহন করছি, আমাদের যে সবসময় তাঁকে অনুকরণ করে পবিত্র হওয়ার প্রচেষ্টা করা উচিত, তা বোঝানোর জন্য কতই-না জোরালো এক শিক্ষা!

“দেখ, আমি এক নূতন কার্য্য করিব”

৮. যিহোবার কাছ থেকে যিশাইয় কোন দায়িত্ব পেয়েছিলেন আর যিশাইয় কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন?

যিহোবা বন্দিত্ব থেকে উদ্ধার করার এক চমৎকার কাজ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন আর ইস্রায়েল জাতি এর সাক্ষি হবে। (যিশা. ৪৩:১৯) যিশাইয় পুস্তকের প্রথম ছয়টা অধ্যায়ের বেশিরভাগ অংশে যিরূশালেম ও এর আশেপাশের নগরের ওপর যে-বিপর্যয় আসতে যাচ্ছিল, সেই বিষয়ে সাবধানবাণী রয়েছে। যিহোবা, যিনি নিখুঁতভাবে হৃদয় পড়তে পারেন, তিনি যিশাইয়কে এই সাবধানবাণী ঘোষণা করে যেতে বলেছিলেন, যদিও তিনি জানতেন এই কারণে যিশাইয়কে হয়তো কঠোর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। ঈশ্বরের জাতি যে তাঁর সাবধানবাণী উপেক্ষা করবে, তা শুনে যিশাইয় হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন এবং তারা কত দিন অননুতপ্ত থাকবে, তা জানতে চেয়েছিলেন। ঈশ্বর কী উত্তর দিয়েছিলেন? “যাবৎ নগর সকল নিবাসবিহীন ও বাটী সকল নরশূন্য হইয়া উৎসন্ন না হয়, এবং ভূমি ধবংস-স্থান হইয়া একেবারে উৎসন্ন না হয়।”—পড়ুন, যিশাইয় ৬:৮-১১.

৯. (ক) যিরূশালেমের বিষয়ে যিশাইয়ের ভবিষ্যদ্‌বাণী কখন পরিপূর্ণ হয়েছিল? (খ) বর্তমানে আমাদের কোন সাবধানবাণীর প্রতি মনোযোগ দিতে হবে?

রাজা উষিয়ের রাজত্বের শেষ বছরে বা খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৭৭৮ সালে যিশাইয় এই দায়িত্ব লাভ করেছিলেন। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৭৩২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৬ বছর ধরে ভাববাদী হিসেবে সেবা করেছিলেন, যখন হিষ্কিয়ের রাজত্ব চলছিল। এটা খ্রিস্টপূর্ব ৬০৭ সালে যিরূশালেম ধবংস হওয়ার ১২৫ বছর আগের ঘটনা। তাই, ঈশ্বরের লোকেদের অনেক আগে থেকে এই বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল যে, ভবিষ্যতে তাদের জাতির ওপর কী ঘটতে যাচ্ছে। একইভাবে, যিহোবার লোকেদের সামনে যা রয়েছে, সেই বিষয়ে তিনি বর্তমানেও অনেক আগে থেকে জানাচ্ছেন। প্রহরীদুর্গ পত্রিকা প্রথম সংখ্যা থেকে শুরু করে ১৩৫ বছর ধরে এর পাঠকদের স্পষ্টভাবে এই বিষয়ে সতর্ক করছে যে, শয়তানের দুষ্ট শাসন ব্যবস্থা  শীঘ্র শেষ হবে এবং এর স্থলে যিশু খ্রিস্টের হাজার বছরের রাজত্ব শুরু হবে।—প্রকা. ২০:১-৩, ৬.

১০, ১১. বাবিলে ইস্রায়েলীয়রা যিশাইয়ের ভবিষ্যদ্‌বাণীর কোন পরিপূর্ণতার সাক্ষি হয়েছিল?

১০ অনেক বাধ্য যিহুদি, যারা বাবিলীয়দের বশ্যতা স্বীকার করেছিল, তারা যিরূশালেমের ধবংস থেকে রক্ষা পেয়েছিল এবং তাদের বাবিলে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। (যির. ২৭:১১, ১২) সেখানে ৭০ বছর পর, ঈশ্বরের লোকেরা এই অপূর্ব ভবিষ্যদ্‌বাণীর পরিপূর্ণতার সাক্ষি হয়েছিল: “সদাপ্রভু, তোমাদের মুক্তিদাতা, ইস্রায়েলের পবিত্রতম, এই কথা কহেন, আমি তোমাদেরই জন্য বাবিলে লোক পাঠাইয়াছি, তাহাদের সকলকে পলাতকের ন্যায় আনয়ন করিব [“তাদের কারাগারের সকল শলাকা উঠিয়ে দেব,” জুবিলী বাইবেল]।”—যিশা. ৪৩:১৪.

১১ সেই ভবিষ্যদ্‌বাণীর সঙ্গে মিল রেখে, খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৬ সালের অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে এক রাতে, আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটা ঘটনা ঘটেছিল। সেই রাতে বাবিলের রাজা ও তার প্রধান লোকেরা যখন যিরূশালেমের মন্দির থেকে লুট করে আনা পবিত্র পাত্রে দ্রাক্ষারস পান করছিল এবং তাদের মনুষ্য নির্মিত দেব-দেবীর প্রশংসা করছিল, তখন মাদীয় ও পারসীক সেনাবাহিনী বাবিল জয় করেছিল। খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অথবা ৫৩৭ সালে, বাবিল বিজয়ী কোরস যিহুদিদের যিরূশালেমে ফিরে যাওয়ার এবং ঈশ্বরের মন্দির পুনর্নির্মাণ করার আজ্ঞা দিয়েছিলেন। এসব ঘটনা সম্বন্ধে যিশাইয় ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন আর এর মধ্যে যিহোবার সেই প্রতিজ্ঞাও ছিল যে, তাঁর অনুতপ্ত লোকেরা যিরূশালেমে ফিরে যাওয়ার সময় তিনি তাদের প্রয়োজনীয় বিষয় জোগাবেন এবং তাদের সুরক্ষা করবেন। ঈশ্বর তাদের সম্বন্ধে এভাবে বলেছিলেন, “যে প্রজাবৃন্দকে আমি আপনার নিমিত্ত নির্ম্মাণ করিয়াছি, তাহারা আমার প্রশংসা প্রচার করিবে।” (যিশা. ৪৩:২১; ৪৪:২৬-২৮) এই প্রাক্তন বন্দিরা যখন যিরূশালেমে ফিরে গিয়ে যিহোবার মন্দির পুনর্নির্মাণ করেছিল, তখন তারা এই বিষয়ের সাক্ষি হয়েছিল যে, একমাত্র সত্য ঈশ্বর যিহোবা তাঁর বাক্য সবসময় পরিপূর্ণ করেন।

১২, ১৩. (ক) যিহোবার উপাসনা পুনর্স্থাপিত হওয়ার ফলে ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে কারা যুক্ত হয়েছিল? (খ) ‘ঈশ্বরের ইস্রায়েলকে’ সমর্থন করার সময় ‘আরও মেষের’ কাছ থেকে কী আশা করা হয় এবং তাদের জন্য কোন আশা রয়েছে?

১২ ইস্রায়েলীয়রা যখন মন্দির পুনর্নির্মাণ করার জন্য ফিরে গিয়েছিল, তখন হাজার হাজার ন-ইস্রায়েলীয় তাদের সঙ্গে যিহোবার উপাসনায় যোগ দিয়েছিল। পরে, এমনকী আরও অনেক ন-ইস্রায়েলীয় তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। (ইষ্রা ২:৫৮, ৬৪, ৬৫; ইষ্টের ৮:১৭) বর্তমানে, অভিষিক্ত খ্রিস্টানরা হল ঈশ্বরের জাতি অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের ইস্রায়েল’ এবং তাদের সঙ্গে ‘আরও মেষের’ অন্তর্ভুক্ত “বিস্তর লোক” যিহোবার উপাসনায় যোগ দিয়েছে। (প্রকা. ৭:৯, ১০; যোহন ১০:১৬; গালা. ৬:১৬) অভিষিক্ত খ্রিস্টান ও বিস্তর লোক, উভয়েরই যিহোবার সাক্ষি হিসেবে অভিহিত হওয়ার সম্মান রয়েছে।

১৩ খ্রিস্টের হাজার বছরের রাজত্বের সময়ে বিস্তর লোক, শেষকালের এই বিধিব্যবস্থায় যিহোবার একজন সাক্ষি হওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, তা পুনরুত্থিত ব্যক্তিদের কাছে ব্যাখ্যা করার অবর্ণনীয় আনন্দ লাভ করবে। কিন্তু, আমাদের পক্ষে একমাত্র তখনই এই কাজ করা সম্ভবপর হবে, যদি আমরা এখন নিজেদেরকে আমাদের নামের যোগ্য বলে প্রমাণ করি এবং পবিত্র  থাকার প্রচেষ্টা করি। তবে, আমরা যত প্রচেষ্টাই করি না কেন, আমরা প্রতিদিনই ভুল করি। আর তাই আমাদের প্রতিদিন ক্ষমা চাইতে হবে ও সেইসঙ্গে স্বীকার করতে হবে, আমরা পাপী এবং ঈশ্বরের পবিত্র নাম বহন করার সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য এমন সম্মানের বিষয়, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।—পড়ুন, ১ যোহন ১:৮, ৯.

ঈশ্বরের নামের অর্থ

১৪. যিহোবা নামের অর্থ কী?

১৪ ঈশ্বরের নাম বহন করার সুযোগ পেয়ে আমরা যে-সম্মান লাভ করেছি, সেটার প্রতি আমাদের উপলব্ধি বৃদ্ধি করতে চাইলে, এই নামের অর্থ নিয়ে ধ্যান করা আমাদের জন্য ভালো হবে। সাধারণভাবে “যিহোবা” হিসেবে অনুবাদিত ঐশিক নামটা এমন একটা ইব্রীয় ক্রিয়া পদ থেকে এসেছে, যেটা কোনো কাজ করাকে বোঝায় এবং যেটাকে “অস্তিত্বে আনা” হিসেবে অনুবাদ করা যায়। তাই, যিহোবা নামের অর্থ এভাবে বোঝা হয়, “তিনি অস্তিত্বে আনেন।” এই অভিব্যক্তি উপযুক্তভাবেই নিখিলবিশ্ব এবং বুদ্ধিবিশিষ্ট প্রাণীর সৃষ্টিকর্তা হিসেবে ও সেইসঙ্গে তাঁর উদ্দেশ্য পরিপূর্ণকারী হিসেবে যিহোবার ভূমিকা সম্বন্ধে তুলে ধরে। বিভিন্ন ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, যিহোবা তাঁর ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য বাস্তবে পরিপূর্ণ করে চলেন। আর ঈশ্বরের যেকোনো বিরোধী, যেমন শয়তান, যে-প্রচেষ্টাই করুক না কেন, তাঁর এই ইচ্ছা বাস্তবায়নের অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে পারবে না।

১৫. যিহোবা মোশিকে যা বলেছিলেন, তা থেকে আমরা যিহোবার নাম সম্বন্ধে কী শিখতে পারি? (“অর্থপূর্ণ এক নাম” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।)

১৫ যিহোবা যখন তাঁর লোকেদের মিশর থেকে বের করে আনার জন্য মোশিকে নেতৃত্ব নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁর নাম বর্ণনা করার জন্য সম্পর্কযুক্ত একটা ক্রিয়া পদ ব্যবহার করার মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিত্বের একটা দিক প্রকাশ করেছিলেন আর এ-বার তিনি উত্তম পুরুষ ব্যবহার করেছিলেন। বাইবেলের বিবরণ বলে: “ঈশ্বর মোশিকে কহিলেন, ‘আমি যে আছি সেই আছি [“আমি যে হইব, সেই হইব,” পাদটীকা]’; আরও কহিলেন, ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে এইরূপ বলিও, ‘আছি [বা হইব]’ তোমাদের নিকটে আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন।” (যাত্রা. ৩:১৪) তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে, যিহোবা তাঁর উদ্দেশ্য সম্পাদন করার জন্য যেকোনো কিছু হবেন। যে-ইস্রায়েল জাতি একসময়ে দাস ছিল, তাদের জন্য তিনি একজন উদ্ধারকর্তা, একজন রক্ষক, একজন নির্দেশক হয়েছিলেন এবং এমন একজন জোগানদাতা হয়েছিলেন, যিনি তাদের সমস্ত বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক চাহিদা পরিপূর্ণ করেছিলেন।

আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা

১৬, ১৭. (ক) ঈশ্বরের নাম বহন করার বিশেষ সুযোগের জন্য আমরা কীভাবে কৃতজ্ঞতা দেখাতে পারি? (খ) আমরা পরবর্তী প্রবন্ধে কী আলোচনা করব?

১৬ বর্তমানে, যিহোবা আমাদের সমস্ত আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত চাহিদা পরিপূর্ণ করার মাধ্যমে তাঁর নামের অর্থ প্রমাণ করে যাচ্ছেন। কিন্তু, ঈশ্বরের নামের অর্থ শুধুমাত্র তিনি যা হতে চান, তা হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যিহোবার নাম আমাদেরকে তাঁর সম্বন্ধে আরেকটা বিষয় শিক্ষা দেয়। সেটা কী? তা হল যিহোবা তাঁর উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্য তাঁর সৃষ্টির যা-কিছু করা প্রয়োজন, তা ঘটাতে পারেন। যেমন, তিনি তাঁর কাজ করার জন্য তাঁর সাক্ষিদের ব্যবহার করেন। এই বিষয়টা নিয়ে ধ্যান করা আমাদেরকে তাঁর নামের সঙ্গে মিল রেখে জীবনযাপন করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে। করে নামে ৮৪ বছর বয়সি একজন উদ্যোগী সাক্ষি, যিনি বিগত ৭০ বছর ধরে নরওয়েতে সেবা করছেন, তিনি বলেন, “আমি অনন্তকালীন রাজা যিহোবার সেবা করার সুযোগ পেয়ে এবং তাঁর পবিত্র নাম নিয়ে সম্বোধন করা হয় এমন লোকেদের অংশী হতে পেরে অনেক সম্মানিত বোধ করি। লোকেদের কাছে বাইবেলের সত্য ব্যাখ্যা করা এবং তা বুঝতে পেরে তাদের চোখে-মুখে যে-আনন্দ ফুটে ওঠে, তা দেখা সবসময়ই এক বিশেষ সুযোগ। উদাহরণ স্বরূপ, আমি যখন তাদের শিক্ষা দিই যে, খ্রিস্টের মুক্তির মূল্য কীভাবে কাজ করে আর এর মাধ্যমে কীভাবে তারা এক শান্তিপূর্ণ ও ধার্মিক নতুন জগতে অনন্তজীবন লাভ করতে পারে, তখন আমি গভীর পরিতৃপ্তি লাভ করি।”

১৭ এটা ঠিক যে, কিছু কিছু এলাকায় ঈশ্বর সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী এমন লোকেদের খুঁজে পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। তা সত্ত্বেও, ভাই করের মতো আপনিও কি সেই সময়ে অনেক আনন্দিত হন না, যখন আপনি কোনো উত্তম শ্রোতা খুঁজে পান এবং সেই ব্যক্তিকে যিহোবার নাম জানাতে পারেন? কিন্তু, আমরা কীভাবে যিহোবার ও একইসময়ে যিশুরও সাক্ষি হতে পারি? এই প্রশ্নটা পরবর্তী প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয়।