সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জুলাই ২০১৪

‘তোমরা আমার সাক্ষী হইবে’

‘তোমরা আমার সাক্ষী হইবে’

‘[যিশু] তাঁহাদিগকে বলিলেন, তোমরা পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত আমার সাক্ষী হইবে।’—প্রেরিত ১:৭, ৮.

১, ২. (ক) যিহোবার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাক্ষি কে? (খ) যিশু নামের অর্থ কী আর ঈশ্বরের পুত্র কীভাবে তাঁর নামের অর্থের সঙ্গে মিল রেখে কাজ করেছিলেন?

“আমি এই জন্যই জন্মগ্রহণ করিয়াছি ও এই জন্য জগতে আসিয়াছি, যেন সত্যের পক্ষে সাক্ষ্য দিই।” (পড়ুন, যোহন ১৮:৩৩-৩৭.) এই কথাগুলো যিশু খ্রিস্ট সেই সময়ে বলেছিলেন, যখন যিহূদিয়ার রোমীয় দেশাধ্যক্ষের সামনে তাঁর বিচার চলছিল। যিশু সেই সময়ে নিজেকে একজন রাজা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এর অনেক বছর পর, প্রেরিত পৌল যিশুর সাহসের এই উদাহরণ সম্বন্ধে উল্লেখ করে বলেছিলেন, তিনি “পন্তীয় পীলাতের কাছে সেই উত্তম প্রতিজ্ঞারূপ সাক্ষ্য দিয়াছিলেন।” (১ তীম. ৬:১৩) সত্যিই, শয়তানের অধীন ও ঘৃণাপূর্ণ এই জগতে একজন “বিশ্বাস্য ও সত্যময় সাক্ষী” হওয়ার জন্য মাঝে মাঝে অনেক সাহসের প্রয়োজন হয়!—প্রকা. ৩:১৪.

যিহুদি জাতির একজন সদস্য হিসেবে, যিশু জন্মসূত্রে যিহোবার সাক্ষি ছিলেন। (যিশা. ৪৩:১০) আসলে, তিনি ঈশ্বরের নামের পক্ষে সর্বকালের সর্বমহান সাক্ষি হয়ে উঠেছিলেন। যিশু নিজের ঈশ্বরদত্ত নামের অর্থকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন। একজন স্বর্গদূত যখন যিশুর পালক পিতা যোষেফের কাছে বলেছিলেন যে, মরিয়ম পবিত্র আত্মার প্রভাবে গর্ভধারণ করেছেন, তখন সেই স্বর্গদূত এটাও উল্লেখ করেছিলেন: “তিনি পুত্ত্র প্রসব করিবেন, এবং তুমি তাঁহার নাম যীশু [ত্রাণকর্ত্তা] রাখিবে; কারণ তিনিই আপন প্রজাদিগকে তাহাদের পাপ হইতে ত্রাণ করিবেন।” (মথি ১:২০, ২১) ইব্রীয় ভাষায় যিশু নামের অর্থ হচ্ছে “যিহোবা হলেন পরিত্রাণ।” যিশু তাঁর নামের অর্থের সঙ্গে মিল রেখে, ‘ইস্রায়েল-কুলের হারান মেষগণকে’  তাদের পাপের জন্য অনুতপ্ত হতে সাহায্য করেছিলেন, যাতে তারা পুনরায় যিহোবার অনুমোদন লাভ করতে পারে। (মথি ১০:৬; ১৫:২৪; লূক ১৯:১০) এই কারণে, যিশু উদ্যোগের সঙ্গে ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সুসমাচার লেখক মার্ক বলেছিলেন: “যীশু গালীলে আসিয়া ঈশ্বরের সুসমাচার প্রচার করিয়া বলিতে লাগিলেন, ‘কাল সম্পূর্ণ হইল, ঈশ্বরের রাজ্য সন্নিকট হইল; তোমরা মন ফিরাও, ও সুসমাচারে বিশ্বাস কর।’” (মার্ক ১:১৪, ১৫) এ ছাড়া, যিশু সাহসের সঙ্গে যিহুদি ধর্মীয় নেতাদের অভিযুক্ত করেছিলেন, যার ফল স্বরূপ, তারা তাঁকে একটা দণ্ডের ওপর বিদ্ধ করে হত্যা করেছিল।—মার্ক ১১:১৭, ১৮; ১৫:১-১৫.

‘ঈশ্বরের মহৎ মহৎ কর্ম্ম’

৩. যিশুর মৃত্যুর পর তৃতীয় দিনে কী ঘটেছিল?

কিন্তু, একটা আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছিল! যিশুকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার পর তৃতীয় দিনে, যিহোবা তাঁকে পুনরুত্থিত করেছিলেন, তবে একজন মানুষ হিসেবে নয় বরং এক অমর আত্মিক প্রাণী হিসেবে। (১ পিতর ৩:১৮) এই বিষয়টা প্রমাণ করার জন্য প্রভু যিশু মানবদেহ ধারণ করে দেখিয়েছিলেন যে, তিনি জীবন ফিরে পেয়েছেন। তাঁর পুনরুত্থানের পর সেই দিনই তিনি অন্ততপক্ষে পাঁচ বার ভিন্ন ভিন্ন শিষ্যের সামনে আবির্ভূত হয়েছিলেন।—মথি ২৮:৮-১০; লূক ২৪:১৩-১৬, ৩০-৩৬; যোহন ২০:১১-১৮.

৪. পুনরুত্থানের দিনে পরিচালিত সভায় যিশু কোন বিষয়টা আলোচনা করেছিলেন আর তিনি তাঁর শিষ্যদের কোন দায়িত্ব সম্বন্ধে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন?

যিশু যখন পঞ্চম বার আবির্ভূত হয়েছিলেন, তখন সেখানে তাঁর প্রেরিতরা ও তাদের সঙ্গে অন্যান্য লোকও একত্রিত হয়েছিল। সেই স্মরণীয় মুহূর্তে, তিনি তাদেরকে একটা বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করার মতোই ঈশ্বরের বাক্য বুঝতে সাহায্য করেছিলেন। ‘তিনি তাঁহাদের বুদ্ধিদ্বার খুলিয়া দিয়াছিলেন, যেন তাঁহারা শাস্ত্র বুঝিতে পারেন।’ এর ফলে তারা বুঝতে পেরেছিল, ঈশ্বরের শত্রুদের হাতে যিশুর মৃত্যু এবং তাঁর অলৌকিক পুনরুত্থান সম্বন্ধে শাস্ত্রে ভবিষ্যদ্‌বাণী করা ছিল। পুনরুত্থানের দিনে পরিচালিত সেই সভার উপসংহারে, যিশু তাঁর শ্রোতাদেরকে তাদের দায়িত্ব সম্বন্ধে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন। তিনি তাদের বলেছিলেন, “তাঁহার নামে পাপমোচনার্থক মনপরিবর্ত্তনের কথা সর্ব্বজতির কাছে প্রচারিত হইবে—যিরূশালেম হইতে আরম্ভ করা হইবে।” তিনি আরও বলেছিলেন: “তোমরাই এ সকলের সাক্ষী।”লূক ২৪:৪৪-৪৮.

৫, ৬. (ক) কেন যিশু এই কথা বলেছিলেন: ‘তোমরা আমার সাক্ষী হইবে’? (খ) যিশুর শিষ্যদেরকে যিহোবার উদ্দেশ্যের কোন নতুন দিক সম্বন্ধে জানাতে হবে?

তাই, ৪০ দিন পর যিশু যখন শেষ বার আবির্ভূত হয়েছিলেন, তখন তাঁর প্রেরিতরা যিশুর এই সুস্পষ্ট আজ্ঞার অর্থ বুঝতে পেরেছিল: “তোমরা যিরূশালেমে, সমুদয় যিহূদীয়া ও শমরিয়া দেশে, এবং পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত আমার সাক্ষী হইবে।” (প্রেরিত ১:৮) কেন যিশু এইরকম কথা বলেছিলেন: ‘তোমরা আমার সাক্ষী হইবে’? কেন তিনি যিহোবার সাক্ষি বলেননি? যিশু দ্বিতীয়টা বলতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাদের উদ্দেশে কথা বলছিলেন, তারা ছিল ইস্রায়েলীয় আর তাই তারা ইতিমধ্যেই যিহোবার সাক্ষি ছিল।

যিশুর শিষ্য হিসেবে আমরা ক্রমাগত ভবিষ্যতের বিষয়ে যিহোবার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জানিয়ে থাকি (৫, ৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)

এখন যিশুর শিষ্যদেরকে যিহোবার উদ্দেশ্যের একটা নতুন দিক সম্বন্ধে জানাতে হবে। এটা এমন এক দিক, যা মিশরের দাসত্ব থেকে ইস্রায়েল জাতির উদ্ধার ও পরে বাবিলের বন্দিত্ব থেকে উদ্ধারের ঘটনার চেয়ে আরও মহৎ। যিশু খ্রিস্টের মৃত্যু এবং পুনরুত্থান, সবচেয়ে কঠিন বন্দিত্ব অর্থাৎ পাপ ও মৃত্যুর দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার ভিত্তি জুগিয়েছিল। ৩৩ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চাশত্তমীর দিন, নবনিযুক্ত অভিষিক্ত শিষ্যরা লোকেদের কাছে “ঈশ্বরের মহৎ মহৎ কর্ম্মের” কথা জানিয়েছিল আর সেই লোকেদের মধ্যে অনেকে সাড়া দিয়েছিল। এভাবে, হাজার হাজার লোক যখন অনুতপ্ত হয়েছিল এবং যিহোবার পরিত্রাণের মাধ্যম হিসেবে যিশুর প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করেছিল, তখন যিশু তাঁর নামের অর্থ যে আরও মহৎ উপায়ে পরিপূর্ণ হচ্ছে, তা স্বর্গে তাঁর পিতার দক্ষিণ দিকে বসে দেখতে শুরু করেছিলেন।—প্রেরিত ২:৫, ১১, ৩৭-৪১.

‘অনেকের পরিবর্ত্তে মুক্তির মূল্য’

৭. তেত্রিশ খ্রিস্টাব্দের পঞ্চাশত্তমীর দিনের ঘটনাগুলো কীসের প্রমাণ দিয়েছিল?

তেত্রিশ খ্রিস্টাব্দের পঞ্চাশত্তমীর দিনের ঘটনাগুলো প্রমাণ দিয়েছিল যে, মানুষের পাপের প্রায়শ্চিত্ত  বা আবরক হিসেবে যিশু যে-সিদ্ধ মানবজীবন বলি দিয়েছিলেন, সেই মূল্য যিহোবা সদয়ভাবে গ্রহণ করে নিয়েছেন। (ইব্রীয় ৯:১১, ১২, ২৪) যিশু যেমন ব্যাখ্যা করেছিলেন, তিনি “পরিচর্য্যা পাইতে আইসেন নাই, কিন্তু পরিচর্য্যা করিতে, এবং অনেকের পরিবর্ত্তে আপন প্রাণ মুক্তির মূল্যরূপে দিতে আসিয়াছেন।” (মথি ২০:২৮) যিশুর মুক্তির মূল্য থেকে উপকার লাভ করবে এমন “অনেকের” মধ্যে শুধুমাত্র অনুতপ্ত যিহুদিরাই থাকবে না। এর পরিবর্তে, ঈশ্বরের ইচ্ছা হল “যেন সমুদয় মনুষ্য পরিত্রাণ পায়” কারণ মুক্তির মূল্য ‘জগতের পাপভার লইয়া যায়।’—১ তীম. ২:৪-৬; যোহন ১:২৯.

৮. যিশুর শিষ্যরা কতটা সাক্ষ্যদান করতে পেরেছিল আর কীভাবে সেটা সম্ভব হয়েছে?

যিশুর সেই প্রাথমিক শিষ্যদের কি তাঁর সম্বন্ধে সাক্ষ্যদানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সাহস ছিল? অবশ্যই ছিল, তবে তারা নিজেদের শক্তিতে সেই কাজ করেনি। যিহোবার শক্তিশালী পবিত্র আত্মা তাদেরকে সাক্ষ্যদানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিল ও শক্তি দিয়েছিল। (পড়ুন, প্রেরিত ৫:৩০-৩২.) ৩৩ খ্রিস্টাব্দের পঞ্চাশত্তমীর দিনের প্রায় ২৭ বছর পর, তারা এমনটা বলতে পেরেছিল, ‘সুসমাচারের সত্যের বাক্য’ যিহুদি ও পরজাতীয় ব্যক্তির কাছে অর্থাৎ “আকাশমণ্ডলের অধঃস্থিত সমস্ত সৃষ্টির কাছে” পৌঁছে গিয়েছে।—কল. ১:৫, ২৩.

৯. ভবিষ্যদ্‌বাণী অনুযায়ী, প্রথম খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর কী হয়েছিল?

কিন্তু দুঃখের বিষয়টা হল, প্রথম খ্রিস্টীয় মণ্ডলী ধীরে ধীরে কলুষিত হয়ে পড়েছিল। (প্রেরিত ২০:২৯, ৩০; ২ পিতর ২:২, ৩; যিহূদা ৩, ৪) যিশু আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘যুগান্ত’ আসার আগে পর্যন্ত ‘পাপাত্মা’ অর্থাৎ শয়তানের প্ররোচনায় এই ধরনের ধর্মভ্রষ্টতা বৃদ্ধি পাবে এবং সত্য খ্রিস্ট ধর্মকে অস্পষ্ট করে রাখা হবে। (মথি ১৩:৩৭-৪৩) এরপর, যিহোবা মানবজাতির জগতের ওপর যিশুকে রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত করবেন। ১৯১৪ সালের অক্টোবর মাসে সেটা ঘটেছিল, যা শয়তানের দুষ্ট ব্যবস্থার ‘শেষ কালের’ শুরুকে চিহ্নিত করে।—২ তীম. ৩:১.

১০. (ক) আধুনিক দিনের অভিষিক্ত খ্রিস্টানরা কোন গুরুত্বপূর্ণ সময় সম্বন্ধে নির্দেশ করেছিল? (খ) ১৯১৪ সালের অক্টোবর মাসে কী ঘটেছিল আর তা কীভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে?

১০ আধুনিক দিনের অভিষিক্ত খ্রিস্টানরা অনেক আগে থেকেই ১৯১৪ সালের অক্টোবর মাসকে এক তাৎপর্যপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তারা দানিয়েলের বলা এক বৃহৎ বৃক্ষ সম্বন্ধীয় ভবিষ্যদ্‌বাণীর ওপর ভিত্তি করে এই কথা বলেছিল, যে-বৃক্ষ কেটে ফেলা হবে এবং “সাত কাল” পর তা আবার বৃদ্ধি পাবে। (দানি. ৪:১৬) যিশু তাঁর ভবিষ্যৎ উপস্থিতি এবং ‘যুগান্ত’ বিষয়ক ভবিষ্যদ্‌বাণীতে সেই  একই সময়কালকে “জাতিগণের সময়” বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই চিহ্নিত বছর অর্থাৎ ১৯১৪ সাল থেকে, পৃথিবীর নতুন রাজা হিসেবে খ্রিস্টের সেই ‘আগমনের [“উপস্থিতির,” NW] চিহ্ন’ সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। (মথি ২৪:৩, ৭, ১৪; লূক ২১:২৪) তাই তখন থেকে “ঈশ্বরের” যে-“মহৎ মহৎ কর্ম্মের” বিষয়ে প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে যিহোবা যে যিশুকে মানবজাতির জগতের ওপর রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত করেছেন, সেই বিষয়টাও অন্তর্ভুক্ত।

১১, ১২. (ক) ১৯১৯ সালে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পৃথিবীর নতুন রাজা কী করতে শুরু করেছিলেন? (খ) ১৯৩০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে কোন বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

১১ পৃথিবীর নতুন রাজা হিসেবে যিশু খ্রিস্ট শীঘ্র ‘মহতী বাবিলের’ বন্দিত্ব থেকে তাঁর অভিষিক্ত অনুসারীদের উদ্ধার করতে শুরু করেছিলেন। (প্রকা. ১৮:২, ৪) ১৯১৯ সালে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, ঈশ্বরের পরিত্রাণের উপায় এবং প্রতিষ্ঠিত রাজ্যের সুসমাচার সম্বন্ধে বিশ্বব্যাপী সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে গিয়েছিল। অভিষিক্ত খ্রিস্টানরা সাক্ষ্য দেওয়ার সেই সুযোগকে লুফে নিয়েছিল আর এর ফলে আরও হাজার হাজার অভিষিক্ত ব্যক্তিকে খ্রিস্টের সহদায়াদ হওয়ার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।

১২ উনিশ-শো ত্রিশের দশকের মাঝামাঝি থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে, খ্রিস্ট তাঁর লক্ষ লক্ষ ‘আরও মেষকে’ সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন, যাদের নিয়ে এক বহুজাতিক “বিস্তর লোক” গঠিত হবে। অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের নির্দেশনার অধীনে এই বিস্তর লোকও যিশুর সাহসী উদাহরণ অনুকরণ করে এবং তারা যে তাদের পরিত্রাণের জন্য ঈশ্বর ও খ্রিস্টের কাছে ঋণী, তা জনসাধারণ্যে জানায়। ধৈর্য সহকারে এই সাক্ষ্যদানের কাজ করে চলার এবং খ্রিস্টের মুক্তির মূল্যে বিশ্বাস দেখিয়ে চলার মাধ্যমে এই ব্যক্তিরা “সেই মহাক্লেশের” মধ্য থেকে রক্ষা পাওয়ার বিশেষ সুযোগ পাবে, যা শয়তানের জগতের শেষ নিয়ে আসবে।—যোহন ১০:১৬; প্রকা. ৭:৯, ১০, ১৪.

‘সাহসী হইয়া সুসমাচারের কথা বলুন’

১৩. যিহোবার সাক্ষি হিসেবে আমরা কী করার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ আর এক্ষেত্রে কীভাবে আমরা সফল হতে পারি?

১৩ যিহোবা ঈশ্বর ইতিমধ্যে যা করেছেন এবং ভবিষ্যতে যা যা করার প্রতিজ্ঞা করেছেন, সেইসমস্ত “মহৎ মহৎ কর্ম্মের” সাক্ষি হওয়ার বিশেষ সুযোগকে আমরা যেন সবসময় মূল্যবান বলে গণ্য করি। এটা ঠিক যে, এইরকম সাক্ষ্যদানের কাজ করা সবসময় সহজ নয়। আমাদের অনেক ভাই-বোন এমন এলাকাগুলোতে কাজ করে, যেখানে তাদের অনেক উদাসীনতা, উপহাস অথবা সরাসরি তাড়নার মুখোমুখি হতে হয়। সেই সময়ে আমরা ঠিক প্রেরিত পৌল ও তার সহযোগীদের মতো কাজ করতে পারি। পৌল বলেছিলেন: “আমরা আমাদের ঈশ্বরে সাহসী হইয়া অতিশয় প্রাণপণে তোমাদের কাছে ঈশ্বরের সুসমাচারের কথা বলিয়াছিলাম।” (১ থিষল. ২:২) তাই আসুন আমরা যেন হাল ছেড়ে না দিই। এর পরিবর্তে, আমরা যেন শয়তানের ব্যবস্থা উৎসন্ন বা ধবংস না হওয়া পর্যন্ত আমাদের উৎসর্গীকরণের যোগ্যরূপে চলার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হই। (যিশা. ৬:১১) আমরা নিজেদের শক্তিতে তা করতে পারব না। প্রাথমিক খ্রিস্টানদের উদাহরণ অনুকরণ করে আমাদেরকে যিহোবার  কাছে প্রার্থনা করতে হবে, যেন তাঁর আত্মা আমাদের “পরাক্রমের উৎকর্ষ [“অসাধারণ মহাশক্তি,” বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন]” দান করে।—পড়ুন, ২ করিন্থীয় ৪:১, ৭; লূক ১১:১৩.

১৪, ১৫. (ক) প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানদের কীভাবে দেখা হতো আর প্রেরিত পিতর তাদের সম্বন্ধে কী বলেছিলেন? (খ) আমরা যিহোবার সাক্ষি বলে আমাদের সঙ্গে যদি দুর্ব্যবহার করা হয়, তাহলে আমাদের কেমন বোধ করা উচিত?

১৪ বর্তমানে, লক্ষ লক্ষ লোক নিজেদের খ্রিস্টান বলে দাবি করে, “কিন্তু কার্য্যে [ঈশ্বরকে] অস্বীকার করে; তাহারা ঘৃণাস্পদ ও অবাধ্য এবং সমস্ত সৎক্রিয়ার পক্ষে অপ্রামাণিক।” (তীত ১:১৬) প্রথম শতাব্দীতে, অধিকাংশ লোক গ্রহণযোগ্য উপায়ে ঈশ্বরের উপাসনা করত না। আসলে, সেই সময়ে সত্য খ্রিস্টানরা তাদের আশেপাশের অনেক লোকের কাছে ঘৃণার পাত্র ছিল। সেই কারণে প্রেরিত পিতর লিখেছিলেন: “তোমরা যদি খ্রীষ্টের নাম প্রযুক্ত তিরস্কৃত হও, তবে তোমরা ধন্য; কেননা . . . ঈশ্বরের আত্মা তোমাদের উপরে অবস্থিতি করিতেছেন।”—১ পিতর ৪:১৪.

১৫ এই অনুপ্রাণিত বাক্য কি বর্তমানের যিহোবার সাক্ষিদের প্রতি প্রযোজ্য? অবশ্যই, কারণ আমরা যিশুর রাজপদ সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিই। তাই, যিহোবার নামের সাক্ষ্য বহন করার জন্য ঘৃণিত হওয়ার বিষয়টা “[যিশু] খ্রীষ্টের নাম প্রযুক্ত তিরস্কৃত” হওয়ার মতোই, যিনি তাঁর বিরোধীদের এই কথা বলেছিলেন: “আমি আপন পিতার নামে আসিয়াছি, আর তোমরা আমাকে গ্রহণ কর না।” (যোহন ৫:৪৩) তাই, পরের বার সাক্ষ্যদান করার সময় আপনি যখন বিরোধিতার মুখোমুখি হবেন, তখন সাহস বজায় রাখুন। এই ধরনের দুর্ব্যবহার প্রমাণ দেয় যে, আপনার প্রতি ঈশ্বরের অনুমোদন রয়েছে এবং তাঁর আত্মা ‘আপনার উপরে অবস্থিতি করিতেছে।’

১৬, ১৭. (ক) বিশ্বের অনেক জায়গায় যিহোবার লোকেরা কোন অভিজ্ঞতা লাভ করছে? (খ) আপনার দৃঢ়সংকল্প কী?

১৬ একইসময়ে, এই বিষয়টা মনে রাখুন যে, সারা পৃথিবীতে অনেক লোক সত্যে আসছে। এমনকী ভালোমতো কাজ করা হয়েছে এমন এলাকাগুলোতে আমরা এখনও এমন লোকেদের খুঁজে পাই, যারা শুনতে ইচ্ছুক এবং যাদের কাছে আমরা পরিত্রাণের চমৎকার বার্তা জানাতে পারি। তাই আসুন আমরা অধ্যবসায় সহকারে আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করার জন্য ফিরে যাই এবং সম্ভব হলে তাদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করি আর এভাবে তাদেরকে উৎসর্গীকরণ ও বাপ্তিস্মের জন্য উন্নতি করতে সাহায্য করি। আপনিও হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকার সারি নামে একজন বোনের মতো মনে করেন, যিনি ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয়ভাবে সাক্ষ্যদানের কাজ করছেন। তিনি বলেন, “যিশুর মুক্তির মূল্যরূপ বলিদানের মাধ্যমে নিখিলবিশ্বের সার্বভৌম প্রভু যিহোবার সঙ্গে এক উত্তম সম্পর্ক উপভোগ করতে পারছি বলে আমি অনেক কৃতজ্ঞ এবং যিহোবার মহান নাম জানাতে পারছি বলে আমি অনেক আনন্দিত।” তিনি এবং তার স্বামী মার্টিনুস অনেক ব্যক্তিকে যিহোবার উপাসক হতে সাহায্য করেছেন আর এদের মধ্যে তাদের তিন সন্তানও রয়েছে। সারি আরও বলেন, “অন্য আর কোনো কাজই এতটা পরিতৃপ্তি এনে দিতে পারে না আর যিহোবা পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আমাদের সবাইকে এই জীবনরক্ষাকারী কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি দেন।”

১৭ আমরা বাপ্তাইজিত খ্রিস্টান হই কিংবা সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টা করি, যেটাই হোক না কেন, আমাদের বিশ্বব্যাপী যিহোবার সাক্ষিদের মণ্ডলীর সঙ্গে মেলামেশার বিশেষ সুযোগ রয়েছে বলে আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। তাই, শয়তানের এই কলুষিত জগৎ থেকে নিজেকে শুচি রাখার জন্য ক্রমাগত প্রচেষ্টা করার সময়, পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্যদান করে চলুন। তা করার মাধ্যমে, আমরা আমাদের সেই প্রেমময় স্বর্গীয় পিতার গৌরব বয়ে আনি, যাঁর মহান নাম বহন করার বিশেষ সুযোগ আমাদের রয়েছে।