সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জুন ২০১৪

আপনি কি মানুষের দুর্বলতাগুলোকে যিহোবার মতো করে দেখেন?

আপনি কি মানুষের দুর্বলতাগুলোকে যিহোবার মতো করে দেখেন?

“দেহের যে সকল অঙ্গকে অপেক্ষাকৃত দুর্ব্বল বলিয়া বোধ হয়, সেইগুলি অধিক প্রয়োজনীয়।”—১ করি. ১২:২২.

১, ২. কেন পৌল দুর্বল ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে পেরেছিলেন?

আমরা সকলেই মাঝে মাঝে দুর্বল বোধ করি। সাময়িক সর্দিকাশি অথবা অ্যালার্জি হয়তো আমাদের এতটাই দুর্বল করে দিতে পারে যে, আমাদের জন্য দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এখন একটু কল্পনা করুন, আপনি দুর্বল বোধ করছেন আর তা শুধুমাত্র এক বা দু-সপ্তাহের জন্য নয় বরং মাসের পর মাস ধরে। এইরকম পরিস্থিতিতে অন্যেরা যদি আপনার প্রতি সহানুভূতি দেখায়, তাহলে আপনি কি সেটার জন্য কৃতজ্ঞ হবেন না?

প্রেরিত পৌল এটা জানতেন যে, কেউ যখন মণ্ডলীর বাইরে থেকে ও ভিতর থেকে আসা চাপের কারণে প্রভাবিত হয়, এমনকী দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন তার কেমন লাগে। একাধিক বার পৌলের মনে হয়েছিল, যেন তিনি তার সহ্যৈর সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। (২ করি. ১:৮; ৭:৫) পৌল নিজের জীবন এবং একজন বিশ্বস্ত খ্রিস্টান হিসেবে তিনি যে-সমস্ত কষ্টভোগ করেছেন, সেগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এটা স্বীকার করেছিলেন: “কে দুর্ব্বল হইলে আমি দুর্ব্বল না হই?” (২ করি. ১১:২৯) আর খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর বিভিন্ন সদস্যকে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের সঙ্গে তুলনা করে পৌল বলেছিলেন, যাদেরকে “অপেক্ষাকৃত দুর্ব্বল বলিয়া বোধ হয়, সেইগুলি অধিক” বা অত্যন্ত “প্রয়োজনীয়।” (১ করি. ১২:২২) তিনি কী বুঝিয়েছিলেন? যাদেরকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বলে মনে হয়, তাদেরকে কেন আমাদের যিহোবার মতো করে দেখতে হবে? আর তা করলে আমরা কীভাবে উপকৃত হব?

 মানুষের দুর্বলতা সম্বন্ধে যিহোবার দৃষ্টিভঙ্গি

৩. কেন আমরা আমাদের ভাই-বোনদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারি?

আমরা এমন এক প্রতিযোগিতাপরায়ণ জগতে বাস করছি, যেখানে প্রায় সময়ই কর্মশক্তি ও তারুণ্যের জয়গান করা হয়। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অনেকে প্রায় সময়ই তাদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যক্তিদের অনুভূতিকে অবজ্ঞা করে থাকে। জগতের এই মনোভাব আমাদেরও প্রভাবিত করতে পারে। আমরা হয়তো এমনকী মণ্ডলীর মধ্যেও নিজেদের অজান্তে সেই ব্যক্তিদের প্রতি এক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারি, যাদের নিয়মিতভাবে সাহায্য প্রয়োজন। কিন্তু, আমরা ঈশ্বরের মতো আরও ভারসাম্যপূর্ণ এক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারি।

৪, ৫. (ক) কীভাবে ১ করিন্থীয় ১২:২১-২৩ পদে তুলে ধরা দৃষ্টান্তটা, যিহোবা মানুষের দুর্বলতাকে যেভাবে দেখেন, সেটা উপলব্ধি করতে আমাদেরকে সাহায্য করে? (খ) দুর্বল ব্যক্তিদের সাহায্য করে আমরা কীভাবে উপকৃত হতে পারি?

করিন্থীয়দের উদ্দেশে লেখা পৌলের প্রথম চিঠিতে তুলে ধরা একটা দৃষ্টান্ত থেকে, যিহোবা মানুষের দুর্বলতাকে যেভাবে দেখেন, সেটার অর্থ আমরা উপলব্ধি করতে পারি। ১২ অধ্যায়ে পৌল আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, মানবদেহের সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় ও দুর্বল অঙ্গেরও কাজ রয়েছে। (পড়ুন, ১ করিন্থীয় ১২:১২, ১৮, ২১-২৩.) মানবদেহের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এই ধারণার বিভিন্ন দিক নিয়ে কিছু বিবর্তনবাদী প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু, অঙ্গব্যবচ্ছেদবিদ্যা নিয়ে গবেষণার (মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে পরীক্ষানিরীক্ষা করার) ফলাফল দেখায় যে, একসময় দেহের যে-অঙ্গগুলোকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করা হতো, সেগুলো আসলে দেহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। * উদাহরণ স্বরূপ, পায়ের কনিষ্ঠ আঙুলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছে; কিন্তু এখন এটা স্বীকার করা হয়, পুরো দেহের ভারসাম্যের ওপর এটার প্রভাব রয়েছে।

পৌলের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে, খ্রিস্টীয় মণ্ডলীতে সকল সদস্যেরই প্রয়োজন আছে। শয়তান আমাদের এইরকম মনে করাতে চায় যে, আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। তার বিপরীতে, যিহোবা তাঁর সমস্ত দাসকে “প্রয়োজনীয়” বলে মনে করেন। আর তাদের মধ্যে দুর্বল বলে মনে হয় এমন ব্যক্তিরাও রয়েছে। (ইয়োব ৪:১৮, ১৯) এইরকম চিন্তাভাবনা আমাদেরকে স্থানীয় মণ্ডলীতে আমাদের যে-ভূমিকা রয়েছে ও সেইসঙ্গে আমরা যে পৃথিবীব্যাপী ঈশ্বরের লোকেদের মণ্ডলীর অংশ, সেটার জন্য আনন্দিত হতে সাহায্য করবে। উদাহরণ স্বরূপ, এমন কোনো সময়ের কথা একটু চিন্তা করে দেখুন, যখন আপনি সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে এমন কোনো বয়স্ক ব্যক্তির প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই সময়ে, আপনাকে হয়তো নিজের হাঁটার গতি কমাতে হয়েছে। এভাবে সহযোগিতা করে আপনি কি একটা ভালো কাজ করেননি ও সেইসঙ্গে নিজেও আনন্দ পাননি? হ্যাঁ, আমরা যখন অন্যদের প্রয়োজনের সময় হাত বাড়িয়ে দিই, তখন আমরা তাদেরকে যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে আনন্দ পাই ও সেইসঙ্গে আমাদের ধৈর্য, প্রেম ও পরিপক্বতা বৃদ্ধি পায়। (ইফি. ৪:১৫, ১৬) আমাদের স্বর্গীয় পিতা জানেন, মণ্ডলীর সদস্যদের সীমাবদ্ধতা যা-ই হোক না কেন, যে-মণ্ডলীতে সমস্ত সদস্যকে মূল্যবান বলে গণ্য করা হয়, সেই মণ্ডলী ভারসাম্য ও প্রেম প্রতিফলিত করে থাকে।

৬. কখনো কখনো পৌল কীভাবে “দুর্ব্বল” ও “বলবান” শব্দগুলো ব্যবহার করেছিলেন?

আগ্রহজনক বিষয়টা হল, পৌল যখন করিন্থীয়দের উদ্দেশে চিঠি লিখেছিলেন, তখন তিনি অবিশ্বাসীরা প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানদেরকে যেভাবে দেখত, সেই ব্যাপারে এবং নিজের সম্বন্ধে তিনি যেমনটা অনুভব করতেন, তা উল্লেখ করার সময় “দুর্ব্বল” এবং “দুর্ব্বলতা” শব্দগুলো ব্যবহার করেছিলেন। (১ করি. ১:২৬, ২৭; ২:৩) কিন্তু পৌল যখন “বলবান” ব্যক্তিদের সম্বন্ধে বলেছিলেন, তখন তিনি কিছু খ্রিস্টানকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরার জন্য তা বলেননি। (রোমীয় ১৫:১) এর পরিবর্তে, তিনি আসলে বলছিলেন যে, অভিজ্ঞ খ্রিস্টানদের সেই ব্যক্তিদের প্রতি ধৈর্য দেখাতে হবে, যাদের সত্যের মূল তখনও দৃঢ় হয়নি।

আমাদের কি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি রদবদল করা প্রয়োজন?

৭. কোন বিষয়টা সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সহযোগিতা করা থেকে আমাদের বিরত করতে পারে?

আমরা যখন ‘দীনহীনদের’ সহযোগিতা করি, তখন আমরা যে শুধু যিহোবাকেই অনুকরণ করি তা নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে আমরা তাঁর অনুমোদনও লাভ করি। (গীত. ৪১:১; ইফি. ৫:১) তবে এটা ঠিক যে, সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের প্রতি এক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো কখনো কখনো আমাদেরকে তাদের সহযোগিতা করা  থেকে বিরত করতে পারে। অথবা আমাদের কী বলা উচিত, সেই ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে না জানার কারণে আমরা হয়তো বিব্রতবোধ করতে পারি এবং কষ্টের মধ্যে রয়েছে এমন কারো কাছ থেকে দূরে দূরে থাকতে পারি। সিন্থিয়া * নামে এক বোনের স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। সেই বোন বলেন: “ভাই-বোনেরা যদি আপনাকে এড়িয়ে চলে অথবা আপনি ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছ থেকে যেরকম আচরণ আশা করেন, তারা যদি সেইরকম আচরণ না করে, তাহলে আপনার কষ্ট লাগতে পারে। পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় আপনি চান যেন আপনার আশেপাশে লোক থাকে।” প্রাচীন কালের দায়ূদ উপেক্ষিত হওয়ার অনুভূতি সম্বন্ধে জানতেন।—গীত. ৩১:১২.

৮. কোন বিষয়টা আমাদেরকে আরও বেশি সহানুভূতিশীল হতে সাহায্য করবে?

আমরা সম্ভবত সেই সময়ে আরও বেশি সহানুভূতিশীল হব, যদি আমরা এটা মনে রাখি যে, আমাদের কোনো কোনো প্রিয় ভাই ও বোন প্রতিকূল পরিস্থিতি অর্থাৎ খারাপ স্বাস্থ্য, বিভক্ত পরিবারে বাস করা অথবা বিষণ্ণতার সঙ্গে মোকাবিলা করার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমরাও হয়তো একদিন সেইরকম পরিস্থিতিতে পড়তে পারি। ইস্রায়েলীয়রা আগে মিশরে দরিদ্র ও দুর্বল ছিল। আর তাই প্রতিজ্ঞাত দেশে প্রবেশ করার আগে তাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যেন তারা তাদের দুর্দশাগ্রস্ত ভাইদের প্রতি “আপন হৃদয় কঠিন” না করে। যিহোবা তাদের কাছে আশা করেছিলেন, যেন তারা দরিদ্র ব্যক্তিদেরকে সাহায্য লাভের যোগ্য বলে বিবেচনা করে।—দ্বিতীয়. ১৫:৭, ১১; লেবীয়. ২৫:৩৫-৩৮.

৯. সমস্যা ভোগ করছে এমন ব্যক্তিদের সাহায্য করার সময় আমাদের প্রথম কাজটা কী হবে? উদাহরণের সাহায্যে বলুন।

যারা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তাদের প্রতি সমালোচক অথবা সন্দেহপ্রবণ হওয়ার পরিবর্তে, আমাদের বরং তাদেরকে আধ্যাত্মিকভাবে সান্ত্বনা দেওয়া উচিত। (ইয়োব ৩৩:৬, ৭; মথি ৭:১) উদাহরণ স্বরূপ: যখন কোনো আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মোটরসাইকেল আরোহীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন ডাক্তাররা কি সেই ব্যক্তিই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন কি না, তা বের করতে চেষ্টা করে? না, তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করতে শুরু করে। একইভাবে, আমাদের কোনো সহবিশ্বাসী যদি ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েন, তাহলে আমাদের প্রথম যে-কাজটা করতে হবে তা হল, আধ্যাত্মিকভাবে সহযোগিতা করা।—পড়ুন, ১ থিষলনীকীয় ৫:১৪.

১০. অপেক্ষাকৃত দুর্বল বলে মনে হয় এমন ব্যক্তিরাও কীভাবে সত্যিকার অর্থে “বিশ্বাসে ধনবান্‌”?

১০ আমরা যদি আমাদের ভাই-বোনদের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করার জন্য একটু সময় করে নিই, তাহলে তাদের যে-বিষয়টাকে দুর্বলতা বলে মনে হয়, সেটাকে আমরা হয়তো ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারব। এমন বোনদের কথা চিন্তা করুন, যারা বছরের পর বছর ধরে পারিবারিক বিরোধিতা ভোগ করছে। যদিও তাদের মধ্যে কাউকে কাউকে হয়তো বাইরে থেকে সাধারণ ও দুর্বল দেখা যায়, কিন্তু তারা কি আসলে অসাধারণ বিশ্বাস ও মনের শক্তি প্রকাশ করছে না? আপনি যখন কোনো একক মাকে তার এক বা একাধিক সন্তানকে নিয়ে নিয়মিতভাবে সভাতে আসতে দেখেন, তখন আপনি কি তার বিশ্বাস ও দৃঢ়সংকল্প দেখে অভিভূত হন না? আর সেইসমস্ত কিশোর-কিশোরীর বিষয়ে কী বলা যায়, যারা স্কুলে কুসংসর্গ থাকা সত্ত্বেও সত্যের প্রতি আসক্ত থাকে? আমরা সম্পূর্ণ বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করতে পারি, অপেক্ষাকৃত দুর্বল বলে মনে হয় এমন ব্যক্তিরাও হয়তো আমাদের মধ্যে যারা আরও অনুকূল পরিস্থিতিতে রয়েছে, তাদের মতোই “বিশ্বাসে ধনবান্‌।”—যাকোব ২:৫.

যিহোবার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে রদবদল করুন

১১, ১২. (ক) কী আমাদেরকে ভাই-বোনেরা যখন ভুল করে, তখন যিহোবা তাদের যেভাবে দেখেন, সেভাবে দেখতে সাহায্য করবে? (খ) যিহোবা হারোণের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেছিলেন, তা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

১১ এমনকী আমাদের ভাই-বোনেরা যখন ভুল করে, তখন যিহোবা তাদেরকে যেভাবে দেখেন, আমাদেরও সেভাবে দেখতে হবে। যিহোবা তাঁর দাসদের কীভাবে দেখেন, তা বোঝার জন্য বাইবেলের বিভিন্ন উদাহরণ আমাদের সাহায্য করবে। (পড়ুন, গীতসংহিতা ১৩০:৩.) উদাহরণ স্বরূপ, হারোণ যখন এক সোনার বাছুরের প্রতিমা নির্মাণ করেছিলেন, তখন আপনি যদি সেখানে মোশির সঙ্গে থাকতেন, তখন আপনি হারোণের খোঁড়া যুক্তিগুলোকে কীভাবে দেখতেন? (যাত্রা. ৩২:২১-২৪) কিংবা আপনি সেই সময়ে হারোণের মনোভাব সম্বন্ধে কী মনে করতেন, যখন তিনি তার বোন মরিয়মের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে, মোশি একজন বিজাতীয় নারীকে বিয়ে করেছেন বলে মোশির সমালোচনা করছেন? (গণনা. ১২:১, ২) আপনি সেই সময়ে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতেন, যখন হারোণ ও  মোশি যিহোবাকে সম্মান প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছিল, যখন তিনি মরীবায় অলৌকিকভাবে জল জুগিয়েছিলেন?—গণনা. ২০:১০-১৩.

১২ প্রতিটা পরিস্থিতিতে যিহোবা সঙ্গেসঙ্গে হারোণকে শাস্তি দিতে পারতেন। কিন্তু, যিহোবা এটা উপলব্ধি করেছিলেন, হারোণ খারাপ ব্যক্তি নন অথবা তিনি অনেক গুরুতর ভুল করেননি। এমনটা মনে হয় যে, হারোণ পরিস্থিতির অথবা অন্যদের প্রভাবের কারণে সঠিক কাজ করা থেকে বিরত হয়েছিলেন। তবে, তাকে যখন তার ভুল দেখিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি নির্দ্বিধায় সেগুলো স্বীকার করেছিলেন এবং যিহোবার বিচার মেনে নিয়েছিলেন। (যাত্রা. ৩২:২৬; গণনা. ১২:১১; ২০:২৩-২৭) যিহোবা হারোণের বিশ্বাস এবং অনুতপ্ত মনোভাবের প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা বেছে নিয়েছিলেন। শত শত বছর পরেও, হারোণ ও তার বংশধরদের যিহোবার ভয়কারী হিসেবে স্মরণ করা হয়েছিল।—গীত. ১১৫:১০-১২; ১৩৫:১৯, ২০.

১৩. মানুষের দুর্বলতা সম্বন্ধে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আমরা কীভাবে পরীক্ষা করতে পারি?

১৩ আমরা যদি যিহোবার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী আমাদের চিন্তাভাবনাকে রদবদল করতে চাই, তাহলে যাদেরকে দুর্বল বলে মনে হয়, তাদের সম্বন্ধে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে পরীক্ষা করতে হবে। (১ শমূ. ১৬:৭) উদাহরণ স্বরূপ, সেই সময়ে আমরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাই, যখন একজন কিশোর অথবা কিশোরী আমোদপ্রমোদ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা দেখায় না অথবা যখন সে দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাব দেখায়? সেই সময়ে অতিরিক্ত সমালোচক হওয়ার পরিবর্তে, তাকে পরিপক্ব হয়ে ওঠার জন্য আমরা যেভাবে সাহায্য করতে পারি, তা নিয়ে চিন্তা করি না কেন? সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে এমন কাউকে সহযোগিতা করার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি আর তা করার ফলে আমরা আসলে আমাদের বিবেচনাবোধ ও প্রেম বৃদ্ধি করি।

১৪, ১৫. (ক) যিহোবা যখন এলিয়কে সাময়িকভাবে হতাশ হয়ে পড়তে দেখেছিলেন, তখন তাঁর কেমন লেগেছিল? (খ) এলিয়ের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কোন শিক্ষা লাভ করতে পারি?

১৪ যিহোবার কিছু দাস হতাশ হয়ে পড়ার পর তিনি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, সেটার সঙ্গে আমরা যখন নিজেদের চিন্তাভাবনাকে তুলনা করি, তখন আমরা অন্যদের সম্বন্ধে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশস্ত করতে পারি। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন এলিয়। যদিও এলিয় নির্ভীকভাবে বালের ৪৫০ জন ভাববাদীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  আহ্বান করেছিলেন, কিন্তু তিনি যখন জানতে পেরেছিলেন যে, রানি ঈষেবল তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছেন, তখন তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন। বেরশেবার দিকে ১৫০ কিলোমিটার (৯৫ মাইল) হেঁটে যাওয়ার পর, তিনি একটা প্রান্তরে অনেক দূর পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন। প্রখর রোদে হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত সেই ভাববাদী একটা গাছের নীচে বসেছিলেন এবং ‘আপন মৃত্যু প্রার্থনা করিয়াছিলেন।’—১ রাজা. ১৮:১৯; ১৯:১-৪.

যিহোবা এলিয়ের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করেছিলেন এবং একজন স্বর্গদূত পাঠিয়ে তাকে উৎসাহিত করেছিলেন (১৪, ১৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৫ যিহোবা যখন স্বর্গ থেকে তাকিয়ে তাঁর বিশ্বস্ত ভাববাদীকে হতাশ হতে দেখেছিলেন, তখন তাঁর কেমন লেগেছিল? তাঁর দাস সাময়িকভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন ও সাহস হারিয়ে ফেলেছেন বলে তিনি কি তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন? অবশ্যই না! যিহোবা এলিয়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করেছিলেন এবং দ্রুত একজন স্বর্গদূতকে পাঠিয়েছিলেন। সেই স্বর্গদূত দু-বার এলিয়কে খাবার খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। এভাবে তার পরের যাত্রা ‘তাহার শক্তি হইতে অধিক’ হয়নি। (পড়ুন, ১ রাজাবলি ১৯:৫-৮.) হ্যাঁ, এমনকী পরবর্তী কোনো নির্দেশনা প্রদান করার আগে যিহোবা তাঁর ভাববাদীর কথা শুনেছিলেন এবং তার জীবন রক্ষা করার জন্য ব্যাবহারিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

১৬, ১৭. যিহোবা যেভাবে এলিয়ের যত্ন নিয়েছিলেন, তা আমরা কীভাবে অনুকরণ করতে পারি?

১৬ কীভাবে আমরা আমাদের যত্নশীল ঈশ্বরকে অনুকরণ করতে পারি? অন্যদেরকে আমাদের খুব দ্রুত উপদেশ দেওয়া উচিত নয়। (হিতো. ১৮:১৩) যারা হয়তো ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে নিজেদের “অপেক্ষাকৃত অনাদরণীয়” বলে মনে করে, তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করার জন্য প্রথমে একটু সময় নেওয়া আরও ভালো হবে। (১ করি. ১২:২৩) তাহলে, আমরা তাদের সত্যিকারের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত কাজ করতে পারব।

১৭ উদাহরণ স্বরূপ, আগে উল্লেখিত সিন্থিয়ার কথা চিন্তা করুন, যার স্বামী তাকে ও তার দুই মেয়েকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তারা একাকী বোধ করেছিল। কিছু সহবিশ্বাসী তখন কী করেছিল? তিনি বলেন: “যা ঘটেছে, তা ফোন করে তাদেরকে জানানোর ৪৫ মিনিটের মধ্যেই তারা আমাদের ঘরে এসেছিল। তারা কাঁদছিল। প্রথম দু-তিন দিন তারা আমাদের ছেড়ে কোথাও যায়নি। আমরা যেহেতু ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছিলাম না এবং আবেগগতভাবে ভেঙে পড়েছিলাম, তাই তারা আমাদেরকে তাদের ঘরে নিয়ে গিয়েছিল।” এটা আপনাকে সম্ভবত সেই কথা মনে করিয়ে দেয়, যা যাকোব লিখেছিলেন: “কোন ভ্রাতা কিম্বা ভগিনী বস্ত্রহীন ও দৈবসিক খাদ্যবিহীন হইলে যদি তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি তাহাদিগকে বলে, কুশলে যাও, উষ্ণ ও তৃপ্ত হও, কিন্তু তোমরা তাহাদিগকে শরীরের প্রয়োজনীয় বস্তু না দেও, তবে তাহাতে কি ফল দর্শিবে? তদ্রূপ বিশ্বাসও কর্ম্মবিহীন হইলে আপনি একা বলিয়া তাহা মৃত।” (যাকোব ২:১৫-১৭) স্থানীয় ভাই ও বোনেরা উপযুক্ত সময়ে যে-সমর্থন প্রদান করেছিল, সেটার কারণে সিন্থিয়া ও তার মেয়েরা অত্যন্ত দুঃখজনক অভিজ্ঞতার মাত্র ছয় মাস পরেই সহায়ক অগ্রগামী হিসেবে সেবা করার শক্তি লাভ করেছিল।—২ করি. ১২:১০.

অনেকের জন্য উপকারজনক

১৮, ১৯. (ক) যারা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাদেরকে আমরা কীভাবে সাহায্য করতে পারি? (খ) যারা দুর্বল বোধ করে, তাদের যখন আমরা সাহায্য করি, তখন কারা উপকৃত হয়?

১৮ আপনি হয়তো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানেন যে, ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয় এমন শারীরিক অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার জন্য সময়ের প্রয়োজন। একইভাবে, ব্যক্তিগত সমস্যা অথবা কঠিন পরিস্থিতির কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছেন এমন একজন খ্রিস্টানের হয়তো তার আধ্যাত্মিক শক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। এটা ঠিক যে, আমাদের সেই সহবিশ্বাসীকে ব্যক্তিগত অধ্যয়ন, প্রার্থনা ও অন্যান্য খ্রিস্টীয় কার্যকলাপের মাধ্যমে নিজের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু, তিনি পুনরায় ভারসাম্যপূর্ণ মনোভাব ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কি ধৈর্য দেখাব? আর তিনি সেই মনোভাব ফিরে পাওয়ার সময় আমরা কি তার প্রতি সহনশীলতা দেখিয়ে প্রেম প্রকাশ করব? যারা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তারা যাতে নিজেদের মূল্যবান বলে মনে করে এবং আমাদের খ্রিস্টীয় প্রেম বুঝতে পারে, সেইজন্য আমরা কি তাদেরকে সাহায্য করার জন্য প্রচেষ্টা করব?—২ করি. ৮:৮.

১৯ কখনো ভুলে যাবেন না, আমাদের ভাই-বোনদের সমর্থন করার সময় আমরা এমন আনন্দ লাভ করতে পারি, যা একমাত্র দান করার মাধ্যমেই পাওয়া যায়। এ ছাড়া, তখন আমরা সহানুভূতি ও ধৈর্য দেখানোর ক্ষমতা গড়ে তুলি। সেইসঙ্গে আমরা আরও ফল লাভ করতে পারি আর তা হল, পুরো মণ্ডলীতে উষ্ণতা ও প্রেম বৃদ্ধি পায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হল, আমরা যিহোবাকে অনুকরণ করি, যিনি প্রত্যেক ব্যক্তিকে মূল্যবান বলে গণ্য করেন। হ্যাঁ, ‘দুর্ব্বলদিগের সাহায্য করিবার’ জন্য যে-উৎসাহ আমরা লাভ করেছি, তাতে আমাদের সকলেরই সাড়া দেওয়ার উত্তম কারণ রয়েছে।—প্রেরিত ২০:৩৫.

^ অনু. 4 চার্লস্‌ ডারউইন, তার রচিত মানুষের পূর্বপুরুষ (ইংরেজি) বইয়ে দেহের বেশ কয়েকটা অঙ্গকে “অপ্রয়োজনীয়” বলে বর্ণনা করেছেন। তার একজন সমর্থক দাবি করেছিলেন, মানবদেহে অনেকগুলো “অকেজো অঙ্গ” রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপেন্ডিক্‌স ও থাইমাস (গলার নীচের দিকে অবস্থিত বিশেষ গ্রন্থি)।

^ অনু. 7 নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।