সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জুন ২০১৪

“তোমার প্রতিবাসীকে আপনার মত প্রেম করিবে”

“তোমার প্রতিবাসীকে আপনার মত প্রেম করিবে”

‘দ্বিতীয় [আজ্ঞাটি] ইহার তুল্য; “তোমার প্রতিবাসীকে আপনার মত প্রেম করিবে।”’—মথি ২২:৩৯.

১, ২. (ক) কোন আজ্ঞাকে যিশু ব্যবস্থার দ্বিতীয় মহৎ আজ্ঞা বলে উল্লেখ করেছিলেন? (খ) আমরা এখন কোন প্রশ্নগুলো আলোচনা করব?

যিশুকে পরীক্ষা করার জন্য একবার একজন ফরীশী তাঁকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলেন: “গুরু, ব্যবস্থার মধ্যে কোন্‌ আজ্ঞা মহৎ?” আগের প্রবন্ধে আমরা যেমন দেখেছি, যিশু উত্তর দিয়েছিলেন, “মহৎ ও প্রথম আজ্ঞা” হল: “তোমার সমস্ত অন্তঃকরণ, তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত মন দিয়া তোমার ঈশ্বর প্রভুকে প্রেম করিবে।” যিশু আরও বলেছিলেন: “আর দ্বিতীয়টী ইহার তুল্য; ‘তোমার প্রতিবাসীকে আপনার মত প্রেম করিবে।’”—মথি ২২:৩৪-৩৯.

যিশু বলেছিলেন, প্রতিবেশীকে আমাদের নিজেদের মতো ভালোবাসতে হবে। তাই, আমাদের নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করা উচিত: আমাদের প্রতিবেশী কে? কীভাবে আমরা প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখাতে পারি?

আমাদের প্রতিবেশী কে?

৩, ৪. (ক) যিশু কোন দৃষ্টান্তের মাধ্যমে এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন: “আমার প্রতিবাসী কে”? (খ) শমরীয় ব্যক্তি কীভাবে সেই ব্যক্তিকে সাহায্য করেছিলেন, যাকে লুট করা হয়েছে ও মারধর করে আধমরা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

আমরা হয়তো এমন একজন ব্যক্তিকে আমাদের প্রতিবেশী বলে মনে করতে পারি, যিনি আমাদের বাড়ির কাছাকাছি বাস করেন এবং আমাদের ঘনিষ্ঠ ও উপকারী বন্ধু। (হিতো. ২৭:১০) কিন্তু লক্ষ করুন যে, যিশু সেই সময়ে কী বলেছিলেন, যখন একজন আত্মধার্মিক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: “আমার প্রতিবাসী কে?”  উত্তরে যিশু প্রতিবেশীসুলভ একজন শমরীয়ের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছিলেন। (পড়ুন, লূক ১০:২৯-৩৭.) আমরা হয়তো মনে করতে পারি, একজন ইস্রায়েলীয় যাজক এবং একজন লেবীয় যখন এমন একজন ব্যক্তিকে দেখেছিল, যাকে লুট করা হয়েছে ও মারধর করে আধমরা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে, তখন তারা উত্তম প্রতিবেশীর মতোই কাজ করবে। কিন্তু, তারা সেই ব্যক্তির প্রতি কোনো কিছু না করে তাকে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল। সেই ব্যক্তিকে যিনি সাহায্য করেছিলেন, তিনি ছিলেন একজন শমরীয়—এমন এক জাতির লোক, যারা মোশির ব্যবস্থাকে সম্মান করত কিন্তু যিহুদিদের কাছে ঘৃণার পাত্র ছিল।—যোহন ৪:৯.

প্রতিবেশীসুলভ শমরীয়, সেই আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সুস্থ হতে সাহায্য করার জন্য তার ক্ষতের ওপর তেল ও দ্রাক্ষারস ঢেলে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া, তিনি সেই ব্যক্তির যত্ন নেওয়ার জন্য পান্থশালার কর্তাকে দুটো সিকি দিয়েছিলেন, যা একজন মজুরের দু-দিনের বেতনের সমান ছিল। (মথি ২০:২) তাই, কে সেই আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতিবেশী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। যিশুর এই দৃষ্টান্ত নিশ্চিতভাবেই আমাদেরকে প্রতিবেশীর প্রতি সমবেদনা ও প্রেম দেখাতে শিক্ষা দেয়।

যিহোবার দাসেরা তৎপরতার সঙ্গে প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখায় (৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)

৫. সম্প্রতি একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যিহোবার দাসেরা কীভাবে প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখিয়েছিল?

প্রতিবেশীসুলভ সেই শমরীয়ের মতো সমবেদনাময় লোকেদের খুঁজে পাওয়া প্রায়ই কঠিন বলে মনে হয়। বিশেষভাবে এই ‘শেষ কালের’ বিষম সময়ে তা আরও কঠিন, যখন অধিকাংশ লোকই স্নেহহীন, প্রচণ্ড ও সদ্‌বিদ্বেষী। (২ তীম. ৩:১-৩) উদাহরণ স্বরূপ, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে কঠিন পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে। ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে, হারিকেন স্যান্ডি যখন নিউ ইয়র্ক সিটিতে আঘাত হেনেছিল, তখন কী ঘটেছিল, তা একটু বিবেচনা করে দেখুন। সেই শহরের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটা এলাকায় লুটকারীরা এমন অধিবাসীদের জিনিসপত্র লুট করেছিল, যারা বিদ্যুৎ, উষ্ণতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে অনেক কষ্ট ভোগ করছিল। কিন্তু সেই একই এলাকায়, যিহোবার সাক্ষিরা এমন একটা কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল, যার ফলে সাক্ষিরা পরস্পরকে এবং অন্য লোকেদের সাহায্য করতে পেরেছিল। খ্রিস্টানরা এই ধরনের কাজ করে কারণ তারা তাদের প্রতিবেশীকে ভালোবাসে। প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখানোর আরও কিছু উপায় কী?

যেভাবে আমরা প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখাতে পারি

৬. প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখানোর সঙ্গে আমাদের প্রচার কাজ কীভাবে সম্পর্কযুক্ত?

লোকেদের আধ্যাত্মিকভাবে সাহায্য করুন। উৎসাহজনক ‘শাস্ত্রমূলক সান্ত্বনার’ প্রতি লোকেদের মনোযোগ আকর্ষণ করার প্রচেষ্টা করে, আমরা তা করতে পারি। (রোমীয় ১৫:৪) নিঃসন্দেহে, আমরা সেই সময়ও প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখাই, যখন আমরা প্রচার করার সময় অন্যদের কাছে বাইবেলের সত্য জানাই। (মথি ২৪:১৪) ‘প্রত্যাশার ঈশ্বরের’ কাছ থেকে প্রাপ্ত রাজ্যের বার্তা ঘোষণা করার বিশেষ সুযোগ পেয়ে আমরা কতই-না আনন্দিত!—রোমীয় ১৫:১৩.

৭. সুবর্ণ নিয়মটা কী আর তা মেনে চলার মাধ্যমে আমরা কীভাবে আশীর্বাদ লাভ করতে পারি?

সুবর্ণ নিয়ম মেনে চলুন। যিশু পর্বতেদত্ত উপদেশ তুলে ধরার সময় এই নিয়ম সম্বন্ধে প্রকাশ করেছিলেন: “সর্ব্ববিষয়ে তোমরা যাহা যাহা ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাহাদের প্রতি সেইরূপ করিও; কেননা ইহাই ব্যবস্থার ও ভাববাদি-গ্রন্থের সার।” (মথি ৭:১২) আমরা যখন অন্যদের সঙ্গে যিশুর পরামর্শ অনুযায়ী আচরণ করি, তখন আমরা “ব্যবস্থার” (আদিপুস্তক থেকে দ্বিতীয় বিবরণের) এবং “ভাববাদি-গ্রন্থের” (ইব্রীয় শাস্ত্রের ভাববাণীমূলক বইগুলোর) অন্তর্নিহিত নীতি অনুযায়ী কাজ করি। এই পুস্তকগুলো থেকে আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি যে, ঈশ্বর সেই ব্যক্তিদের আশীর্বাদ করেন, যারা অন্যদের প্রতি প্রেম দেখায়। উদাহরণ স্বরূপ, যিশাইয়ের মাধ্যমে যিহোবা এই কথা বলেছিলেন: “তোমরা ন্যায়বিচার রক্ষা কর, ধার্ম্মিকতার অনুষ্ঠান কর, . . . ধন্য সেই ব্যক্তি, যে এইরূপ আচরণ করে।” (যিশা. ৫৬:১, ২) আমরা যদি প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখাই ও ধার্মিকতা সহকারে আচরণ করি, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আমরা আশীর্বাদ লাভ করব।

৮. কেন আমাদের শত্রুর প্রতি প্রেম প্রকাশ করা উচিত আর আমরা যদি তা করি, সেটার ফল কী হতে পারে?

আপনার শত্রুকে ভালোবাসুন। যিশু বলেছিলেন, “তোমরা শুনিয়াছ, উক্ত হইয়াছিল, ‘তোমার প্রতিবাসীকে প্রেম করিবে,’ এবং ‘তোমার শত্রুকে দ্বেষ করিবে’। কিন্তু আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, তোমরা আপন আপন শত্রুদিগকে প্রেম করিও, এবং যাহারা তোমাদিগকে তাড়না করে তাহাদের জন্য প্রার্থনা করিও; যেন তোমরা আপনাদের  স্বর্গস্থ পিতার সন্তান হও।” (মথি ৫:৪৩-৪৫) প্রেরিত পৌলও একই বিষয় তুলে ধরেছিলেন, যখন তিনি এই কথা লিখেছিলেন: “তোমার শত্রু যদি ক্ষুধিত হয়, তাহাকে ভোজন করাও; যদি সে পিপাসিত হয়, তাহাকে পান করাও।” (রোমীয় ১২:২০; হিতো. ২৫:২১) মোশির ব্যবস্থা অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যদি দেখতেন তার শত্রুর পশু ভারী বোঝা বহন করতে গিয়ে পড়ে গিয়েছে আর সেই শত্রু তার পশুকে ভারমুক্ত করছেন, তাহলে সেই ব্যক্তিকে এগিয়ে গিয়ে সাহায্য করতে হতো। (যাত্রা. ২৩:৫) এভাবে একসঙ্গে কাজ করার ফলে প্রাক্তন শত্রুরা ভালো বন্ধু হয়ে যেতে পারে। যেহেতু খ্রিস্টানরা প্রেম দেখায়, তাই আমাদের অনেক শত্রু আমাদের প্রতি তাদের হৃদয়কে কোমল করেছে। আমরা যদি আমাদের শত্রুদের প্রতি, এমনকী চরম তাড়নাকারীদের প্রতি প্রেম দেখাই, তাহলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ যখন সত্য খ্রিস্ট ধর্মকে নিজের করে নেবে, তখন আমরা কতই-না আনন্দিত হব!

৯. আমাদের ভাই-বোনদের সঙ্গে শান্তিস্থাপন করার বিষয়ে যিশু কী বলেছিলেন?

‘সকলের সহিত শান্তির অনুধাবন করুন।’ (ইব্রীয় ১২:১৪) এদের মধ্যে অবশ্যই আমাদের ভাই-বোনেরাও রয়েছে কারণ যিশু বলেছিলেন: “তুমি যখন যজ্ঞবেদির নিকটে আপন নৈবেদ্য উৎসর্গ করিতেছ, তখন সেই স্থানে যদি মনে পড়ে যে, তোমার বিরুদ্ধে তোমার ভ্রাতার কোন কথা আছে, তবে সেই স্থানে বেদির সম্মুখে তোমার নৈবেদ্য রাখ, আর চলিয়া যাও, প্রথমে তোমার ভ্রাতার সহিত সম্মিলিত হও, পরে আসিয়া তোমার নৈবেদ্য উৎসর্গ করিও।” (মথি ৫:২৩, ২৪) আমরা যদি আমাদের ভাই-বোনের প্রতি প্রেম দেখাই এবং তাদের সঙ্গে শান্তিস্থাপন করার দ্রুত পদক্ষেপ নিই, তাহলে ঈশ্বর আমাদের আশীর্বাদ করবেন।

১০. কেন আমাদের অন্যদের দোষ খুঁজে বেড়ানো উচিত নয়?

১০ অন্যদের দোষ খুঁজে বেড়াবেন না। যিশু বলেছিলেন, “তোমরা বিচার করিও না, যেন বিচারিত না হও। কেননা যেরূপ বিচারে তোমরা বিচার কর, সেইরূপ বিচারে তোমরাও বিচারিত হইবে; এবং যে পরিমাণে পরিমাণ কর, সেই পরিমাণে তোমাদের নিমিত্ত পরিমাণ করা যাইবে। আর তোমার ভ্রাতার চক্ষে যে কুটা আছে, তাহাই কেন দেখিতেছ, কিন্তু তোমার নিজের চক্ষে যে কড়িকাট আছে, তাহা কেন ভাবিয়া দেখিতেছ না? অথবা তুমি কেমন করিয়া আপন ভ্রাতাকে বলিবে, এস, আমি তোমার চক্ষু হইতে কুটা গাছটা বাহির করিয়া দিই? আর দেখ, তোমার নিজের চক্ষে কড়িকাট রহিয়াছে! হে কপটি, আগে আপনার চক্ষু হইতে কড়িকাট বাহির করিয়া ফেল, আর তখন তোমার ভ্রাতার চক্ষু হইতে কুটা গাছটা বাহির করিবার নিমিত্ত স্পষ্ট দেখিতে পাইবে।” (মথি ৭:১-৫) আমরা নিজেরাই যেখানে বড়ো বড়ো ভুল করে থাকি, সেখানে অন্যদের ছোটোখাটো দোষত্রুটির সমালোচনা না করার বিষয়ে আমাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য, যিশু কতই-না জোরালো এক উপায় ব্যবহার করেছেন!

 প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখানোর এক বিশেষ উপায়

১১, ১২. আমরা কোন অদ্বিতীয় উপায়ে আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখাতে পারি?

১১ আমরা এক অদ্বিতীয় উপায়ে আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখাতে চাই। যিশুর মতো, আমরাও রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করি। (লূক ৮:১) যিশু তাঁর অনুসারীদের ‘সমুদয় জাতিকে শিষ্য করিবার’ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। (মথি ২৮:১৯, ২০) সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমাদের অংশটুকু করার মাধ্যমে, আমরা প্রতিবেশীদের সেই প্রশস্ত ও পরিসর পথ পরিত্যাগ করতে সাহায্য করি, যা ধবংসের দিকে নিয়ে যায় এবং তাদেরকে সেই দুর্গম পথের দিকে পরিচালিত করি, যা জীবনের দিকে নিয়ে যায়। (মথি ৭:১৩, ১৪) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যিহোবা এই ধরনের প্রচেষ্টায় আশীর্বাদ করেন।

১২ যিশুর মতো, আমরাও লোকেদেরকে ঈশ্বরের সঙ্গে এক সম্পর্ক বজায় রাখার চাহিদা সম্বন্ধে সচেতন হতে সাহায্য করি। (মথি ৫:৬) যারা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাদের কাছে ‘ঈশ্বরের সুসমাচার’ প্রচার করার মাধ্যমে আমরা এই চাহিদা পূরণ করায় এক ভূমিকা পালন করে থাকি। (রোমীয় ১:১) যে-ব্যক্তিরা রাজ্যের বার্তা গ্রহণ করে, তারা যিশু খ্রিস্টের মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্মিলিত হয়। (২ করি. ৫:১৮, ১৯) তাই, রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করার মাধ্যমে আমরা আসলেই অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক উপায়ে আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখাচ্ছি।

১৩. আমরা যে রাজ্য ঘোষণাকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, সেই বিষয়ে আপনি কেমন বোধ করেন?

১৩ কার্যকরী পুনর্সাক্ষাৎ ও লোকেদের ঘরে গিয়ে বাইবেল অধ্যয়ন করানোর মাধ্যমে আমরা লোকেদেরকে ঈশ্বরের ধার্মিক মান মেনে চলতে সাহায্য করি আর এভাবে নিজেরা পরিতৃপ্তি লাভ করি। এর ফলে বাইবেল ছাত্রের জীবনধারায় হয়তো বেশ পরিবর্তন হতে পারে। (১ করি. ৬:৯-১১) ঈশ্বর যেভাবে “অনন্ত জীবনের জন্য নিরূপিত [“সঠিক প্রবণতাসম্পন্ন,” NW]” লোকেদের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে ও তাঁর সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করতে সাহায্য করছেন, তা দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই হৃদয়কে স্পর্শ করে। (প্রেরিত ১৩:৪৮) অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, তারা হতাশার পরিবর্তে আনন্দিত হয়েছে এবং অযথা উদ্‌বিগ্ন হওয়ার পরিবর্তে আমাদের স্বর্গীয় পিতার ওপর আস্থা গড়ে তুলতে পেরেছে। নতুন ব্যক্তিরা যে আধ্যাত্মিকভাবে উন্নতি করছে, তা দেখতে পেরে আমাদের কতই-না ভালো লাগে! আপনি কি এই বিষয়ে একমত নন যে, রাজ্য ঘোষণাকারী হিসেবে আমাদের প্রতিবেশীকে এই বিশেষ উপায়ে সাহায্য করতে পেরে আমরা আশীর্বাদ লাভ করেছি?

ঈশ্বরের বাক্যে প্রাপ্ত প্রেমের বর্ণনা

১৪. প্রথম করিন্থীয় ১৩:৪-৮ পদে বর্ণিত প্রেমের কয়েকটা দিক নিজের ভাষায় তুলে ধরুন।

১৪ আমরা যদি প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ করার সময় পৌল প্রেমের বিষয়ে যা লিখেছিলেন, তা কাজে লাগাই, তাহলে আমরা অনেক সমস্যা এড়াতে পারি, সুখ লাভ করতে পারি এবং নিজেদের জন্য ঈশ্বরের আশীর্বাদ বয়ে নিয়ে আসতে পারি। (পড়ুন, ১ করিন্থীয় ১৩:৪-৮.) আসুন আমরা এখন প্রেম সম্বন্ধে পৌল যা বলেছিলেন, সেই বিষয়ে পরীক্ষা করি এবং দেখি, কীভাবে আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার কথা কাজে লাগাতে পারি।

১৫. (ক) কেন আমাদের ধৈর্য ও দয়া দেখাতে হবে? (খ) কেন আমাদের ঈর্ষা ও বড়াই করা এড়িয়ে চলতে হবে?

১৫ “প্রেম চিরসহিষ্ণু, প্রেম মধুর” বা সদয়। ঠিক যেমন ঈশ্বর অসিদ্ধ মানুষের সঙ্গে আচরণ করার ক্ষেত্রে ধৈর্য ও দয়া দেখিয়ে এসেছেন, তেমনই আমাদেরও সেই সময়ে ধৈর্য ও দয়া দেখাতে হবে, যখন অন্যেরা ভুল করে এবং অবিবেচকের মতো অথবা এমনকী রূঢ় আচরণ করে। যেহেতু প্রেম “ঈর্ষা করে না,” তাই অকৃত্রিম প্রেম থাকলে আমরা অন্য ব্যক্তির সম্পদ অথবা মণ্ডলীতে তার বিশেষ সুযোগের প্রতি লোভ করব না। তা ছাড়া, আমাদের মধ্যে যদি প্রেম থাকে, তাহলে আমরা আত্মশ্লাঘা বা বড়াই কিংবা গর্ব করব না। কারণ, “উচ্চদৃষ্টি ও গর্ব্বিত মন, দুষ্টদের সেই প্রদীপ পাপময়” বা পাপের দিকে পরিচালিত করে।—হিতো. ২১:৪.

১৬, ১৭. কীভাবে আমরা ১ করিন্থীয় ১৩:৫, ৬ পদের সঙ্গে মিল রেখে কাজ করতে পারি?

১৬ প্রেম আমাদেরকে প্রতিবেশীর প্রতি শোভন আচরণ করতে পরিচালিত করে। এর মানে হচ্ছে, আমরা তার কাছে মিথ্যা বলব না, তার কোনো কিছু চুরি করব না অথবা তার প্রতি এমন কিছুই করব না, যা যিহোবার আইন ও নীতি লঙ্ঘন করে। এ ছাড়া, প্রেম আমাদেরকে কেবল নিজেদের বিষয়ে নয় কিন্তু সেইসঙ্গে অন্যের বিষয়েও লক্ষ রাখতে সাহায্য করে।—ফিলি. ২:৪.

 ১৭ অকৃত্রিম প্রেম সহজে রেগে ওঠে না এবং “অপকার গণনা করে না” অর্থাৎ তা এমন নয়, যেন অন্যেরা প্রেমহীন কোনো কাজ করলে আমরা একটা জমা-খরচের খাতায় সেটার হিসাব রাখছি। (১ থিষল. ৫:১৫) আমরা যদি বিদ্বেষ পুষে রাখি, তাহলে সেটা ঈশ্বরকে খুশি করবে না। বিদ্বেষ পুষে রাখলে, সেটা আসলে ছাইচাপা আগুনের মতো হবে, যা হঠাৎ দাউদাউ করে জ্বলে উঠতে পারে এবং আমাদের ও অন্যদের ক্ষতি করতে পারে। (লেবীয়. ১৯:১৮) প্রেম আমাদেরকে সত্যের সঙ্গে আনন্দ করতে পরিচালিত করে। অন্যদিকে এই প্রেম এমনকী সেই সময়ও “অধার্ম্মিকতায় আনন্দ করে না,” যখন আমাদেরকে ঘৃণা করে এমন কোনো ব্যক্তি দুর্ব্যবহার অথবা অবিচারের শিকার হয়।—পড়ুন, হিতোপদেশ ২৪:১৭, ১৮.

১৮. প্রথম করিন্থীয় ১৩:৭, ৮ পদ থেকে আমরা প্রেম সম্বন্ধে কী শিখতে পারি?

১৮ প্রেমের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে পৌল আরও যা বলেছিলেন, তা বিবেচনা করুন। তিনি বলেছিলেন, প্রেম “সকলই বহন করে।” কেউ যদি আমাদের অসন্তুষ্ট করে কিন্তু পরে সেটার জন্য ক্ষমা চায়, তাহলে প্রেম আমাদের তাকে ক্ষমা করতে অনুপ্রাণিত করে। প্রেম ঈশ্বরের বাক্যে প্রাপ্ত “সকলই বিশ্বাস করে” এবং আমরা যে-আধ্যাত্মিক খাদ্য পাই, সেটার জন্য আমাদের কৃতজ্ঞ হতে পরিচালিত করে। প্রেম বাইবেলে লেখা আছে এমন “সকলই প্রত্যাশা করে” এবং অন্যদেরকে আমাদের প্রত্যাশার কারণ জানাতে প্রেরণা দেয়। (১ পিতর ৩:১৫) আমরা যখন কষ্টকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, তখন আমরা সর্বোত্তম ফলাফল লাভ করার জন্য প্রার্থনা করি ও আশা বজায় রাখি। প্রেম “সকলই ধৈর্য্যপূর্ব্বক সহ্য করে,” তা সেটা আমাদের বিরুদ্ধে পাপ, তাড়না অথবা অন্যান্য পরীক্ষা, যা-ই ঘটুক না কেন। তা ছাড়া, “প্রেম কখনও শেষ হয় না।” বাধ্য মানবজাতি অনন্তকাল ধরে প্রেম দেখিয়ে যাবে।

প্রতিবেশীকে সবসময় নিজের মতো ভালোবাসুন

১৯, ২০. কোন শাস্ত্রীয় পরামর্শ আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি সবসময় প্রেম দেখিয়ে চলার জন্য আমাদের অনুপ্রাণিত করবে?

১৯ বাইবেলের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি সবসময় প্রেম দেখাতে পারি। এইরকম প্রেম শুধুমাত্র নিজের জাতির লোকেদেরই নয় কিন্তু সেইসঙ্গে সমস্ত লোককে গ্রহণ করে নেয়। এ ছাড়া, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, যিশু বলেছিলেন: “তোমার প্রতিবাসীকে আপনার মত প্রেম করিবে।” (মথি ২২:৩৯) ঈশ্বর এবং খ্রিস্ট, দু-জনেই চান যেন আমরা আমাদের প্রতিবেশীকে ভালোবাসি। আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা যদি আমরা বুঝতে না পারি, তাহলে আসুন আমরা পবিত্র আত্মার মাধ্যমে নির্দেশনা লাভ করার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি। তা করার ফলে আমরা যিহোবার কাছ থেকে আশীর্বাদ পাব এবং প্রেমপূর্ণ উপায়ে কাজ করার জন্য সাহায্য লাভ করব।—রোমীয় ৮:২৬, ২৭.

২০ আমাদের প্রতিবেশীকে নিজের মতো প্রেম করার এই আজ্ঞাকে “রাজকীয় ব্যবস্থা” বলে অভিহিত করা হয়েছে। (যাকোব ২:৮) মোশির ব্যবস্থা থেকে কয়েকটা আজ্ঞা উল্লেখ করার পর পৌল বলেছিলেন: “আর যে কোন আজ্ঞা থাকুক, সে সকল এই বচনে সঙ্কলিত হইয়াছে, ‘প্রতিবাসীকে আপনার মত প্রেম করিও। প্রেম প্রতিবাসীর অনিষ্ট সাধন করে না, অতএব প্রেমই ব্যবস্থার পূর্ণসাধন।’” (রোমীয় ১৩:৮-১০) তাই, আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি সবসময় প্রেম দেখিয়ে চলতে হবে।

২১, ২২. ঈশ্বর এবং আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি কেন আমাদের প্রেম দেখানো উচিত?

২১ আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি কেন প্রেম দেখানো উচিত তা নিয়ে আমরা যখন ধ্যান করি, তখন যিশুর বলা কথাগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা আমাদের জন্য ভালো হবে। যিশু বলেছিলেন, তাঁর পিতা “ভাল মন্দ লোকদের উপরে আপনার সূর্য্য উদিত করেন, এবং ধার্ম্মিকগণের উপরে জল বর্ষান।” (মথি ৫:৪৩-৪৫) আমাদের প্রতিবেশীকে ভালোবাসতে হবে, তা তারা ধার্মিক কিংবা অধার্মিক, যা-ই হোন না কেন। আগে যেমন বলা হয়েছে, এইরকম প্রেম দেখানোর একটা গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে, তাদের কাছে রাজ্যের বার্তা জানানো। আমাদের প্রতিবেশী যদি সুসমাচারের প্রতি অকৃত্রিম উপলব্ধি দেখিয়ে সাড়া দেয়, তাহলে তাদের জন্য কত আশীর্বাদই-না সঞ্চিত আছে!

২২ যিহোবাকে নিঃশর্তে ভালোবাসার পিছনে আমাদের অনেক কারণ রয়েছে। আর আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখানোর জন্য আমাদের কাছে অনেক উপায়ও রয়েছে। আমরা যদি ঈশ্বর এবং আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখাই, তাহলে আমরা যিশু এই বিষয়ে যা বলেছিলেন, সেটার প্রতি সম্মান দেখাচ্ছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হচ্ছে, আমরা আমাদের স্বর্গীয় পিতা যিহোবাকে খুশি করছি।