সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  মে ২০১৪

আপনার পরিচর্যার সময় সুবর্ণ নিয়ম মেনে চলুন

আপনার পরিচর্যার সময় সুবর্ণ নিয়ম মেনে চলুন

“সর্ব্ববিষয়ে তোমরা যাহা যাহা ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাহাদের প্রতি সেইরূপ করিও।”—মথি ৭:১২.

১. পরিচর্যায় আমরা লোকেদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করি, তা কি তাদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে? একটা উদাহরণ দিন। (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

কয়েক বছর আগে, ফিজির এক খ্রিস্টান দম্পতি খ্রিস্টের মৃত্যুর স্মরণার্থ সভার জন্য লোকেদের আমন্ত্রণ জানানোর অভিযানে কাজ করছিল। তারা যখন একজন মহিলার সঙ্গে তার বাড়ির বাইরে কথা বলছিল, তখন বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছিল। সেই সময় ভাই নিজে তার স্ত্রীর সঙ্গে একই ছাতা ব্যবহার করে অন্য ছাতাটা সেই মহিলাকে দিয়েছিলেন। সেই দিন রাতে স্মরণার্থ সভায় ওই মহিলাকে দেখে সেই দম্পতি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিল। ওই মহিলা স্বীকার করেছিলেন যে, সেই সাক্ষাতের সময় সাক্ষিরা যা বলেছিল, তা তার বেশি মনে নেই। কিন্তু, তারা তার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেছিল, সেটার দ্বারা তিনি এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন যে, শুধু এই কারণেই তিনি স্মরণার্থ সভায় যোগ দিয়েছিলেন। এইরকম উত্তম আচরণের পিছনে কারণ কী ছিল? সেই দম্পতি এমন একটা নিয়ম অনুসরণ করেছিল, যেটাকে প্রায়ই সুবর্ণ নিয়ম বলা হয়।

২. সুবর্ণ নিয়ম কী এবং কীভাবে আমরা তা কাজে লাগাতে পারি?

সুবর্ণ নিয়ম কী? এটা হল সেই পরামর্শ, যা যিশু এই কথাগুলো বলার সময় দিয়েছিলেন: “সর্ব্ববিষয়ে তোমরা যাহা যাহা ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাহাদের প্রতি সেইরূপ করিও।” (মথি ৭:১২) কীভাবে আমরা সেই নিয়ম কাজে লাগাতে পারি? মূলত, দুটো পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে। প্রথমে, নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করুন, ‘আমি যদি সেই ব্যক্তির স্থানে থাকতাম, তাহলে আমি কেমন আচরণ  আশা করতাম?’ এরপর, সেই ব্যক্তির সঙ্গে সেইরকম আচরণ করার জন্য যথাসাধ্য করুন।—১ করি. ১০:২৪.

৩, ৪. (ক) ব্যাখ্যা করুন যে, কেন সুবর্ণ নিয়ম কেবল সহবিশ্বাসীদের সঙ্গে আচরণ করার সময়ই প্রযোজ্য নয়। (খ) এই প্রবন্ধে আমরা কী আলোচনা করব?

আমরা সাধারণত আমাদের সহবিশ্বাসীদের সঙ্গে আচরণ করার সময় সুবর্ণ নিয়ম কাজে লাগাই। কিন্তু, যিশু এমন ইঙ্গিত দেননি যে, কেবল সহবিশ্বাসীদের প্রতিই আমাদের এই বিবেচনা দেখানো উচিত। তিনি আসলে সেই সময় সুবর্ণ নিয়মের বিষয়ে উল্লেখ করেছিলেন, যখন তিনি সাধারণ লোকেদের সঙ্গে এবং এমনকী শত্রুদের সঙ্গে আমাদের কেমন আচরণ করা উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। (পড়ুন, লূক ৬:২৭, ২৮, ৩১, ৩৫.) আমাদের শত্রুদের বেলায় যদি সুবর্ণ নিয়ম কাজে লাগাতে হয়, তাহলে লোকেদের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তা মেনে চলা আরও কতই-না উপযুক্ত, যাদের মধ্যে অনেকে হয়তো “অনন্ত জীবনের জন্য নিরূপিত [“সঠিক প্রবণতাসম্পন্ন,” NW]”!—প্রেরিত ১৩:৪৮.

এখন আমরা চারটে প্রশ্ন আলোচনা করব, যেগুলো পরিচর্যার সময় আমরা মনে রাখতে পারি: কাদের কাছে গিয়ে আমি কথা বলি? কোথায় গিয়ে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলি? কখন লোকেদের কাছে গিয়ে কথা বলা সর্বোত্তম সময়? কীভাবে তাদের সঙ্গে আমার কথা বলা উচিত? আমরা দেখব যে, এই প্রশ্নগুলো আমাদেরকে যাদের কাছে আমরা প্রচার করি, তাদের অনুভূতি বিবেচনা করার এবং সেই অনুযায়ী আমাদের উপস্থাপনাকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য সাহায্য করতে পারে।—১ করি. ৯:১৯-২৩.

কাদের কাছে গিয়ে আমি কথা বলি?

৫. নিজেদেরকে আমরা কোন প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করতে পারি?

পরিচর্যায় গিয়ে আমরা সাধারণত বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথা বলি। প্রত্যেক ব্যক্তিরই ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি এবং সমস্যা রয়েছে। (২ বংশা. ৬:২৯) আপনি যখন কাউকে সুসমাচার জানানোর চেষ্টা করেন, তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘আমি যদি সেই ব্যক্তির স্থানে থাকতাম, তাহলে তিনি আমাকে কোন দৃষ্টিতে দেখলে আমার ভালো লাগত? তিনি যদি আমার সম্বন্ধে না জেনেই দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন বা আমার বিচার করতেন, তাহলে কি আমার ভালো লাগত? না কি তিনি আমাকে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে ভালোমতো জানলে আমার ভালো লাগত?’ এই প্রশ্নগুলো বিবেচনা করা আমাদেরকে প্রত্যেক গৃহকর্তার সঙ্গে ব্যক্তি-বিশেষ হিসেবে আচরণ করার বিষয়টা মনে করিয়ে দিতে পারে।

৬, ৭. পরিচর্যায় গিয়ে আমরা যদি এমন কোনো ব্যক্তিকে পাই, যাকে বিরোধী মনোভাবাপন্ন বলে মনে হয়, তাহলে আমাদের কী করা উচিত?

কেউই চায় না যে, তাকে “একজন নেতিবাচক ব্যক্তি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হোক। উদাহরণ স্বরূপ: খ্রিস্টান হিসেবে আমরা বাইবেলের এই নীতি কাজে লাগানোর জন্য যথাসাধ্য করি, যেন ‘আমাদের বাক্য সর্ব্বদা অনুগ্রহ সহযুক্ত হয়।’ (কল. ৪:৬) কিন্তু যেহেতু আমরা অসিদ্ধ, তাই মাঝে মাঝে আমরা এমন কিছু বলে ফেলি, যেটার জন্য পরে অনুশোচনা করি। (যাকোব ৩:২) আমরা যদি কারো সঙ্গে নির্দয়ভাবে কথা বলে ফেলি, হতে পারে আমাদের দিনটা ভালো যায়নি বলে, তাহলে আমরা চাইব না যে, আমাদেরকে সঙ্গেসঙ্গে “রূঢ়” অথবা “অবিবেচক” হিসেবে আখ্যায়িত করা হোক। আমরা আশা করব, যেন অন্য ব্যক্তি আমাদের পরিস্থিতি বোঝেন। অন্যদের প্রতিও কি আমাদের একই বিবেচনা দেখানো উচিত নয়?

পরিচর্যায় গিয়ে আপনি যদি এমন কোনো ব্যক্তিকে পান, যাকে আপনার কাছে বিরোধী মনোভাবাপন্ন বলে মনে হয়, তাহলে কেন তিনি এইরকম আচরণ করছেন, তা কি আপনি বোঝার চেষ্টা করতে পারেন? এর কারণ কি এই হতে পারে যে, তিনি কর্মক্ষেত্রে অথবা স্কুলে চাপের মধ্যে আছেন? তিনি কি গুরুতর কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করছেন? অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, শুরুতে মন-মেজাজ খারাপ ছিল এমন অনেক ব্যক্তি সেই সময় ভালো সাড়া দিয়েছে, যখন যিহোবার লোকেরা তাদের সঙ্গে মৃদুতা এবং সম্মান দেখিয়ে আচরণ করেছে।—হিতো. ১৫:১; ১ পিতর ৩:১৫.

৮. কেন আমাদের “সর্ব্বজনের” বা সমস্ত ধরনের লোকের কাছে রাজ্যের বার্তা জানানো উচিত?

সমস্ত ধরনের ব্যক্তি আমাদের বার্তার প্রতি সাড়া দেয়। উদাহরণ স্বরূপ, বিগত কয়েক বছরে প্রহরীদুর্গ পত্রিকার “বাইবেল জীবনকে পরিবর্তন করে” শিরোনামের ধারাবাহিক প্রবন্ধে ৬০টারও বেশি অভিজ্ঞতা প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রবন্ধে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ চোর, মাতাল, দুর্বৃত্ত দলের সদস্য অথবা মাদকাসক্ত ছিল। আবার অন্যেরা রাজনীতিবিদ, ধর্মীয় নেতা কিংবা কেরিয়ারের অনুধাবনকারী ছিল। কেউ  কেউ অনৈতিক জীবনযাপন করত। তা সত্ত্বেও, তারা সকলে সুসমাচার শুনেছে, বাইবেল অধ্যয়ন করেছে, জীবনে বিভিন্ন পরিবর্তন করেছে এবং সত্যে এসেছে। তাই, আমাদের এইরকম মনে করা উচিত নয় যে, কিছু ব্যক্তি কখনোই আমাদের রাজ্যের বার্তার প্রতি সাড়া দেবে না। (পড়ুন, ১ করিন্থীয় ৬:৯-১১.) এর পরিবর্তে, আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, ‘সর্ব্বজন’ বা সমস্ত ধরনের লোক সুসমাচারের প্রতি সাড়া দিতে পারে।—১ করি. ৯:২২.

কোথায় গিয়ে আমি লোকেদের সঙ্গে কথা বলি?

৯. অন্যদের বাড়িঘরের প্রতি কেন আমাদের সম্মান দেখানো উচিত?

পরিচর্যায় কোথায় গিয়ে আমরা লোকেদের সঙ্গে কথা বলি? বেশিরভাগ সময়ই আমরা তাদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলি। (মথি ১০:১১-১৩) অন্যেরা যখন আমাদের বাড়িঘর এবং ব্যক্তিগত সম্পদের প্রতি সম্মান দেখায়, তখন আমরা তা উপলব্ধি করি। কারণ, আমাদের বাড়ি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই যেন এটা এমন এক স্থান হোক, যেখানে আমরা একান্তে এবং নিরাপদে থাকতে পারি। প্রতিবেশীদের বাড়িঘরের প্রতিও আমাদের একই সম্মান দেখানো উচিত। তাই, ঘরে ঘরে পরিচর্যার সময় তাদের বাড়িঘরের ক্ষেত্রে আমরা কেমন আচরণ দেখাই, সেই বিষয়ে চিন্তা করা উচিত।—প্রেরিত ৫:৪২.

১০. পরিচর্যায় কীভাবে আমরা অন্যদের বিরক্ত করা এড়িয়ে চলতে পারি?

১০ যেহেতু বর্তমান জগৎ অপরাধে পরিপূর্ণ, তাই অনেক গৃহকর্তা অপরিচিত ব্যক্তিদের দেখলে সন্দেহপ্রবণ হয়ে থাকে। (২ তীম. ৩:১-৫) তাদের এই সন্দেহকে আমাদের আরও বাড়িয়ে তোলা উচিত নয়। উদাহরণ স্বরূপ, ধরুন আমরা একটা বাড়িতে গিয়েছি এবং সদর দরজায় কড়া নেড়েছি। ভিতর থেকে কেউ যদি উত্তর না দেয়, তাহলে আমাদের মধ্যে হয়তো জানালায় উঁকি দিয়ে অথবা বাড়ির আশেপাশে গিয়ে গৃহকর্তাকে খোঁজার প্রবণতা থাকতে পারে। আপনার এলাকায় এই ধরনের আচরণ দেখে গৃহকর্তা কি বিরক্ত হবেন? তার প্রতিবেশী আপনার সম্বন্ধে কী চিন্তা করবেন? এটা ঠিক যে, আমাদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রচার করা উচিত। (প্রেরিত ১০:৪২) আমরা এক ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই আর আমাদের এই মনোভাব উত্তম। (রোমীয় ১:১৪, ১৫) কিন্তু, বিজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের এমন যেকোনো কিছু এড়িয়ে চলা উচিত, যা আমাদের প্রচারের এলাকায় অযথা লোকেদের বিরক্ত করে তুলতে পারে। প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “আমরা কোন বিষয়ে ব্যাঘাত জন্মাই না, যেন সেই পরিচর্য্যা-পদ কলঙ্কিত না হয়।” (২ করি. ৬:৩) প্রচারে গিয়ে আমরা যখন লোকেদের বাড়িঘর এবং সম্পদের প্রতি সম্মান দেখাই, তখন আমাদের আচরণ কাউকে কাউকে সত্যের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারে।—পড়ুন, ১ পিতর ২:১২.

আসুন আমরা সবসময় গৃহকর্তার সম্পদ এবং একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সম্মান দেখাই (১০ অনুচ্ছেদ দেখুন)

কখন আমি লোকেদের কাছে গিয়ে কথা বলি?

১১. অন্যেরা যখন আমাদের সময়ের প্রতি সম্মান দেখায়, তখন সেটাকে আমরা কেন উপলব্ধি করি?

১১ খ্রিস্টান হিসেবে আমাদের অধিকাংশ ব্যক্তিকেই ব্যস্ত জীবন কাটাতে হয়। বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা পূরণ করার জন্য আমাদের শ্রেয় বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে প্রথমে রাখতে হয় এবং সতর্কতার সঙ্গে তালিকা তৈরি করতে হয়। (ইফি. ৫:১৬; ফিলি. ১:১০, পাদটীকা) কোনো কিছু যদি আমাদের তালিকায় বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে আমরা বিরক্ত হই। তাই, অন্যেরা যখন আমাদের সময়ের প্রতি সম্মান দেখায় এবং আমাদের সঙ্গে কথা বলার সময় ও আমাদের সময় নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তিবাদিতা দেখায়, তখন আমরা সেটাকে উপলব্ধি করি। সুবর্ণ নিয়মের কথা মনে রেখে কীভাবে আমরা সেই ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারি, যাদের কাছে আমরা প্রচার করি?

১২. আমাদের এলাকায় লোকেদের কাছে গিয়ে কথা বলার সর্বোত্তম সময় কোনটা, তা আমরা কীভাবে নির্ধারণ করতে পারি?

১২ গৃহকর্তাদের কাছে গিয়ে কথা বলার জন্য আমাদের সর্বোত্তম সময় নির্ধারণ করার চেষ্টা করা উচিত। আমাদের এলাকায় সাধারণত কখন লোকেরা ঘরে থাকে? কোন সময়টাতে হয়তো তারা একটু বেশি সাড়া দেবে? এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে আমাদের তালিকাকে সেভাবে রদবদল করার বিভিন্ন উপায় আমাদের খোঁজা উচিত। পৃথিবীর কোনো কোনো জায়গায়, বিকেলে কিংবা সন্ধ্যা সময় ঘরে ঘরে প্রচার গেলে তা আরও উত্তম ফল নিয়ে আসে। আপনার সাক্ষ্যদানের এলাকার ক্ষেত্রে যদি বিষয়টা সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে আপনি কি দিনের সেই সময়গুলোতে অন্ততপক্ষে কয়েকটা ঘরে গিয়ে প্রচার করার ব্যবস্থা করতে পারেন? (পড়ুন, ১ করিন্থীয় ১০:২৪.) আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, আমাদের এলাকার লোকেদের জন্য সর্বোত্তম হবে এমন সময়ে প্রচারে  যাওয়ার জন্য আমরা যে-ত্যাগস্বীকারই করি না কেন, যিহোবা তাতে আশীর্বাদ করবেন।

১৩. কীভাবে আমরা একজন গৃহকর্তার প্রতি সম্মান দেখাতে পারি?

১৩ একজন ব্যক্তির প্রতি আরও কোন উপায়ে আমরা সম্মান দেখাতে পারি? আমরা যখন কোনো আগ্রহী ব্যক্তিকে খুঁজে পাই, তখন আমাদের এক উত্তম সাক্ষ্য দেওয়া উচিত ঠিকই কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে নয়। গৃহকর্তা হয়তো সেই সময়টা নিজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য আলাদা করে রেখেছেন। তিনি যদি বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন, তাহলে আমরা বলতে পারি, আমরা সংক্ষেপে কথা বলব আর আমাদের ঠিক তা-ই করা উচিত। (মথি ৫:৩৭) আলোচনা শেষে আমাদের জিজ্ঞেস করা উচিত, আবার কখন দেখা করলে তার জন্য সুবিধা হবে। কিছু প্রকাশক দেখেছে, এভাবে বলা কার্যকরী ফল নিয়ে এসেছে: “আপনার সঙ্গে আবার দেখা করতে পারলে খুশি হব। আসার আগে আমি যদি আপনাকে ফোন করি বা মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠাই, তাহলে সেটা কি আপনার জন্য ভালো হবে?” আমরা যখন আমাদের এলাকার লোকেদের তালিকা অনুযায়ী নিজেদের সময় খাপ খাইয়ে নিই, তখন আমরা আসলে পৌলের উদাহরণ অনুসরণ করছি, যিনি ‘আপনার হিত চেষ্টা করিতেন না, কিন্তু অনেকের হিত চেষ্টা করিতেন, যেন তাহারা পরিত্রাণ পায়।’—১ করি. ১০:৩৩.

কীভাবে লোকেদের সঙ্গে আমার কথা বলা উচিত?

১৪-১৬. (ক) গৃহকর্তাদের কাছে কেন আমাদের সাক্ষাতের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা উচিত? উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করুন। (খ) একজন ভ্রমণ অধ্যক্ষ কোন উপায়টা ব্যবহার করা কার্যকরী বলে দেখেছেন?

১৪ কল্পনা করুন, একদিন আমরা একটা ফোন পেয়েছি, তবে ব্যক্তির স্বর চিনতে পারছি না। তিনি একজন অপরিচিত ব্যক্তি কিন্তু জিজ্ঞেস করেন, আমরা কোন ধরনের খাবার পছন্দ করি। আমরা হয়তো ভাবতে পারি, সেই ব্যক্তি কে এবং তিনি আসলে কী চান। ভদ্রতার  খাতিরে আমরা হয়তো কিছুটা সময় তার সঙ্গে কথা বলতে পারি কিন্তু এরপর আমরা হয়তো ইঙ্গিত দিয়ে বুঝিয়ে দেব, আমরা আর কথা বলতে আগ্রহী নই। অন্যদিকে কল্পনা করুন, একজন ব্যক্তি ফোন করে তার পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি পুষ্টি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করেন আর তাই কিছু উপকারী তথ্য জানাতে চান। আমরা হয়তো আরও আগ্রহ নিয়ে শুনতে চাইব। আসলে, লোকেরা যখন আমাদের সঙ্গে স্পষ্টভাবে অথচ কৌশলতা দেখিয়ে কথা বলে, তখন আমরা খুশি হই। কীভাবে আমরা সেই ব্যক্তিদের প্রতি একই ভদ্রতা দেখাতে পারি, যাদের কাছে আমরা প্রচার করি?

১৫ অনেক এলাকায়, গৃহকর্তাদের কাছে আমাদের আসার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়। এটা ঠিক যে, গৃহকর্তাদের আমরা এমন মূল্যবান তথ্য জানাতে চাই, যা তারা জানে না। কিন্তু ধরুন, নিজেদের পরিচয় না দিয়েই আমরা হঠাৎ এই ধরনের প্রশ্ন করে আমাদের উপস্থাপনা শুরু করেছি: “আপনার যদি জগতের কোনো সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা থাকত, তাহলে আপনি কোন সমস্যার সমাধান করতেন?” আমরা জানি যে, এই ধরনের প্রশ্নের পিছনে উদ্দেশ্য হল একজন ব্যক্তির মনের কথা বের করে আনা এবং এরপর বাইবেলের দিকে আলোচনা নিয়ে যাওয়া। কিন্তু, গৃহকর্তা হয়তো ভাবতে পারেন: ‘এই অপরিচিত ব্যক্তি কে এবং কেন তিনি আমাকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছেন? তার উদ্দেশ্য কী?’ তাই, আমাদের এমনভাবে কথা বলা উচিত, যেন গৃহকর্তা স্বচ্ছন্দবোধ করেন। (ফিলি. ২:৩, ৪) কীভাবে আমরা তা করতে পারি?

১৬ একজন ভ্রমণ অধ্যক্ষ দেখেছেন যে, পরবর্তী এই উপায়টা ব্যবহার করা কার্যকরী। গৃহকর্তাকে সম্ভাষণ জানানোর পর, তিনি তাকে আপনি কি সত্য জানতে চান? ট্র্যাক্টের একটা কপি দেন এবং বলেন: “আজকে আমরা এই এলাকার সবাইকে এই ট্র্যাক্ট দিচ্ছিলাম। এখানে ছয়টা প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা অনেকে জিজ্ঞেস করে থাকে। এই কপিটা আপনার জন্য।” ভাই জানান যে, লোকেরা একবার আমাদের আসার উদ্দেশ্য বুঝতে পারলে কিছুটা স্বস্তি বোধ করে। সেই সময় আলোচনা শুরু করা প্রায়ই সহজ হয়ে ওঠে। ভ্রমণ অধ্যক্ষ পরবর্তী সময়ে সেই ব্যক্তিকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন: “আপনি কি কখনো এই প্রশ্নগুলোর মধ্যে কোনো একটা নিয়ে ভেবে দেখেছেন?” গৃহকর্তা যদি একটা প্রশ্ন বাছাই করেন, তাহলে ভাই ট্র্যাক্ট খোলেন এবং সেই প্রশ্ন সম্বন্ধে বাইবেল যা বলে, সেটা নিয়ে আলোচনা করেন। নতুবা তিনি গৃহকর্তাকে কোনোভাবে বিব্রত না করে নিজেই একটা প্রশ্ন বাছাই করেন এবং আলোচনা চালিয়ে যান। অবশ্য, আলোচনা শুরু করার আরও অনেক উপায় রয়েছে। কিছু এলাকায়, গৃহকর্তারা হয়তো আমাদের সাক্ষাতের উদ্দেশ্য বলার আগে আরও আনুষ্ঠানিকতা আশা করে। মূল বিষয় হল, আমাদের উপস্থাপনাকে আমাদের এলাকার লোকেরা হয়তো যেভাবে পছন্দ করবে, সেভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়া।

আপনার পরিচর্যার সময় সুবর্ণ নিয়ম মেনে চলুন

১৭. এই প্রবন্ধে আলোচ্য কিছু উপায় কী, যেগুলোর মাধ্যমে আমরা সুবর্ণ নিয়ম মেনে চলতে পারি?

১৭ তাহলে, আমাদের পরিচর্যায় সুবর্ণ নিয়ম মেনে চলার কিছু উপায় কী? প্রত্যেক গৃহকর্তার সঙ্গে আমরা আলাদা আলাদা ব্যক্তি হিসেবে আচরণ করি। গৃহকর্তার বাড়িঘর এবং অন্যান্য সম্পদের প্রতি আমরা সম্মান দেখাই। আমরা সেই সময় পরিচর্যায় অংশ নেওয়ার প্রচেষ্টা করি, যখন গৃহকর্তারা হয়তো ঘরে থাকবে এবং সাড়া দেবে। আর আমরা এমনভাবে আমাদের বার্তা তুলে ধরি, যা আমাদের স্থানীয় এলাকায় গ্রহণযোগ্য হয়।

১৮. আমরা যেমন আশা করি, আমাদের এলাকার লোকেদের সঙ্গে সেইরকম আচরণ করা কোন কোন উপকার নিয়ে আসে?

১৮ আমরা যেমন আশা করি, আমাদের এলাকার লোকেদের সঙ্গে সেইরকম আচরণ করা অনেক উপকার নিয়ে আসে। দয়া এবং বিবেচনা দেখিয়ে আচরণ করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দীপ্তিকে উজ্জ্বল হতে দিই, আমাদের শাস্ত্রীয় নীতিগুলোর মূল্য তুলে ধরি এবং আমাদের স্বর্গীয় পিতাকে গৌরব প্রদান করি। (মথি ৫:১৬) আমরা যেন আমাদের কথা বলার ধরনের মাধ্যমে আরও লোককে সত্যের প্রতি আকৃষ্ট করি। (১ তীম. ৪:১৬) আমরা যাদের কাছে প্রচার করি, তারা রাজ্যের বার্তা গ্রহণ করুক বা না-ই করুক, এটা জানা আমাদের জন্য পরিতৃপ্তিদায়ক যে, আমাদের পরিচর্যা সম্পন্ন করার জন্য আমরা আমাদের সর্বোত্তমটা করছি। (২ তীম. ৪:৫) আমরা প্রত্যেকে যেন প্রেরিত পৌলকে অনুকরণ করি, যিনি লিখেছিলেন: “আমি সকলই সুসমাচারের জন্য করি, যেন তাহার সহভাগী হই।” (১ করি. ৯:২৩) এই বিষয়টা মনে রেখে, আসুন আমরা সর্বদা আমাদের পরিচর্যায় সুবর্ণ নিয়ম মেনে চলি।