সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  মে ২০১৪

আপনি কি যিহোবার সংগঠনের সঙ্গে এগিয়ে চলছেন?

আপনি কি যিহোবার সংগঠনের সঙ্গে এগিয়ে চলছেন?

“ধার্ম্মিকগণের প্রতি প্রভুর [ঈশ্বরের] চক্ষু আছে।” —১ পিতর ৩:১২.

১. ধর্মভ্রষ্ট ইস্রায়েল জাতির পরিবর্তে, কোন সংগঠনকে যিহোবার নামের লোক হিসেবে নেওয়া হয়েছে? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

যিহোবা উপযুক্তভাবেই প্রথম শতাব্দীতে খ্রিস্টীয় মণ্ডলী প্রতিষ্ঠার এবং সাম্প্রতিক সময়ে সত্য উপাসনা পুনর্স্থাপনের জন্য কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য। আগের প্রবন্ধে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্মভ্রষ্ট ইস্রায়েল জাতির পরিবর্তে, খ্রিস্টের প্রাথমিক অনুসারীদের নিয়ে গঠিত সংগঠনকে যিহোবার নামের লোক হিসেবে নেওয়া হয়েছে। নতুন সংগঠন ঈশ্বরের প্রচুর অনুগ্রহ লাভ করেছিল এবং ৭০ খ্রিস্টাব্দে যিরূশালেমের ধবংস থেকে রক্ষা পেয়েছিল। (লূক ২১:২০, ২১) প্রথম শতাব্দীর সেই ঘটনাগুলো, যিহোবার বর্তমান দিনের দাসদের প্রতি ঘটা বিভিন্ন ঘটনার এক পূর্বলক্ষণ ছিল। শীঘ্র শয়তানের বিধিব্যবস্থা ধবংস হয়ে যাবে কিন্তু ঈশ্বরের সংগঠন শেষকালে রক্ষা পাবে। (২ তীম. ৩:১) কীভাবে আমরা এই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারি?

২. “মহাক্লেশ” সম্বন্ধে যিশু কী বলেছিলেন এবং কীভাবে এর শুরু হবে?

যিশু তাঁর অদৃশ্য উপস্থিতি এবং বিধিব্যবস্থার শেষ সম্বন্ধে বলেছিলেন: “তৎকালে এরূপ ‘মহাক্লেশ উপস্থিত হইবে, যেরূপ জগতের আরম্ভ অবধি এ পর্য্যন্ত কখনও হয় নাই, কখনও হইবেও না’।” (মথি ২৪:৩, ২১) এই নজিরবিহীন মহাক্লেশ সেই সময়ে শুরু হবে, যখন যিহোবা রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ব্যবহার করে ‘মহতী বাবিলের’ অর্থাৎ মিথ্যা ধর্মের বিশ্ব সাম্রাজ্যের ওপর ধবংস নিয়ে আসবেন। (প্রকা. ১৭:৩-৫, ১৬) এরপর কী ঘটবে?

 শয়তানের আক্রমণ আরমাগিদোনের দিকে পরিচালিত করে

৩. মিথ্যা ধর্ম ধবংস হয়ে যাওয়ার পর, যিহোবার লোকেদের ওপর কোন আক্রমণ নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে?

মিথ্যা ধর্ম ধবংস হয়ে যাওয়ার পর, শয়তান এবং তার জগতের অন্যান্য সংগঠন যিহোবার দাসদের আক্রমণ করবে। উদাহরণ স্বরূপ, “মাগোগ দেশীয় গোগের” বিষয়ে শাস্ত্র ভবিষ্যদ্‌বাণী করে: “তুমি উঠিবে, ঝঞ্ঝার ন্যায় আসিবে, মেঘের ন্যায় তুমি ও তোমার সহিত তোমার সকল সৈন্যদল ও অনেক জাতি সেই দেশ আচ্ছাদন করিবে।” যেহেতু যিহোবার সাক্ষিরা অস্ত্রধারণ করে না এবং তারা পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় লোক, তাই তারা হয়তো সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে। কিন্তু, তাদেরকে আক্রমণ করা কতই-না ভুল বলে প্রমাণিত হবে!—যিহি. ৩৮:১, ২, ৯-১২.

৪, ৫. শয়তান যখন ঈশ্বরের লোকেদের ধবংস করে দেওয়ার প্রচেষ্টা করবে, তখন তিনি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবেন?

শয়তান যখন ঈশ্বরের লোকেদের ধবংস করে দেওয়ার প্রচেষ্টা করবে, তখন ঈশ্বর কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবেন? যিহোবা তাদের পক্ষে কাজ করবেন, নিখিলবিশ্বের শাসক হিসেবে তাঁর অধিকার কাজে লাগাবেন। তাঁর দাসদের ওপর আক্রমণকে যিহোবা তাঁর ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য করেন। (পড়ুন, সখরিয় ২:৮.) তাই, আমাদের স্বর্গীয় পিতা আমাদের উদ্ধার করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবেন। আরমাগিদোনে অর্থাৎ ‘সর্ব্বশক্তিমান্‌ ঈশ্বরের সেই মহাদিনের যুদ্ধে,’ শয়তানের জগতের ধবংসের সময়ে সেই উদ্ধার সম্পন্ন হবে।—প্রকা. ১৬:১৪, ১৬.

আরমাগিদোন সম্বন্ধে বাইবেলের ভবিষ্যদ্‌বাণী বলে: “জাতিগণের সহিত সদাপ্রভুর বিবাদ আছে; তিনি মর্ত্ত্যমাত্রের বিচার করিবেন; যাহারা দুষ্ট, তাহাদিগকে তিনি খড়্‌গে সমর্পণ করিবেন, ইহা সদাপ্রভু কহেন। বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা কহেন, দেখ, এক জাতির পরে অন্য জাতির প্রতি অমঙ্গল উপস্থিত হইবে, এবং পৃথিবীর প্রান্ত হইতে প্রচণ্ড ঘূর্ণ্যবায়ু উঠিবে। তৎকালে সদাপ্রভুর নিহত লোক সকল পৃথিবীর এক প্রান্ত হইতে পৃথিবীর অন্য প্রান্ত পর্য্যন্ত দেখা যাইবে; কেহ তাহাদের নিমিত্ত বিলাপ করিবে না, এবং তাহাদিগকে সংগ্রহ করা কি কবর দেওয়া যাইবে না, তাহারা ভূমির উপরে সারের ন্যায় পতিত থাকিবে।” (যির. ২৫:৩১-৩৩) আরমাগিদোন এই দুষ্ট বিধিব্যবস্থার শেষ নিয়ে আসবে। শয়তানের জগৎ শেষ হয়ে যাবে কিন্তু যিহোবার সংগঠনের পার্থিব অংশ রক্ষা পাবে।

বর্তমানে যে-কারণে যিহোবার সংগঠন সমৃদ্ধি লাভ করছে

৬, ৭. (ক) “বিস্তর লোক” কোথা থেকে আসে? (খ) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোন বৃদ্ধি হয়েছে?

পৃথিবীতে ঈশ্বরের সংগঠন রক্ষা পায় এবং সমৃদ্ধি লাভ করে কারণ যারা এই সংগঠনের অংশ, তাদের প্রতি ঈশ্বরের অনুমোদন রয়েছে। বাইবেল আমাদের আশ্বাস দেয়: “ধার্ম্মিকগণের প্রতি প্রভুর [ঈশ্বরের] চক্ষু আছে; তাহাদের বিনতির প্রতি তাঁহার কর্ণ আছে।” (১ পিতর ৩:১২) ধার্মিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত সেই “বিস্তর লোক,” যারা “মহাক্লেশের মধ্য হইতে আসিয়াছে।” (প্রকা. ৭:৯, ১৪) রক্ষাপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের কেবল “লোক” নয় বরং “বিস্তর লোক” বলা হয়েছে কারণ তাদের সংখ্যা অনেক ব্যাপক। আপনি কি নিজেকে তাদের মধ্যে ‘মহাক্লেশ’ থেকে রক্ষাপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন?

এই বিস্তর লোক কোথা থেকে আসে? তাঁর উপস্থিতির চিহ্নের একটা অংশ হিসেবে যিশু যা ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন, সেই অনুযায়ী তাদেরকে একত্রিত করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন: “সর্ব্ব জাতির কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত রাজ্যের এই সুসমাচার সমুদয় জগতে প্রচার করা যাইবে; আর তখন শেষ উপস্থিত হইবে।” (মথি ২৪:১৪) এই শেষকালে, এটাই হল ঈশ্বরের সংগঠনের প্রধান কাজ। পৃথিবীব্যাপী যিহোবার সাক্ষিদের প্রচার এবং শিক্ষাদানের কাজের ফলে লক্ষ লক্ষ লোক ঈশ্বরকে “আত্মায় ও সত্যে” উপাসনা করতে শিখেছে। (যোহন ৪:২৩, ২৪) উদাহরণ স্বরূপ, বিগত দশ বছরে অর্থাৎ ২০০৩ থেকে ২০১২ সালের পরিচর্যা বছরে ২৭,০৭,০০০-রেরও বেশি লোক ঈশ্বরের প্রতি তাদের উৎসর্গীকরণের প্রতীক হিসেবে বাপ্তিস্ম  নিয়েছে। পৃথিবীব্যাপী এখন ৭৯,০০,০০০-রও বেশি সাক্ষি রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে আরও লক্ষ লক্ষ লোক যোগ দিচ্ছে আর তা বিশেষভাবে বার্ষিক স্মরণার্থ সভা উদ্‌যাপনের সময়। এই সংখ্যার জন্য আমরা নিজেরা দম্ভ করি না কারণ “বৃদ্ধিদাতা ঈশ্বরই সার।” (১ করি. ৩:৫-৭) যাই হোক, এটা স্পষ্ট যে, বিস্তর লোক বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতি বছর এর সংখ্যা আরও বিস্তর হচ্ছে।

৮. যিহোবার আধুনিক দিনের সংগঠনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কারণ কী?

ঈশ্বরের দাসদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে কারণ স্বয়ং যিহোবা তাঁর সাক্ষিদের সমর্থন করছেন। (পড়ুন, যিশাইয় ৪৩:১০-১২.) ভবিষ্যদ্‌বাণীমূলক এই কথাগুলোতে এই বৃদ্ধি সম্বন্ধে বলা হয়েছে: “যে ছোট, সে সহস্র হইয়া উঠিবে, যে ক্ষুদ্র, সে বলবান্‌ জাতি হইয়া উঠিবে; আমি সদাপ্রভু যথাকালে ইহা সম্পন্ন করিতে সত্বর হইব।” (যিশা. ৬০:২২) অভিষিক্ত ব্যক্তিদের অবশিষ্টাংশ অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের ইস্রায়েল’ একসময় “ছোট” ছিল, কিন্তু যিহোবা তাদের প্রচার কাজে আশীর্বাদ করেছিলেন। তাদের সংখ্যা সেই সময়ে বৃদ্ধি পায়, যখন ঈশ্বরের সংগঠনে অন্যান্য অভিষিক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়। (গালা. ৬:১৬) বছরের পর বছর ধরে যিহোবার আশীর্বাদ ছিল বলে বিস্তর লোকের সংখ্যাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়।

যিহোবা আমাদের কাছ থেকে যা চান

৯. আমরা যদি ঈশ্বরের বাক্যে প্রতিজ্ঞাত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ লাভ করতে চাই, তাহলে আমাদের অবশ্যই কী করতে হবে?

আমরা অভিষিক্ত খ্রিস্টান অথবা বিস্তর লোক, যে-দলের সদস্যই হই না কেন, আমরা ঈশ্বরের বাক্যে প্রতিজ্ঞাত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ লাভ করতে পারি। কিন্তু, তা লাভ করতে চাইলে আমাদের অবশ্যই যিহোবা যা চান, সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। (যিশা. ৪৮:১৭, ১৮) মোশির ব্যবস্থার অধীনে যে-ইস্রায়েলীয়রা ছিল, তাদের কথা বিবেচনা করুন। ব্যবস্থার একটা উদ্দেশ্য ছিল ইস্রায়েলের লোকেদেরকে বিভিন্ন উপকারজনক বিধি প্রদান করার মাধ্যমে সুরক্ষা করা। আর এর অন্তর্ভুক্ত ছিল যৌন আচরণ, ব্যাবসায়িক লেন-দেন, সন্তানের যত্ন, সহমানবদের সঙ্গে সঠিক আচরণ এবং আরও অন্যান্য বিষয়। (যাত্রা. ২০:১৪; লেবীয়. ১৯:১৮, ৩৫-৩৭; দ্বিতীয়. ৬:৬-৯) একইভাবে, ঈশ্বর যা চান, সেই অনুযায়ী কাজ করা আমাদের জন্য উপকার নিয়ে আসে আর নিশ্চিতভাবেই তাঁর ইচ্ছা পালন করাকে আমরা দুর্বহ বলে মনে করি না। (পড়ুন, ১ যোহন ৫:৩.) আসলে, ব্যবস্থা যেমন ইস্রায়েলীয়দের সুরক্ষা করেছিল, তেমনই আমরা যদি ঈশ্বরের আইন এবং নীতি অনুযায়ী কাজ করি, তাহলে তা কেবল আমাদের সুরক্ষাই করে না কিন্তু সেইসঙ্গে আমাদেরকে “বিশ্বাসে নিরাময়” বা সবল রাখে।—তীত ১:১৩.

১০. কেন আমাদের বাইবেল অধ্যয়ন এবং সাপ্তাহিক পারিবারিক উপাসনা সন্ধ্যার জন্য সময় আলাদা করে রাখা উচিত?

১০ যিহোবার সংগঠনের পার্থিব অংশ বিভিন্ন উপায়ে এগিয়ে চলছে। উদাহরণ স্বরূপ, বাইবেলের সত্য সম্বন্ধে আমাদের বোধগম্যতা ক্রমাগত স্পষ্ট হচ্ছে। এটা আশা করা যায় কারণ “ধার্ম্মিকদের পথ প্রভাতীয় জ্যোতির ন্যায়, যাহা মধ্যাহ্ন পর্য্যন্ত উত্তরোত্তর দেদীপ্যমান হয়।” (হিতো. ৪:১৮) কিন্তু, আমরা নিজেদের জিজ্ঞেস করতে পারি: ‘শাস্ত্রীয় সত্য সম্বন্ধে আমাদের বোধগম্যতার যে-রদবদল হচ্ছে, আমি কি সেটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছি? আমি কি প্রতিদিন বাইবেল পড়ি? আমি কি উদ্যোগের সঙ্গে আমাদের প্রকাশনাগুলো পড়ি? আমার এবং আমার প্রিয়জনদের কি সাপ্তাহিক পারিবারিক উপাসনা সন্ধ্যার তালিকা রয়েছে?’ অধিকাংশ ব্যক্তিই এই বিষয়ে একমত হবে যে, এগুলো করা অনেক কঠিন নয়। এর জন্য কেবল সময় আলাদা করে রাখতে হবে। আর বিশেষভাবে এখন যেহেতু মহাক্লেশ একেবারে নিকটে, তাই সঠিক শাস্ত্রীয় জ্ঞান নেওয়া, তা কাজে লাগানো এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি করে চলা কতই-না গুরুত্বপূর্ণ!

১১. কোন কোন উপায়ে প্রাচীন কালের উৎসবগুলো এবং আধুনিক দিনের সভা ও সম্মেলনগুলো উপকারজনক বলে প্রমাণিত হয়?

১১ যিহোবার সংগঠন সেই সময় আমাদের সর্বোত্তম মঙ্গলের জন্য কাজ করে, যখন এটা আমাদের প্রেরিত পৌলের এই পরামর্শে মনোযোগ দেওয়ার জোরালো পরামর্শ দেয়: “আইস, আমরা পরস্পর মনোযোগ করি,  যেন প্রেম ও সৎক্রিয়ার সম্বন্ধে পরস্পরকে উদ্দীপিত করিয়া তুলিতে পারি; এবং আপনারা সমাজে সভাস্থ হওয়া পরিত্যাগ না করি—যেমন কাহারও কাহারও অভ্যাস—বরং পরস্পরকে চেতনা দিই; আর তোমরা সেই দিন যত অধিক সন্নিকট হইতে দেখিতেছ, ততই যেন অধিক এ বিষয়ে তৎপর হই।” (ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫) বার্ষিক উৎসব এবং উপাসনার অন্যান্য সমাবেশ ইস্রায়েলীয়দের আধ্যাত্মিকভাবে গড়ে তুলেছিল। এ ছাড়া, এই উপলক্ষ্যগুলোতে আনন্দ করা হতো, যেমন নহিমিয়ের দিনে কুটীরোৎসবের সময় করা হয়েছিল। (যাত্রা. ২৩:১৫, ১৬; নহি. ৮:৯-১৮) আমাদের সভা এবং সম্মেলনগুলো থেকেও আমরা একই উপকার লাভ করি। আসুন আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য এবং সুখের জন্য এই ব্যবস্থাগুলো থেকে পূর্ণ উপকার লাভ করি।—তীত ২:২.

১২. রাজ্যের প্রচার কাজকে আমাদের কীভাবে দেখা উচিত?

১২ ঈশ্বরের সংগঠনের সদস্য হিসেবে আমাদের ‘ঈশ্বরের সুসমাচারের যাজকত্ব করার [‘পবিত্র ভূমিকা অনুশীলন করার,’ জুবিলী বাইবেল]’ সুযোগ রয়েছে। (রোমীয় ১৫:১৬) এই “পবিত্র ভূমিকা” বা কাজে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আমরা ‘পবিত্রতম’ যিহোবার “সহকার্য্যকারী” হয়ে উঠি। (১ করি. ৩:৯; ১ পিতর ১:১৫) সুসমাচার প্রচার করা যিহোবার নামকে পবিত্রীকৃত করে। আর আস্থা সহকারে ‘পরম ধন্য ঈশ্বরের গৌরবের সুসমাচারের’ দায়িত্ব লাভ করা নিশ্চিতভাবেই এক অমূল্য সুযোগ।—১ তীম. ১:১১.

১৩. উত্তম আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য এবং জীবন কীসের ওপর নির্ভর করে?

১৩ ঈশ্বর চান, আমরা যেন তাঁর প্রতি আসক্ত থাকার এবং তাঁর সংগঠনকে বিভিন্ন কাজে সমর্থন করার মাধ্যমে এক উত্তম আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য বজায় রাখি। মোশি ইস্রায়েলীয়দের বলেছিলেন: “আমি অদ্য তোমাদের বিরুদ্ধে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীকে সাক্ষী করিয়া বলিতেছি যে, আমি তোমার সম্মুখে জীবন ও মৃত্যু, আশীর্ব্বাদ ও শাপ রাখিলাম। অতএব জীবন মনোনীত কর, যেন তুমি সবংশে বাঁচিতে পার; তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুকে প্রেম কর, তাঁহার রবে অবধান কর, ও তাঁহাতে আসক্ত হও; কেননা তিনিই তোমার জীবন ও তোমার দীর্ঘ পরমায়ুস্বরূপ; তাহা হইলে সদাপ্রভু তোমার পিতৃপুরুষদিগকে, অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবকে, যে দেশ দিতে দিব্য করিয়াছিলেন, সেই দেশে তুমি বাস করিতে পাইবে।” (দ্বিতীয়. ৩০:১৯, ২০) যিহোবার ইচ্ছা পালন করার, তাঁকে প্রেম করার, বাধ্যতার সঙ্গে তাঁর কথা শোনার এবং তাঁর প্রতি আসক্ত থাকার ওপর আমাদের জীবন নির্ভর করে।

১৪. ঈশ্বরের সংগঠনের দৃশ্যত অংশ সম্বন্ধে একজন ভাই কেমন বোধ করেছিলেন?

১৪ ভাই প্রাইস হিউজ, যিনি ঈশ্বরের প্রতি আসক্ত ছিলেন এবং তাঁর সংগঠনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছিলেন, তিনি একবার লিখেছিলেন: “১৯১৪ সালের ঠিক আগে, সেই প্রাথমিক দিনগুলো থেকে আমি যিহোবার উদ্দেশ্য সম্বন্ধীয় জ্ঞান নিয়ে জীবনযাপন করেছি বলে আমি খুবই কৃতজ্ঞ . . . যদি কোনো বিষয় আমার কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে সেটা হল যিহোবার দৃশ্যত সংগঠনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। আমার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে যে, মানবযুক্তির ওপর নির্ভর করা কত অযৌক্তিক। একবার এই বিষয়টা বোঝার পর, আমি বিশ্বস্ত সংগঠনের সঙ্গে এগিয়ে চলার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হই। অন্য আর কীভাবেই-বা একজন ব্যক্তি যিহোবার অনুগ্রহ এবং আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন?”

ঈশ্বরের সংগঠনের সঙ্গে এগিয়ে চলুন

১৫. বাইবেলের বিভিন্ন বিষয় সম্বন্ধে আমাদের বোধগম্যতায় রদবদল করা হলে, সেটাকে আমাদের যেভাবে দেখা উচিত, সেই সম্বন্ধে এক শাস্ত্রীয় উদাহরণ দিন।

১৫ ব্যক্তি-বিশেষ হিসেবে আমরা যদি যিহোবার অনুগ্রহ এবং আশীর্বাদ পেতে চাই, তাহলে আমাদের অবশ্যই তাঁর সংগঠনকে সমর্থন করতে এবং শাস্ত্রীয় বোধগম্যতা সম্বন্ধে যে-রদবদলগুলো করা হয়, সেগুলো মেনে নিতে হবে। এটা বিবেচনা করুন: যিশুর মৃত্যুর পর হাজার হাজার যিহুদি খ্রিস্টানের কাছে ব্যবস্থা থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন বলে মনে হয়েছিল, কারণ তারা উদ্যোগের সঙ্গে ব্যবস্থা পালন করত। (প্রেরিত ২১:১৭-২০) কিন্তু, ইব্রীয়দের উদ্দেশে লেখা পৌলের চিঠির সাহায্যে, তারা এই বাস্তব বিষয়টা  মেনে নিয়েছিল যে, তারা “ব্যবস্থানুসারে উৎসৃষ্ট” বলির মাধ্যমে নয় বরং “যীশু খ্রীষ্টের দেহ একবার উৎসর্গ করণ দ্বারা” পবিত্রীকৃত হয়েছে। (ইব্রীয় ১০:৫-১০) নিঃসন্দেহে, সেই সময় যিহুদি পটভূমি থেকে আসা অধিকাংশ খ্রিস্টান তাদের চিন্তাভাবনাকে রদবদল করেছিল এবং আধ্যাত্মিকভাবে এগিয়ে চলেছিল। ঈশ্বরের বাক্যের বোধগম্যতায় অথবা আমাদের প্রচার কাজে যখন রদবদল করা হয়, তখন আমাদেরও অধ্যবসায়ের সঙ্গে অধ্যয়ন করতে এবং ইচ্ছুক মনোভাবাপন্ন হতে হবে।

১৬. (ক) নতুন জগতে কোন আশীর্বাদগুলো জীবনকে উপভোগ্য করে তুলবে? (খ) নতুন জগতে আপনি কোন বিষয়টা দেখার জন্য অপেক্ষা করে আছেন?

১৬ যিহোবা এবং তাঁর সংগঠনের প্রতি অনুগত থাকে এমন সকলে ক্রমাগত তাঁর আশীর্বাদ লাভ করবে। বিশ্বস্ত অভিষিক্ত ব্যক্তিরা স্বর্গে খ্রিস্টের সহদায়াদ হিসেবে মহৎ সুযোগ লাভ করবে। (রোমীয় ৮:১৬, ১৭) আমাদের যদি পার্থিব আশা থাকে, তাহলে পরমদেশে জীবন কত আনন্দদায়ক হবে, তা কল্পনা করে দেখুন। যিহোবার সংগঠনের অংশ হিসেবে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত নতুন জগৎ সম্বন্ধে অন্যদের বলার আনন্দ এখন আমাদের রয়েছে! (২ পিতর ৩:১৩) গীতসংহিতা ৩৭:১১ পদ বলে, “মৃদুশীলেরা দেশের” বা পৃথিবীর “অধিকারী হইবে, এবং শান্তির বাহুল্যে আমোদ করিবে।” লোকেরা “গৃহ নির্ম্মাণ করিয়া তাহার মধ্যে বসতি করিবে” এবং “আপন আপন হস্তের শ্রমফল” ভোগ করবে। (যিশা. ৬৫:২১, ২২) সেখানে কোনো চাতুরী বা অন্যায় আচরণ, দারিদ্র্য এবং ক্ষুধা থাকবে না। (গীত. ৭২:১৩-১৬) মহতী বাবিল আর কখনো কাউকে ভ্রান্ত করতে পারবে না কারণ তার অস্তিত্ব থাকবে না। (প্রকা. ১৮:৮, ২১) মৃতেরা পুনরুত্থিত হবে এবং তাদেরকে চিরকাল বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে। (যিশা. ২৫:৮; প্রেরিত ২৪:১৫) যিহোবার কাছে নিজেদের উৎসর্গ করেছে এমন লক্ষ লক্ষ ব্যক্তির জন্য কত রোমাঞ্চকর প্রত্যাশাই-না রয়েছে! আমরা যদি চাই যে, এই শাস্ত্রীয় প্রতিজ্ঞাগুলো ব্যক্তি-বিশেষ হিসেবে আমাদের বেলায় সত্য হোক, তাহলে আমাদের অবশ্যই আধ্যাত্মিক উন্নতি করে চলতে, ঈশ্বরের সংগঠনের সঙ্গে এগিয়ে চলতে এবং সবসময় এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

আপনি কি নিজেকে পরমদেশে দেখতে পারেন? (১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৭. যিহোবার উপাসনা এবং তাঁর সংগঠনের প্রতি আমাদের মনোভাব কেমন হওয়া উচিত?

১৭ এই বিধিব্যবস্থার শেষ যেহেতু নিকটে, তাই আসুন আমরা বিশ্বাসে দৃঢ় থাকি এবং উপাসনার জন্য ঈশ্বরের ব্যবস্থার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। এটাই ছিল গীতরচক দায়ূদের মনোভাব, যিনি গেয়েছিলেন: “সদাপ্রভুর কাছে আমি একটী বিষয় যাচ্ঞা করিয়াছি, তাহারই অন্বেষণ করিব, যেন জীবনের সমুদয় দিন সদাপ্রভুর গৃহে বাস করি, সদাপ্রভুর সৌন্দর্য্য দেখিবার ও তাঁহার মন্দিরে অনুসন্ধান করিবার জন্য।” (গীত. ২৭:৪) আমরা প্রত্যেকে যেন ঈশ্বরের প্রতি আসক্ত থাকি, তাঁর লোকেদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলি এবং যিহোবার সংগঠনের সঙ্গে ক্রমাগত এগিয়ে চলি।