সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  মে ২০১৪

‘আমার খাদ্য এই যেন ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করি’

‘আমার খাদ্য এই যেন ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করি’

কোন বিষয়টা আপনাকে অনেক আনন্দ দেয়? কোনো সম্পর্ক যেমন, বিয়ে, পরিবার গড়ে তোলা অথবা বন্ধুত্ব বজায় রাখা? আপনি হয়তো প্রিয়জনদের সঙ্গে খাবার খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু, যিহোবার দাস হিসেবে ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করা, তাঁর বাক্য অধ্যয়ন করা এবং সুসমাচার প্রচার করা কি বিশেষভাবে পরিতৃপ্তিদায়ক নয়?

সৃষ্টিকর্তার প্রতি একটা প্রশংসা গীতে, প্রাচীন ইস্রায়েলের রাজা দায়ূদ গেয়েছিলেন: “হে আমার ঈশ্বর, তোমার অভীষ্ট সাধনে আমি প্রীত, আর তোমার ব্যবস্থা আমার অন্তরে আছে।” (গীত. ৪০:৮) জীবনে কষ্ট এবং চাপ ভোগ করা সত্ত্বেও, দায়ূদ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে প্রকৃতই আনন্দিত ছিলেন। অবশ্য, কেবল দায়ূদই যিহোবার একমাত্র উপাসক নন, যিনি সত্য ঈশ্বরের সেবা করে আনন্দ লাভ করেছিলেন।

প্রেরিত পৌল গীতসংহিতা ৪০:৮ পদের কথাগুলো মশীহ বা খ্রিস্টের প্রতি প্রয়োগ করেছিলেন। পৌল লিখেছিলেন: “খ্রীষ্ট জগতে প্রবেশ করিবার সময়ে বলেন, ‘তুমি যজ্ঞ ও নৈবেদ্য ইচ্ছা কর নাই, কিন্তু আমার জন্য দেহ রচনা করিয়াছ; হোমে ও পাপার্থক বলিদানে তুমি প্রীত হও নাই। তখন আমি কহিলাম, দেখ, আমি আসিয়াছি,—গ্রন্থখানিতে আমার বিষয় লিখিত আছে—হে ঈশ্বর, যেন তোমার ইচ্ছা পালন করি।’”—ইব্রীয় ১০:৫-৭.

পৃথিবীতে থাকাকালীন যিশু সৃষ্টি দেখে, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মেলামেশা করে এবং অন্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে আনন্দ লাভ করেছিলেন। (মথি ৬:২৬-২৯; যোহন ২:১, ২; ১২:১, ২) কিন্তু, তাঁর প্রধান কাজ এবং সবচেয়ে বড়ো আনন্দের বিষয় ছিল তাঁর স্বর্গীয় পিতার ইচ্ছা পালন করা। বাস্তবিকপক্ষে, যিশু বলেছিলেন: “আমার খাদ্য এই, যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, যেন তাঁহার ইচ্ছা পালন করি ও তাঁহার কার্য্য সাধন করি।” (যোহন ৪:৩৪; ৬:৩৮) যিশুর শিষ্যরা তাদের প্রভুর কাছ থেকে প্রকৃত সুখের রহস্য সম্বন্ধে শিখতে পেরেছিল। অতি আনন্দের সঙ্গে তারা স্বেচ্ছায় এবং উৎসুকভাবে অন্যদেরকে রাজ্যের সুসমাচার জানিয়েছিল।—লূক ১০:১, ৮, ৯, ১৭.

‘তোমরা গিয়া শিষ্য কর’

যিশু তাঁর অনুসারীদের আজ্ঞা দিয়েছিলেন: “তোমরা গিয়া সমুদয় জাতিকে শিষ্য কর; পিতার ও পুত্রের ও পবিত্র আত্মার নামে তাহাদিগকে বাপ্তাইজ কর; আমি তোমাদিগকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছি সে সমস্ত পালন করিতে তাহাদিগকে শিক্ষা দেও। আর দেখ, আমিই যুগান্ত পর্য্যন্ত প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি।” (মথি ২৮:১৯, ২০) এই কাজের অন্তর্ভুক্ত, লোকেদের পাওয়া যায় এমন সমস্ত জায়গায় প্রচার করা, যারা আগ্রহ দেখায়, তাদের সঙ্গে পুনর্সাক্ষাৎ করা এবং এই ধরনের ব্যক্তিদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করা। এই কাজ করা প্রচুর আনন্দের এক উৎস হতে পারে।

লোকেদের কাছ থেকে আসা যেকোনো উদাসীনতা সত্ত্বেও, প্রেম আমাদেরকে প্রচার কাজ চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে

 লোকেরা আমাদের বার্তার প্রতি আগ্রহ দেখাক বা না-ই দেখাক, পরিচর্যায় আনন্দ খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আমাদের মনোভাব এক প্রধান ভূমিকা পালন করে। যদিও মাঝে মাঝে আমরা হয়তো লোকেদের মধ্যে উদাসীনতা দেখি, কিন্তু তারপরও কেন আমরা ক্রমাগত সুসমাচার ঘোষণা করি? কারণ আমরা উপলব্ধি করি যে, রাজ্যের প্রচার এবং শিষ্য তৈরির কাজে অংশ নেওয়া, ঈশ্বর ও আমাদের প্রতিবেশীর প্রতি আমাদের প্রেমের এক প্রকাশ। সত্যিই, আমাদের নিজেদের ও সেইসঙ্গে আমাদের প্রতিবেশীদের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। (যিহি. ৩:১৭-২১; ১ তীম. ৪:১৬) আসুন আমরা কয়েকটা বিষয় বিবেচনা করি, যেগুলো আমাদের অনেক সহকর্মীকে কঠিন এলাকাগুলোতে পরিচর্যায় উদ্যোগ বজায় রাখতে এবং তা পুনর্জীবিত করতে সাহায্য করেছে।

প্রতিটা সুযোগকে কাজে লাগান

আমাদের পরিচর্যায় উপযুক্ত প্রশ্ন ব্যবহার করা প্রায়ই উত্তম ফল নিয়ে আসে। একদিন সকালে এমিলিয়া একজন ভদ্রলোককে পার্কে বসে খবরের কাগজ পড়তে দেখেন। তিনি তার কাছে যান এবং জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি কোনো সুসংবাদ পড়েছেন কি না। ভদ্রলোক যখন উত্তর দেন, না, তখন এমিলিয়া বলেন: “আমি ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে সুসংবাদ নিয়ে এসেছি।” এটা সেই ব্যক্তির আগ্রহ জাগিয়ে তোলে এবং তিনি বাইবেল অধ্যয়ন করতে রাজি হন। আসলে, এমিলিয়া সেই পার্কে তিনটে বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করতে পেরেছিলেন।

জেনিস তার কাজের জায়গাকে প্রচারের এক এলাকা করে তুলেছিলেন। একজন নিরাপত্তা কর্মী এবং তার সহকর্মী যখন প্রহরীদুর্গ পত্রিকায় প্রকাশিত একটা প্রবন্ধের প্রতি আগ্রহ দেখায়, তখন জেনিস তাদেরকে নিয়মিতভাবে পত্রিকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। আরেকজন সহকর্মীর ক্ষেত্রেও তিনি একই বিষয় করেন, যিনি প্রহরীদুর্গ এবং সচেতন থাক! পত্রিকায় আলোচ্য বিভিন্ন বিষয় পড়ে রোমাঞ্চিত হয়েছিলেন। এতে অন্য একজন কর্মীও পত্রিকার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। জেনিস বলেন, “যিহোবার কাছ থেকে কী এক আশীর্বাদ!” তিনি অবশেষে কাজের জায়গায় ১১ জন ব্যক্তির সঙ্গে পত্রিকা রুট চালু করতে পেরেছিলেন।

ইতিবাচক হোন

একজন ভ্রমণ অধ্যক্ষ সুপারিশ করেছেন, ঘরে ঘরে পরিচর্যার সময় প্রকাশকরা যেন একজন গৃহকর্তাকে কেবল এই কথা বলেই আলোচনা শেষ করে না দেয় যে, তারা অন্য আরেক দিন আবার আসবে। এর পরিবর্তে, তারা একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করতে পারে: “আমি কি আপনাকে দেখাতে পারি, কীভাবে একটা বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করা হয়?” অথবা “আমি কোন দিন বা সময়ে আসলে আপনার জন্য আলোচনা করা সুবিধাজনক হবে?” ভ্রমণ অধ্যক্ষ বলেন যে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করার মাধ্যমে তিনি আগে যে-মণ্ডলীতে সেবা করতেন, সেই মণ্ডলীর ভাই-বোনেরা এক সপ্তাহে ৪৪টা বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করতে পেরেছিল।

অতিসত্বর, এমনকী প্রথম সাক্ষাতের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পুনর্সাক্ষাৎ করা যথেষ্ট কার্যকরী হতে পারে। কেন? কারণ তা করা দেখায় যে, সৎহৃদয়ের ব্যক্তিদেরকে বাইবেল বুঝতে সাহায্য করার জন্য আমাদের প্রকৃত আগ্রহ রয়েছে। একজন মহিলাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন তিনি বাইবেল অধ্যয়ন করতে রাজি হয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, “আমার অধ্যয়ন শুরু করার কারণ হল, তারা আমার প্রতি আন্তরিক আগ্রহ ও প্রেম দেখিয়েছিল।”

আপনি হয়তো গৃহকর্তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, “আমি কি আপনাকে দেখাতে পারি, কীভাবে একটা বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করা হয়?”

 অগ্রগামী পরিচর্যা বিদ্যালয়-এ যোগ দেওয়ার কিছু সময় পর, মাদায়ি ১৫টা বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করতে পেরেছিলেন এবং আরও ৫টা অধ্যয়ন অন্য প্রকাশকদের দিয়েছিলেন। তার বেশ কয়েক জন বাইবেল ছাত্র নিয়মিতভাবে আমাদের সভাগুলোতে আসতে শুরু করে। কোন বিষয়টা মাদায়িকে এত এত অধ্যয়ন শুরু করতে সাহায্য করেছে? স্কুল থেকে তিনি এই বিষয়টা শিখতে পেরেছিলেন যে, শুরুতে প্রকৃতই আগ্রহ দেখিয়েছে এমন ব্যক্তিদের না পাওয়া পর্যন্ত বার বার তাদের কাছে ফিরে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আরেকজন সাক্ষি, যিনি অনেক ব্যক্তিকে বাইবেলের সত্য শিখতে সাহায্য করেছেন, তিনি বলেন, “আমি শিখেছি, বার বার পুনর্সাক্ষাৎ করাই হচ্ছে সেই লোকেদের সাহায্য করার প্রধান উপায়, যারা যিহোবাকে জানতে চায়।”

অবিলম্বে পুনর্সাক্ষাৎ করা প্রকাশ করে যে, যারা বাইবেল বুঝতে চায়, তাদের প্রতি আমাদের প্রকৃত আগ্রহ রয়েছে

পুনর্সাক্ষাৎ করা এবং বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করার জন্য অধ্যবসায়ী প্রচেষ্টার প্রয়োজন। কিন্তু, এতে যে-পুরস্কার লাভ করা যায়, তা সমস্ত প্রচেষ্টাকে সার্থক করে তোলে। রাজ্যের প্রচার কাজ করে চলার মাধ্যমে আমরা অন্যদেরকে “সত্যের তত্ত্বজ্ঞান” বা সঠিক জ্ঞান ‘পর্য্যন্ত পঁহুছানোর’ জন্য সাহায্য করতে পারি। (১ তীম. ২:৩, ৪) আমাদের জন্য এটা অতুলনীয় পরিতৃপ্তি এবং আনন্দ নিয়ে আসতে পারে।