সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  এপ্রিল ২০১৪

আপনি কি “যিনি অদৃশ্য, তাঁহাকে” দেখতে পান?

আপনি কি “যিনি অদৃশ্য, তাঁহাকে” দেখতে পান?

“তিনি [মোশি] . . . যিনি অদৃশ্য, তাঁহাকে যেন দেখিয়াই স্থির থাকিলেন।”—ইব্রীয় ১১:২৭.

১, ২. (ক) ব্যাখ্যা করুন যে, কেন মোশি ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন বলে মনে হয়েছিল। (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।) (খ) কেন মোশি রাজার ক্রোধ সত্ত্বেও ভয় পাননি?

ফরৌণ ছিলেন একজন কঠোর শাসক এবং মিশরীয়দের কাছে একজন দেবতার মতো। তাদের চোখে তিনি “পৃথিবীর অন্য সমস্ত প্রাণীর চেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রজ্ঞাবান এবং ক্ষমতাবান ছিলেন,” মিশর যখন প্রাচ্যে শাসন করত (ইংরেজি) নামক বই বলে। তার প্রজাদের মধ্যে ভয় জাগিয়ে তোলার জন্য ফরৌণ একটা মুকুট পরতেন, যেটাতে আক্রমণ করতে উদ্যত এমন একটা কেউটিয়া সাপের চিত্র রয়েছে আর এটা মনে করিয়ে দিত যে, রাজার শত্রুদের শীঘ্র ধবংস করা হবে। তাহলে কল্পনা করুন, সেই সময় মোশি কেমন অনুভব করেছিলেন, যখন যিহোবা তাকে এই কথাগুলো বলেছিলেন: “আমি তোমাকে ফরৌণের নিকটে প্রেরণ করি, তুমি মিসর হইতে আমার প্রজা ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে বাহির করিও।”—যাত্রা. ৩:১০.

মোশি মিশরে গিয়েছিলেন, ঈশ্বরের বার্তা ঘোষণা করেছিলেন এবং ফরৌণের ক্রোধের শিকার হয়েছিলেন। সেই দেশের ওপর নয়টা আঘাত আসার পর, ফরৌণ মোশিকে সাবধান করে দিয়েছিলেন: “সাবধান, আমার মুখ আর কখনও দেখিও না; কেননা যে দিন আমার মুখ দেখিবে, সেই দিন মরিবে।” (যাত্রা. ১০:২৮) ফরৌণের সামনে থেকে যাওয়ার আগে মোশি ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন যে, রাজার প্রথমজাত পুত্র মারা যাবে। (যাত্রা. ১১:৪-৮) অবশেষে, মোশি প্রত্যেক ইস্রায়েলীয় পরিবারকে একটা ছাগ অথবা মেষ, যা মিশরীয় দেবতা রা-এর উদ্দেশে এক  পবিত্র পশু ছিল, তা বধ করে এর রক্ত তাদের দরজায় লাগিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। (যাত্রা. ১২:৫-৭) ফরৌণ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবেন? মোশি ভয় পাননি। কেন? বিশ্বাস দেখিয়ে তিনি যিহোবার বাধ্য হয়েছিলেন, “রাজার কোপ হইতে ভীত হন নাই, কারণ যিনি অদৃশ্য, তাঁহাকে যেন দেখিয়াই স্থির থাকিলেন।”—পড়ুন, ইব্রীয় ১১:২৭, ২৮.

৩. ‘যিনি অদৃশ্য, তাঁহার’ ওপর মোশির বিশ্বাস সম্বন্ধে আমরা কী পরীক্ষা করব?

আপনার বিশ্বাস কি এতটাই দৃঢ় যে আপনি ‘ঈশ্বরকে দর্শন’ করতে পারেন? (মথি ৫:৮) “যিনি অদৃশ্য, তাঁহাকে” দেখতে সমর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকে আরও জোরালো করার জন্য আসুন আমরা মোশির উদাহরণ বিবেচনা করি। কীভাবে যিহোবার প্রতি তার বিশ্বাস তাকে লোকভয় থেকে রক্ষা করেছিল? কীভাবে তিনি ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাগুলোর ওপর বিশ্বাস দেখিয়েছিলেন? আর “যিনি অদৃশ্য, তাঁহাকে” দেখতে পারা কীভাবে মোশিকে তিনি এবং তার লোকেরা যখন বিপদের মুখে পড়েছিলেন, তখন শক্তিশালী করেছিল?

তিনি “রাজার কোপ হইতে” ভীত হননি

৪. আক্ষরিক চোখে, ফরৌণের সামনে মোশির অবস্থান কেমন ছিল?

আক্ষরিক চোখে মোশি ফরৌণের সমকক্ষ ছিলেন না। মোশির জীবন, মঙ্গল এবং ভবিষ্যৎ ফরৌণের হাতে রয়েছে বলে মনে হয়েছিল। মোশি নিজেও যিহোবাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: “আমি কে, যে ফরৌণের নিকটে যাই, ও মিসর হইতে ইস্রায়েল-সন্তানদিগকে বাহির করি?” (যাত্রা. ৩:১১) প্রায় ৪০ বছর আগে, মোশি একজন পলাতক হিসেবে মিশর থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, ‘আমার জন্য মিশরে ফিরে যাওয়া এবং রাজার ক্রোধ জাগিয়ে তোলা কি আসলেই বিজ্ঞতার কাজ হবে?’

৫, ৬. কোন বিষয়টা মোশিকে ফরৌণকে নয় বরং যিহোবাকে ভয় পেতে সাহায্য করেছিল?

মিশরে ফিরে আসার আগে, ঈশ্বর মোশিকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক নীতি সম্বন্ধে শিক্ষা দিয়েছিলেন, যে-নীতিটা মোশি পরবর্তী সময়ে ইয়োব বইয়ে লিপিবদ্ধ করেছিলেন: “প্রভুর [ঈশ্বরের] ভয়ই প্রজ্ঞা।” (ইয়োব ২৮:২৮) এই ধরনের ভয় অর্জন করার এবং বিজ্ঞতার সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সাহায্য করার জন্য যিহোবা মানুষ এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের মধ্যে এক বৈসাদৃশ্য তুলে ধরেছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন: “মনুষ্যের মুখ কে নির্ম্মাণ করিয়াছে? আর বোবা, বধির, মুক্তচক্ষু বা অন্ধকে কে নির্ম্মাণ করে? আমি সদাপ্রভুই কি করি না?”—যাত্রা. ৪:১১.

শিক্ষাটা কী ছিল? মোশির ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি যিহোবার দ্বারা প্রেরিত, যিনি মোশিকে ফরৌণের কাছে ঈশ্বরের বার্তা প্রকাশ করার জন্য যা-কিছু প্রয়োজন, তা-ই প্রদান করবেন। এ ছাড়া, ফরৌণ যিহোবার সমকক্ষ নন। সর্বোপরি, মিশরীয় শাসনাধীনে ঈশ্বরের দাসেরা যে এই প্রথমবারই বিপদের মুখোমুখি হয়েছে এমন নয়। মোশি হয়তো এটা নিয়ে ধ্যান করেছিলেন যে, কীভাবে যিহোবা অতীতের ফরৌণদের শাসন আমলে অব্রাহাম, যোষেফ এবং এমনকী মোশিকেও সুরক্ষা করেছিলেন। (আদি. ১২:১৭-১৯; ৪১:১৪, ৩৯-৪১; যাত্রা. ১:২২–২:১০) ‘যিনি অদৃশ্য, তাঁহার’ অর্থাৎ যিহোবার ওপর বিশ্বাস নিয়ে মোশি সাহসের সঙ্গে ফরৌণের সামনে গিয়েছিলেন এবং যিহোবা মোশিকে যা বলতে বলেছিলেন, তার প্রতিটা বাক্য বলেছিলেন।

৭. কীভাবে যিহোবার ওপর বিশ্বাস একজন বোনকে সুরক্ষা করেছিল?

যিহোবার ওপর বিশ্বাস এলা নামে একজন বোনকে লোকভয়ের কাছে নতিস্বীকার করা থেকে সুরক্ষা করেছিল। ১৯৪৯ সালে, এস্টোনিয়ায় এলাকে কেজিবি (সোভিয়েত রাষ্ট্র নিরাপত্তা কমিটি) গ্রেপ্তার করেছিল, তার কাপড় টেনে খুলে ফেলেছিল এবং যুবক পুলিশ কর্মকর্তারা দীর্ঘসময় ধরে অশ্লীলভাবে তার দিকে তাকিয়েছিল। “আমার অনেক লজ্জা লাগছিল,” এলা বলেছিলেন। “কিন্তু, যিহোবার কাছে প্রার্থনা করার পর, আমি শান্তি অনুভব করেছিলাম।” এরপর, এলাকে তিন দিনের জন্য নিঃসঙ্গ কারাবাস দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন: “কর্মকর্তারা চিৎকার করে বলেছিল: ‘আমরা এমন ব্যবস্থা করছি, যাতে এস্টোনিয়াতে আর এমনকী যিহোবার নামও স্মরণে না থাকে! তোমাকে একটা ক্যাম্পে পাঠানো হবে এবং অন্যদের সাইবেরিয়াতে!’ বিদ্রূপ করে তারা আরও বলেছিল, ‘তোমার যিহোবা এখন কোথায়?’” এলা কি মানুষকে ভয়  পাবে, না কি যিহোবার ওপর নির্ভর করবে? তাকে যখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, তখন তিনি নির্ভয়ে তার বিদ্রূপকারীদের বলেছিলেন: “আমি ইতিমধ্যেই এটা নিয়ে অনেক ভেবে দেখেছি আর আমি মুক্তি লাভ করে ঈশ্বরের অনুমোদন হারানোর চেয়ে বরং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখে এই জেলেই থাকতে চাই।” এলার কাছে যিহোবা তার সামনেই উপস্থিত সেই মানুষদের মতো একজন বাস্তব ব্যক্তি ছিলেন। তার বিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি তার নীতিনিষ্ঠা বজায় রেখেছিলেন।

৮, ৯. (ক) লোকভয়ের প্রতিষেধক কী? (খ) আপনি যদি লোকভয়ের কাছে নতিস্বীকার করতে প্রলোভিত হন, তাহলে কার প্রতি আপনার মনোযোগ দেওয়া উচিত?

যিহোবার ওপর বিশ্বাস আপনাকে ভয় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। ক্ষমতাবান কর্মকর্তারা যদি ঈশ্বরকে উপাসনা করার ব্যাপারে আপনার স্বাধীনতার ওপর সীমা আরোপ করে, তাহলে মনে হতে পারে যে, আপনার জীবন, মঙ্গল এবং ভবিষ্যৎ মানুষের হাতে রয়েছে। আপনি হয়তো এমনকী ভাবতে শুরু করতে পারেন, যিহোবাকে সেবা করে চলা এবং কর্তৃপক্ষের ক্রোধ জাগিয়ে তোলা বিজ্ঞতার কাজ হবে কি না। মনে রাখবেন: লোকভয়ের প্রতিষেধক হচ্ছে ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস। (পড়ুন, হিতোপদেশ ২৯:২৫.) যিহোবা জিজ্ঞেস করেন: “তুমি কে যে, মর্ত্ত্যকে ভয় করিতেছ, সে ত মরিয়া যাইবে; এবং মনুষ্য-সন্তানকে ভয় করিতেছ, সে ত তৃণের ন্যায় হইয়া পড়িবে।”—যিশা. ৫১:১২, ১৩.

আপনার সর্বশক্তিমান পিতার ওপর মনোযোগ দিন। যারা অন্যায্য শাসকদের অধীনে কষ্টভোগ করে, তাদের প্রতি যিহোবার দৃষ্টি আছে, তাদের জন্য তিনি সমবেদনা অনুভব করেন এবং তাদের পক্ষে কাজ করেন। (যাত্রা. ৩:৭-১০) এমনকী আপনাকে যদি ক্ষমতাবান কর্মকর্তাদের সামনে আপনার বিশ্বাসের পক্ষসমর্থন করতে হয়, তাহলে ‘আপনি কিরূপে কি বলিবেন, সে বিষয়ে ভাবিত হইবেন না; কারণ আপনার যাহা বলিবার, তাহা সেই দণ্ডেই আপনাকে দান করা যাইবে।’ (মথি ১০:১৮-২০) মানব শাসকরা এবং কর্তৃপক্ষরা যিহোবার সমকক্ষ নয়। এখনই আপনার বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে আপনি যিহোবাকে এমন একজন বাস্তব ব্যক্তি হিসেবে দেখতে পারেন, যিনি আপনাকে সাহায্য করার জন্য উৎসুক।

তিনি ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন

১০. (ক) খ্রিস্টপূর্বাব্দ ১৫১৩ সালের নিশান মাসে, যিহোবা ইস্রায়েলীয়দের কোন নির্দেশনা দিয়েছিলেন? (খ) কেন মোশি ঈশ্বরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছিলেন?

১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ ১৫১৩ সালের নিশান মাসে, যিহোবা মোশি এবং হারোণকে বলেছিলেন যেন তারা ইস্রায়েলীয়দেরকে এই ব্যতিক্রম নির্দেশনা দেয়: একটা হৃষ্টপুষ্ট পুংমেষ অথবা ছাগ নিয়ে সেটা বধ করো এবং এর রক্ত দরজায় লেপন করো। (যাত্রা. ১২:৩-৭) মোশি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন? প্রেরিত পৌল পরবর্তী সময়ে তার সম্বন্ধে লিখেছিলেন: “বিশ্বাসে তিনি নিস্তারপর্ব্ব ও রক্তের প্রোক্ষণ স্থাপন করিলেন, যেন প্রথমজাতদের সংহারকর্ত্তা তাহাদিগকে স্পর্শ না করেন।” (ইব্রীয় ১১:২৮) মোশি জানতেন যে, যিহোবা নির্ভরযোগ্য আর তিনি মিশরের প্রথমজাতদের হত্যা করার ব্যাপারে যিহোবার প্রতিজ্ঞার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন।

১১. কেন মোশি অন্যদের সাবধান করেছিলেন?

১১ মোশির নিজের ছেলেরা ‘সংহারকর্ত্তার’ * কাছ থেকে অনেক দূরে মিদিয়নে ছিল। (যাত্রা. ১৮:১-৬) তা সত্ত্বেও, তিনি বাধ্যতার সঙ্গে অন্যান্য ইস্রায়েলীয় পরিবারকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যাদের প্রথমজাত পুত্ররা বিপদের মুখে ছিল। জীবন ঝুঁকির মুখে ছিল এবং মোশি তার সহমানবদের ভালোবাসতেন। “তখন,” বাইবেল বলে, “মোশি ইস্রায়েলের সমস্ত প্রাচীনবর্গকে ডাকাইয়া কহিলেন, . . . নিস্তারপর্ব্বীয় বলি হনন কর।”—যাত্রা. ১২:২১.

১২. যিহোবা আমাদেরকে কোন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা জানানোর নির্দেশনা দিয়েছেন?

১২ দূতদের নির্দেশনার অধীনে যিহোবার লোকেরা এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা জানাচ্ছে: “ঈশ্বরকে ভয় কর ও তাঁহাকে গৌরব প্রদান কর, কেননা তাঁহার বিচার-সময় উপস্থিত; যিনি স্বর্গ, পৃথিবী, সমুদ্র ও জলের উনুই সকল উৎপন্ন করিয়াছেন, তাঁহার ভজনা কর।” (প্রকা. ১৪:৭) সেই বার্তা জানানোর সময় এখনই। আমাদের প্রতিবেশীদেরকে মহতী বাবিল থেকে বের হয়ে আসার জন্য অবশ্যই সাবধান করতে হবে, যাতে তারা ‘উহার আঘাত সকল প্রাপ্ত না হয়।’ (প্রকা. ১৮:৪) “আরও মেষ” অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের সঙ্গে মিলে ঈশ্বরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন  লোকেদেরকে তাঁর সঙ্গে ‘সম্মিলিত হইবার’ জন্য অনুরোধ করে।—যোহন ১০:১৬; ২ করি. ৫:২০.

যিহোবার প্রতিজ্ঞাগুলোর ওপর বিশ্বাস সুসমাচার জানানোর বিষয়ে আপনার আকাঙ্ক্ষাকে বজায় রাখবে (১৩ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৩. কী সুসমাচার জানানোর বিষয়ে আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে গড়ে তুলবে?

১৩ আমরা এই বিষয়ে নিশ্চিত যে, “বিচার-সময়” সত্যিই এসে গিয়েছে। এ ছাড়া, আমাদের এই বিশ্বাস রয়েছে যে, যিহোবা আমাদের প্রচার এবং শিষ্য তৈরির কাজের গুরুত্বকে অতিরঞ্জিত করেন না। একটা দর্শনে প্রেরিত যোহন ‘দেখিয়াছিলেন, পৃথিবীর চারি কোণে চারি দূত দাঁড়াইয়া আছেন; তাঁহারা পৃথিবীর চারি বায়ু ধরিয়া রাখিতেছেন।’ (প্রকা. ৭:১) বিশ্বাসে আপনি কি সেই দূতদেরকে এই জগতের ওপর মহাক্লেশের ধবংসাত্মক বায়ু ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হিসেবে দেখতে পান? আপনি যদি বিশ্বাসের চোখ দিয়ে সেই দূতদের দেখতে পান, তাহলে আপনি দৃঢ়তার সঙ্গে সুসমাচার জানাতে পারবেন।

১৪. কী আমাদেরকে ‘দুষ্ট লোককে তাহার প্রাণরক্ষার্থে চেতনা দিবার জন্য তাহার কুপথের বিষয়ে’ সাবধান করতে অনুপ্রাণিত করে?

১৪ সত্য খ্রিস্টানরা ইতিমধ্যেই যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্ব উপভোগ করে এবং অনন্তজীবনের আশা পোষণ করে। কিন্তু, আমরা স্বীকার করি যে, ‘দুষ্ট লোককে তাহার প্রাণরক্ষার্থে চেতনা দিবার জন্য তাহার কুপথের বিষয়ে’ সাবধান করার দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের। (পড়ুন, যিহিষ্কেল ৩:১৭-১৯.) অবশ্য, আমরা কেবল রক্তপাতের দোষ এড়ানোর জন্য প্রচার করি না। আমরা যিহোবাকে এবং আমাদের প্রতিবেশীকে ভালোবাসি। প্রতিবেশীসুলভ শমরীয়ের নীতিগল্পে যিশু ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, প্রেম এবং করুণার অর্থ আসলে কী। আমরা হয়তো নিজেদের জিজ্ঞেস করতে পারি, ‘আমি কি সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য শমরীয়ের মতো “করুণাবিষ্ট হই”?’ যাই হোক, আমরা নীতিগল্পের সেই যাজক এবং লেবীয়ের মতো হতে চাইব না, অজুহাত দেখিয়ে “এক পার্শ্ব দিয়া” চলে যাব না। (লূক ১০:২৫-৩৭) ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাগুলোর ওপর বিশ্বাস এবং প্রতিবেশীদের প্রতি প্রেম আমাদেরকে সময় শেষ হওয়ার আগেই প্রচার কাজে পূর্ণরূপে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করবে।

 ‘লোকেরা লোহিত সমুদ্রের মধ্য দিয়া গমন করিল’

১৫. কেন ইস্রায়েলীয়রা মনে করেছিল যে, তারা ফাঁদে পড়ে গিয়েছে?

১৫ ‘যিনি অদৃশ্য, তাঁহার’ প্রতি মোশির বিশ্বাস তাকে সেই সময় সাহায্য করেছিল, যখন ইস্রায়েলীয়রা মিশর ছেড়ে চলে আসার পর বিপদের মুখে পড়েছিল। বাইবেল জানায়: “ইস্রায়েল-সন্তানেরা চক্ষু তুলিয়া চাহিল, আর দেখ, তাহাদের পশ্চাৎ পশ্চাৎ মিস্রীয়েরা আসিতেছে; তাই তাহারা অতিশয় ভীত হইল, আর ইস্রায়েল-সন্তানেরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে ক্রন্দন করিল।” (যাত্রা. ১৪:১০-১২) এই ভয়ংকর অবস্থা কী অপ্রত্যাশিত ছিল? একেবারেই না। যিহোবা ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন: “আমি ফরৌণের হৃদয় কঠিন করিব, আর সে তোমাদের পশ্চাৎ পশ্চাৎ ধাবমান হইবে, এবং আমি ফরৌণ ও তাহার সমস্ত সৈন্য দ্বারা গৌরবান্বিত হইব; আর মিস্রীয়েরা জানিতে পারিবে যে, আমিই সদাপ্রভু।” (যাত্রা. ১৪:৪) তবে, ইস্রায়েলীয়রা তাদের আক্ষরিক চোখ দিয়ে যা দেখা যাচ্ছিল, কেবল সেটাই দেখেছিল। তারা তাদের সামনে অনতিক্রম্য সূফসাগর, তাদের পিছনে ফরৌণের দ্রুতগামী যুদ্ধরথ এবং ৮০ বছর বয়সি মেষপালককে দেখেছিল, যিনি তাদেরকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন! তারা মনে করেছিল যে, তারা ফাঁদে পড়ে গিয়েছে।

১৬. কীভাবে বিশ্বাস সূফসাগরে মোশিকে শক্তিশালী করেছিল?

১৬ কিন্তু, মোশি বিচলিত হননি। কেন? কারণ তিনি বিশ্বাসের চোখ দিয়ে একটা সমুদ্র এবং সেনাবাহিনীর চেয়ে আরও শক্তিশালী কিছু দেখেছিলেন। তিনি ‘সদাপ্রভু যে নিস্তার করেন, তাহা দেখিতে’ পেয়েছিলেন এবং তিনি জানতেন যে, যিহোবা ইস্রায়েলীয়দের জন্য যুদ্ধ করবেন। (পড়ুন, যাত্রাপুস্তক ১৪:১৩, ১৪.) মোশির বিশ্বাস ঈশ্বরের লোকেদেরকে অনুপ্রাণিত করেছিল। “বিশ্বাসে লোকেরা শুষ্ক ভূমির ন্যায় লোহিত সমুদ্রের মধ্য দিয়া গমন করিল,” বাইবেল বলে, “কিন্তু মিস্রীয়গণ সেই চেষ্টা করিতে গিয়া কবলিত হইল।” (ইব্রীয় ১১:২৯) এরপর, “লোকেরা সদাপ্রভুকে ভয় করিল, এবং সদাপ্রভুতে ও তাঁহার দাস মোশিতে বিশ্বাস করিল।”—যাত্রা. ১৪:৩১.

১৭. কোন ভাবী ঘটনা আমাদের বিশ্বাসকে পরীক্ষায় ফেলবে?

১৭ শীঘ্র, আমাদের জীবন হয়তো বিপদের মুখে পড়বে। মহাক্লেশের চূড়ান্ত পর্যায়ে, এই জগতের সরকারগুলো সেই ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে বিধবস্ত এবং পুরোপুরি ধবংস করে দিতে পারবে, যেগুলো আমাদের চেয়েও বড়ো এবং অধিক। (প্রকা. ১৭:১৬) যিহোবা আমাদের দুর্বল অবস্থাকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, ‘অপ্রাচীর গ্রামপূর্ণ দেশ, প্রাচীরহীন স্থান; এবং তাহাদের অর্গল কি কবাট নাই।’ (যিহি. ৩৮:১০-১২, ১৪-১৬) আমাদের আক্ষরিক চোখ দিয়ে মনে হবে যেন আমাদের রক্ষা পাওয়ার কোনো আশা নেই। আপনি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবেন?

১৮. ব্যাখ্যা করুন যে, কেন আমরা মহাক্লেশের সময় দৃঢ় থাকতে পারি।

১৮ আমাদের ভয়ে বিচলিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কেন? কারণ ঈশ্বরের লোকেদের ওপর আসা সেই আক্রমণ সম্বন্ধে যিহোবা ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছেন। এ ছাড়া, তিনি এর পরিণতি সম্বন্ধেও ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন। “সেই দিন যখন গোগ ইস্রায়েল-দেশের বিরুদ্ধে আসিবে, তখন আমার কোপাগ্নি আমার নাসিকায় উঠিবে, ইহা প্রভু সদাপ্রভু বলেন। কারণ আমি নিজ অন্তর্জ্বালায় ও রোষানলে বলিয়াছি।” (যিহি. ৩৮:১৮-২৩) সেই সময় ঈশ্বর এমন সমস্ত ব্যক্তিকে ধবংস করে দেবেন, যারা যিহোবার লোকেদের ক্ষতি করতে চাইবে। “সদাপ্রভুর ঐ মহৎ ও ভয়ঙ্কর দিনের” পরিণতির ওপর আপনার বিশ্বাস আপনাকে ‘সদাপ্রভু যে নিস্তার করেন, তাহা দেখিতে’ এবং আপনার নীতিনিষ্ঠা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।—যোয়েল ২:৩১, ৩২.

১৯. (ক) যিহোবা এবং মোশির সঙ্গে সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ ছিল? (খ) আপনি যদি আপনার সমস্ত পথে যিহোবাকে স্বীকার করেন, তাহলে আপনি কোন আশীর্বাদ লাভ করবেন?

১৯ ‘যিনি অদৃশ্য, তাঁহাকে যেন দেখিয়াই স্থির থাকিবার’ মাধ্যমে সেই রোমাঞ্চকর ঘটনাগুলোর জন্য এখনই প্রস্তুত হোন! নিয়মিত অধ্যয়ন এবং প্রার্থনার মাধ্যমে যিহোবা ঈশ্বরের সঙ্গে আপনার বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করুন। যিহোবার সঙ্গে মোশির এইরকম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তিনি যিহোবার দ্বারা এতটা জোরালোভাবে ব্যবহৃত হয়েছিলেন যে, বাইবেল বলে যিহোবা মোশিকে “সম্মুখাসম্মুখি” জানতেন। (দ্বিতীয়. ৩৪:১০) মোশি একজন অসাধারণ ভাববাদী ছিলেন। আর বিশ্বাসের মাধ্যমে আপনিও যিহোবাকে এতটা অন্তরঙ্গভাবে জানতে পারেন, যেন আপনি আসলেই তাঁকে দেখতে পারছেন। আপনি যদি ‘আপনার সমস্ত পথে’ তাঁকে স্বীকার করেন, যেমনটা করার জন্য ঈশ্বরের বাক্য আপনাকে উৎসাহ দেয়, তাহলে ‘তিনি আপনার পথ সকল সরল করিবেন।’—হিতো. ৩:৬.

^ অনু. 11 স্পষ্টতই যিহোবা মিশরীয়দের ওপর বিচার নিয়ে আসার জন্য স্বর্গদূতদের পাঠিয়েছিলেন।—গীত. ৭৮:৪৯-৫১.