সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  এপ্রিল ২০১৪

মোশির বিশ্বাস অনুকরণ করুন

মোশির বিশ্বাস অনুকরণ করুন

“বিশ্বাসে মোশি বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে পর ফরৌণের কন্যার পুত্ত্র বলিয়া আখ্যাত হইতে অস্বীকার করিলেন।”—ইব্রীয় ১১:২৪.

১, ২. (ক) চল্লিশ বছর বয়সে মোশি কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।) (খ) কেন মোশি ঈশ্বরের লোকেদের সঙ্গে দুঃখভোগ করা বেছে নিয়েছিলেন?

মোশি জানতেন যে, মিশরে থাকলে তিনি কোন বিষয়গুলো লাভ করতে পারবেন। তিনি চোখের সামনে বিত্তবান লোকেদের বিশাল অট্টালিকা দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি রাজপরিবারে বাস করতেন। তিনি ‘মিস্রীয়দের সমস্ত বিদ্যায় শিক্ষিত হইয়াছিলেন’ আর এর অন্তর্ভুক্ত ছিল হয়তো কলাবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত এবং অন্যান্য বিজ্ঞান। (প্রেরিত ৭:২২) চাইলেই তিনি ধনসম্পদ, ক্ষমতা এবং বিশেষ সুযোগ লাভ করতে পারতেন, যেগুলো একজন সাধারণ মিশরীয়ের কাছে কেবল স্বপ্ন ছিল!

কিন্তু, তার বয়স যখন ৪০ বছর, তখন মোশি এমন একটা সিদ্ধান্ত নেন, যা হয়তো মিশরের সেই রাজপরিবারকে হতবাক করে দিয়েছিল, যারা তাকে দত্তক নিয়েছিল। তিনি এমনকী একজন সাধারণ মিশরীয়ের মতো এক “স্বাভাবিক” জীবনও বেছে নেননি বরং দাসদের মতো জীবনযাপন করা বেছে নিয়েছিলেন! কেন? কারণ মোশির বিশ্বাস ছিল। (পড়ুন, ইব্রীয় ১১:২৪-২৬.) বিশ্বাসের চোখ দিয়ে মোশি তার চারপাশের জগতের চেয়ে আরও বেশি কিছু দেখেছিলেন। একজন ধার্মিক ব্যক্তি হওয়ায় মোশির, “যিনি অদৃশ্য” সেই যিহোবার প্রতি এবং ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাগুলোর পরিপূর্ণতার ওপর বিশ্বাস ছিল।—ইব্রীয় ১১:২৭.

৩. এই প্রবন্ধে কোন তিনটে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে?

আমাদেরও আক্ষরিক চোখ দিয়ে যা দেখা যায়, তার চেয়েও বেশি কিছু দেখতে হবে। আমাদের “বিশ্বাসের লোক” হতে হবে। (ইব্রীয় ১০:৩৮, ৩৯) আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার জন্য আসুন আমরা ইব্রীয় ১১:২৪-২৬ পদে লিপিবদ্ধ মোশির কথাগুলো পরীক্ষা করে দেখি। তা করার সময় এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার  চেষ্টা করুন: কীভাবে বিশ্বাস মোশিকে মাংসের অভিলাষ প্রত্যাখ্যান করতে অনুপ্রাণিত করেছিল? তার ওপর যখন দুর্নাম নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন কীভাবে বিশ্বাস তাকে তার সেবার বিশেষ সুযোগকে মূল্যবান বলে গণ্য করতে সাহায্য করেছিল? আর কেন মোশি “পুরস্কারদানের প্রতি” দৃষ্টি রেখেছিলেন?

তিনি মাংসের অভিলাষ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন

৪. ‘পাপজাত সুখভোগ’ সম্বন্ধে মোশি কী বুঝতে পেরেছিলেন?

বিশ্বাসের চোখ দিয়ে মোশি বুঝতে পেরেছিলেন, ‘পাপজাত সুখভোগ’ ক্ষণস্থায়ী। অন্যেরা হয়তো এই যুক্তি দেখিয়েছিল, যদিও মিশর প্রতিমাপূজা এবং প্রেতচর্চার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল, কিন্তু এটা বিশ্বশক্তি হয়ে উঠেছিল আর অন্যদিকে যিহোবার লোকেরা দাস হিসেবে কষ্ট ভোগ করছিল! কিন্তু, মোশি জানতেন, ঈশ্বর বিভিন্ন বিষয়কে পরিবর্তন করে দিতে পারেন। যদিও আত্মপ্রিয় লোকেরা সমৃদ্ধি লাভ করছিল বলে মনে হয়েছিল কিন্তু মোশির এই বিশ্বাস ছিল যে, দুষ্টরা শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে তিনি “পাপজাত ক্ষণিক সুখভোগ” দ্বারা প্রলুব্ধ হননি।

৫. কী আমাদেরকে “পাপজাত ক্ষণিক সুখভোগ” প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে?

কীভাবে আপনি ‘পাপজাত ক্ষণিক সুখভোগকে’ প্রতিরোধ করতে পারেন? কখনো ভুলে যাবেন না, পাপপূর্ণ অভিলাষ ক্ষণস্থায়ী। বিশ্বাসের চোখ দিয়ে দেখুন যে, “জগৎ ও তাহার অভিলাষ বহিয়া যাইতেছে।” (১ যোহন ২:১৫-১৭) অনুতাপহীন পাপীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন। তারা ‘পিচ্ছিল স্থানে’ আছে, যেন “নিঃশেষে সংহার পায়।” (গীত. ৭৩:১৮, ১৯) পাপপূর্ণ আচরণে রত হওয়ার জন্য প্রলোভিত হলে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘নিজের জন্য আমি কোন ভবিষ্যৎ চাই?’

৬. (ক) কেন মোশি “ফরৌণের কন্যার পুত্ত্র বলিয়া আখ্যাত হইতে” অস্বীকার করেছিলেন? (খ) কেন আপনি মনে করেন যে, মোশি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

মোশির বিশ্বাস তার জীবনের বাছাইয়ের ওপরও প্রভাব ফেলেছিল। “বিশ্বাসে মোশি বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে পর ফরৌণের কন্যার পুত্ত্র বলিয়া আখ্যাত হইতে অস্বীকার করিলেন।” (ইব্রীয় ১১:২৪) মোশি এইরকম যুক্তি দেখাননি যে, তিনি রাজদরবারের একজন সদস্য হিসেবে ঈশ্বরের সেবা করতে পারবেন এবং এরপর তার ধনসম্পদ এবং সুযোগগুলোকে তার ইস্রায়েলীয় ভাইদের সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করবেন। এর পরিবর্তে, মোশি তার সমস্ত হৃদয়, প্রাণ ও শক্তি দিয়ে যিহোবাকে ভালোবাসার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। (দ্বিতীয়. ৬:৫) মোশির সিদ্ধান্ত তাকে অনেক দুঃখদুর্দশার হাত থেকে রক্ষা করেছিল। তিনি মিশরের যে-ধনসম্পদ পরিত্যাগ করেছিলেন, সেগুলোর বেশিরভাগই ইস্রায়েলীয়দের দ্বারা লুণ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল! (যাত্রা. ১২:৩৫, ৩৬) ফরৌণকে অবমানিত করা হয়েছিল এবং মেরে ফেলা হয়েছিল। (গীত. ১৩৬:১৫) আর অন্যদিকে, মোশি রক্ষা পেয়েছিলেন এবং পুরো জাতিকে নিরাপদে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তার জীবনের প্রকৃত অর্থ ছিল।

৭. (ক) মথি ৬:১৯-২১ পদ অনুযায়ী, কেন আমাদের নিকট ভবিষ্যতের চেয়ে আরও বেশি কিছু দেখতে হবে? (খ) এমন একটা অভিজ্ঞতা বলুন, যা বস্তুগত এবং আধ্যাত্মিক ধনসম্পদের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে।

তুমি যদি যিহোবার একজন কমবয়সি দাস হয়ে থাকো, তাহলে কীভাবে বিশ্বাস তোমাকে একটা কেরিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে? তুমি যদি ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করো, তাহলে তা বিজ্ঞতার কাজ। কিন্তু, ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাগুলোর ওপর বিশ্বাস তোমাকে এক ক্ষণস্থায়ী ভবিষ্যৎ, না কি অনন্ত ভবিষ্যৎ সঞ্চয় করতে অনুপ্রাণিত করবে? (পড়ুন, মথি ৬:১৯-২১.) সোফি নামে একজন দক্ষ ব্যালে নৃত্যশিল্পী এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাকে বৃত্তি প্রদান করার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালে কোম্পানিগুলোতে লোভনীয় পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। “সম্মান লাভ করা সত্যিই অনেক রোমাঞ্চকর। সত্যি বলতে কী, আমার সঙ্গীসাথিদের চেয়ে আমি নিজেকে বড়ো বলে মনে করতাম,” তিনি বলেন। “কিন্তু আমি সুখী ছিলাম না।” এরপর সোফি যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য—আমি আমার জীবন নিয়ে কী করব? (ইংরেজি) নামক ভিডিওটা দেখেন। “আমি বুঝতে পেরেছিলাম, যিহোবার প্রতি আমার সর্বান্তকরণের উপাসনা কেড়ে নিয়ে জগৎ আমাকে সাফল্য এবং ভক্তদের কাছ থেকে সম্মান দিয়েছে,” তিনি বলেন। “আমি মন খুলে তাঁর কাছে প্রার্থনা করি। এরপর আমি আমার কেরিয়ার ছেড়ে দিই।” তার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তিনি কেমন বোধ করেন? “আমি আমার পূর্বের জীবনের জন্য একটুও আপশোস করি না। এখন আমি ১০০ ভাগ সুখী। আমি আমার স্বামীর সঙ্গে অগ্রগামীর কাজ করছি। আমরা বিখ্যাত নই এবং আমাদের বস্তুগত সম্পদও বেশি নেই। কিন্তু, আমাদের সঙ্গে যিহোবা রয়েছেন এবং আমাদের বাইবেল ছাত্র-ছাত্রী ও আধ্যাত্মিক লক্ষ্য রয়েছে। আমার কোনো দুঃখ নেই।”

৮. বাইবেলের কোন পরামর্শ একজন কমবয়সি ব্যক্তিকে তার জীবন নিয়ে সে কী করবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে?

 যিহোবা জানেন, তোমার জন্য সবচেয়ে উত্তম কী। মোশি বলেছিলেন: “তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমার কাছে কি চাহেন? কেবল এই, যেন তুমি আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় কর, তাঁহার সকল পথে চল ও তাঁহাকে প্রেম কর, এবং তোমার সমস্ত হৃদয় ও তোমার সমস্ত প্রাণের সহিত তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবা কর, অদ্য আমি তোমার মঙ্গলার্থে সদাপ্রভুর যে যে আজ্ঞা ও বিধি তোমাকে দিতেছি, সেই সকল যেন পালন কর।” (দ্বিতীয়. ১০:১২, ১৩) বয়স কম থাকতে থাকতেই এমন এক কেরিয়ার বেছে নাও, যা তোমাকে যিহোবাকে ভালোবাসতে এবং “তোমার সমস্ত হৃদয় ও তোমার সমস্ত প্রাণের সহিত” তাঁর সেবা করতে সাহায্য করবে। তুমি নিশ্চিত থাকতে পারো, এইরকম এক পথ ‘তোমার মঙ্গল’ নিয়ে আসবে।

তিনি তার সেবার বিশেষ সুযোগকে মূল্যবান বলে গণ্য করেছিলেন

৯. মোশির জন্য তার কার্যভার পালন করা হয়তো কেন কঠিন ছিল, তা ব্যাখ্যা করুন।

মোশি “মিসরের সমস্ত ধন অপেক্ষা খ্রীষ্টের দুর্নাম মহাধন জ্ঞান করিলেন।” (ইব্রীয় ১১:২৬) মোশিকে এই অর্থে ‘খ্রীষ্ট’ বা “অভিষিক্ত ব্যক্তি” হিসেবে কার্যভার দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি ইস্রায়েলকে মিশর থেকে বের করে নিয়ে আসায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যিহোবার দ্বারা মনোনীত হয়েছিলেন। মোশি জানতেন, এই কার্যভার পালন করা কঠিন হবে এমনকী “দুর্নাম” নিয়ে আসবে। আগে একজন ইস্রায়েলীয় তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলেছিলেন: “তোমাকে অধ্যক্ষ ও বিচারকর্ত্তা করিয়া আমাদের উপরে কে নিযুক্ত করিয়াছে?” (যাত্রা. ২:১৩, ১৪) পরে মোশি নিজে যিহোবাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: আমার কথা “ফরৌণ কি প্রকারে শুনিবেন?” (যাত্রা. ৬:১২) দুর্নামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার এবং সেটার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য মোশি তার ভয় এবং উদ্‌বিগ্নতা নিয়ে যিহোবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তার কঠিন দায়িত্ব পালন করার জন্য কীভাবে যিহোবা মোশিকে সাহায্য করেছিলেন?

১০. কীভাবে যিহোবা মোশিকে তার কার্যভারের জন্য সজ্জিত করেছিলেন?

১০ প্রথমত, যিহোবা মোশিকে এই আশ্বাস দিয়েছিলেন: “নিশ্চয় আমি তোমার সহবর্ত্তী হইব।” (যাত্রা. ৩:১২) দ্বিতীয়ত, যিহোবা তাঁর নামের অর্থের একটা দিক ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে আস্থা প্রদান করেছিলেন আর তা হল: “আমি যে আছি সেই আছি [“আমি যা হতে চাই, তা-ই হব,” NW]।” * (যাত্রা. ৩:১৪) তৃতীয়ত, তিনি মোশিকে অলৌকিক শক্তি প্রদান করেছিলেন, যা প্রমাণ দিয়েছিল, মোশি সত্যিই ঈশ্বরের দ্বারা প্রেরিত। (যাত্রা. ৪:২-৫) চতুর্থত, যিহোবা মোশিকে তার কার্যভার পালন করতে সাহায্য করার জন্য একজন সহকর্মী এবং মুখপাত্র হিসেবে হারোণকে দিয়েছিলেন। (যাত্রা. ৪:১৪-১৬) ঈশ্বর যে তাঁর দাসদের যেকোনো কার্যভার পালন করার জন্য সজ্জিত করেন, সেই বিষয়ে মোশি এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে, তার জীবনের শেষের দিকে তিনি তার উত্তরসূরি যিহোশূয়কে আস্থার সঙ্গে বলতে পেরেছিলেন: “সদাপ্রভু আপনি তোমার অগ্রে অগ্রে যাইতেছেন; তিনিই তোমার সহবর্ত্তী থাকিবেন; তিনি তোমাকে ছাড়িবেন না, তোমাকে ত্যাগ করিবেন না; ভয় করিও না, নিরাশ হইও না।”—দ্বিতীয়. ৩১:৮.

১১. কেন মোশি তার কার্যভারকে উচ্চমূল্য দিয়েছিলেন?

১১ যিহোবার সাহায্যে মোশি তার কঠিন কার্যভারকে উচ্চমূল্য দিয়েছিলেন, সেটাকে “মিসরের সমস্ত ধন অপেক্ষা . . . মহাধন” জ্ঞান করেছিলেন। সত্যি বলতে কী, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সেবা করার সঙ্গে কি ফরৌণের সেবার তুলনা করা যেতে পারে? ‘খ্রীষ্ট’ অথবা যিহোবার অভিষিক্ত ব্যক্তি হওয়ার সঙ্গে তুলনা করলে, মিশরের একজন অধ্যক্ষ হওয়ার কোন মূল্য রয়েছে? মোশিকে তার উপলব্ধিপরায়ণ মনোভাবের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছিল। তিনি যিহোবার সঙ্গে বিশেষ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করেছিলেন, যিনি তাকে ইস্রায়েলীয়দেরকে প্রতিজ্ঞাত দেশে নিয়ে যাওয়ার সময় ‘ভয়ঙ্করতার কর্ম্ম’ সাধন করার শক্তি দিয়েছিলেন।—দ্বিতীয়. ৩৪:১০-১২.

১২. যিহোবার কাছ থেকে প্রাপ্ত কোন সুযোগগুলোকে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত?

১২ একইভাবে আমাদেরও একটা কার্যভার রয়েছে। তাঁর পুত্রের মাধ্যমে যিহোবা আমাদেরকে এক পরিচর্যার ভার দিয়েছেন, যেমনটা তিনি প্রেরিত পৌল এবং অন্যদের দিয়েছিলেন। (পড়ুন, ১ তীমথিয় ১:১২-১৪.)  আমাদের সকলের সুসমাচার ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে। (মথি ২৪:১৪; ২৮:১৯, ২০) কেউ কেউ পূর্ণসময়ের পরিচারক হিসেবে সেবা করে। পরিপক্ব বাপ্তাইজিত ভাইয়েরা পরিচারক দাস এবং প্রাচীন হিসেবে মণ্ডলীর অন্যদের সেবা করে। কিন্তু, আপনার অবিশ্বাসী পরিবার এবং অন্যেরা হয়তো এই সুযোগের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন করতে অথবা আত্মত্যাগ করার জন্য আপনাকে নিন্দা করতে পারে। (মথি ১০:৩৪-৩৭) তারা যদি আপনাকে নিরুৎসাহিত করার ব্যাপারে সফল হয়, তাহলে আপনি হয়তো আপনার আত্মত্যাগ আসলেই উপযুক্ত কি না অথবা আপনি আপনার কার্যভার পালন করতে পারবেন কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করবেন। যদি এমনটা হয়, তাহলে কীভাবে বিশ্বাস আপনাকে ধৈর্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে?

১৩. আধ্যাত্মিক কার্যভার সম্পন্ন করার জন্য কীভাবে যিহোবা আমাদের সজ্জিত করেন?

১৩ বিশ্বাস নিয়ে যিহোবার কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করুন। আপনার ভয় এবং চিন্তার বিষয়গুলো তাঁকে জানান। সবচেয়ে বড়ো কথা হল, যিহোবাই আপনাকে কার্যভার দিয়েছেন আর তিনি আপনাকে সফল হতে সাহায্য করবেন। কীভাবে? সেই একই উপায়ে, যেভাবে তিনি মোশিকে সাহায্য করেছিলেন। প্রথমত, যিহোবা আপনাকে এই আশ্বাস দেন: “আমি তোমাকে পরাক্রম দিব; আমি তোমার সাহায্য করিব; আমি আপন ধর্ম্মশীলতার দক্ষিণ হস্ত দ্বারা তোমাকে ধরিয়া রাখিব।” (যিশা. ৪১:১০) দ্বিতীয়ত, তিনি আপনাকে মনে করিয়ে দেন যে, তাঁর প্রতিজ্ঞাগুলো নির্ভরযোগ্য: “আমি বলিয়াছি, আর আমি সফল করিব; আমি কল্পনা করিয়াছি, আর আমি সিদ্ধ করিব।” (যিশা. ৪৬:১১) তৃতীয়ত, পরিচর্যা সম্পন্ন করার জন্য যিহোবা আপনাকে “পরাক্রমের উৎকর্ষ [“অসাধারণ মহাশক্তি,” বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন]” দেন। (২ করি. ৪:৭) চতুর্থত, আপনার কার্যভার চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের যত্নশীল পিতা আপনাকে সত্য উপাসকদের এক বিশ্বব্যাপী ভ্রাতৃসমাজ দিয়েছেন, যারা ‘পরস্পরকে আশ্বাস দেয়, এবং এক জন অন্যকে গাঁথিয়া তুলে।’ (১ থিষল. ৫:১১) আপনার কার্যভার পালন করার জন্য যিহোবা আপনাকে সজ্জিত করলে তাঁর প্রতি আপনার বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁর সেবায় যে-সুযোগগুলো আপনি লাভ করেন, সেগুলোকে পৃথিবীর যেকোনো ধনসম্পদের চেয়ে আপনি মূল্যবান বলে গণ্য করবেন।

“তিনি পুরস্কারদানের প্রতি দৃষ্টি রাখিতেন”

১৪. কেন মোশি নিশ্চিত ছিলেন যে, তাকে পুরস্কার প্রদান করা হবে?

১৪ মোশি “পুরস্কারদানের প্রতি দৃষ্টি রাখিতেন।” (ইব্রীয় ১১:২৬) হ্যাঁ, মোশি ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে তার জ্ঞানকে, তার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রভাব ফেলতে দিয়েছিলেন, যদিও সেই সময় এই জ্ঞান সীমিত ছিল। তার পূর্বপুরুষ অব্রাহামের মতো মোশি এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন যে, যিহোবা মৃতদের পুনরুত্থিত করতে পারেন। (লূক ২০:৩৭, ৩৮; ইব্রীয় ১১:১৭-১৯) ভাবী আশীর্বাদের প্রত্যাশা মোশিকে তার ৪০ বছরের জীবনকে একজন পলাতক হিসেবে ও সেইসঙ্গে প্রান্তরে ৪০ বছরের জীবনকে নিষ্ফল বলে না  দেখতে সাহায্য করেছিল। যদিও তিনি ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাগুলোর পরিপূর্ণতা সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতেন না, তবুও বিশ্বাসের চোখ দিয়ে তিনি অদৃশ্য পুরস্কার দেখতে পেয়েছিলেন।

১৫, ১৬. (ক) কেন আমাদের পুরস্কারের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে? (খ) রাজ্য শাসনের অধীনে আপনি কোন আশীর্বাদগুলো উপভোগ করার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী?

১৫ আপনি কি পুরস্কার ‘দানের প্রতি দৃষ্টি’ রাখেন? মোশির মতো আমরাও ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা সম্বন্ধে এখনও সমস্ত বিস্তারিত বিষয় জানি না। উদাহরণ স্বরূপ, আমরা মহাক্লেশের ‘সময় কবে হইবে, তাহা জানি না।’ (মার্ক ১৩:৩২, ৩৩) কিন্তু, ভাবী পরমদেশ সম্বন্ধে আমরা মোশির চেয়ে আরও বেশি জানি। এমনকী বিস্তারিত সমস্ত কিছু জানা না থাকলেও আমাদের কাছে ঈশ্বরের রাজ্যের অধীনে জীবন সম্বন্ধে ঈশ্বরের এমন অনেক প্রতিজ্ঞা রয়েছে, যেগুলোর প্রতি আমরা ‘দৃষ্টি রাখিতে’ পারি। নতুন জগৎ সম্বন্ধে এক স্পষ্ট চিত্র আমাদেরকে প্রথমে রাজ্যের বিষয়ে চেষ্টা করতে অনুপ্রাণিত করবে। কীভাবে? এই বিষয়টা বিবেচনা করুন: একটা বাড়ি সম্বন্ধে যদি আপনি খুব বেশি না জানেন, তাহলে আপনি কি সেই বাড়িটা কিনবেন? অবশ্যই না! একইভাবে, আমরা অনিশ্চিত এক আশার সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলোতে আমাদের জীবন ব্যয় করতে চাইব না। বিশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের রাজ্য শাসনের অধীনস্থ জীবন সম্বন্ধে এক স্পষ্ট চিত্র দেখতে হবে।

মোশির মতো বিশ্বস্ত দাসদের সঙ্গে কথা বলা কতই-না রোমাঞ্চকর হবে! (১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৬ ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে আপনার মনে এক স্পষ্ট চিত্র লাভ করার জন্য ‘দৃষ্টি রাখুন’ অর্থাৎ পরমদেশে আপনার জীবন কেমন হবে, তা কল্পনা করুন। উদাহরণ স্বরূপ, আপনি যখন প্রাক্‌খ্রিস্টীয় যুগের বাইবেল চরিত্রগুলো নিয়ে অধ্যয়ন করেন, তখন তারা পুনরুত্থিত হলে আপনি তাদেরকে কী জিজ্ঞেস করতে পারেন, তা চিন্তা করুন। শেষকালে আপনার জীবন সম্বন্ধে তারা হয়তো আপনাকে কী জিজ্ঞেস করতে পারে, তা কল্পনা করুন। শত শত বছর আগের পূর্বপুরুষদের দেখে এবং তাদের জন্য ঈশ্বরের কৃত সমস্ত কর্ম সম্বন্ধে শিক্ষা দিয়ে আপনি কতটা রোমাঞ্চিত হবেন, তা চিন্তা করুন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে অনেক বন্য পশুপাখি পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে তাদের সম্বন্ধে আপনি যখন জানতে পারবেন, তখন যে-আনন্দ হবে, সেটা কল্পনা করে দেখুন। সিদ্ধতার দিকে যেতে যেতে যিহোবার সঙ্গে আপনি কতটা নিকট সম্পর্ক উপভোগ করবেন, তা নিয়ে ধ্যান করুন।

১৭. কীভাবে অদৃশ্য পুরস্কার সম্বন্ধে এক স্পষ্ট চিত্র বর্তমানে আমাদের সাহায্য করতে পারে?

১৭ অদৃশ্য পুরস্কার সম্বন্ধে এক স্পষ্ট চিত্র আমাদেরকে এগিয়ে চলতে, আনন্দ বজায় রাখতে এবং এক নিশ্চিত অনন্ত ভবিষ্যতের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের পৌল লিখেছিলেন: “আমরা যাহা দেখিতে না পাই, তাহার প্রত্যাশা যদি করি, তবে ধৈর্য্য সহকারে তাহার অপেক্ষায় থাকি।” (রোমীয় ৮:২৫) এটা মূলত এমন সমস্ত খ্রিস্টানের বেলায় প্রযোজ্য, যাদের অনন্তজীবনের আশা রয়েছে। যদিও এখনও আমরা আমাদের পুরস্কার পাইনি কিন্তু আমাদের বিশ্বাস এতটা দৃঢ় যে, আমরা ধৈর্য ধরে “পুরস্কারদানের” জন্য অপেক্ষা করে চলি। মোশির মতো আমরাও যিহোবার সেবায় কাটানো কোনো বছরকেই সময়ের অপচয় হিসেবে দেখি না। এর পরিবর্তে, আমরা নিশ্চিত যে, “যাহা যাহা দৃশ্য, তাহা ক্ষণকালস্থায়ী, কিন্তু যাহা যাহা অদৃশ্য, তাহা অনন্তকালস্থায়ী।”—পড়ুন, ২ করিন্থীয় ৪:১৬-১৮.

১৮, ১৯. (ক) বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য কেন আমাদের লড়াই করতে হবে? (খ) পরের প্রবন্ধে আমরা কী বিবেচনা করব?

১৮ বিশ্বাস আমাদেরকে ‘অদৃশ্য বিষয়ের প্রমাণ’ বুঝতে সাহায্য করে। (ইব্রীয় ১১:১) একজন প্রাণিক ব্যক্তি যিহোবাকে সেবা করার বিশেষ মূল্য দেখতে পায় না। এইরকম একজন ব্যক্তির কাছে আধ্যাত্মিক ধনসম্পদকে “মুর্খতা” বলে মনে হয়। (১ করি. ২:১৪) কিন্তু, আমরা অনন্তজীবন উপভোগ করার এবং পুনরুত্থান দেখার আশা রাখি, যেগুলো জগতের কাছে অদৃশ্য। পৌলের দিনের দার্শনিকদের মতো, যারা তাকে মূর্খ ‘বাচাল’ মনে করেছিল, অধিকাংশ লোক আজকে চিন্তা করে যে, আমরা যে-আশা সম্বন্ধে প্রচার করছি, তা একেবারে অর্থহীন।—প্রেরিত ১৭:১৮.

১৯ যেহেতু আমাদের চারপাশে এক অবিশ্বাসী জগৎ রয়েছে, তাই বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য আমাদের অবশ্যই লড়াই করতে হবে। যিহোবার কাছে মিনতি করুন যেন ‘আপনার বিশ্বাসের লোপ না হয়।’ (লূক ২২:৩২) পাপের পরিণতির, যিহোবাকে সেবা করার অসাধারণ মূল্যের এবং অনন্তজীবনের ওপর আপনার আশার প্রতি চোখ খোলা রাখুন। কিন্তু, মোশির বিশ্বাস তাকে এই বিষয়গুলোর চেয়ে আরও বেশি কিছু দেখতে সাহায্য করেছিল। পরের প্রবন্ধে আমরা পরীক্ষা করে দেখব যে, কীভাবে বিশ্বাস মোশিকে “যিনি অদৃশ্য, তাঁহাকে” দেখতে সাহায্য করেছিল।—ইব্রীয় ১১:২৭.

^ অনু. 10 যাত্রাপুস্তক ৩:১৪ পদে বলা ঈশ্বরের কথাগুলো সম্বন্ধে একজন বাইবেল পণ্ডিত লিখেছিলেন: “কোনো কিছুই তাঁকে তাঁর ইচ্ছা সাধন করার ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারে না . . . এই নাম [যিহোবা] ইস্রায়েলের কাছে দুর্গের মতো, আশা ও সান্ত্বনার এক অফুরন্ত ভাণ্ডার হওয়ার কথা ছিল।”