সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  এপ্রিল ২০১৪

কেউই দুই কর্তার সেবা করতে পারে না

কেউই দুই কর্তার সেবা করতে পারে না

“কেহই দুই কর্ত্তার দাসত্ব করিতে পারে না; . . . তোমরা ঈশ্বর এবং ধন উভয়ের দাসত্ব করিতে পার না।”—মথি ৬:২৪.

১-৩. (ক) বর্তমানে অনেকে কোন অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকে এবং কেউ কেউ কীভাবে সেগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করে? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।) (খ) সন্তান মানুষ করে তোলার বিষয়ে কোন উদ্‌বিগ্নতাগুলো দেখা দেয়?

“আমার স্বামী জেমস্‌ প্রতিদিন কাজ থেকে পরিশ্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরত কিন্তু তার আয় এত কম ছিল যে, সেটা দিয়ে আমাদের রোজকার চাহিদা ঠিকমতো পূরণ হতো না,” ম্যারিলিন বলেন। * “আমি তার ভার কমাতে চেয়েছিলাম এবং আমাদের ছেলে জিমির জন্য কিছু ভালো জিনিস কিনতে চেয়েছিলাম, যেগুলো তার সহছাত্র-ছাত্রীদের রয়েছে।” এ ছাড়া, ম্যারিলিন তাদের যৌথ পরিবারকে সাহায্য করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু জমাতে চেয়েছিলেন। তার অনেক বান্ধবী আরও টাকা আয় করার জন্য অন্যান্য দেশে গিয়েছিল। কিন্তু, ব্যক্তিগতভাবে তিনি যখন অন্য দেশে যাওয়ার কথা চিন্তা করতেন, তখন তার মিশ্র অনুভূতি হতো। কেন?

ম্যারিলিন তার চমৎকার পরিবারকে এবং তাদের দৃঢ় আধ্যাত্মিক তালিকা ছেড়ে যেতে ভয় পেয়েছিলেন। তারপরও তিনি যুক্তি দেখিয়েছিলেন, অন্যেরা কিছু সময়ের জন্য বিদেশে গিয়েছে আর তাদের পরিবারকেও দেখে মনে হয়, তারা আধ্যাত্মিকভাবে টিকে রয়েছে। কিন্তু, তিনি ভাবছিলেন, কীভাবে তিনি দূরে থেকেও তার ছেলে জিমিকে মানুষ করে তুলতে পারবেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি কি তার ছেলেকে “প্রভুর [ঈশ্বরের] শাসনে ও চেতনা প্রদানে” মানুষ করে তোলায় সফল হতে পারবেন?—ইফি. ৬:৪.

ম্যারিলিন নির্দেশনা চেয়েছিলেন। তার স্বামী চাননি যে, তিনি তাদের ছেড়ে যাক তবে তিনি ম্যারিলিনকে বলেছিলেন, তিনি তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। মণ্ডলীর প্রাচীনরা এবং অন্যেরা তাকে বিদেশে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল কিন্তু কিছু সাক্ষি বোন তাকে বিদেশে যাওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিল। “তুমি  যদি তোমার পরিবারকে ভালোবাসো, তাহলে যাও,” তারা তাকে বলেছিল। “সেখানে গিয়েও তুমি যিহোবাকে সেবা করতে পারবে।” দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও, ম্যারিলিন জেমস্‌ এবং জিমির কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন এবং বিদেশে কাজ করার জন্য বাড়ি ত্যাগ করেছিলেন। “আমি তাড়াতাড়ি ফিরে আসব,” তিনি কথা দিয়েছিলেন।

পারিবারিক দায়িত্ব এবং বাইবেলের নীতি

৪. কেন অনেকে বিদেশে যায় কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই কাদের এই ধরনের ব্যক্তিদের সন্তানদের যত্ন নিতে হয়?

যিহোবা চান না যে, তাঁর দাসেরা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করুক আর বিদেশে গিয়ে কাজ করা দারিদ্র্য দূর করার সবচেয়ে পুরোনো উপায়গুলোর মধ্যে একটা। (গীত. ৩৭:২৫; হিতো. ৩০:৮) খাদ্যাভাব এড়াতে গিয়ে কুলপতি যাকোব খাদ্য কিনে আনার জন্য তার ছেলেদের মিশরে পাঠিয়েছিলেন। * (আদি. ৪২:১, ২) বর্তমানে, যারা বিদেশে যায়, তাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই যে খাদ্যাভাবের কারণে তাদের বাড়ি ত্যাগ করে এমন নয়। কিন্তু, তারা হয়তো বিশাল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। অন্যেরা কেবল তাদের পরিবারের জীবনযাপনের মানকে হয়তো আরেকটু উন্নত করতে চায়। এক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে তাদের লক্ষ্যগুলো অর্জন করার জন্য অনেকে তাদের নিজ পরিবার থেকে দূরে বাস করতে বাধ্য হয় আর হয় তা নিজের দেশে থেকে অথবা অন্য দেশে গিয়ে। বেশিরভাগ সময়ই তারা হয় বাবা নতুবা মা, দাদা কিংবা দিদি, দাদু-দিদিমা কিংবা ঠাকুরদাদা-ঠাকুরমা, অন্য কোনো আত্মীয় অথবা বন্ধুর যত্নাধীনে নাবালক সন্তানদের রেখে যায়। যারা বিদেশে যায়, তারা যদিও তাদের সাথি অথবা সন্তানদের রেখে যেতে কষ্ট পায়, তবুও তাদের অনেকে মনে করে যে, এ ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

৫, ৬. (ক) সুখ ও নিরাপত্তা সম্বন্ধে যিশু কী শিক্ষা দিয়েছিলেন? (খ) যিশু তাঁর অনুসারীদেরকে কোন বস্তুগত বিষয়গুলোর জন্য প্রার্থনা করতে শিখিয়েছিলেন? (গ) কীভাবে ঈশ্বর আমাদের আশীর্বাদ করেন?

যিশুর দিনেও অনেক দরিদ্র এবং সুবিধাবঞ্চিত লোক ছিল এবং তারা হয়তো মনে করেছিল যে, তাদের যদি আরও টাকাপয়সা থাকত, তাহলে তারা আরও সুখী হতে এবং নিরাপত্তা বোধ করতে পারত। (মার্ক ১৪:৭) কিন্তু, যিশু চেয়েছিলেন যেন লোকেরা অন্য কিছুর ওপর আশা রাখে। তিনি চেয়েছিলেন যেন তারা চিরস্থায়ী সম্পদের উৎস যিহোবার ওপর নির্ভর করে। যিশুর পর্বতেদত্ত উপদেশে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, প্রকৃত সুখ এবং নিরাপত্তা বস্তুগত বিষয়বস্তুর ওপর কিংবা আমাদের নিজেদের প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে না বরং আমাদের স্বর্গীয় পিতার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে।

যিশু তাঁর আদর্শ প্রার্থনায় আমাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য নয় বরং আমাদের রোজকার প্রয়োজনগুলোর জন্য অর্থাৎ ‘আমাদের প্রয়োজনীয় [আজকার, পাদটীকা] খাদ্যের’ জন্য প্রার্থনা করতে শিখিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে তাঁর শ্রোতাদের বলেছিলেন: “তোমরা পৃথিবীতে আপনাদের জন্য ধন সঞ্চয় করিও না . . . কিন্তু স্বর্গে আপনাদের জন্য ধন সঞ্চয় কর।” (মথি ৬:৯, ১১, ১৯, ২০) আমরা এই নির্ভরতা রাখতে পারি যে, যিহোবা তাঁর প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী আমাদের আশীর্বাদ করবেন। ঈশ্বরের আশীর্বাদ কেবল সম্মতি জ্ঞাপন করা নয়; বরং আমাদের আসলেই যা প্রয়োজন সেগুলো সক্রিয়ভাবে জোগানো। সত্যিই, প্রকৃত সুখ এবং নিরাপত্তা লাভ করার একমাত্র উপায় হল আমাদের যত্নশীল পিতার ওপর নির্ভর করা, টাকাপয়সার ওপর নয়।—পড়ুন, মথি ৬:২৪, ২৫, ৩১-৩৪.

৭. (ক) সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্ব যিহোবা কাদের দিয়েছেন? (খ) কেন বাবা-মা উভয়েরই তাদের সন্তানদের ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে?

‘প্রথমে ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা করিবার’ অন্তর্ভুক্ত হল পরিবারের দায়িত্বগুলোকে যিহোবার মতো করে দেখা। মোশির ব্যবস্থায় উল্লেখিত এই নীতিটা খ্রিস্টানদের জন্য প্রযোজ্য: বাবা-মায়েদেরই তাদের নিজেদের সন্তানদের আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। (পড়ুন, দ্বিতীয় বিবরণ ৬:৬, ৭.) ঈশ্বর এই দায়িত্ব বাবা-মাকে দিয়েছেন, দাদু-দিদিমা কিংবা ঠাকুরদাদা-ঠাকুরমা অথবা অন্য কাউকে দেননি। রাজা শলোমন বলেছিলেন: “বৎস, তুমি তোমার পিতার উপদেশ শুন, তোমার মাতার ব্যবস্থা ছাড়িও না।” (হিতো. ১:৮) যিহোবা চান যেন বাবা-মা উভয়েই সামনে উপস্থিত থেকে সন্তানদের নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দেয়। (হিতো. ৩১:১০, ২৭, ২৮) সন্তানরা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা-কিছু শিখে থাকে, বিশেষভাবে আধ্যাত্মিক বিষয়ে, সেগুলোর বেশিরভাগই তারা প্রতিদিন বাবা-মাকে যিহোবা সম্বন্ধে কথা বলতে শোনার এবং সরাসরি তাদের উদাহরণ দেখার মাধ্যমে শেখে।

 অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি

৮, ৯. (ক) বাবা অথবা মা যখন পরিবার থেকে দূরে বাস করেন, তখন প্রায়ই কোন পরিবর্তনগুলো দেখা যায়? (খ) পৃথক থাকার ফলে কোন আবেগগত ও নৈতিক ক্ষতি দেখা দিতে পারে?

যে-ব্যক্তিরা বিদেশে যায়, তারা যাওয়ার আগে এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ঝুঁকি এবং আত্মত্যাগ নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে দেখার চেষ্টা করে কিন্তু খুব কম লোকই তাদের পরিবারকে রেখে যাওয়ার সমস্ত পরিণতি বুঝতে পারে। (হিতো. ২২:৩) * ম্যারিলিন বিদেশে যাওয়ার সঙ্গেসঙ্গে তার পরিবারের কাছ থেকে আলাদা থাকার অসহ্য যন্ত্রণা বুঝতে শুরু করেছিলেন। তার স্বামী এবং সন্তানের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছিল। ছোট্ট জিমি বার বার তার মাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, “কেন তুমি আমাদেরকে রেখে চলে গিয়েছ?” আর ম্যারিলিন কয়েক মাস বিদেশে থাকার যে-পরিকল্পনা করেছিলেন, সেটা যখন কয়েক বছরে পরিণত হয়েছিল, তখন তিনি তার পরিবারের মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করেছিলেন, যেটা তাকে উদ্‌বিগ্ন করে তুলেছিল। জিমি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করেছিল এবং তার কাছে সমস্ত আবেগ প্রকাশ করত না। অনেক দুঃখ নিয়ে ম্যারিলিন স্মরণ করে বলেছিলেন, “আমার প্রতি তার ভালোবাসা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।”

বাবা-মা এবং সন্তানরা যখন একটা পরিবার হিসেবে একত্রে বাস করে না, তখন তারা আবেগগত এবং নৈতিক দিক দিয়ে ক্ষতি ভোগ করে থাকে। * ছেলে-মেয়েরা যত ছোটো এবং পৃথক থাকা যত দীর্ঘ হয়, ক্ষতির পরিমাণ তত গভীর হয়। ম্যারিলিন জিমিকে খুলে বলেছিলেন যে, তিনি তার উপকারের জন্য আত্মত্যাগ করছিলেন। কিন্তু, জিমির কাছে মনে হয়েছিল, যেন তার মা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। শুরুতে সে মায়ের অনুপস্থিতিতে বিরক্ত হয়েছিল। কিন্তু, পরে তার মা যখন মাঝে মাঝে তাদেরকে দেখতে আসত, তখন জিমি তার উপস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে যেত। রেখে যাওয়া অন্যান্য সন্তানের বেলায় যেমনটা হয়ে থাকে, তেমনই জিমির কাছেও মনে হয়েছিল, তার মা তার কাছ থেকে বাধ্যতা এবং ভালোবাসা আশা করার অধিকার হারিয়ে ফেলেছে।—পড়ুন, হিতোপদেশ ২৯:১৫.

ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানকে জড়িয়ে ধরতে পারবেন না (১০ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১০. (ক) বাবা অথবা মায়ের উপস্থিতির পরিবর্তে বস্তুগত উপহার পাঠানো কীভাবে সন্তানদের প্রভাবিত করতে পারে? (খ) একজন বাবা অথবা মা যখন দূরে থেকে তাদের সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করেন, তখন কীসের অভাব দেখা দেয়?

১০ যদিও ম্যারিলিন তার অনুপস্থিতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকাপয়সা ও উপহার পাঠাতেন কিন্তু তিনি লক্ষ করেছিলেন, তিনি তার ছেলেকে নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে ছেলেকে আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো এবং পারিবারিক সম্পর্কের চেয়ে বরং বস্তুগত বিষয়গুলো আগে রাখতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। (হিতো. ২২:৬) জিমি তাকে বলতো, “তোমার আসার দরকার নেই। তুমি কেবল উপহার পাঠালেই চলবে।” ম্যারিলিন বুঝতে শুরু করেছিলেন যে, চিঠি, টেলিফোন অথবা ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে তিনি তার ছেলেকে মানুষ করতে পারবেন না। তিনি ব্যাখ্যা করেন: “ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানকে জড়িয়ে ধরতে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে চুমু দিতে পারবেন না।”

আপনার সাথির কাছ থেকে দূরে থাকার সময় আপনি কোন বিপদের মুখোমুখি হতে পারেন? (১১ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১১. (ক) জাগতিক কাজের জন্য কোনো দম্পতিকে যদি দূরে থাকতে হয়, তাহলে সেটা তাদের বিয়েকে কীভাবে প্রভাবিত করে? (খ) কীভাবে একজন বোন বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার নিজের পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়া উচিত?

 ১১ ম্যারিলিনের সঙ্গে যিহোবা ও তার স্বামী জেমসের সম্পর্কও খারাপ হতে শুরু করছিল। তিনি সপ্তাহে এক দিন বা তারও কম সময় খ্রিস্টীয় মেলামেশা করতেন এবং পরিচর্যায় যেতেন আর তাকে তার কর্মকর্তার কাছ থেকে আসা যৌনসম্পর্ক করার প্রস্তাব প্রতিহত করতে হয়েছিল। যেহেতু সমস্যার মুখোমুখি হলে সাহায্য চাওয়ার মতো কাছাকাছি কোনো বন্ধু ছিল না, তাই ম্যারিলিন এবং জেমস্‌ অন্যদের সঙ্গে আবেগগতভাবে জড়িয়ে পড়েছিল এবং যৌন অনৈতিকতায় প্রায় নতিস্বীকার করে ফেলছিল। ম্যারিলিন লক্ষ করেছিলেন, তিনি এবং তার স্বামী যদিও পারদারিকতা করেননি কিন্তু দূরে থাকার ফলে তারা পরস্পরের আবেগগত এবং যৌন চাহিদার বিষয়ে বাইবেলের নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারছিল না। তারা তাদের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা, এক ঝলক তাকানো অথবা হাসি, হাতের মৃদু স্পর্শ, উষ্ণ আলিঙ্গন, প্রগাঢ় “প্রেম” অথবা বিবাহের “প্রাপ্য” বিষয় বিনিময় করতে পারত না। (পরম. ১:২; ১ করি. ৭:৩, ৫) আর তারা একত্রে তাদের ছেলের সঙ্গে পূর্ণরূপে যিহোবার উপাসনা করতে পারত না। “একটা সম্মেলনে আমি যখন শিখতে পেরেছিলাম যে, যিহোবার মহাদিনে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিয়মিতভাবে পারিবারিক উপাসনা করা আমাদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ, তখন আমি বাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছিলাম,” ম্যারিলিন বলেন। “আমাকে পুনরায় আমার আধ্যাত্মিক এবং পারিবারিক জীবন গড়ে তুলতে হয়েছিল।”

উত্তম উপদেশ—মন্দ উপদেশ

১২. যারা তাদের পরিবার থেকে দূরে বাস করে, তাদেরকে কোন শাস্ত্রীয় পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে?

১২ বাড়ি ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে ম্যারিলিনের সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। বিদেশে তার এলাকার প্রাচীনরা তার বিশ্বাস এবং সাহসের জন্য তার প্রশংসা করেছিল। কিন্তু সাথি এবং পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকত এমন কিছু ব্যক্তি তার প্রশংসা করেনি। তার উত্তম উদাহরণ অনুসরণ করার পরিবর্তে তারা তাকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছিল। “অল্পসময়ের মধ্যেই তুমি এখানে ফিরে আসবে,” তারা বলেছিল। “তুমি যদি বাড়ি ফিরে যাও, তাহলে কীভাবে তুমি ভরণ-পোষণ জোগাবে?” এইরকম নিরুৎসাহজনক মন্তব্য করার পরিবর্তে সহখ্রিস্টানদের উচিত ‘তাঁহারা যেন যুবতীদিগকে সংযত করিয়া তুলেন, যেন ইহারা পতিপ্রিয়া, সন্তানপ্রিয়া, গৃহকার্য্যে,’ অর্থাৎ নিজেদের গৃহের কাজে ‘ব্যাপৃতা হয়, এইরূপে যেন ঈশ্বরের বাক্য নিন্দিত না হয়।’—পড়ুন, তীত ২:৩-৫.

১৩, ১৪. পরিবারের প্রত্যাশাগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য কেন আমাদের বিশ্বাসের প্রয়োজন? উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করুন।

১৩ বিদেশে বাস করে এমন অনেকে এমন সংস্কৃতিতে বড়ো হয়েছে, যা রীতিনীতি এবং পরিবারের প্রতি, বিশেষভাবে বাবা-মায়েদের প্রতি দায়িত্বকে সমস্ত কিছুর ঊর্দ্ধে স্থান দিয়ে থাকে। একজন খ্রিস্টানের পক্ষে যিহোবাকে খুশি করার জন্য প্রচলিত প্রথা অথবা পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া সত্যিই এক বিশ্বাসের কাজ।

১৪ ক্যারিনের কাহিনি বিবেচনা করুন: “যখন আমার ছেলে ডনের জন্ম হয়েছিল, তখন আমার স্বামী এবং আমি বিদেশে কাজ করতাম আর আমি সম্প্রতি বাইবেল অধ্যয়ন  করতে শুরু করেছিলাম। আমার পরিবারের প্রত্যেকে আশা করেছিল, আমি ডনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেব, যেন আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল না হওয়া পর্যন্ত সে আমার বাবা-মায়ের কাছে মানুষ হতে পারে।” ক্যারিন যখন ডনকে নিজেই মানুষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন তার আত্মীয়স্বজন ও সেইসঙ্গে তার স্বামী তাকে অলস বলেছিল এবং তাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেছিল। “সত্যি বলতে কী, এক সময় আমিও পুরোপুরি বুঝতে পারিনি যে, ডনকে কয়েক বছরের জন্য আমার বাবা-মায়ের কাছে রাখার মধ্যে দোষের কী আছে,” ক্যারিন বলেন। “কিন্তু, আমি জানতাম, যিহোবা আমাদেরকে অর্থাৎ বাবা-মাকে আমাদের ছেলেকে মানুষ করে তোলার দায়িত্ব দিয়েছেন।” ক্যারিন যখন আবারও গর্ভবতী হন, তখন তার অবিশ্বাসী স্বামী তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন। ক্যারিনের আগের উত্তম সিদ্ধান্ত তার বিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছিল আর আবারও তিনি যিহোবার পক্ষে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এখন তিনি এবং তার স্বামী ও তাদের সন্তানরা অনেক খুশি কারণ তারা সবাই একত্রে রয়েছে। ক্যারিন যদি তার সন্তানদের মধ্যে এক জনকে বা দুই জনকেই দূরে পাঠিয়ে দিতেন, তাহলে এর পরিণতি অনেক আলাদা হতে পারত।

১৫, ১৬. (ক) এমন একজন বোনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করুন, যাকে ছোটোবেলায় বাবা-মা তার দাদু-দিদিমার কাছে রেখে গিয়েছিল। (খ) কেন তিনি নিজের মেয়ের ব্যাপারে এক ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছিলেন?

১৫ ভিকি নামে একজন সাক্ষি বলেন: “কয়েক বছর আমি আমার দাদু-দিদিমার কাছে মানুষ হয়েছি আর বাবা-মা আমার ছোটো বোনকে তাদের সঙ্গে রেখেছিল। আর আমি যখন আমার বাবা-মায়ের কাছে ফিরে গিয়েছিলাম, তখন তাদের প্রতি আমার অনুভূতি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। আমার বোন তাদের কাছে স্বচ্ছন্দে নিজেকে প্রকাশ করতে, তাদেরকে জড়িয়ে ধরতে এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করতে পারত। আমি আমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে নিজেকে দূরে বলে মনে করতাম আর এমনকী বড়ো হওয়ার পরও আমার পক্ষে প্রকৃত অনুভূতি প্রকাশ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমার বোন এবং আমি আমাদের বাবা-মাকে আশ্বাস দিয়েছিলাম যে, বৃদ্ধ হলে আমরা তাদের যত্ন নেব। কিন্তু, আমি সেটা বেশিরভাগ দায়িত্ব মনে করেই করব আর আমার বোন প্রেমের বশবর্তী হয়ে তাদের যত্ন নেবে।

১৬ “এখন আমার মা চাইছে যেন আমি আমার মেয়েকে মানুষ করার জন্য তার কাছে পাঠিয়ে দিই, ঠিক যেমনটা সে আমাকে তার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল। আমি কৌশলতার সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করি,” ভিকি বলেন। “আমি এবং আমার স্বামী আমাদের সন্তানকে যিহোবার উপায়ে মানুষ করতে তুলতে চাই। আর আমি আমার মেয়ের সঙ্গে আমার ভাবী সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না।” ভিকি দেখতে পেয়েছিলেন যে, একমাত্র সফল পথ হল টাকাপয়সার লক্ষ্য এবং পরিবারের প্রত্যাশাগুলোর চেয়ে যিহোবা ও তাঁর নীতিগুলোর ওপর নির্ভর করা। যিশু স্পষ্টভাবে বলেছিলেন: “কেহই” ঈশ্বর এবং ধন এই “দুই কর্ত্তার দাসত্ব করিতে পারে না।”—মথি ৬:২৪; যাত্রা. ২৩:২.

যিহোবা আমাদের প্রচেষ্টাকে “সফল” করেন

১৭, ১৮. (ক) কোন ক্ষেত্রে খ্রিস্টানদের সবসময়ই বাছাই করার সুযোগ রয়েছে? (খ) পরের প্রবন্ধে আমরা কোন প্রশ্নগুলো বিবেচনা করব?

১৭ আমাদের পিতা যিহোবা আমাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অর্জন করায় সাহায্য করবেন বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন, যদি আমরা রাজ্য এবং তাঁর ধার্মিকতাকে আমাদের জীবনে প্রথমে রাখি। (মথি ৬:৩৩) তাই, প্রকৃত খ্রিস্টানদের সবসময়ই বাছাই করার সুযোগ রয়েছে। এমনকী চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও, আমরা কোনো না কোনো উপায়ে যিহোবাকে খুশি করতে এবং বাইবেলের নীতিগুলো অনুসরণ করতে পারি। যিহোবা আমাদেরকে ‘রক্ষার পথ’ করে দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞা করেন। (পড়ুন, ১ করিন্থীয় ১০:১৩.) আমরা যখন যিহোবার ‘অপেক্ষায় থাকি’ এবং তাঁর প্রজ্ঞা ও নির্দেশনার জন্য প্রার্থনা করার এবং তাঁর আজ্ঞা ও নীতিগুলো পালন করার দ্বারা ‘তাঁহাতে নির্ভর করি,’ তখন আমাদের পক্ষে “তিনিই কার্য্য সাধন করিবেন।” (গীত. ৩৭:৫, ৭) একমাত্র সত্য প্রভু হিসেবে কেবল তাঁকেই সেবা করার বিষয়ে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তিনি সক্রিয়ভাবে আশীর্বাদ করবেন। আমরা যদি তাঁকে প্রথমে রাখি, তাহলে তিনি আমাদের জীবনকে “সফল” করবেন।—তুলনা করুন, আদিপুস্তক ৩৯:৩.

১৮ পৃথক থাকার মাধ্যমে যে-ক্ষতি হয়, সেটা পূরণ করার জন্য কী করা যেতে পারে? পরিবারের ভরণ-পোষণ জোগাতে গিয়ে তাদের কাছ থেকে দূরে না থাকার জন্য আমরা কোন ব্যাবহারিক পদক্ষেপগুলো নিতে পারি? আর এই ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কীভাবে আমরা প্রেমের সঙ্গে অন্যদেরকে উৎসাহিত করতে পারি? পরের প্রবন্ধে এই প্রশ্নগুলো বিবেচনা করা হবে।

^ অনু. 1 নামগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে।

^ অনু. 4 প্রতি বার মিশরে গিয়ে যাকোবের ছেলেরা হয়তো তাদের পরিবার থেকে তিন সপ্তাহের বেশি দূরে থাকেনি। পরবর্তী সময়ে যাকোব ও তার ছেলেরা যখন মিশরে গিয়েছিল, তখন তারা তাদের স্ত্রী এবং সন্তানদেরও নিয়ে গিয়েছিল।—আদি. ৪৬:৬, ৭.

^ অনু. 8 ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সচেতন থাক! (ইংরেজি) পত্রিকায় “অভিবাসন—স্বপ্ন এবং বাস্তবতা” শিরোনামের প্রবন্ধ দেখুন।

^ অনু. 9 বিভিন্ন দেশ থেকে আসা রিপোর্ট ইঙ্গিত দেয় যে, বিদেশে গিয়ে কাজ করার জন্য কোনো সাথি অথবা সন্তানদের কাছ থেকে আলাদা থাকা এমন একটা বিষয়, যার ফলে কারো কারো ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হল উভয় সাথির অবিশ্বস্ততা, সমকামিতা অথবা অজাচার এবং সন্তানদের মধ্যে বিশৃঙ্খল আচরণ ও পড়াশোনা নিয়ে সমস্যা, আক্রমণাত্মক মনোভাব, উদ্‌বিগ্নতা, হতাশা এবং আত্মহত্যা করার প্রবণতা।