সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  ফেব্রুয়ারি ২০১৪

যিহোবা—আমাদের সর্বোত্তম বন্ধু

যিহোবা—আমাদের সর্বোত্তম বন্ধু

“[অব্রাহাম] ‘ঈশ্বরের বন্ধু’ এই নাম পাইলেন।”—যাকোব ২:২৩.

১. যেহেতু আমরা ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট হয়েছি, তাই আমাদের কোন ক্ষমতা রয়েছে?

“সে একেবারে তার বাবার মতোই,” এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। সত্যি বলতে কী, অনেক ছেলে-মেয়ে তাদের বাবা-মায়ের মতোই হয়ে থাকে। আর এর কারণ হল, সন্তানরা বংশগতভাবে যে-বিষয়গুলো পেয়ে থাকে, তাতে বাবা এবং মা দু-জনেই অবদান রাখে। আমাদের স্বর্গীয় পিতা যিহোবা হলেন জীবনের উৎস। (গীত. ৩৬:৯) আর মানব সন্তান হিসেবে আমরা কিছুটা হলেও তাঁর মতো। যেহেতু আমাদেরকে তাঁর প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই আমাদের যুক্তি করার ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ও তা বজায় রাখার ক্ষমতা রয়েছে।—আদি. ১:২৬.

২. কীসের ভিত্তিতে যিহোবা আমাদের বন্ধু হতে পারেন?

যিহোবা আমাদের সর্বোত্তম বন্ধু হতে পারেন। এই ধরনের বন্ধুত্বের ভিত্তি হল, আমাদের প্রতি ঈশ্বরের প্রেম এবং তাঁর ও তাঁর পুত্রের প্রতি আমাদের বিশ্বাস। যিশু বলেছিলেন: “ঈশ্বর জগৎকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্ত্রকে দান করিলেন, যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।” (যোহন ৩:১৬) এমন অনেকের উদাহরণ রয়েছে, যাদের সঙ্গে যিহোবার এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আসুন আমরা এদের মধ্যে দু-জন ব্যক্তির কথা বিবেচনা করি।

‘আমার বন্ধু অব্রাহাম’

৩, ৪. যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে অব্রাহাম ও তার বংশধরদের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরুন।

যিহোবা ইস্রায়েলের কুলপতি এবং পূর্বপুরুষ সম্বন্ধে এভাবে উল্লেখ করেছিলেন, ‘আমার বন্ধু অব্রাহাম।’ (যিশা. ৪১:৮) দ্বিতীয় বংশাবলি ২০:৭ পদেও অব্রাহামকে ঈশ্বরের মিত্র বা বন্ধু বলা হয়েছে। তার সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে এই বিশ্বস্ত ব্যক্তির স্থায়ী  বন্ধুত্বের ভিত্তি কী ছিল? এর ভিত্তি ছিল অব্রাহামের বিশ্বাস।—আদি. ১৫:৬; পড়ুন, যাকোব ২:২১-২৩.

মূলত যিহোবাই ছিলেন অব্রাহামের বংশধরদের পিতা এবং বন্ধু, যারা প্রাচীন ইস্রায়েল জাতি হয়ে উঠেছিল। কিন্তু, দুঃখের বিষয় হল, ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব শেষ হয়ে গিয়েছিল। কেন? কারণ তারা যিহোবার প্রতিজ্ঞাগুলোর ওপর বিশ্বাস দেখিয়ে চলতে ব্যর্থ হয়েছিল।

৫, ৬. (ক) কীভাবে যিহোবা আপনার বন্ধু হয়ে উঠেছেন? (খ) কোন প্রশ্নগুলোর প্রতি আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত?

আপনি যত বেশি যিহোবা সম্বন্ধে জানবেন, ততই তাঁর প্রতি আপনার বিশ্বাস শক্তিশালী হবে এবং তাঁর প্রতি আপনার ভালোবাসা গভীর হয়ে উঠবে। সেই সময়ের কথা চিন্তা করে দেখুন, যখন আপনি ঈশ্বরকে এমন একজন বাস্তব ব্যক্তি হিসেবে জানতে পেরেছিলেন, যাঁর সঙ্গে আপনি এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। আপনি এও শিখেছিলেন যে, আমরা সকলেই আদমের অবাধ্যতার কারণে পাপ নিয়ে জন্মেছি। আপনি বুঝতে পেরেছিলেন, পুরো মানবজাতি ঈশ্বরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। (কল. ১:২১) এরপর আপনি বুঝতে পেরেছিলেন, আমাদের প্রেমময় স্বর্গীয় পিতা দূরবর্তী কোনো ব্যক্তি নন, যাঁর আমাদের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। আমরা যখন জানতে পেরেছি যে, তিনি যিশুর মাধ্যমে মুক্তির মূল্যের ব্যবস্থা করেছেন এবং আমরা যখন সেই ব্যবস্থায় বিশ্বাস দেখাতে আরম্ভ করেছি, তখন আমরা ঈশ্বরের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে শুরু করেছি।

এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করার পর, আমাদের হয়তো নিজেদের জিজ্ঞেস করা উচিত: ‘ঈশ্বরের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে আমি কি উন্নতি করছি? তাঁর ওপর আমি কি পূর্ণরূপে নির্ভর করি এবং আমার প্রিয় বন্ধু যিহোবার প্রতি আমার প্রেম কি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে?’ প্রাচীন কালের আরেকজন ব্যক্তির সঙ্গে যিহোবার এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল আর তিনি হলেন গিদিয়োন। আসুন এখন আমরা তার চমৎকার উদাহরণ বিবেচনা করি এবং তা অনুসরণ করি।

“সদাপ্রভু শান্তি”

৭-৯. (ক) গিদিয়োনের কোন উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা হয়েছিল এবং এর ফল কী হয়েছিল? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।) (খ) কীভাবে আমরা যিহোবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব দৃঢ় করতে পারি?

ইস্রায়েল জাতি প্রতিজ্ঞাত দেশে প্রবেশ করার পর, তাদের ইতিহাসের এক ভয়াবহ সময়ে বিচারক গিদিয়োন যিহোবার সেবা করতেন। বিচারকর্ত্তৃগণের বিবরণ বইয়ের ৬ অধ্যায় বলে যে, যিহোবার দূত অফ্রাতে গিদিয়োনকে দেখা দিয়েছিলেন। সেই সময়, পাশে বসবাসরত মিদিয়নীয়রা ইস্রায়েলের জন্য হুমকি স্বরূপ ছিল। সেই কারণে গিদিয়োন খোলা মাঠে নয় বরং দ্রাক্ষা মাড়ানোর কুণ্ডে গম মাড়াই করছিলেন, যেখানে তিনি চাইলেই তাড়াতাড়ি করে সেই মূল্যবান শস্য লুকিয়ে ফেলতে পারবেন। সেই দূত যখন তাকে দেখা দিয়েছিলেন এবং তাকে “বলবান বীর” বলে উল্লেখ করেছিলেন, তখন গিদিয়োন এই বিষয়টা নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন যে, আসলেই যিহোবা তাদেরকে সাহায্য করবেন কি না, যিনি ইস্রায়েলীয়দেরকে মিশর থেকে উদ্ধার করেছিলেন। সৃষ্টিকর্তার হয়ে সেই দূত গিদিয়োনকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, যিহোবা আসলেই তাকে সাহায্য করছেন।

গিদিয়োন এই ভেবে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন যে, কীভাবে তার পক্ষে “মিদিয়নের হস্ত হইতে ইস্রায়েলকে নিস্তার” করা সম্ভব। যিহোবা তাকে সরাসরি এই উত্তর দিয়েছিলেন: “নিশ্চয়ই আমি তোমার সহবর্ত্তী হইব; আর তুমি মিদিয়নীয়দিগকে এক মনুষ্যবৎ আঘাত করিবে।” (বিচার. ৬:১১-১৬) কোনো সন্দেহ নেই যে, তার পরও কীভাবে এটা হবে, তা বুঝতে না পেরে গিদিয়োন একটা চিহ্ন চেয়েছিলেন। লক্ষ করুন, এই আলোচনার মধ্যে কোনো সন্দেহ প্রকাশ না করে বরং গিদিয়োন যিহোবাকে একজন বাস্তব ব্যক্তি হিসেবে দেখেছিলেন।

এর পরে যা ঘটেছিল, তা গিদিয়োনের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছিল এবং তাকে ঈশ্বরের আরও নিকটবর্তী করেছিল। গিদিয়োন খাবার তৈরি করে তা দূতের সামনে পরিবেশন করেছিলেন। সেই খাবার যখন দূতের দণ্ডের স্পর্শের ফলে আগুনে ভস্ম হয়ে গিয়েছিল, তখন গিদিয়োন বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি আসলেই যিহোবার প্রতিনিধি। ভয় পেয়ে গিদিয়োন বলে উঠেছিলেন: “হায় হায়, হে প্রভু সদাপ্রভু, কারণ আমি সম্মুখাসম্মুখি হইয়া সদাপ্রভুর দূতকে দেখিলাম।” (বিচার. ৬:১৭-২২) কিন্তু, সেই সাক্ষাৎ কি গিদিয়োন ও তার ঈশ্বরের মধ্যে কোনো বাধার সৃষ্টি করেছিল? নিশ্চিতভাবেই না! বরং এর বিপরীতটাই ঘটেছিল। গিদিয়োন যিহোবাকে এমন এক উপায়ে জানতে পেরেছিলেন যে, এর ফলে তিনি ঈশ্বরের সঙ্গে শান্তি অনুভব করেছিলেন। সেই স্থানে গিদিয়োন যে-বেদি নির্মাণ করেছিলেন, সেটার নাম থেকে আমরা তা জানতে পারি। আর সেটা হল, “যিহোবাশালোম,” যার  অর্থ “সদাপ্রভু শান্তি।” (পড়ুন, বিচারকর্ত্তৃগণের বিবরণ ৬:২৩, ২৪.) যিহোবা প্রতিদিন আমাদের জন্য যা করেন, সেটা নিয়ে আমরা যখন ধ্যান করি, তখন আমরা বুঝতে পারি যে, সত্যিই তিনি আমাদের প্রকৃত বন্ধু। নিয়মিতভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার ফলে আমাদের শান্তি বৃদ্ধি পায় এবং তাঁর সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব দৃঢ় হয়।

কে ‘সদাপ্রভুর তাম্বুতে প্রবাস’ করবে?

১০. আমরা যদি যিহোবার বন্ধু হতে চাই, তাহলে গীতসংহিতা ১৫:৩, ৫ পদ অনুসারে তিনি আমাদের কাছ থেকে কী চান?

১০ কিন্তু, যিহোবাকে আমাদের বন্ধু হিসেবে পেতে চাইলে আমাদেরকে অবশ্যই কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। ‘সদাপ্রভুর তাম্বুতে প্রবাস করিবার’ অর্থাৎ ঈশ্বরের একজন বন্ধু হওয়ার জন্য আমাদের কী করা প্রয়োজন, তা দায়ূদ গীতসংহিতার ১৫ গীতে লিপিবদ্ধ করেছেন। (গীত. ১৫:১) আসুন আমরা দুটো চাহিদার প্রতি মনোযোগ দিই। একটা হল পরীবাদ বা অপবাদ এড়িয়ে চলা এবং আরেকটা হল আমাদের সমস্ত কাজে সৎ হওয়া। যিহোবার তাঁবুর একজন প্রবাসকারী সম্বন্ধে দায়ূদ এই বিষয়গুলোই উল্লেখ করেছিলেন: তিনি ‘পরীবাদ জিহ্বাগ্রে আনেন না, নির্দ্দোষের বিরুদ্ধে উৎকোচ লন না।’—গীত. ১৫:৩, ৫.

১১. কেন আমাদের অবশ্যই কাউকে অপবাদ দেওয়া এড়িয়ে চলতে হবে?

১১ আরেকটা গীতে দায়ূদ সাবধান করে দিয়েছিলেন: ‘তুমি হিংসা [“মন্দ,” বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন] হইতে তোমার জিহ্বাকে সাবধানে রাখ।’ (গীত. ৩৪:১৩) এই অনুপ্রাণিত পরামর্শে মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হলে, তা আমাদের ও আমাদের ধর্মময় স্বর্গীয় পিতার মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করবে। সত্যি বলতে কী, অপবাদ হল যিহোবার প্রধান শত্রু শয়তানের একটা বৈশিষ্ট্য। যে-গ্রিক শব্দ থেকে “দিয়াবল” শব্দটা এসেছে, সেটার অর্থ হল “অপবাদক।” অন্যদের সম্বন্ধে আমাদের কথাবার্তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখলে, তা আমাদেরকে যিহোবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করবে। এটা বিশেষভাবে মণ্ডলীর নিযুক্ত পুরুষদের প্রতি আমাদের মনোভাবের বেলায় সত্য।—পড়ুন, ইব্রীয় ১৩:১৭; যিহূদা ৮.

১২, ১৩. (ক) কেন আমাদের সমস্ত বিষয়ে সৎ থাকা উচিত? (খ) আমাদের সততা কীভাবে অন্যদের প্রভাবিত করতে পারে?

১২ অন্যদের কাছ থেকে স্বার্থ লাভের চেষ্টা নয় বরং সততাই হচ্ছে যিহোবার দাসদের বৈশিষ্ট্য। প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “আমাদের নিমিত্ত প্রার্থনা কর, কেননা আমরা নিশ্চয় জানি, আমাদের সৎসংবেদ আছে, সর্ব্ববিষয়ে সদাচরণ করিতে বাঞ্ছা করিতেছি।” (ইব্রীয় ১৩:১৮) যেহেতু আমরা ‘সর্ব্ববিষয়ে সদাচরণ করিবার’ জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ, তাই আমরা আমাদের খ্রিস্টান ভাই-বোনদের কাছ থেকে সুবিধা লাভ করার বিষয়টা এড়িয়ে চলি। উদাহরণ স্বরূপ, তারা যদি আমাদের অধীনে কাজ করে, তাহলে আমাদের লক্ষ রাখতে হবে যেন তাদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করা হয় এবং তাদেরকে চুক্তি অনুযায়ী বেতন দেওয়া হয়। খ্রিস্টান হিসেবে আমরা আমাদের কর্মচারী এবং অন্য সকলের সঙ্গে সৎ আচরণ করি। আর আমরা যদি কোনো সহখ্রিস্টানের অধীনে কাজ করি, তাহলে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন আমরা অযথা তার কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা দাবি না করি।

১৩ জগতের লোকেরা প্রায়ই যিহোবার সাক্ষিদেরকে তাদের সততার জন্য প্রশংসা করে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ, একটা বড়ো নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এই বিষয়টা লক্ষ করেছিলেন যে, যিহোবার সাক্ষিরা তাদের কথা রাখে। তিনি বলেছিলেন, “আপনারা সবসময়ই আপনাদের চুক্তি অনুযায়ী কাজ করেন।” (গীত. ১৫:৪) এই ধরনের আচরণ আমাদেরকে যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া, এটা আমাদের প্রেমময় স্বর্গীয় পিতার জন্যও প্রশংসা নিয়ে আসে।

অন্যদেরকে যিহোবার বন্ধু হতে সাহায্য করুন

আমরা অন্যদেরকে যিহোবার বন্ধু হয়ে উঠতে সাহায্য করি (১৪, ১৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৪, ১৫. প্রচার কাজের সময় কীভাবে আমরা অন্যদেরকে যিহোবার বন্ধু হয়ে ওঠার জন্য সাহায্য করতে পারি?

১৪ যাদের কাছে আমরা প্রচার করি, তাদের মধ্যে অনেকে যদিও ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে কিন্তু তারা তাঁকে তাদের সর্বোত্তম বন্ধু হিসেবে দেখে না। কীভাবে আমরা তাদের সাহায্য করতে পারি? ৭০ জন শিষ্যকে দু-জন দু-জন করে প্রচারে পাঠানোর সময় যিশু তাদেরকে যে-নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা বিবেচনা করে দেখুন: “আর যে কোন বাটীতে প্রবেশ করিবে, প্রথমে বলিও, এই গৃহে শান্তি বর্ত্তুক। আর তথায় যদি শান্তির সন্তান থাকে, তবে তোমাদের শান্তি তাহার উপরে অবস্থিতি করিবে, নতুবা তোমাদের প্রতি ফিরিয়া  আসিবে।” (লূক ১০:৫, ৬) আমরা আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের দ্বারা লোকেদেরকে সত্যের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারি। এটা হয়তো বিরোধী ব্যক্তিদের বিদ্বেষী মনোভাবকে দূর করতে এবং অন্য কোনো সময় তারা যাতে আমাদেরকে আরও ভালোভাবে গ্রহণ করে, সেটার পথ খোলা রাখতে সাহায্য করবে।

১৫ আমাদের যখন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, যারা মিথ্যা ধর্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত অথবা যারা অশাস্ত্রীয় রীতিনীতি পালন করে, তখনও আমরা বন্ধুত্বসুলভ এবং শান্তিপূর্ণ মনোভাব দেখিয়ে যেতে চাই। আমরা সেই ব্যক্তিদেরকে আমাদের সভাতে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে থাকি, যারা এই আধুনিক সমাজ দেখে হতাশ হয়ে পড়ে আর এর ফলে তাদের মধ্যে আমরা যে-ঈশ্বরের উপাসনা করি, তাঁর সম্বন্ধে আরও জানার আকাঙ্ক্ষা গড়ে ওঠে। “বাইবেল জীবনকে পরিবর্তন করে” শিরোনামের ধারাবাহিক প্রবন্ধগুলোর মধ্যে আমরা এইরকম অনেক চমৎকার উদাহরণ দেখতে পাই।

আমাদের সর্বোত্তম বন্ধুর সঙ্গে কাজ করা

১৬. কোন অর্থে আমরা যিহোবার বন্ধু এবং তাঁর “সহকার্য্যকারী” হিসেবে গণ্য হতে পারি?

১৬ যে-লোকেরা একসঙ্গে কাজ করে, তাদের মধ্যে প্রায়ই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। যিহোবার কাছে নিজেকে উৎসর্গ করেছে এমন সকলের তাঁর বন্ধু ও তাঁর “সহকার্য্যকারী” হিসেবে গণ্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। (পড়ুন, ১ করিন্থীয় ৩:৯.) সত্যিই, আমরা যখন প্রচার ও শিষ্য তৈরির কাজে অংশ নিই, তখন আমরা আমাদের স্বর্গীয় পিতার অপূর্ব গুণাবলি সম্বন্ধে আরও বেশি করে উপলব্ধি করতে পারি। আমরা বুঝতে পারি যে, কীভাবে তাঁর পবিত্র আত্মা আমাদেরকে সুসমাচার প্রচার করার কার্যভার পালন করতে সাহায্য করে।

১৭. কীভাবে সম্মেলনগুলোতে সরবরাহকৃত আধ্যাত্মিক খাদ্য দেখায় যে, যিহোবা হলেন আমাদের বন্ধু?

১৭ আমরা যত বেশি শিষ্য তৈরির কাজ করব, তত বেশি যিহোবার ঘনিষ্ঠ হতে পারব। উদাহরণ স্বরূপ, আমরা লক্ষ করি যে, কীভাবে যিহোবা বিরোধীদের ব্যর্থ করে দেন। বিগত কয়েক বছরের কথা বিবেচনা করুন। আমরা কি স্পষ্টভাবে দেখতে পাই না যে, ঈশ্বর আমাদের পরিচালনা দিচ্ছেন? তিনি ক্রমাগত প্রচুর পরিমাণে আধ্যাত্মিক খাদ্য জোগাচ্ছেন বলে আমরা বিস্মিত হই। আমাদের সম্মেলনগুলোর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, যিহোবা প্রেমের সঙ্গে আমাদের সমস্যা এবং প্রয়োজনগুলো বুঝতে পারেন। একটা সম্মেলনের প্রতি উপলব্ধি প্রকাশ করে এক পরিবার একটা চিঠিতে লিখেছিল: “সেই কার্যক্রম আসলেই আমাদের হৃদয়ে পৌঁছেছে। আমরা বুঝতে পেরেছি যে, যিহোবা আমাদের প্রত্যেককে কতটা ভালোবাসেন এবং আমাদের ভালো চান।” জার্মানির এক দম্পতি আয়ার্ল্যান্ডে একটা বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিল। সেখানে তাদেরকে যে-উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল এবং যেভাবে যত্ন নেওয়া হয়েছিল, সেটার প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং আরও বলে: “কিন্তু, আমরা যিহোবাকে এবং তাঁর রাজা যিশু খ্রিস্টকে সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারাই আমাদেরকে এই প্রকৃত ঐক্যবদ্ধ জাতির অংশ হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমরা কেবল আমাদের একতা নিয়ে মুখেই বলি না কিন্তু সেইসঙ্গে প্রতিদিন বাস্তবেও তা উপভোগ করি। ডাবলিনে অনুষ্ঠিত  বিশেষ সম্মেলনে আমাদের যে-অভিজ্ঞতাগুলো হয়েছিল, সেগুলো আমাদেরকে সবসময় আপনাদের সকলের সঙ্গে একত্রে আমাদের সর্বমহান ঈশ্বরের সেবা করার মূল্যবান সুযোগের কথা মনে করিয়ে দেয়।”

বন্ধুরা ভাববিনিময় করে

১৮. যিহোবার সঙ্গে আমাদের ভাববিনিময়ের ক্ষেত্রে আমরা হয়তো নিজেদেরকে কী জিজ্ঞেস করতে পারি?

১৮ উত্তম ভাববিনিময় বজায় রাখলে বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। বর্তমানে ইন্টারনেট এবং টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগের ব্যবস্থা এবং টেক্সট ম্যাসেজ খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু, এর বিপরীতে কীভাবে আমরা ব্যক্তি বিশেষ হিসেবে আমাদের সর্বোত্তম বন্ধু যিহোবার সঙ্গে যোগাযোগ করি? এটা ঠিক যে, তিনি হলেন “প্রার্থনা-শ্রবণকারী।” (গীত. ৬৫:২) কিন্তু, তাঁর সঙ্গে আমরা কত বার কথা বলি?

১৯. আমরা যদি মন খুলে আমাদের স্বর্গীয় পিতার সঙ্গে কথা বলাকে কঠিন বলে মনে করি, তাহলে আমাদের কোন সাহায্য রয়েছে?

১৯ ঈশ্বরের কিছু দাস হৃদয় খুলে তাদের গভীর অনুভূতির কথা প্রকাশ করাকে কঠিন বলে মনে করে। কিন্তু, যিহোবা চান যেন আমরা হৃদয় খুলেই প্রার্থনা করি। (গীত. ১১৯:১৪৫; বিলাপ ৩:৪১) এমনকী এইরকম আন্তরিক অভিব্যক্তিগুলোকে ভাষায় প্রকাশ করা আমাদের কাছে যদি কঠিন বলে মনে হয়, তবুও আমাদের হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। পৌল রোমের খ্রিস্টানদের লিখেছিলেন: “উচিত মতে কি প্রার্থনা করিতে হয়, তাহা আমরা জানি না, কিন্তু আত্মা আপনি অবক্তব্য আর্ত্তস্বর দ্বারা আমাদের পক্ষে অনুরোধ করেন। আর যিনি হৃদয় সকলের অনুসন্ধান করেন, তিনি জানেন, আত্মার ভাব কি, কারণ ইনি পবিত্রগণের পক্ষে ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারেই অনুরোধ করেন।” (রোমীয় ৮:২৬, ২৭) ইয়োব, গীতসংহিতা এবং হিতোপদেশ-এর মতো বাইবেলের বইগুলোতে লিপিবদ্ধ কথাগুলো নিয়ে আমরা যদি ধ্যান করি, তাহলে তা আমাদেরকে যিহোবার কাছে আমাদের মনের কথা খুলে বলতে সাহায্য করবে।

২০, ২১. ফিলিপীয় ৪:৬, ৭ পদে বলা পৌলের কথাগুলো কোন সান্ত্বনা প্রদান করে?

২০ আমরা যখন কোনো দুর্দশামূলক পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, তখন আসুন আমরা ফিলিপীয়দের প্রতি বলা পৌলের এই অনুপ্রাণিত উপদেশে মনোযোগ দিই: “কোন বিষয়ে ভাবিত হইও না, কিন্তু সর্ব্ববিষয়ে প্রার্থনা ও বিনতি দ্বারা ধন্যবাদ সহকারে তোমাদের যাচ্ঞা সকল ঈশ্বরকে জ্ঞাত কর।” আমাদের সর্বোত্তম বন্ধুর সঙ্গে এইরকম খোলাখুলি ভাববিনিময় নিশ্চিতভাবে আমাদের জন্য সান্ত্বনা ও স্বস্তি নিয়ে আসবে কারণ পৌল আরও বলেছিলেন: “সমস্ত চিন্তার অতীত যে ঈশ্বরের শান্তি তাহা তোমাদের হৃদয় ও মন খ্রীষ্ট যীশুতে রক্ষা করিবে।” (ফিলি. ৪:৬, ৭) আমরা যেন সবসময় অতুলনীয় ‘ঈশ্বরের শান্তিকে’ মূল্যবান বলে গণ্য করি, যা প্রকৃতই আমাদের হৃদয় ও মনকে রক্ষা করে।

কীভাবে প্রার্থনা ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করে? (২১ অনুচ্ছেদ দেখুন)

২১ প্রার্থনা আমাদেরকে যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। তাই আসুন আমরা ‘অবিরত প্রার্থনা করি।’ (১ থিষল. ৫:১৭) এই অধ্যয়ন যেন ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের মূল্যবান সম্পর্ককে এবং তাঁর ধার্মিক চাহিদাগুলো মেনে চলার বিষয়ে আমাদের দৃঢ়সংকল্পকে শক্তিশালী করে। এ ছাড়া, আমরা যে-আশীর্বাদগুলো উপভোগ করি, আসুন আমরা সেগুলো নিয়ে ধ্যান করার জন্য সময় করে নিই কারণ যিহোবা সত্যিই আমাদের পিতা, আমাদের ঈশ্বর এবং আমাদের বন্ধু।