“আইস, আমরা আনন্দ ও উল্লাস করি, . . . কারণ মেষশাবকের বিবাহ উপস্থিত হইল।”—প্রকা. ১৯:৭.

১, ২. (ক) কার বিবাহের জন্য স্বর্গে বিশেষভাবে আনন্দ করা হবে? (খ) কোন প্রশ্নগুলো উত্থাপিত হয়?

একটা বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে হলে সবসময়ই সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু, আমরা অত্যন্ত বিশেষ এক বিয়ের দিকে মনোযোগ দেব আর তা হল এক রাজকীয় বিয়ে। একটু কল্পনা করুন! প্রায় ২,০০০ বছর ধরে এই বিবাহের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেই সময় এখন দ্রুত এগিয়ে আসছে, যখন বর তাঁর কনের সঙ্গে মিলিত হবেন। শীঘ্র, প্রাসাদে সংগীত শোনা যাবে এবং স্বর্গীয়বাহিনী এই গান গাইবে: “হাল্লিলূয়া, কেননা আমাদের ঈশ্বর প্রভু, যিনি সর্ব্বশক্তিমান্‌, তিনি রাজত্ব গ্রহণ করিলেন। আইস, আমরা আনন্দ ও উল্লাস করি, এবং তাঁহাকে গৌরব প্রদান করি, কারণ মেষশাবকের বিবাহ উপস্থিত হইল, এবং তাঁহার ভার্য্যা আপনাকে প্রস্তুত করিল।”—প্রকা. ১৯:৬, ৭.

যে-‘মেষশাবকের’ বিবাহের জন্য স্বর্গে আনন্দ করা হবে, তিনি হলেন যিশু খ্রিস্ট। (যোহন ১:২৯) বিবাহের জন্য তিনি কেমন বস্ত্র পরবেন? তাঁর কনে কে? কীভাবে এই কনে বিবাহের জন্য প্রস্তুত হন? কখন বিবাহ হবে? এই বিবাহের জন্য স্বর্গে আনন্দ করা হবে কিন্তু পৃথিবীতে চিরকাল বাস করার আশা রয়েছে  এমন ব্যক্তিরা কি সেই আনন্দে যোগ দেবে? গীতসংহিতার ৪৫ গীত নিয়ে পরীক্ষা করে চলার সময় আমরা উৎসুক মনোভাব সহকারে এই প্রশ্নগুলো বিবেচনা করব।

‘তাঁহার বস্ত্র সুগন্ধিযুক্ত’

৩, ৪. (ক) বরের বিবাহ বস্ত্র সম্বন্ধে কী বলা যায় এবং কী তাঁর আনন্দকে বাড়িয়ে দেয়? (খ) “রাজকন্যারা” এবং “রাজকীয় দল” কারা, যারা বরের সঙ্গে আনন্দ করবে?

গীতসংহিতা ৪৫:৮, ৯ পদ পড়ুন। বর হিসেবে যিশু খ্রিস্ট চমৎকার রাজকীয় বিবাহ বস্ত্র পরেন। উপযুক্তভাবেই, তাঁর বস্ত্র থেকে গন্ধরস এবং দারুচিনির মতো ‘উত্তম উত্তম সুগন্ধি দ্রব্যের’ মিষ্টি সুবাস ছড়ায়। আর এই সুগন্ধি দ্রব্যগুলো ইস্রায়েলে অভিষেকার্থ পবিত্র তৈলে ব্যবহার করা হতো।—যাত্রা. ৩০:২৩-২৫.

তাঁর প্রাসাদ যখন স্বর্গীয় সংগীতে পূর্ণ হয়ে যায়, তখন বরের আনন্দ বেড়ে যায় কারণ তাঁর বিবাহের সময় এগিয়ে আসে। তাঁর সঙ্গে “রাণী,” ঈশ্বরের সংগঠনের স্বর্গীয় অংশও আনন্দ করবে আর এদের মধ্যে “রাজকন্যারা” অর্থাৎ স্বর্গদূতেরাও রয়েছে। স্বর্গীয়বাহিনীকে এই ঘোষণা করতে শোনা কতই-না রোমাঞ্চকর: “আইস, আমরা আনন্দ ও উল্লাস করি, . . . কারণ মেষশাবকের বিবাহ উপস্থিত হইল”!

কনে বিবাহের জন্য প্রস্তুত হন

৫. ‘মেষশাবকের ভার্য্যা’ কে?

গীতসংহিতা ৪৫:১০, ১১ পদ পড়ুন। আমরা বরকে শনাক্ত করেছি কিন্তু তাঁর কনে কে? তিনি হলেন মণ্ডলীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত এক যৌথ কনে, যে-মণ্ডলীর মস্তক হলেন যিশু খ্রিস্ট। (পড়ুন, ইফিষীয় ৫:২৩, ২৪.) তারা খ্রিস্টের মশীহ রাজ্যের এক অংশ হয়ে উঠবে। (লূক ১২:৩২) এই ১,৪৪,০০০ জন আত্মায় অভিষিক্ত খ্রিস্টানরা “যে কোন স্থানে মেষশাবক গমন করেন, সেই স্থানে . . . তাঁহার অনুগামী হয়।” (প্রকা. ১৪:১-৪) তারা ‘মেষশাবকের ভার্য্যা’ হয় আর তাঁর সঙ্গে স্বর্গীয় আবাসে বাস করে।—প্রকা. ২১:৯; যোহন ১৪:২, ৩.

৬. কেন অভিষিক্ত ব্যক্তিদের “রাজকন্যা” বলে উল্লেখ করা হয়েছে আর কেন তাদেরকে ‘তাহাদের জাতিকে ভুলিয়া যাইতে’ বলা হয়েছে?

ভাবী কনেকে “রাজকন্যা” বলে অভিহিত করা হয়েছে। (গীত. ৪৫:১৩) তাহলে এই “রাজা” কে? অভিষিক্ত খ্রিস্টানদেরকে যিহোবার “সন্তান” হিসেবে দত্তক নেওয়া হয়েছে। (রোমীয় ৮:১৫-১৭) যেহেতু তাদের স্বর্গীয় কনে হওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাই অভিষিক্ত ব্যক্তিদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: “তোমার জাতি ও তোমার পিতৃকুল ভুলিয়া যাও।” তাদেরকে “ঊর্দ্ধস্থ বিষয়” নিয়ে ভাবতে বলা হয়েছে ‘পৃথিবীস্থ বিষয় নয়।’

৭. (ক) কীভাবে খ্রিস্ট তাঁর ভাবী কনেকে প্রস্তুত করছেন? (খ) কনে তার ভাবী বরকে কীভাবে দেখেন?

শত শত বছর ধরে, খ্রিস্ট তাঁর ভাবী কনেকে স্বর্গীয় বিবাহের জন্য প্রস্তুত করছেন। প্রেরিত পৌল ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, খ্রিস্ট “মণ্ডলীকে প্রেম করিলেন, আর তাহার নিমিত্ত আপনাকে প্রদান করিলেন; যেন তিনি জলস্নান দ্বারা বাক্যে তাহাকে শুচি করিয়া পবিত্র করেন, যেন আপনি আপনার কাছে মণ্ডলীকে প্রতাপান্বিত অবস্থায় উপস্থিত করেন, যেন তাহার কলঙ্ক বা সঙ্কোচ বা এই প্রকার আর কোন কিছু না থাকে, বরং সে যেন পবিত্র ও অনিন্দনীয় হয়।” (ইফি. ৫:২৫-২৭) পৌল প্রাচীন করিন্থের অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের বলেছিলেন: “ঈশ্বরীয় অন্তর্জ্বালায় তোমাদের জন্য আমার অন্তর্জ্বালা হইতেছে, কেননা আমি তোমাদিগকে সতী কন্যা বলিয়া একই বর খ্রীষ্টের হস্তে সমর্পণ করিবার জন্য বাগ্দান করিয়াছি।” (২ করি. ১১:২) বর যিশু খ্রিস্ট তাঁর ভাবী কনের আধ্যাত্মিক ‘সৌন্দর্য্যের’ প্রশংসা করেন। আর কনে বরকে তার “প্রভু” বলে স্বীকার করেন এবং ভাবী স্বামী হিসেবে ‘তাঁহার কাছে প্রণিপাত করেন।’

কনে ‘রাজার নিকটে আনীতা হন’

৮. কেন এটা উপযুক্ত যে, কনেকে “সর্ব্বতোভাবে সুশোভিতা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে?

গীতসংহিতা ৪৫:১৩, ১৪ক পদ পড়ুন। কনেকে রাজকীয় বিয়ের জন্য “সর্ব্বতোভাবে  সুশোভিতা” হিসেবে উপস্থিত করা হয়। প্রকাশিত বাক্য ২১:২ পদে কনেকে একটা নগরের সঙ্গে, নতুন যিরূশালেমের সঙ্গে তুলনা করা হয় এবং বলা হয় যে, তিনি “আপন বরের নিমিত্ত বিভূষিতা” হয়েছেন। স্বর্গীয় নগর “ঈশ্বরের প্রতাপবিশিষ্ট” এবং এর জ্যোতি “বহুমূল্য মণির, স্ফটিকবৎ নির্ম্মল সূর্য্যকান্তমণির তুল্য।” (প্রকা. ২১:১০, ১১) প্রকাশিত বাক্য বইয়ে নতুন যিরূশালেমের সৌন্দর্য সম্বন্ধে চমৎকারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। (প্রকা. ২১:১৮-২১) তাই, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, গীতরচক কনেকে “সর্ব্বতোভাবে সুশোভিতা” বলে অভিহিত করেছেন! সবচেয়ে বড়ো কথা হল, এই রাজকীয় বিয়ে স্বর্গে হচ্ছে।

৯. সেই ‘রাজা’ কে, যাঁর কাছে কনেকে নিয়ে আসা হয় এবং কীভাবে তাকে সজ্জিত করা হয়?

কনেকে যাঁর কাছে নিয়ে আসা হয়, তিনি হলেন বর, মশীহ রাজা। ‘তিনি জলস্নান দ্বারা বাক্যে তাহাকে শুচি করিয়া’ প্রস্তুত করেন। তাই, সেই কনে “পবিত্র ও অনিন্দনীয়।” (ইফি. ৫:২৬, ২৭) তাকেও সেই উপলক্ষ্যের জন্য উপযুক্তভাবে সজ্জিত হতে হবে। আর তিনি সেভাবেই সজ্জিত হন! বাস্তবিকপক্ষে, “তাঁহার পরিচ্ছদ স্বর্ণসূত্র-খচিত” এবং “তিনি সূচীশিল্পিত বস্ত্র পরিয়া রাজার নিকটে আনীতা হইবেন।” মেষশাবকের বিয়ের জন্য “ইহাকে এই বর দত্ত হইল যে, সে উজ্জ্বল ও শুচি মসীনা-বস্ত্রে আপনাকে সজ্জিত করে, কারণ সেই মসীনা-বস্ত্র পবিত্রগণের ধর্ম্মাচরণ।”—প্রকা. ১৯:৮.

“বিবাহ উপস্থিত হইল”

১০. কখন মেষশাবকের বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা?

১০ প্রকাশিত বাক্য ১৯:৭ পদ পড়ুন। কখন মেষশাবকের বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা? যদিও “তাঁহার ভার্য্যা আপনাকে” বিয়ের জন্য ‘প্রস্তুত করে,’ তবে পরে যে-বিষয়গুলো বলা হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত বিয়ের বর্ণনা নয়। এর পরিবর্তে, এটা মহাক্লেশের চূড়ান্ত পর্যায় সম্বন্ধে এক স্পষ্ট বর্ণনা দেয়। (প্রকা. ১৯:১১-২১) এর অর্থ কি এই যে, রাজা ও বর তাঁর জয় সম্পন্ন করার আগেই বিবাহ অনুষ্ঠিত হবে? না। প্রকাশিত বাক্য বইয়ের দর্শনগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়নি। ৪৫ গীতে রাজা, যিশু খ্রিস্ট তাঁর খড়্‌গ বন্ধন করার এবং তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে ‘কৃতকার্য্য হইবার’ পর বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।—গীত. ৪৫:৩, ৪.

১১. খ্রিস্ট ধারাবাহিকভাবে কোন বিষয়গুলো করার মাধ্যমে তাঁর জয় সম্পন্ন করবেন?

১১ তাহলে আমরা এই উপসংহারে আসতে পারি যে, ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে এভাবে ঘটবে: প্রথমে, “মহাবেশ্যা,” মহতী বাবিল অর্থাৎ মিথ্যা ধর্মের বিশ্ব সাম্রাজ্যের ওপর বিচার নিয়ে আসা হবে। (প্রকা. ১৭:১, ৫, ১৬, ১৭; ১৯:১, ২) এরপর খ্রিস্ট ‘সর্ব্বশক্তিমান্‌ ঈশ্বরের সেই মহাদিনের যুদ্ধ’ আরমাগিদোনের সময় পৃথিবীতে শয়তানের বাকি দুষ্ট বিধিব্যবস্থার ওপর ঈশ্বরের বিচার নিয়ে আসবেন। (প্রকা. ১৬:১৪-১৬; ১৯:১৯-২১) সবশেষে, রাজা ও যোদ্ধা হিসেবে খ্রিস্ট শয়তান এবং তার মন্দদূতদের অগাধলোকে নিক্ষেপ করার, তাদেরকে একেবারে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর জয় সম্পন্ন করবেন।—প্রকা. ২০:১-৩.

১২, ১৩. (ক) কখন মেষশাবকের বিবাহ অনুষ্ঠিত হবে? (খ) স্বর্গে কারা মেষশাবকের বিবাহে আনন্দ করবে?

১২ খ্রিস্টের উপস্থিতির সময়, অভিষিক্ত খ্রিস্টানরা তাদের পার্থিব জীবন শেষ করার পর, স্বর্গীয় জীবনে পুনরুত্থিত হয়। মহতী বাবিলের ধবংসের কিছু সময় পর যিশু কনে শ্রেণীর বাকি সকল সদস্যের সঙ্গে মিলিত হবেন। (১ থিষল. ৪:১৬, ১৭) তাই, আরমাগিদোনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, ‘কন্যা’ শ্রেণীর সকল সদস্য স্বর্গে থাকবে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মেষশাবকের বিবাহ অনুষ্ঠিত হবে। সেই বিবাহ কতই-না আনন্দপূর্ণ এক উপলক্ষ্য হবে! প্রকাশিত বাক্য ১৯:৯ পদ বলে, “ধন্য তাহারা, যাহারা মেষশাবকের বিবাহভোজে নিমন্ত্রিত।” কনে শ্রেণীর ১,৪৪,০০০ জন সদস্য সত্যিই আনন্দিত হবে। আর রাজা ও বর হিসেবে খ্রিস্ট তাঁর রাজকীয় সহযোগীদের পূর্ণ সংখ্যা দেখে  উল্লসিত হবেন, যারা রূপকভাবে ‘তাঁহার রাজ্যে তাঁহার মেজে ভোজন পান করে।’ (লূক ২২:১৮, ২৮-৩০) কিন্তু, মেষশাবকের বিয়েতে কেবল বর এবং কনেই আনন্দ করবে না।

১৩ আগে আমরা যেমন লক্ষ করেছি, স্বর্গীয়বাহিনী একত্রে এই গান গায়: “আইস, আমরা আনন্দ ও উল্লাস করি, এবং তাঁহাকে [যিহোবাকে] গৌরব প্রদান করি, কারণ মেষশাবকের বিবাহ উপস্থিত হইল, এবং তাঁহার ভার্য্যা আপনাকে প্রস্তুত করিল।” (প্রকা. ১৯:৬, ৭) কিন্তু, পৃথিবীতে যিহোবার যে-দাসেরা রয়েছে, তাদের সম্বন্ধে কী বলা যায়? তারাও কি এই আনন্দে অংশ নেবে?

‘তাহারা আনন্দে আনীতা হইবে’

১৪. গীতসংহিতার ৪৫ গীতে উল্লেখিত কনের ‘সহচরী কুমারীগণ’ কারা?

১৪ গীতসংহিতা ৪৫:১২, ১৪খ, ১৫ পদ পড়ুন। ভাববাদী সখরিয় ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন যে, শেষকালে বিভিন্ন জাতির লোকেরা আত্মিক ইস্রায়েলের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে যোগ দেবে। তিনি লিখেছিলেন: “তৎকালে জাতিগণের সর্ব্ব ভাষাবাদী দশ দশ পুরুষ এক এক যিহূদী পুরুষের বস্ত্রের অঞ্চল ধরিয়া এই কথা কহিবে, আমরা তোমাদের সহিত যাইব, কেননা আমরা শুনিলাম, ঈশ্বর তোমাদের সহবর্ত্তী।” (সখ. ৮:২৩) গীতসংহিতা ৪৫:১২ পদে এই রূপক ‘দশ দশ পুরুষকে’ “সোর-কন্যা” এবং ‘ধনী প্রজা’ বলা হয়েছে। তারা অভিষিক্ত অবশিষ্টাংশের কাছে উপহার নিয়ে আসে এবং ‘তাহাদের কাছে বিনতি করে’ ও আধ্যাত্মিক সাহায্য লাভের চেষ্টা করে। ১৯৩৫ সাল থেকে, লক্ষ লক্ষ ব্যক্তি এই অবশিষ্টাংশকে সুযোগ দিয়েছে, যেন তারা ‘তাহাদিগকে ধার্ম্মিকতার প্রতি ফিরায়।’ (দানি. ১২:৩) অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের এই অনুগত সহযোগীরা তাদের জীবনকে বিশুদ্ধ করেছে এবং আধ্যাত্মিক কুমারী হয়েছে। কনের এই ‘সহচরী কুমারীগণ’ নিজেদেরকে  যিহোবার কাছে উৎসর্গ করেছে এবং রাজা ও বর খ্রিস্টের বিশ্বস্ত প্রজা হওয়ার প্রমাণ দিয়েছে।

১৫. কীভাবে ‘সহচরী কুমারীগণ’ সেই কনে শ্রেণীর সঙ্গে একত্রে কাজ করে, যারা এখনও পৃথিবীতে রয়েছে?

১৫ কনে শ্রেণীর এই অবশিষ্টাংশ বিশেষভাবে ‘সহচরী কুমারীদিগের’ কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ তারা পুরো পৃথিবীতে উদ্যোগের সঙ্গে “রাজ্যের এই সুসমাচার” প্রচার করায় সাহায্য করে। (মথি ২৪:১৪) কেবল “আত্মা ও কন্যা কহিতেছেন, আইস,” তা নয়, বরং যিনি শোনেন তিনিও বলেন, “আইস।” (প্রকা. ২২:১৭) হ্যাঁ, “আরও মেষ” অভিষিক্ত কনে শ্রেণীকে “আইস” বলতে শোনে আর তারাও কনের সঙ্গে পৃথিবীর অধিবাসীদেরকে “আইস” বলায় অংশ নেয়।—যোহন ১০:১৬.

১৬. আরও মেষকে যিহোবা কোন সুযোগ দিয়েছেন?

১৬ অভিষিক্ত অবশিষ্টাংশ তাদের সহযোগীদের ভালোবাসে। আর তারা এটা জেনে আনন্দিত যে, বরের পিতা যিহোবা পৃথিবীর এই আরও মেষকে স্বর্গে মেষশাবকের বিবাহে আনন্দ করায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। ভবিষ্যদ্‌বাণী করা হয়েছিল, এই ‘সহচরী কুমারীগণ আনন্দে ও উল্লাসে আনীতা হইবে।’ হ্যাঁ, আরও মেষ, যারা পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকার আশা রাখে, তারা স্বর্গে মেষশাবকের বিবাহে যে-আনন্দ হবে, তাতে অংশ নেবে। উপযুক্তভাবেই, প্রকাশিত বাক্য বইয়ে ‘বিস্তর লোকের’ সদস্যদেরকে এভাবে চিত্রিত করা হয়েছে যে, তারা “সিংহাসনের সম্মুখে ও মেষ শাবকের সম্মুখে দাঁড়াইয়া আছে।” তারা যিহোবার আত্মিক মন্দিরের পার্থিব প্রাঙ্গণে তাঁকে পবিত্র সেবা প্রদান করে।—প্রকা. ৭:৯, ১৫.

মেষশাবকের বিবাহ কনের ‘সহচরী কুমারীদিগের’ জন্য আনন্দ নিয়ে আসে (১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)

“তোমার পিতৃগণের পরিবর্ত্তে তোমার পুত্ত্রেরা থাকিবে”

১৭, ১৮. কীভাবে মেষশাবকের বিবাহ সফল হবে এবং তাঁর হাজার বছরের রাজত্বের সময় খ্রিস্ট কাদের পিতা হয়ে উঠবেন?

১৭ গীতসংহিতা ৪৫:১৬ পদ পড়ুন। খ্রিস্টের স্বর্গীয় কনের ‘সহচরী কুমারীগণ’ যখন নতুন জগতে সেই বিবাহকে সফল হতে দেখবে, তখন তাদের আনন্দ করার আরও কারণ থাকবে। রাজা ও বর খ্রিস্ট পৃথিবীর দিকে মনোযোগ দেবেন এবং তাঁর পার্থিব ‘পিতৃগণকে’ পুনরুত্থিত করবেন, যারা তাঁর পার্থিব ‘পুত্ত্র’ হয়ে উঠবে। (যোহন ৫:২৫-২৯; ইব্রীয় ১১:৩৫) এদের মধ্যে থেকে তিনি “সমস্ত পৃথিবীতে অধ্যক্ষ” নিযুক্ত করবেন। নিঃসন্দেহে, নতুন জগতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য খ্রিস্ট বর্তমানে বিশ্বস্ত প্রাচীনদের মধ্যে থেকে অন্যদেরও নিযুক্ত করবেন।—যিশা. ৩২:১.

১৮ তাঁর হাজার বছর রাজত্বের সময় খ্রিস্ট অন্যদেরও পিতা হবেন। সত্যি বলতে কী, পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসী যিশুর মুক্তির মূল্যরূপ বলিদানে বিশ্বাস দেখানোর কারণে অনন্তজীবন লাভ করার সুযোগ পাবে। (যোহন ৩:১৬) এভাবে তিনি তাদের “সনাতন পিতা” হয়ে উঠবেন।—যিশা. ৯:৬, ৭.

‘তাঁহার নাম স্মরণ করাইবার’ জন্য অনুপ্রাণিত হওয়া

১৯, ২০. গীতসংহিতা ৪৫ গীতে উল্লেখিত রোমাঞ্চকর ঘটনাগুলো কীভাবে বর্তমানে সমস্ত সত্য খ্রিস্টানকে প্রভাবিত করে?

১৯ গীতসংহিতা ৪৫:১, ১৭ পদ পড়ুন। সত্যিই, গীতসংহিতার ৪৫ গীতে লিপিবদ্ধ ঘটনাগুলো সমস্ত খ্রিস্টানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পৃথিবীতে অভিষিক্ত অবশিষ্টাংশরা শীঘ্র স্বর্গে তাদের ভাইদের ও তাদের বরের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার আশা রয়েছে বলে আনন্দ করে। আরও মেষ তাদের গৌরবান্বিত রাজার প্রতি আগের চেয়ে আরও বেশি বশীভূত থাকার জন্য অনুপ্রাণিত হয় এবং পৃথিবীতে তাঁর কনের অবশিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বিবাহের পর, খ্রিস্ট এবং তাঁর রাজ্যের সহযোগীরা পৃথিবীর অধিবাসীদের ওপর অপরিমেয় আশীর্বাদ বর্ষণ করবে।—প্রকা. ৭:১৭; ২১:১-৪.

২০ মশীহ রাজ্যের বিষয়ে ‘শুভ’ কিছু পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সময় আমরা কি ‘তাঁহার নাম স্মরণ করাইতে’ অনুপ্রাণিত হই না? আমরা যেন সেই লোকেদের অন্তর্ভুক্ত হই, যারা ‘যুগে যুগে চিরকাল রাজার স্তব করিবে।’