সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জানুয়ারি ২০১৪

দুঃসময় আসার আগে যিহোবাকে সেবা করা

দুঃসময় আসার আগে যিহোবাকে সেবা করা

“তুমি . . . আপন সৃষ্টিকর্ত্তাকে স্মরণ কর।”—উপ. ১২:১.

১, ২. (ক) যুবক-যুবতীদের উদ্দেশে শলোমন কোন পরামর্শ লেখার জন্য ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন? (খ) কেন শলোমনের পরামর্শ ৫০-এর কোঠায় বা এরও বেশি বয়সের খ্রিস্টানদের জন্যও আগ্রহজনক?

ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে রাজা শলোমন যুবক-যুবতীদের উদ্দেশে এই কথাগুলো বলেছিলেন: “তুমি যৌবনকালে আপন সৃষ্টিকর্ত্তাকে স্মরণ কর, যেহেতু দুঃসময় আসিতেছে।” “দুঃসময়” বলতে কী বোঝায়? বার্ধক্যের দুঃসময় সম্বন্ধে বর্ণনা করার জন্য শলোমন চমৎকার কাব্যিক ভাষা ব্যবহার করেছেন: কম্পিত হস্ত, দুর্বল পা, দাঁত পড়ে যাওয়া, ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি, দুর্বল শ্রবণশক্তি, পক্বকেশ এবং কুঁজো হয়ে পড়া। তাই, কারোরই এমন পরিকল্পনা করার প্রয়োজন নেই যে, বৃদ্ধ হয়ে গেলে তিনি যিহোবার সেবা করতে শুরু করবেন।—পড়ুন, উপদেশক ১২:১-৫.

পঞ্চাশের কোঠায় এবং এরও বেশি বয়সের অনেক খ্রিস্টানের এখনও প্রচুর কর্মশক্তি রয়েছে। তাদের চুল হয়তো পেকে গিয়েছে কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য হয়তো এখনও সেরকম দুর্বল হয়ে পড়েনি, যেমনটা শলোমন বর্ণনা করেছেন। এই বয়স্ক খ্রিস্টানরা কি যুবক-যুবতীদের উদ্দেশে বলা এই অনুপ্রাণিত কথাগুলো থেকে উপকার লাভ করতে পারে: “তুমি . . . আপন সৃষ্টিকর্ত্তাকে স্মরণ কর”? এই পরামর্শের অর্থ কী?

৩. আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করার সঙ্গে কী জড়িত?

যদিও আমরা হয়তো অনেক বছর ধরে যিহোবাকে সেবা করছি, তবুও মাঝে  মাঝে থেমে আমাদের উপলব্ধি সহকারে এই বিষয়টা চিন্তা করা উচিত যে, আমাদের সৃষ্টিকর্তা কতটা মহান। আমাদের জীবন কি এক চমৎকার দান নয়? এর জটিল নকশা মানুষের বোধের অগম্য। যিহোবা এত অপূর্ব বিষয় সৃষ্টি করেছেন যে, এর ফলে আমরা অসংখ্য উপায়ে জীবন উপভোগ করতে পারি। আমরা যখন যিহোবার সৃষ্টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি, তখন তাঁর প্রেম, প্রজ্ঞা এবং শক্তির প্রতি আমাদের উপলব্ধি পুনরায় বৃদ্ধি পায়। (গীত. ১৪৩:৫) তবে, আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করার সঙ্গে তাঁর প্রতি আমাদের বাধ্যবাধকতার বিষয়টা নিয়ে বিবেচনা করাও জড়িত। এভাবে চিন্তা করার সময় নিশ্চিতভাবেই আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার তাগিদ অনুভব করি। আর তাই আমরা যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন যতটা সম্ভব পূর্ণরূপে তাঁর সেবা করতে চাই।—উপ. ১২:১৩.

বৃদ্ধ বয়সের বিভিন্ন অদ্বিতীয় সুযোগ

৪. বহু বছর ধরে ঈশ্বরকে সেবা করছে এমন খ্রিস্টানরা নিজেদেরকে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারে এবং কেন?

আপনি যদি বহু বছর ধরে ঈশ্বরকে সেবা করে থাকেন, তাহলে নিজেকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করুন, ‘যেহেতু এখনও আমার কিছুটা কর্মশক্তি এবং বল রয়েছে, তাই এখন আমি কি করতে পারি?’ একজন অভিজ্ঞ খ্রিস্টান হিসেবে আপনার সামনে এমন সব সুযোগ রয়েছে, যেগুলো অন্যদের নেই। যিহোবার কাছ থেকে আপনি যা শিখেছেন, সেগুলো আপনি অল্পবয়সিদেরকে জানাতে পারেন। ঈশ্বরকে সেবা করার সময় আপনার যে-অভিজ্ঞতাগুলো হয়েছে, সেগুলো বলার মাধ্যমে অন্যদেরকে আপনি শক্তিশালী করতে পারেন। রাজা দায়ূদ এইরকম সুযোগের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন: “হে ঈশ্বর, তুমি বাল্যকালাবধি আমাকে শিক্ষা দিয়া আসিতেছ; . . . হে ঈশ্বর, বৃদ্ধ বয়স ও পক্বকেশের কাল পর্য্যন্তও আমাকে পরিত্যাগ করিও না, যাবৎ আমি এই বর্ত্তমান লোকদিগকে তোমার বাহুবল, ভাবী লোক সকলকে তোমার পরাক্রম, জ্ঞাত না করি।”—গীত. ৭১:১৭, ১৮.

৫. কীভাবে বয়স্ক খ্রিস্টানরা তারা যা শিখেছে, তা অন্যদের জানাতে পারে?

বহু বছর ধরে আপনি যে-প্রজ্ঞা অর্জন করেছেন, সেই সম্বন্ধে আপনি কীভাবে জানাতে পারেন? আপনি কি গঠনমূলক মেলামেশার জন্য ঈশ্বরের কিছু অল্পবয়সি দাসকে আপনার বাড়িতে আসার জন্য বলতে পারেন? আপনি কি তাদেরকে আপনার সঙ্গে খ্রিস্টীয় পরিচর্যায় যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে এবং যিহোবাকে সেবা করে আপনি যে-আনন্দ লাভ করছেন, তা দেখাতে পারেন? প্রাচীনকালের ইলীহূ বলেছিলেন: “বয়সই কথা বলুক, বৎসরের বাহুল্যই প্রজ্ঞা শিক্ষা দিউক।” (ইয়োব ৩২:৭) প্রেরিত পৌল অভিজ্ঞ খ্রিস্টান নারীদের উপদেশ দিয়েছিলেন, যেন তারা কথা ও উদাহরণের মাধ্যমে অন্যদের উৎসাহ প্রদান করে। তিনি লিখেছিলেন: “প্রাচীনাদিগকে বল, যেন তাঁহারা . . . সুশিক্ষাদায়িনী হন।”—তীত ২:৩.

অন্যদের সাহায্য করার ব্যাপারে আপনার ক্ষমতা সম্বন্ধে বিবেচনা করুন

৬. বহু বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন খ্রিস্টানদের কেন তাদের ক্ষমতাকে ছোটো করে দেখা উচিত নয়?

আপনি যদি একজন অভিজ্ঞ খ্রিস্টান হন, তাহলে আপনার প্রচুর ক্ষমতা রয়েছে। এই বিষয়টা বিবেচনা করে দেখুন, আপনি এখন সেই বিষয়গুলো বুঝতে পারেন, যেগুলো কিনা ৩০ বা ৪০ বছর আগে বুঝতে পারতেন না। আপনি দক্ষতার সঙ্গে আপনার জীবনে বাইবেলের নীতিগুলো প্রয়োগ করতে পারেন। কোনো সন্দেহ নেই যে, বাইবেলের সত্য জানানোর মাধ্যমে অন্যদের হৃদয়ে পৌঁছানোর ক্ষমতা আপনার রয়েছে। আপনি যদি একজন প্রাচীন হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি জানেন যে, সেই ভাইদের কীভাবে সাহায্য করতে হয়, যারা ভুল পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। (গালা. ৬:১) আপনি হয়তো শিখেছেন যে, কীভাবে মণ্ডলীর বিভিন্ন কাজ, সম্মেলনের বিভিন্ন বিভাগ অথবা কিংডম হল নির্মাণের কাজ দেখাশোনা করতে হয়। আপনি হয়তো জানেন যে, রক্ত ছাড়া চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করার জন্য কীভাবে ডাক্তারদের উৎসাহিত করা যায়। এমনকী আপনি যদি সম্প্রতি সত্য শিখে থাকেন, তবুও আপনার বিভিন্ন মূল্যবান অভিজ্ঞতা রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, আপনি যদি সন্তান মানুষ করে থাকেন, তাহলে আপনি অনেক ব্যবহারিক প্রজ্ঞা অর্জন করেছেন। বয়স্ক খ্রিস্টানরা যিহোবার লোকেদের জন্য উৎসাহের এক জোরালো উৎস। আর তারা ভাই-বোনদেরকে শিক্ষা দেওয়ার, পরিচালনা প্রদান করার এবং শক্তিশালী করার মাধ্যমে উৎসাহ দিয়ে থাকে।—পড়ুন, ইয়োব ১২:১২.

৭. বয়স্ক খ্রিস্টানরা অল্পবয়সিদের কোন ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারে?

 কীভাবে আপনি আপনার ক্ষমতাকে আরও পূর্ণরূপে ব্যবহার করতে পারেন? আপনি হয়তো অল্পবয়সিদের দেখাতে পারেন যে, কীভাবে একটা বাইবেল অধ্যয়ন শুরু এবং পরিচালনা করা যায়। আপনি যদি একজন বোন হয়ে থাকেন, তাহলে কমবয়সি মায়েরা কীভাবে তাদের ছোটো সন্তানদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক কাজ চালিয়ে যেতে পারে, সেই বিষয়ে কি পরামর্শ দিতে পারেন? আপনি যদি একজন ভাই হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি কি অল্পবয়সি ভাইদের উদ্যম সহকারে বক্তৃতা দেওয়ার এবং আরও কার্যকারী সুসমাচার প্রচারক হওয়ার জন্য শিক্ষা দিতে পারেন? বয়স্ক ভাই এবং বোনদের আধ্যাত্মিকভাবে উৎসাহিত করার জন্য কীভাবে আপনি তাদের সঙ্গে দেখা করেন, তা কি আপনি তাদের দেখাতে পারেন? এমনকী আগে আপনার যে-শারীরিক ক্ষমতা ছিল, তা যদি এখন না-ও থাকে, তবুও অল্পবয়সিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আপনার অনেক চমৎকার সুযোগ রয়েছে। ঈশ্বরের বাক্য বলে: “যুবকদের বলই তাহাদের শোভা, আর পক্ককেশ বৃদ্ধ লোকদের শ্রী।”—হিতো. ২০:২৯.

যেখানে বেশি প্রয়োজন, সেখানে গিয়ে সেবা করা

৮. বৃদ্ধ বয়সে প্রেরিত পৌল কী করেছিলেন?

বৃদ্ধ বয়সেও ঈশ্বরের সেবা করার জন্য প্রেরিত পৌল তার পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলেন। ৬১ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন রোমের কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছিলেন, তখন ইতিমধ্যেই যেহেতু মিশনারি সেবায় তিনি অনেক বছর কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, তাই চাইলে প্রচার করার জন্য তিনি রোমে স্থায়ীভাবে থাকতে পারতেন। (২ করি. ১১:২৩-২৭) কোনো সন্দেহ নেই যে, সেই বৃহৎ নগরের ভাইয়েরা তার ক্রমাগত সাহায্যকে মূল্যবান বলে গণ্য করত। কিন্তু পৌল দেখেছিলেন যে, অন্যান্য দেশে এমনকী আরও বেশি প্রয়োজন রয়েছে। তীমথিয় এবং তীতের সঙ্গে তিনি আবারও মিশনারি কাজ শুরু করেন, প্রথমে ইফিষে, পরে ক্রীতীতে এবং এরপর সম্ভবত মাকিদনিয়ায়। (১ তীম. ১:৩; তীত ১:৫) আমরা জানি না যে, তিনি স্পেনে গিয়েছিলেন কি না, কিন্তু তিনি সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।—রোমীয় ১৫:২৪, ২৮.

৯. কোন সময় হয়তো পিতর যেখানে বেশি প্রয়োজন, সেখানে সেবা করার জন্য গিয়েছিলেন? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

প্রেরিত পিতরের বয়স হয়তো সেই সময় ৫০-এর ওপরে ছিল, যখন তিনি যেখানে বেশি প্রয়োজন, সেখানে গিয়েছিলেন। কীভাবে আমরা তা বলতে পারি? তার বয়স যদি প্রায় যিশুর কাছাকাছি বা হয়তো তাঁর চেয়ে একটু বেশি হয়ে থাকে, তাহলে ৪৯ খ্রিস্টাব্দে যিরূশালেমের প্রেরিতদের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় তার বয়স প্রায় ৫০-এর মতো হওয়ার কথা। (প্রেরিত ১৫:৭) সেই সাক্ষাতের কিছু দিন পর, পিতর বাবিলে বাস করার জন্য গিয়েছিলেন আর তা নিঃসন্দেহে সেই এলাকার বিরাট সংখ্যক যিহুদিদের কাছে প্রচার করার জন্য। (গালা. ২:৯) প্রায় ৬২ খ্রিস্টাব্দে সেখানে বসেই তিনি তার প্রথম অনুপ্রাণিত চিঠিটি লিখেছিলেন। (১ পিতর ৫:১৩) অন্য একটা দেশে নতুন করে বসবাস শুরু করা কঠিন হতে পারে কিন্তু পিতর তার বার্ধক্যকে যিহোবাকে পূর্ণরূপে সেবা করার আনন্দ কেড়ে নিতে দেননি।

১০, ১১. একজন ব্যক্তির উদাহরণ বলুন, যিনি বৃদ্ধ বয়সে যেখানে বেশি প্রয়োজন, সেখানে সেবা করার জন্য গিয়েছিলেন।

১০ বর্তমানে, ৫০-এর কোঠায় এবং এর চেয়ে বেশি বয়সের অনেক খ্রিস্টান দেখেছে যে, তাদের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হওয়ার কারণে তারা নতুন নতুন উপায়ে যিহোবাকে সেবা করতে পারে। কেউ কেউ যেখানে বেশি প্রয়োজন, সেখানে গিয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, রবার্ট লেখেন: “আমার এবং আমার স্ত্রীর বয়স সেই সময় ৫০-এর কোঠার মাঝামাঝি ছিল, যখন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমাদের সামনে বিভিন্ন সুযোগ খোলা রয়েছে। আমাদের একমাত্র ছেলে আমাদের সঙ্গে থাকত না, আমাদের বয়স্ক বাবা-মাকে দেখার কোনো দায়িত্বও আর ছিল না এবং আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে কিছু টাকা পেয়েছিলাম। আমি হিসাব করে দেখেছিলাম, আমাদের বাড়ি বিক্রি করে আমরা যে-টাকা পাব, তা ঋণ পরিশোধ করার এবং আমার অবসর গ্রহণের ভাতা পাওয়ার আগে পর্যন্ত নিজেদের ভরণ-পোষণ জোগানোর জন্য যথেষ্ট। আমরা শুনেছিলাম যে, বলিভিয়ায় বাইবেল অধ্যয়নের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু সেখানকার জীবনযাপনের ব্যয় কম। তাই আমরা সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের নতুন জীবনযাপনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। উত্তর আমেরিকায় আমরা যে-বিষয়গুলোর সঙ্গে অভ্যস্ত ছিলাম, সেগুলোর তুলনায় সমস্তকিছু একেবারে আলাদা ছিল। কিন্তু, আমরা আমাদের প্রচেষ্টার যথার্থ ফল লাভ করেছিলাম।”

 ১১ রবার্ট আরও বলেন: “আমাদের পুরো জীবন এখন মণ্ডলীর কাজকর্মের ওপরই কেন্দ্রীভূত। আমরা যাদেরকে বাইবেল অধ্যয়ন করাতাম, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাপ্তাইজিত হয়েছে। একটা পরিবারকে আমরা অধ্যয়ন করাতাম, যারা কয়েক মাইল দূরে একটা গ্রামে খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে বাস করত। কিন্তু, প্রতি সপ্তাহে সভাগুলোতে যোগ দেওয়ার জন্য সেই পরিবারের সদস্যরা কষ্টকর যাত্রা করে শহরে আসত। সেই পরিবারের উন্নতি দেখে এবং তাদের বড়ো ছেলেকে অগ্রগামীর সেবা গ্রহণ করতে দেখে আমরা কতটা আনন্দিত হয়েছিলাম, তা কি আপনারা কল্পনা করতে পারেন?”

বিদেশিভাষী এলাকায় প্রয়োজনীয়তা

১২, ১৩. একজন খ্রিস্টানের অভিজ্ঞতা বলুন, যিনি অবসর গ্রহণের পরও নতুন নতুন উপায়ে যিহোবার সেবা করতে শুরু করেছিলেন।

১২ বিদেশিভাষী মণ্ডলী এবং দলগুলো বয়স্ক ভাই ও বোনদের উদাহরণ থেকে প্রচুর উপকার লাভ করতে পারে। এ ছাড়া, এই এলাকাগুলোতে কাজ করাও অনেক উপভোগ্য হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, ব্রায়েন লেখেন: “ব্রিটিশ নিয়ম অনুযায়ী আমি যখন ৬৫ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করি, তখন আমার এবং আমার স্ত্রীর জীবন একেবারে নীরস হয়ে পড়েছিল। আমাদের সন্তানরা আমাদের সঙ্গে থাকত না আর বাইবেল অধ্যয়ন করানোর জন্য বলতে গেলে আমরা কোনো আগ্রহী ব্যক্তিকেই খুঁজে পেতাম না। এরপর, একজন চাইনিজ যুবকের সঙ্গে আমার দেখা হয়, যে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছিল। সে আমাদের সভাতে আসার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিল এবং আমি তার সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করেছিলাম। কয়েক সপ্তাহ পরে, সে তার সঙ্গে করে তার একজন চাইনিজ সহকর্মীকে নিয়ে আসতে শুরু করে। দুই সপ্তাহ পরে, সে তৃতীয় ব্যক্তিকে এবং এরপর চতুর্থ ব্যক্তিকে নিয়ে আসে।

১৩ “পঞ্চম চাইনিজ গবেষক বাইবেল অধ্যয়ন করানোর কথা বলার পর, আমি চিন্তা করেছিলাম, ‘আমার বয়স ৬৫ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, যিহোবার সেবা থেকে আমার অবসর গ্রহণ করতে হবে।’ তাই, আমি আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সে চাইনিজ ভাষা শিখতে চায় কি না, যে আমার চেয়ে দুই বছরের ছোটো ছিল। আমরা ভাষা শেখার জন্য রেকর্ড করা কোর্স ব্যবহার করতে শুরু করি। এটা দশ বছর আগের কথা। বিদেশিভাষী একটা এলাকায় প্রচার করে আমরা আবারও নিজেদের যুবক বলে মনে করতে শুরু করি। এই পর্যন্ত, আমরা ১১২ জন চাইনিজ ব্যক্তিকে বাইবেল অধ্যয়ন করিয়েছি! তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যক্তি সভাতে যোগ দিয়েছে। আর এদের মধ্যে একজন এখন অগ্রগামী হিসেবে আমাদের সঙ্গে সেবা করছে।”

আপনি হয়তো এতটা বয়স্ক নন যে, আপনার পরিচর্যাকে বাড়াতে পারবেন না (১২, ১৩ অনুচ্ছেদ দেখুন)

 আপনি যা করতে পারেন, তা উপভোগ করুন

১৪. কোন বিষয়ে বয়স্ক খ্রিস্টানদের আনন্দিত থাকা উচিত এবং কীভাবে পৌলের উদাহরণ তাদের জন্য উৎসাহজনক?

১৪ যদিও ৫০-এর কোঠায় বয়স এমন অনেক খ্রিস্টানের যিহোবার সেবায় নতুন নতুন কাজ করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সকলে তা করতে পারে না। তাদের মধ্যে কারো কারো স্বাস্থ্য দুর্বল এবং অন্যদের তাদের বয়স্ক বাবা-মায়ের এবং সন্তানদের যত্ন নিতে হয়। আপনি এটা জেনে আনন্দিত হতে পারেন যে, তাঁর সেবায় আপনি যা-ই করুন না কেন, যিহোবা সেটাকে উপলব্ধি করেন। তাই, আপনি যা করতে পারেন না, সেটা নিয়ে হতাশ না হয়ে বরং যা করতে পারেন সেটা উপভোগ করুন। প্রেরিত পৌলের উদাহরণ বিবেচনা করুন। কয়েক বছর ধরে তিনি গৃহবন্দি ছিলেন আর তাই মিশনারি যাত্রা চালিয়ে যেতে পারেননি। কিন্তু, যখনই লোকেরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসত, তখন তিনি তাদের কাছে শাস্ত্র নিয়ে কথা বলতেন এবং তাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করতেন।—প্রেরিত ২৮:১৬, ৩০, ৩১.

১৫. কেন বয়স্ক খ্রিস্টানদের উচ্চমূল্য দেওয়া হয়?

১৫ এ ছাড়া, এর চেয়েও বেশি বয়স্ক ব্যক্তিরা তাঁর সেবায় যা করতে পারে, সেটাকেও যিহোবা উপলব্ধি করেন। যদিও শলোমন উল্লেখ করেছেন যে, বৃদ্ধ বয়স জীবনের সর্বোত্তম সময় নয়, কিন্তু বয়স্ক খ্রিস্টানরা যিহোবার প্রশংসা করার জন্য যা করতে পারে, সেটাকে তিনি মূল্যবান বলে গণ্য করেন। (লূক ২১:২-৪) মণ্ডলীর সদস্যরা তাদের মাঝে দীর্ঘসময়ের যে-দাসেরা রয়েছে, তাদের বিশ্বস্ত উদাহরণকে মূল্যবান বলে মনে করে।

১৬. হান্না হয়তো কোন সুযোগগুলো উপভোগ করতে পারেননি কিন্তু ঈশ্বরের উপাসনায় তিনি কী করতে পেরেছিলেন?

১৬ বাইবেল জানায় যে, হান্না নামে একজন বয়স্কা মহিলা বৃদ্ধ বয়সেও বিশ্বস্তভাবে যিহোবার প্রশংসা করে গিয়েছিলেন। যখন যিশুর জন্ম হয়েছিল, তখন তিনি ৮৪ বছর বয়সি বিধবা ছিলেন। তিনি হয়তো যিশুর অনুসারী হওয়ার, পবিত্র আত্মা দ্বারা অভিষিক্ত হওয়ার অথবা রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করার জন্য দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন না। কিন্তু, হান্না যা করতে পারতেন, তা উপভোগ করেছিলেন। “তিনি ধর্ম্মধাম হইতে প্রস্থান না করিয়া . . . রাত দিন উপাসনা করিতেন।” (লূক ২:৩৬, ৩৭) যাজক যখন প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে ধূপ জ্বালাতেন, তখন হান্না হয়তো বাইরের প্রাঙ্গণে সমবেত জনতার সঙ্গে, হতে পারে আধাঘণ্টা ধরে নীরবে প্রার্থনা করতেন। তিনি যখন শিশু যিশুকে দেখেছিলেন, তখন তিনি “যত লোক যিরূশালেমের মুক্তির অপেক্ষা করিতেছিল, তাহাদিগকে যীশুর কথা বলিতে” শুরু করেছিলেন।—লূক ২:৩৮.

১৭. কীভাবে আমরা হয়তো বয়স্ক এবং শারীরিকভাবে দুর্বল খ্রিস্টানদের সত্য উপাসনায় অংশ নেওয়ার জন্য সাহায্য করতে পারি?

১৭ বর্তমানে, বয়স্ক অথবা শারীরিকভাবে দুর্বল খ্রিস্টানদের সাহায্য করার জন্য আমাদের তৎপর থাকা উচিত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সভা এবং সম্মেলনগুলোতে যোগ দিতে পছন্দ করে কিন্তু যোগ দিতে পারে না। কিছু কিছু জায়গায়, মণ্ডলী থেকে প্রেমময় ব্যবস্থা করা হয়, যাতে এই ধরনের বয়স্ক ব্যক্তিরা টেলিফোনের মাধ্যমে সভা শুনতে পারে। অন্যান্য জায়গায় তা করা হয়তো সম্ভব না-ও হতে পারে। তা সত্ত্বেও, যে-খ্রিস্টানরা সভাগুলোতে যোগ দিতে পারে না, তারা সত্য উপাসনাকে সমর্থন করায় অংশ নিতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, তারা খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর সফলতার জন্য প্রার্থনা করতে পারে।—পড়ুন, গীতসংহিতা ৯২:১৩, ১৪.

১৮, ১৯. (ক) বয়স্ক খ্রিস্টানরা কীভাবে অন্যদের উৎসাহিত করতে পারে? (খ) কারা এই পরামর্শ কাজে লাগাতে পারে: “তুমি . . . আপন সৃষ্টিকর্ত্তাকে স্মরণ কর”?

১৮ বয়স্ক খ্রিস্টানরা হয়তো উপলব্ধি করতে পারে না যে, তারা অন্যদেরকে কতটা উৎসাহিত করে। উদাহরণ স্বরূপ, যদিও হান্না বহু বছর ধরে মন্দিরে থাকাকালীন সময়ে বিশ্বস্ত ছিলেন কিন্তু তিনি হয়তো এই বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারেননি যে, কয়েক-শো বছর পরেও তার উদাহরণ অন্যদেরকে উৎসাহিত করবে। যিহোবার প্রতি হান্নার প্রেমের কথা শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে, ঈশ্বরের প্রতি আপনার প্রেমের কথাও সহউপাসকদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। তাই, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, ঈশ্বরের বাক্য বলে: “পক্ব কেশ শোভার মুকুট; তাহা ধার্ম্মিকতার পথে পাওয়া যায়”!—হিতো. ১৬:৩১.

১৯ যিহোবার সেবা করার ক্ষেত্রে আমাদের সবারই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু, এখনও যাদের কিছুটা শক্তি এবং বল রয়েছে, তারা যেন এই অনুপ্রাণিত কথাগুলোতে মনোযোগ দেয়: “তুমি . . . আপন সৃষ্টিকর্ত্তাকে স্মরণ কর, যেহেতু দুঃসময় আসিতেছে।”—উপ. ১২:১.