সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জানুয়ারি ২০১৪

“তোমার রাজ্য আইসুক”—কিন্তু কখন?

“তোমার রাজ্য আইসুক”—কিন্তু কখন?

“তোমরা ঐ সকল ঘটনা দেখিলেই জানিবে, তিনি সন্নিকট, এমন কি, দ্বারে উপস্থিত।”—মথি ২৪:৩৩.

১, ২. (ক) কোন বিষয়টা এক ধরনের অন্ধত্বের কারণ হতে পারে? (খ) ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে আমরা কোন বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারি?

আপনি হয়তো লক্ষ করেছেন যে, কোনো একটা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা সেই ঘটনা সম্বন্ধে যা মনে রাখে, তা পরস্পরের থেকে বেশ ভিন্ন হয়ে থাকে। একইভাবে, রোগনির্ণয় করার পর একজন ডাক্তার ঠিক যে-বিষয়গুলো বলেন, তা মনে রাখা একজন ব্যক্তির পক্ষে হয়তো কঠিন হতে পারে। কিংবা কেউ কেউ হয়তো হাতের কাছে চাবি এবং চশমা থাকা সত্ত্বেও, সেগুলো খুঁজে পায় না। এই সমস্ত পরিস্থিতি হয়তো সেই বিষয়টার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, যেটাকে গবেষকরা এক ধরনের অন্ধত্ব বলে অভিহিত করেন আর এটা হচ্ছে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে কোনো কিছু লক্ষ না করা অথবা কোনো কিছু ভুলে যাওয়া। স্পষ্টতই, আমাদের মস্তিষ্ক একই সময়ে মাত্র একটা বিষয়ের ওপর পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারে।

বর্তমানে, জগতের ঘটনাগুলোর ব্যাপারে অনেক লোকের একইরকম “অন্ধত্ব” রয়েছে। এটা ঠিক যে, তারা হয়তো স্বীকার করে, ১৯১৪ সালের পর থেকে জগতের অবস্থা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে কিন্তু এই ঘটনাগুলোর প্রকৃত তাৎপর্য তারা বুঝতে পারে না। বাইবেল ছাত্র হিসেবে আমরা জানি যে, এক অর্থে ১৯১৪ সালে ঈশ্বরের রাজ্য এসে গিয়েছে, যখন যিশু স্বর্গে রাজা হয়েছিলেন। কিন্তু আমরা জানি যে, “তোমার রাজ্য আইসুক, তোমার ইচ্ছা সিদ্ধ হউক, যেমন স্বর্গে তেমনি পৃথিবীতেও হউক,” এই প্রার্থনার উত্তরের সঙ্গে আরও বেশি কিছু জড়িত।  (মথি ৬:১০) স্পষ্টতই, এর সঙ্গে বর্তমান দুষ্ট বিধিব্যবস্থার শেষও জড়িত। একমাত্র এই বিষয়টা ঘটার পরই, ঈশ্বরের ইচ্ছা যেমন স্বর্গে তেমনই পৃথিবীতে পরিপূর্ণ হতে পারে।

৩. ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করার মাধ্যমে আমরা কোন সুযোগ লাভ করি?

যেহেতু আমরা নিয়মিতভাবে ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করি, তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ভবিষ্যদ্‌বাণী ঠিক এখনই পরিপূর্ণ হচ্ছে। সাধারণ লোকেদের সঙ্গে আমাদের কতই-না পার্থক্য! তারা তাদের জীবন এবং বিভিন্ন কাজে এতটাই ব্যস্ত যে, তারা এই স্পষ্ট প্রমাণ লক্ষই করে না, খ্রিস্ট ১৯১৪ সাল থেকে শাসন করছেন এবং শীঘ্র ঈশ্বরের বিচার নিয়ে আসবেন। কিন্তু, এই ব্যক্তিগত প্রশ্নটা বিবেচনা করুন: আপনি যদি কয়েক দশক ধরে ঈশ্বরের সেবা করে থাকেন, তাহলে আপনি কি আগের মতো এখনও আমাদের সময়ের তাৎপর্য সম্বন্ধে সচেতন এবং চিন্তিত? এমনকী আপনি যদি অতি সম্প্রতি একজন সাক্ষি হয়ে থাকেন, তাহলে কীসের ওপর আপনার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত? আমাদের উত্তর যা-ই হোক না কেন, আসুন আমরা তিনটে গুরুত্বপূর্ণ কারণ পুনর্বিবেচনা করে দেখি। এগুলোর মাধ্যমে আমরা দেখব, কেন আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে, ঈশ্বরের অভিষিক্ত রাজা পৃথিবীতে ঈশ্বরের ইচ্ছা পূর্ণরূপে সম্পাদিত হওয়ার জন্য শীঘ্র আরও পদক্ষেপ নেবেন।

অশ্বারোহীরা আবির্ভূত হয়

৪, ৫. (ক) উনিশ-শো চোদ্দো সাল থেকে যিশু কী করছেন? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।) (খ) তিন জন অশ্বারোহীর দ্বারা কী চিত্রিত করা হয় এবং কীভাবে এই ভবিষ্যদ্‌বাণী পরিপূর্ণ হচ্ছে?

উনিশ-শো চোদ্দো সালে যিশু খ্রিস্টকে রাজা করা হয়েছে, যাঁকে শুক্লবর্ণ অশ্বের ওপর আরোহী হিসেবে চিত্রিত করা হয়। রাজা হওয়ার পর তিনি সঙ্গেসঙ্গে শয়তানের দুষ্ট বিধিব্যবস্থার ওপর জয় সম্পন্ন করার জন্য বের হন। (পড়ুন, প্রকাশিত বাক্য ৬:১, ২.) প্রকাশিত বাক্য ৬ অধ্যায়ের বর্ণনামূলক ভবিষ্যদ্‌বাণী আমাদের এই প্রত্যাশা রাখার কারণ জোগায় যে, ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জগতের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটবে। সেই সময় যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, মহামারী এবং মৃত্যুর অন্যান্য কারণ দেখা দেবে। এই ঘটনাগুলোকে তিন জন অশ্বারোহীর মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে, যারা যিশু খ্রিস্টের পিছনে পিছনে আসছে।—প্রকা. ৬:৩-৮.

ভবিষ্যদ্‌বাণী অনুযায়ী “পৃথিবী হইতে” শান্তি ‘অপহরণ করা’ হয়েছিল, যদিও মানুষেরা আন্তর্জাতিকভাবে সহযোগিতা করার এবং শান্তির প্রতিজ্ঞা করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে কেবল মারাত্মক যুদ্ধগুলোর এক শুরু হিসেবে দেখা যেতে পারে, যার প্রমাণ জগতের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মাধ্যমে দেখা যায়। আর ১৯১৪ সালের পর থেকে অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক দিক দিয়ে অনেক অগ্রগতি লাভ করা সত্ত্বেও, খাদ্যের অভাব এখনও জগতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। এ ছাড়া, সমস্ত ধরনের রোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অন্যান্য “মারী” যে প্রতি বছর ক্রমাগত লক্ষ লক্ষ ব্যক্তির জীবন কেড়ে নিচ্ছে, সেটাই-বা কে অস্বীকার করতে পারে? এই ঘটনাগুলো মানবজাতির ইতিহাসে আগে কখনো এত ব্যাপকভাবে, এত বার বার এবং এত চরম মাত্রায় দেখা যায়নি। আপনি কি এর অর্থ বুঝতে পারছেন?

৬. কারা বাইবেলের ভবিষ্যদ্‌বাণীর পরিপূর্ণতা লক্ষ করেছিল এবং এটা তাদেরকে কী করতে পরিচালিত করেছিল?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার এবং স্প্যানিশ ইনফ্লুয়েঞ্জা দেখা দেওয়ার কারণে অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু, অভিষিক্ত খ্রিস্টানরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ছিল যে, ১৯১৪ সালে পরজাতিদের সময় বা “জাতিগণের সময়” শেষ হবে। (লূক ২১:২৪) তারা পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত ছিল না যে, কী ঘটবে। তবে, তারা জানত যে, ১৯১৪ সালে ঈশ্বরের শাসনের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে। বাইবেলের ভবিষ্যদ্‌বাণীর পরিপূর্ণতা সম্বন্ধে বুঝতে পারার সঙ্গেসঙ্গে তারা অন্যদের কাছে সাহসের সঙ্গে ঘোষণা করতে শুরু করেছিল যে, ঈশ্বরের শাসন শুরু হয়েছে। রাজ্য সম্বন্ধে প্রচার করেছিল বলে তাদের ওপর প্রচণ্ড তাড়না এসেছিল। এই তাড়নাও বাইবেলের ভবিষ্যদ্‌বাণীর পরিপূর্ণতা স্বরূপ ঘটেছিল। এর পরের দশকগুলোতে, রাজ্যের শত্রুরা ‘বিধান দ্বারা উপদ্রব রচনা করিতে’ শুরু করে। এ ছাড়া, তারা আমাদের ভাইদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়, তাদেরকে কারাবন্দি করে এবং এমনকী তাদেরকে ফাঁসি দিয়ে, গুলি করে অথবা শিরচ্ছেদ করে হত্যা করে।—গীত. ৯৪:২০; প্রকা. ১২:১৫.

৭. কেন বেশিরভাগ লোক জগতের ঘটনাগুলোর পিছনে যে-প্রকৃত অর্থ রয়েছে, তা উপলব্ধি করতে পারে না?

 ঈশ্বরের রাজ্য যে ইতিমধ্যেই স্বর্গে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটার এত প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও কেন বেশিরভাগ লোক তা দেখতে পায় না? জগতের ঘটনাগুলো যে বাইবেলের ভবিষ্যদ্‌বাণীর পরিপূর্ণতা স্বরূপ ঘটছে, তা তারা কেন দেখতে পায় না, যে-ভবিষ্যদ্‌বাণীগুলো সম্বন্ধে ঈশ্বরের লোকেরা অনেক বছর ধরে ঘোষণা করে আসছে? এর কারণ কী এই যে, অধিকাংশ লোক কেবল সেই বিষয়ের ওপরই মনোযোগ দিচ্ছে, যা তারা সরাসরি চোখ দিয়ে দেখতে পাচ্ছে? (২ করি. ৫:৭) তারা কি তাদের বিষয়গুলো নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে, ঈশ্বরের রাজ্য কী সম্পাদন করছে, তা তারা দেখতে পারছে না? (মথি ২৪:৩৭-৩৯) তাদের মধ্যে কেউ কেউ কি শয়তানের অপপ্রচারের দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে? (২ করি. ৪:৪) ঈশ্বরের রাজ্য কী সম্পাদন করছে, তা দেখার জন্য বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির প্রয়োজন। আমরা কতই-না আনন্দিত হতে পারি যে, যে-বিষয়গুলো ঘটছে, সেগুলোর ব্যাপারে আমরা অন্ধ নই!

দুষ্টতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে

৮-১০ (ক) কীভাবে ২ তীমথিয় ৩:১-৫ পদের কথাগুলো পরিপূর্ণ হচ্ছে? (খ) কেন আমরা বলতে পারি যে, দুষ্টতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে?

দ্বিতীয় আরেকটা কারণ রয়েছে, যেজন্য আমরা জানি যে, ঈশ্বরের রাজ্য শীঘ্র জগতের বিষয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবে: মানব সমাজে দুষ্টতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় এক-শো বছর ধরে, ২ তীমথিয় ৩:১-৫ পদে ভবিষ্যদ্‌বাণীকৃত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। শাস্ত্রে বর্ণিত এই বৈশিষ্ট্যগুলো জগতের সমস্ত জায়গায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। আপনি কি উপলব্ধি করতে পারছেন না যে, এই ভবিষ্যদ্‌বাণী আরও ব্যাপকভাবে পরিপূর্ণ হচ্ছে? আসুন আমরা কিছু উদাহরণ বিবেচনা করে দেখি।—পড়ুন, ২ তীমথিয় ৩:১, ১৩.

উনিশ-শো চল্লিশ অথবা উনিশ-শো পঞ্চাশের দশকে যে-বিষয়গুলোকে লোকেদের কাছে ভয়ানক বলে মনে হতো, সেগুলোর সঙ্গে বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে, বিনোদন জগতে, খেলাধুলায় এবং ফ্যাশন জগতে যা ঘটছে, তার তুলনা করে দেখুন। চরম দৌরাত্ম্য এবং অনৈতিকতা এখন খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। লোকেরা কে কার চেয়ে কতটা বেশি হিংস্র, চরিত্রহীন অথবা নিষ্ঠুর, তা দেখাতে চায়। ১৯৫০-এর দশকে টেলিভিশনের যে-বিষয়গুলোকে অনুপযুক্ত বলে মনে করা হতো, সেগুলোকে এখন পরিবারের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। আর অনেকে লক্ষ করেছে যে, বিনোদন এবং ফ্যাশন জগতের মধ্যেও সমকামিতা জায়গা করে নিয়েছে এবং এইরকম লোকেদের জীবনধারাও জনসাধারণের সামনে ফলাও করে  তুলে ধরা হচ্ছে। আমরা কতই-না কৃতজ্ঞ যে, এই সম্বন্ধে আমরা ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গি জানি!—পড়ুন, যিহূদা ১৪, ১৫.

১০ কিংবা একজন খ্রিস্টান হয়তো ১৯৫০-এর দশকে যুবক-যুবতীদের যে-আচরণকে বিদ্রোহী বলে মনে করা হতো, সেটার সঙ্গে বর্তমানে যুবক-যুবতীরা যে-আচরণ করে থাকে, সেটার তুলনার কথা চিন্তা করতে পারেন। বাবা-মায়েরা উপযুক্তভাবেই এই বিষয়গুলো নিয়ে দুশ্চিন্তা করত যে, তাদের সন্তানরা ধূমপান করে কি না, মদ খায় কি না অথবা যৌন উদ্দীপনামূলক নাচে অংশ নেয় কি না। বর্তমানে ভয়ানক সংবাদগুলো খুবই সাধারণ: ১৫ বছর বয়সি একজন ছাত্র তার সহপাঠীদের গুলি করে আর এতে ২ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়। কিশোর বয়সি একদল মাতাল ছেলে-মেয়ে ৯ বছরের একটা মেয়েকে নিষ্ঠুরভাবে খুন করে এবং তার বাবা ও তার এক আত্মীয়কে মারধর করে। একটা রিপোর্টে বলা হয় যে, এশিয়ার একটা দেশে বিগত দশ বছরে যে-অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অর্ধেক অপরাধের জন্যই তরুণ-তরুণীরা দায়ী। এই বিষয়গুলো যে ক্রমান্বয়ে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে, তা কি কেউ অস্বীকার করতে পারে?

১১. বিভিন্ন বিষয় যে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে, তা অনেক লোক কেন বুঝতে পারে না?

১১ প্রেরিত পিতর উপযুক্তভাবেই বলেছিলেন: “শেষকালে উপহাসের সহিত উপহাসকেরা উপস্থিত হইবে; তাহারা আপন আপন অভিলাষ অনুসারে চলিবে, এবং বলিবে, তাঁহার আগমনের প্রতিজ্ঞা কোথায়? কেননা যে অবধি পিতৃলোকেরা নিদ্রাগত হইয়াছেন, সেই অবধি সমস্তই সৃষ্টির আরম্ভ অবধি যেমন, তেমনই রহিয়াছে।” (২ পিতর ৩:৩, ৪) কিছু লোক কেন এইরকম প্রতিক্রিয়া দেখায়? এর কারণ হতে পারে যে, একটা ঘটনা যত বেশি সুপরিচিত হয়, লোকেরা সেটার প্রতি সাধারণত তত কম মনোযোগ দেয়। একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর আচরণে হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটলে, সেটাকে যত বেশি ভয়ানক বলে মনে করা হয়, সমাজের নৈতিক অবক্ষয়কে ততটা ভয়ানক বলে মনে করা হয় না, যেটা ধীরে ধীরে হয়। স্পষ্টতই, ধীরে ধীরে হওয়া এই নৈতিক অবক্ষয় বিপদজনক।

১২, ১৩. (ক) জগতের ঘটনাগুলো দেখে কেন আমাদের নিরুৎসাহিত হওয়ার প্রয়োজন নেই? (খ) কোন বিষয়টা বুঝতে পারা আমাদেরকে “বিষম” অবস্থাগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে?

১২ প্রেরিত পৌল আমাদের সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, “শেষ কালে বিষম” অবস্থা দেখা দেবে। (২ তীম. ৩:১) কিন্তু, সেগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করা অসম্ভব নয়, তাই আমাদের বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। যিহোবা, তাঁর পবিত্র আত্মা এবং খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর সাহায্যে আমরা আমাদের পথে আসা যেকোনো হতাশা বা ভয় সফলভাবে কাটিয়ে উঠতে পারব। আমরা বিশ্বস্ত থাকতে পারব। “পরাক্রমের উৎকর্ষ [“অসাধারণ মহাশক্তি,” বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারসন]” ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে, আমাদের কাছ থেকে নয়।—২ করি. ৪:৭-১০.

১৩ লক্ষ করুন, পৌল শেষকাল সম্বন্ধীয় ভবিষ্যদ্‌বাণী এই কথাগুলো দিয়ে শুরু করেছেন “ইহা জানিও।” এই কথাগুলো নিশ্চিত করে যে, এর পরে যে-বিষয়গুলো বলা হয়েছে, সেগুলো ঘটবেই ঘটবে। কোনো সন্দেহ নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত না যিহোবা এই ঈশ্বরবিহীন সমাজের বিরুদ্ধে ধবংস নিয়ে আসেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সেটা ক্রমান্বয়ে মন্দতার দিকেই যাবে। ইতিহাসবেত্তারা লিখেছে যে, বিভিন্ন জায়গায় কিছু সমাজ বা জাতির মধ্যে যখন চরম নৈতিক অধঃপতন দেখা দিয়েছে, তখন সেই সমাজ বা জাতি ধবংস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, পুরো জগতে এখন যতটা নৈতিক অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে, ততটা এর আগে ইতিহাসে কখনো দেখা যায়নি। অনেকে হয়তো এর তাৎপর্যগুলোকে উপেক্ষা করে কিন্তু ১৯১৪ সালের পর থেকে এই অদ্বিতীয় ঘটনাগুলো আমাদেরকে স্পষ্টভাবে দেখায়, ঈশ্বরের রাজ্য যে শীঘ্র চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে, সেই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি।

এই কালের লোকেদের লোপ হবে না

১৪-১৬. ঈশ্বরের রাজ্য যে শীঘ্র ‘আসিবে,’ তা বিশ্বাস করার তৃতীয় কারণটা কী?

১৪ আস্থা রাখার তৃতীয় আরেকটা কারণ রয়েছে। ঈশ্বরের লোকেদের মধ্যে যা ঘটছে, সেগুলো নির্দেশ  করে যে, শেষ একেবারে নিকটে। উদাহরণ স্বরূপ, স্বর্গে ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে, একদল বিশ্বস্ত অভিষিক্ত ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে ঈশ্বরের সেবা করছিল। ১৯১৪ সালে, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী যখন কিছু বিষয় ঘটেনি, তখন তারা কী করেছিল? পরীক্ষা এবং তাড়নার মধ্যেও তারা বিশ্বস্ত ছিল এবং যিহোবার সেবা করে গিয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে, সেই অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের অধিকাংশই মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ত থেকেছে।

১৫ যুগান্ত সম্বন্ধে তাঁর বিস্তারিত ভবিষ্যদ্‌বাণীতে যিশু বলেছিলেন: “এই কালের লোকদের লোপ হইবে না, যে পর্য্যন্ত না এ সমস্ত সিদ্ধ হয়।” (পড়ুন, মথি ২৪:৩৩-৩৫.) আমরা বুঝতে পারি যে, যিশু যখন “এই কালের লোকদের” বিষয়ে উল্লেখ করেছিলেন, তখন তিনি অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের দুটো দলকে নির্দেশ করছিলেন। প্রথম দলটা ছিল ১৯১৪ সালে আর তারা সেই বছর খ্রিস্টের উপস্থিতির চিহ্ন সহজেই উপলব্ধি করতে পেরেছিল। যাদের নিয়ে এই দল গঠিত ছিল, তারা যে কেবল ১৯১৪ সালে জীবিতই ছিল এমন নয় বরং তারা সেই বছর বা এর আগে ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে আত্মায় অভিষিক্ত ছিল।—রোমীয় ৮:১৪-১৭.

১৬ দ্বিতীয় যে-দল “এই কালের লোকেদের” অন্তর্ভুক্ত, তারা হল প্রথম দলের সমসাময়িক অভিষিক্ত ব্যক্তিরা। তারা যে প্রথম দলের লোকেদের জীবনকালে কেবল বেঁচে ছিল এমন নয় কিন্তু সেইসঙ্গে তারা প্রথম দল পৃথিবীতে থাকাকালীন সময়ে পবিত্র আত্মার দ্বারা অভিষিক্তও হয়েছিল। তাই, বর্তমানে বেঁচে থাকা প্রত্যেক অভিষিক্ত ব্যক্তি “এই কালের লোকদের” অন্তর্ভুক্ত নয়, যাদের সম্বন্ধে যিশু উল্লেখ করেছিলেন। বর্তমানে, সেই দ্বিতীয় দলের লোকেরা বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, মথি ২৪:৩৪ পদে যিশুর কথাগুলো আমাদের এই আস্থা প্রদান করে যে, “এই কালের লোকদের” মধ্যে থেকে অন্ততপক্ষে কিছু ব্যক্তির মহাক্লেশের শুরু না দেখার আগে “লোপ হইবে না।” এটা আমাদের এই দৃঢ়প্রত্যয়কে বৃদ্ধি করে যে, ঈশ্বরের রাজ্যের রাজা খুব শীঘ্র দুষ্টতা ধবংস করে দেওয়ার এবং এক নতুন ধার্মিক জগৎ নিয়ে আসার জন্য পদক্ষেপ নেবেন।—২ পিতর ৩:১৩.

খ্রিস্ট খুব শীঘ্র তাঁর জয় সম্পন্ন করবেন

১৭. আমরা যে-তিনটে প্রমাণ বিবেচনা করেছি, সেগুলো থেকে আমরা কোন উপসংহারে আসতে পারি?

১৭ আমরা যে-তিনটে প্রমাণ বিবেচনা করেছি, সেগুলো থেকে আমরা কোন উপসংহারে আসতে পারি? যিশু সতর্ক করে দিয়েছিলেন, আমরা একেবারে সঠিক দিন বা সময় সম্বন্ধে জানব না এবং জানিও না। (মথি ২৪:৩৬; ২৫:১৩) কিন্তু, আমরা পৌলের দ্বারা উল্লেখিত “কাল” সম্বন্ধে জানি। (পড়ুন, রোমীয় ১৩:১১.) আমরা এখন সেই কালে অর্থাৎ শেষ সময়ে বাস করছি। আমরা যদি বাইবেলের ভবিষ্যদ্‌বাণীর প্রতি এবং যিহোবা ঈশ্বর ও যিশু যা করছেন, সেগুলোর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিই, তাহলে আমরা এই জোরালো প্রমাণ দেখতে ব্যর্থ হব না যে, সত্যিই আমরা এই বিধিব্যবস্থার একেবারে শেষে বাস করছি।

১৮. যারা ঈশ্বরের রাজ্যকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?

১৮ যিশু খ্রিস্টকে যে-কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটাকে যারা অস্বীকার করে, তাদেরকে শ্বেতবর্ণ অশ্বের ওপর বিজয়ী আরোহী শীঘ্র তাদের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য করবেন। তারা রেহাই পাবে না। সেই সময় অনেকে আতঙ্কে চিৎকার করে বলবে: “কে দাঁড়াইতে পারে?” (প্রকা. ৬:১৫-১৭) প্রকাশিত বাক্য ৭ অধ্যায় এই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে। অভিষিক্ত ব্যক্তিরা এবং যাদের পার্থিব আশা রয়েছে, তারা বাস্তবিকপক্ষেই সেই দিন ঈশ্বরের অনুমোদন সহকারে ‘দাঁড়াইবে।’ এরপর আরও মেষের “বিস্তর লোক” মহাক্লেশ থেকে রক্ষা পাবে।—প্রকা. ৭:৯, ১৩-১৫.

১৯. যেহেতু আপনি নিশ্চিত যে, শেষ একেবারে নিকটে, তাই আপনি কিসের জন্য অপেক্ষা করে আছেন?

১৯ বর্তমানে আমাদের দিনে বাইবেলের যে-ভবিষ্যদ্‌বাণীগুলো পরিপূর্ণ হচ্ছে, সেগুলোতে যদি আমরা মনোযোগ দিয়ে চলি, তাহলে আমরা শয়তানের জগতের দ্বারা বিক্ষিপ্ত হব না। আমরা জগতের ঘটনাগুলোর প্রকৃত অর্থ সম্বন্ধে অন্ধ হব না। খ্রিস্ট শীঘ্র ধর্মশীলতায় চূড়ান্ত যুদ্ধ করার মাধ্যমে এই দুষ্ট জগতের ওপর তাঁর বিজয় সম্পন্ন করবেন। (প্রকা. ১৯:১১, ১৯-২১) কল্পনা করে দেখুন যে, এরপর আমরা কতই-না আনন্দিত হব!—প্রকা. ২০:১-৩, ৬; ২১:৩, ৪.