সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জানুয়ারি ২০১৪

একজন অল্পবয়সি হিসেবে আমি যা বেছে নিই

একজন অল্পবয়সি হিসেবে আমি যা বেছে নিই

আমার ছেলেবেলায়

আমার বয়স তখন মাত্র দশ বছর, যখন ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর কলম্বাসে আমার স্কুলে কাম্বোডিয়া থেকে কয়েক জন ছেলে-মেয়ে পড়তে আসে। তাদের মধ্যে একজন ছেলে একটু ইংরেজি বলতে পারত। বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে, সে আমাকে অত্যাচার, হত্যা এবং পালিয়ে যাওয়ার লোমহর্ষক কাহিনি বলতে শুরু করে। এই ছেলে-মেয়েদের কথা চিন্তা করে রাতের বেলা আমি শুয়ে শুয়ে কাঁদতাম। আমি তাদেরকে পরমদেশ এবং পুনরুত্থানের আশা সম্বন্ধে বলতে চাইতাম, কিন্তু তারা আমার ভাষা বুঝতে পারত না। যদিও আমি ছোটো ছিলাম, তবুও আমি কাম্বোডিয়ান ভাষা শেখার সিদ্ধান্ত নিই, যাতে আমি আমার সহপাঠীদের যিহোবা সম্বন্ধে বলতে পারি। তখন আমি বুঝতেই পারিনি যে, এটা আমার ভবিষ্যতের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে।

কাম্বোডিয়ান ভাষা শেখা অনেক কঠিন ছিল। দুই বার আমি হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করি কিন্তু আমার বাবা-মায়ের মাধ্যমে যিহোবা আমাকে উৎসাহ প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে, আমার স্কুলের শিক্ষকরা এবং সহছাত্র-ছাত্রীরা আমাকে এক লোভনীয় কেরিয়ার বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। কিন্তু আমি একজন অগ্রগামী হতে চাই আর তাই আমি হাই স্কুলে এমন কিছু কোর্স বেছে নিই, যেগুলো আমাকে পার্টটাইম কাজ খুঁজে পেতে সাহায্য করবে আর এতে আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। স্কুলের পর, আমি কিছু অগ্রগামীর সঙ্গে প্রচার করতাম। এ ছাড়া, দ্বিতীয় একটা ভাষা হিসেবে ইংরেজি শিখছিল এমন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আমি বিনা খরচে পড়াতাম আর এটাই আমাকে পরবর্তী সময়ে অনেক উপকৃত করেছে।

আমার বয়স যখন ১৬ বছর, তখন আমি জানতে পারি যে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে একটা কাম্বোডিয়ান দল রয়েছে। আমি সেখানে যাই এবং কাম্বোডিয়ান ভাষা পড়তে শিখি। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর পরই, আমি অগ্রগামীর কাজ শুরু করি এবং আমার বাড়ির কাছাকাছি বাস করে এমন কাম্বোডিয়ান লোকেদের কাছে প্রচার করা চালিয়ে যাই। আমার বয়স যখন ১৮ বছর, তখন আমি কাম্বোডিয়ায় যাওয়ার কথা চিন্তা করি। এটা তখনও এক বিপদজনক জায়গা ছিল কিন্তু আমি জানতাম যে, কাম্বোডিয়াতে বসবাসরত এক কোটি লোকের মধ্যে খুব কম লোকই রাজ্যের সুসমাচার শোনার সুযোগ পেয়েছে। সেই সময় পুরো কাম্বোডিয়াতে ১৩ জন প্রকাশক নিয়ে কেবল একটা মণ্ডলী ছিল। আমার বয়স যখন ১৯ বছর, তখন আমি প্রথম কাম্বোডিয়াতে যাই। দুই বছর পর, আমি সেখানে গিয়ে স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নিই। আমি ইংরেজি অনুবাদ করার এবং শিক্ষা দেওয়ার পার্টটাইম কাজ খুঁজে পাই, যা আমাকে পরিচর্যা চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। পরবর্তী সময়ে আমি এমন একজন স্ত্রী পাই, যার আমার মতো একই লক্ষ্য রয়েছে। আমরা একত্রে কাম্বোডিয়ার অনেক ব্যক্তিকে ঈশ্বরের কাছে তাদের জীবন উৎসর্গ করতে সাহায্য করার আনন্দ লাভ করেছি।

যিহোবা ‘আমার মনোবাঞ্ছা সকল’ পূর্ণ করেছেন। (গীত. ৩৭:৪) শিষ্য তৈরির কাজ অন্য যে-কোনো কাজের চেয়ে বেশি পরিতৃপ্তিদায়ক। ১৬ বছর ধরে আমি কাম্বোডিয়াতে বাস করছি আর এই সময়ের মধ্যে যিহোবার সেই ১৩ জন দাসের ছোট্ট দল বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১২টা মণ্ডলী এবং ৪টা বিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়েছে!—বলেছেন, জেসন ব্ল্যাকওয়েল।