সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  নং  ১ ২০১৬

 প্রচ্ছদ বিষয় | পরিবারে শান্তি বজায় রাখুন

যেভাবে পারিবারিক অশান্তি মেটানো যায়

যেভাবে পারিবারিক অশান্তি মেটানো যায়

কী হবে যদি আপনার পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকে? আপনাদের মধ্যে হয়তো কথায় কথায় ঝগড়া শুরু হয়ে যায় আর প্রায়ই তা চরমে পৌঁছায়। কখনো কখনো আপনি হয়তো বুঝতেই পারেন না, কীভাবে কথাবার্তা ঝগড়ায় পরিণত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যেহেতু আপনারা একে অপরকে ভালোবাসেন, তাই আপনারা পরস্পরকে আঘাত দিতে চান না।

এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, মতপার্থক্য হওয়ার অর্থ এই নয় যে, আপনার পরিবার ভেঙে যাবে। মতপার্থক্য নয় বরং আপনারা মতপার্থক্যকে কীভাবে কাটিয়ে উঠছেন, সেটার উপরে আপনার পরিবারের শান্তি অথবা অশান্তি নির্ভর করবে। এখন কয়েকটা পদক্ষেপ বিবেচনা করুন, যেগুলো আপনাকে অশান্তি দূর করতে সাহায্য করবে।

১. তর্ক করবেন না।

এক হাতে তালি বাজে না। তাই, একজন ব্যক্তি যখন কথা না বাড়িয়ে শুধু শোনেন, তখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে পারে। অতএব, রেগে গেলে তর্ক করার প্রবণতা দমন করুন। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে আপনার আত্মসম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, তর্কবিতর্কে জেতার চেয়ে পরিবারে শান্তি বজায় রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

“আগুনে কাঠ না দিলে আগুন নিভে যায়; নিন্দাকারী না থাকলে ঝগড়াও মিটে যায়।” হিতোপদেশ ২৬:২০, বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন।

২. পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি দেখান।

কথায় বাধা না দিয়ে এবং আগে থেকেই বিচার না করে মন দিয়ে ও সহানুভূতির সঙ্গে শুনুন। এটা করা আপনাকে রাগ দমন ও শান্তিস্থাপন করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। অপর ব্যক্তির মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন। ভুল বোঝাবুঝির কারণে করা কোনো মন্তব্য থেকে ধরে নেবেন না যে, অপর ব্যক্তি আপনার প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দয় অথবা প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব নয় বরং একজন ব্যক্তি রাগের মাথায় কিংবা দুঃখ পেয়ে হয়তো রূঢ় মন্তব্য করে ফেলে।

“তোমরা . . . করুণার চিত্ত, মধুর ভাব, নম্রতা, মৃদুতা, সহিষ্ণুতা পরিধান কর।” কলসীয় ৩:১২.

৩. মাথা ঠাণ্ডা করুন।

আপনি যদি একটুতেই রেগে যান, তা হলে নম্রভাবে কিছুক্ষণের জন্য সেখান থেকে চলে যান। শান্ত না হওয়া পর্যন্ত আপনি হয়তো অন্য ঘরে থাকতে পারেন অথবা বাইরে গিয়ে একটু ঘুরে আসতে পারেন। এটার অর্থ পরস্পরকে এড়িয়ে চলা কিংবা কথাবার্তা বন্ধ করে দেওয়া নয়। এই সময়টা ধৈর্য, বুদ্ধি ও বিচার করার ক্ষমতা চেয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার এক উপযুক্ত সময় হতে পারে।

“উচ্চণ্ড হইবার পূর্ব্বে বিবাদ ত্যাগ কর।” হিতোপদেশ ১৭:১৪.

 ৪. কী বলতে হবে এবং কীভাবে বলতে হবে, তা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করুন।

কড়া ভাষায় উত্তর দেওয়াই যদি আপনার উদ্দেশ্য হয়, তা হলে পরিস্থিতি কখনোই ভালো হবে না। তাই, এমন কিছু বলার চেষ্টা করুন, যা আপনার প্রিয়জনের মনের ক্ষত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করবে। তার কেমন অনুভব করা উচিত, সেই বিষয়ে আপনার মতামত চাপিয়ে দেবেন না। এর পরিবর্তে, আপনি নম্রভাবে তাকে নিজের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ দিন এবং তার কাছ থেকে যে-সাহায্য পেয়েছেন ও যা-কিছু জানতে পেরেছেন, সেটার জন্য তাকে ধন্যবাদ দিন।

“কেহ কেহ অবিবেচনার কথা বলে, খড়্‌গাঘাতের মত, কিন্তু জ্ঞানবানদের জিহ্বা স্বাস্থ্যস্বরূপ।”হিতোপদেশ ১২:১৮.

৫. চিৎকার করে কথা বলার পরিবর্তে এমনভাবে কথা বলুন, যাতে শান্তিস্থাপন করা যায়।

পরিবারের মধ্যে একজন ব্যক্তি যখন ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন, তখন অপর ব্যক্তিও রেগে যেতে পারেন। আপনি যতই রেগে যান না কেন, ব্যঙ্গ, অপমান কিংবা চিৎকার-চ্যাঁচামেচি করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রতিরোধ করুন। আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ধরনের অভিযোগ করা এড়িয়ে চলুন, “আমার জন্য তোমার তো কোনো চিন্তাই নেই” কিংবা “আমার কথা তো তোমার কানেই ঢোকে না।” এর পরিবর্তে আপনার সাথির আচরণ কীভাবে আপনাকে আঘাত দিয়েছে, তা কোমলভাবে তাকে জানান (“আমার খুব খারাপ লাগে, যখন তুমি . . . ”)। ধাক্কা দেওয়া, চড় ও লাথি মারা কিংবা অন্য কোনো দৌরাত্ম্যমূলক আচরণের পিছনে কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। গালিগালাজ করা, অসম্মানজনক কিংবা ঠেস দিয়ে কথা বলা, ভয় দেখানোর ক্ষেত্রেও একই বিষয় সত্য।

“সর্ব্বপ্রকার কটুকাটব্য, রোষ, ক্রোধ, কলহ, নিন্দা এবং সর্ব্বপ্রকার হিংসেচ্ছা তোমাদের হইতে দূরীকৃত হউক।” ইফিষীয় ৪:৩১.

৬. ক্ষমা চাইতে দেরি করবেন না আর শান্তিস্থাপন করার জন্য আপনি যা করবেন, তা বলুন।

আপনার লক্ষ্য হল শান্তিস্থাপন করা। তাই নেতিবাচক অনুভূতির কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হবেন না। মনে রাখবেন, আপনি যদি আপনার সাথির সঙ্গে লড়াই করেন, তা হলে আপনারা কেউই জয়ী হতে পারবেন না। কিন্তু শান্তিস্থাপন করলে দু-জনেই জয়ী হতে পারবেন। তাই নিজের দোষ স্বীকার করুন। আপনি হয়তো পুরোপুরি নিশ্চিত, আপনি কোনো ভুল করেননি তবুও আপনি ক্ষমা চাইতে পারেন কারণ আপনি বিরক্ত হয়েছিলেন, বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে সাথিকে আঘাত দিয়েছিলেন। নিজের সম্মান বজায় রাখা ও জয়ী হওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শান্তিপূর্ণ সম্পর্কস্থাপন করা। আর কেউ যদি আপনার কাছে ক্ষমা চায়, তা হলে সঙ্গেসঙ্গে তাকে ক্ষমা করে দিন। (g15-E 12)

“যাও, বিনত হও, বন্ধুর সাধ্যসাধনা কর।” হিতোপদেশ ৬:৩

ঝগড়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের মধ্যে শান্তিস্থাপন করার জন্য আপনি কী করতে পারেন? পরের প্রবন্ধে এই বিষয়টা নিয়েই আলোচনা করা হবে।