সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  এপ্রিল ২০১৫

 বাইবেলের দৃষ্টিভঙ্গি

দুঃখকষ্ট

দুঃখকষ্ট

কেউ কেউ মনে করে, মানুষের দুঃখকষ্টের জন্য ঈশ্বর দায়ী নতুবা তিনি মানুষের দুঃখকষ্টের ব্যাপারে উদাসীন। কিন্তু, বাইবেল কি এইরকম শিক্ষা দেয়? উত্তরটা জেনে আপনি হয়তো অবাক হয়ে যাবেন।

আমাদের দুঃখকষ্টের জন্য কি ঈশ্বর দায়ী?

“ঈশ্বর ত কখনও দুষ্টাচরণ করেন না।” ইয়োব ৩৪:১২.

লোকেরা যা বলে

কেউ কেউ মনে করে, সব কিছু ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে। তাই তারা বিশ্বাস করে, আমাদের দুঃখকষ্টের জন্য ঈশ্বর দায়ী। উদাহরণ স্বরূপ, যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে, তখন তারা মনে করে, এই ঘটনাগুলোর মাধ্যমে ঈশ্বর পাপী লোকেদের শাস্তি দেন।

বাইবেল যা বলে

বাইবেল স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয়, আমাদের দুঃখকষ্টের জন্য ঈশ্বর দায়ী নন। উদাহরণ স্বরূপ বাইবেল বলে, যখন আমরা পরীক্ষার মুখোমুখি হই, তখন এমনটা বলা ভুল হবে: “ঈশ্বর হইতে আমার পরীক্ষা হইতেছে।” কেন? কারণ “মন্দ বিষয়ের দ্বারা ঈশ্বরের পরীক্ষা করা যাইতে পারে না, আর তিনি কাহারও পরীক্ষা করেন না।” (যাকোব ১:১৩) অন্যভাবে বললে, আমরা যে-পরীক্ষাগুলোর মুখোমুখি হই বা এর ফলে যে-দুঃখকষ্ট আসে, সেগুলোর উৎস কখনোই ঈশ্বর নন। তা করা দুষ্টাচরণ হবে কিন্তু ‘ঈশ্বর কখনও দুষ্টাচরণ করেন না।’—ইয়োব ৩৪:১২.

আমাদের দুঃখকষ্টের জন্য যদি ঈশ্বর দায়ী না হন, তাহলে কে বা কী দায়ী? দুঃখের বিষয় হল, মানুষ প্রায়ই অন্যান্য অসিদ্ধ মানুষের কারণে সমস্যা ভোগ করে থাকে। (উপদেশক ৮:৯) এ ছাড়া, আমরা হয়তো ‘দৈবের’ কারণে অর্থাৎ ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত থাকার কারণে বিভিন্ন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হই। (উপদেশক ৯:১১) বাইবেল শিক্ষা দেয়, “এ জগতের অধিপতি,” শয়তান দিয়াবলই মানুষের দুঃখকষ্টের জন্য দায়ী কারণ “সমস্ত জগৎ সেই পাপাত্মার মধ্যে শুইয়া রহিয়াছে।” (যোহন ১২:৩১; ১ যোহন ৫:১৯) তাই, মানুষের দুঃখকষ্টের জন্য ঈশ্বর নন বরং শয়তান দায়ী।

 ঈশ্বর কি আমাদের দুঃখকষ্ট সম্বন্ধে চিন্তা করেন?

“তাহাদের সকল দুঃখে তিনি দুঃখিত হইতেন।” যিশাইয় ৬৩:৯.

লোকেরা যা বলে

কেউ কেউ মনে করে, ঈশ্বর আমাদের পরীক্ষাগুলোর ব্যাপারে উদাসীন। উদাহরণ স্বরূপ, একজন লেখক এই উদাসীনতাকে “আমাদের দুঃখকষ্টের প্রতি” ঈশ্বরের “করুণা বা সমবেদনার অভাব” বলে উল্লেখ করেন। এই লেখক যুক্তি দেখান, ঈশ্বর যদি সত্যিই থেকে থাকেন, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই মানুষের ব্যাপারে “একেবারেই উদাসীন।”

বাইবেল যা বলে

বাইবেল কখনোই ঈশ্বরকে সমবেদনাহীন বা উদাসীন হিসেবে তুলে ধরে না, বরং এমন একজন ঈশ্বর হিসেবে তুলে ধরে, যিনি আমাদের দুঃখকষ্টের কারণে গভীরভাবে দুঃখ পান এবং যিনি খুব শীঘ্রই সমস্ত দুঃখকষ্টের শেষ নিয়ে আসবেন। বাইবেলে পাওয়া তিনটে সত্য বিবেচনা করুন, যেগুলো আমাদের সান্ত্বনা দেয়।

ঈশ্বর আমাদের দুঃখকষ্ট সম্বন্ধে জানেন। যখন থেকে মানুষের দুঃখকষ্ট শুরু হয়েছিল, তখন থেকে যিহোবা * প্রত্যেক ব্যক্তির দুঃখকষ্ট সম্বন্ধে জানেন কারণ তাঁর “চক্ষু” সমস্তকিছু লক্ষ করে। (গীতসংহিতা ১১:৪; ৫৬:৮) উদাহরণ স্বরূপ, প্রাচীনকালে তাঁর উপাসকরা যখন অত্যাচার ভোগ করছিল, তখন ঈশ্বর বলেছিলেন: “সত্যই আমি . . . আপন প্রজাদের কষ্ট দেখিয়াছি।” কিন্তু, তিনি কি তাদের কষ্ট সম্বন্ধে শুধু উপর উপর জানতেন? না, কারণ তিনি আরও বলেছিলেন: “আমি তাহাদের দুঃখ জানি [“ভালোভাবে জানি,” NW]।” (যাত্রাপুস্তক ৩:৭) অনেক ব্যক্তি শুধুমাত্র এই সত্য জেনে সান্ত্বনা পেয়েছে যে, ঈশ্বর আমাদের সমস্ত দুঃখকষ্ট সম্বন্ধে, এমনকী সেই পরীক্ষাগুলো সম্বন্ধেও জানেন, যেগুলো অন্যেরা জানে না কিংবা পুরোপুরি বোঝে না।—গীতসংহিতা ৩১:৭; হিতোপদেশ ১৪:১০.

আমরা যখন দুঃখকষ্ট ভোগ করি, তখন ঈশ্বর তা অনুভব করেন। যিহোবা ঈশ্বর যে মানুষের দুঃখকষ্ট সম্বন্ধে শুধুমাত্র জানেন তা-ই নয়, কিন্তু তিনি এগুলোর কারণে নিজে গভীরভাবে দুঃখ পান। উদাহরণ স্বরূপ, ঈশ্বর সেই সময় খুবই কষ্ট পেয়েছিলেন, যখন প্রাচীনকালে তাঁর উপাসকরা পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল। বাইবেল বলে: “তাহাদের সকল দুঃখে তিনি দুঃখিত হইতেন।” (যিশাইয় ৬৩:৯) যদিও ঈশ্বর মানুষের চেয়ে অনেক মহান, তবুও তিনি সেই ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা বোধ করেন, যারা দুঃখকষ্ট ভোগ করে থাকে—এমন যেন তিনি নিজে তাদের দুঃখ অনুভব করছেন! সত্যিই, “প্রভু [ঈশ্বর] স্নেহপূর্ণ ও দয়াময়।” (যাকোব ৫:১১) এ ছাড়া, যিহোবা আমাদেরকে দুঃখকষ্ট সহ্য করতেও সাহায্য করেন।—ফিলিপীয় ৪:১২, ১৩.

ঈশ্বর মানুষের সমস্ত দুঃখকষ্ট শেষ করে দেবেন। বাইবেল বলে, ঈশ্বর সমস্ত মানুষের দুঃখকষ্ট শেষ করে দেবেন। তাঁর স্বর্গীয় রাজ্যের মাধ্যমে, যিহোবা মানুষের পরিস্থিতিকে পুরোপুরি পরিবর্তন করে ভালো পরিস্থিতি আনবেন। বাইবেল প্রতিজ্ঞা করে, সেই সময় ঈশ্বর “তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন; এবং মৃত্যু আর হইবে না; শোক বা আর্ত্তনাদ বা ব্যথাও আর হইবে না; কারণ প্রথম বিষয় সকল লুপ্ত হইল।” (প্রকাশিত বাক্য ২১:৪) সেই ব্যক্তিদের সম্বন্ধে কী বলা যায়, যারা ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছে? ঈশ্বর তাদের এই পৃথিবীতে পুনরায় জীবিত করবেন, যাতে তারাও দুঃখকষ্ট মুক্ত জীবন উপভোগ করতে পারে। (যোহন ৫:২৮, ২৯) কোনো ব্যক্তি কি পূর্বের দুঃখকষ্টের কথা স্মরণ করে কষ্ট পাবেন? না, কারণ যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেন: “পূর্ব্বে যাহা ছিল, তাহা স্মরণে থাকিবে না, আর মনে পড়িবে না।”—যিশাইয় ৬৫:১৭. * ▪ (g15-E 01)

^ অনু. 13 যিহোবা হল ঈশ্বরের নাম, যা বাইবেলে প্রকাশ করা হয়েছে।

^ অনু. 15 কেন ঈশ্বর কিছু সময়ের জন্য দুঃখকষ্ট থাকতে দিয়েছেন এবং কীভাবে তিনি তা শেষ করবেন, সেই সম্বন্ধে জানার জন্য দয়া করে যিহোবার সাক্ষিদের দ্বারা প্রকাশিত বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়?বইয়ের ৮ এবং ১১ অধ্যায় দেখুন।