সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  জানুয়ারি ২০১৫

 পরিবারের জন্য সাহায্য | বিবাহ

যেভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়

যেভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়

প্রতিদ্বন্দ্বিতা

কোনো বিষয়ে আপনার ও আপনার বিবাহসাথির বিভিন্ন পছন্দ-অপছন্দ রয়েছে। বাস্তবে, আপনাদের সামনে অন্ততপক্ষে তিনটে পথ খোলা রয়েছে:

  1. ১. আপনার মতামত না মানা পর্যন্ত আপনি একগুঁয়েভাবে জোরাজুরি করতে পারেন।

  2. ২. আপনি মুখ বন্ধ করে আপনার বিবাহসাথির ইচ্ছা মেনে নিতে পারেন।

  3. ৩. আপনারা দু-জনেই মানিয়ে নিতে পারেন।

আপনি হয়তো বলতে পারেন, ‘মানিয়ে নেওয়া ব্যাপারটা আমার একেবারে ভালো লাগে না। মনে হয় যেন, আমরা কেউই যা চাই, তা পাব না!’

এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন, আপনারা যদি সঠিকভাবে মানিয়ে নিতে পারেন, তাহলে আপনাদের মধ্যে কেউই অসুখী হবেন না। কিন্তু, কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়, তা বিবেচনা করার আগে, আপনার এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশল সম্বন্ধে কয়েকটা বিষয় জানা উচিত।

আপনার যা জানা উচিত

মানিয়ে নেওয়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিয়ের আগে আপনি হয়তো একাই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত ছিলেন। কিন্তু, এখন পরিস্থিতি বদলেছে আর বিয়েকে আপনার ও আপনার বিবাহসাথির ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এটাকে এক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে না দেখে বরং এটার উপকারিতাগুলো বিবেচনা করুন। আলেকজ্যান্ড্রা নামে একজন স্ত্রী বলেন, “প্রত্যেকে আলাদা আলাদাভাবে যে-সমাধান বের করেছে, সেটার চেয়ে দু-জন ব্যক্তির সম্মিলিত চিন্তার দ্বারা বের করা সমাধান আরও ভালো হবে।”

মানিয়ে নেওয়ার জন্য খোলাখুলিভাবে কথা বলতে হবে। বিবাহ বিষয়ক উপদেষ্টা জন এম. গটম্যান বলেন, ‘আপনার বিবাহসাথি যা বলেন অথবা মনে করেন, সেটার সঙ্গে আপনাকে যে পুরোপুরিভাবে একমত হতে হবে, তা নয় কিন্তু আপনাকে খোলাখুলিভাবে তার মতামত বিবেচনা করতে হবে। আপনার বিবাহসাথি যখন কোনো সমস্যা নিয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন, তখন আপনি যদি দু-হাত ভাঁজ করে বসে থাকেন অথবা অসম্মতভাবে মাথা নাড়তে থাকেন (কিংবা মনে মনে তা করে থাকেন), তাহলে আপনাদের আলোচনা থেকে কখনোই কোনো সমাধান বের হবে না।’ *

মানিয়ে নেওয়ার জন্য আত্মত্যাগের প্রয়োজন। কেউই এইরকম একজন বিবাহসাথির সঙ্গে থাকা উপভোগ করবেন না, যিনি মনে করেন, “আমি যা চাই তাই করতে হবে কারণ সেটাই ঠিক।” দু-জন সাথিই যখন আত্মত্যাগের মনোভাব দেখায়, তখন তা ভালো ফল নিয়ে আসে। জুন নামে একজন স্ত্রী বলেন, ‘কখনো কখনো আমার স্বামীকে খুশি করার জন্য আমি তার কথা মেনে নিই কিন্তু কখনো কখনো সে-ও আমার প্রতি একই কাজ করে। একটা বিয়ে এইরকমই হওয়া উচিত—যেখানে শুধু নেওয়া নয় বরং পারস্পরিক দেওয়া-নেওয়া থাকবে।’

 আপনি যা করতে পারেন

সঠিক মনোভাব নিয়ে কথাবার্তা শুরু করুন। একটা আলোচনা সাধারণত যেভাবে শুরু হয়, সেভাবেই শেষ হয়। আপনি যদি রূঢ়ভাবে কথা বলা শুরু করেন, তাহলে শান্তিপূর্ণভাবে মানিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম হবে। তাই, বাইবেলের এই উপদেশ অনুসরণ করুন: “করুণার চিত্ত, মধুর ভাব, নম্রতা, মৃদুতা, সহিষ্ণুতা পরিধান কর।” (কলসীয় ৩:১২) এই ধরনের গুণগুলো আপনাকে ও আপনার বিবাহসাথিকে তর্কবিতর্ক করা এড়িয়ে চলতে এবং সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করবে।—বাইবেলের নীতি: কলসীয় ৪:৬.

যে-বিষয়গুলোতে একমত, সেগুলো খুঁজে বের করুন। মানিয়ে নেওয়ার জন্য আপনাদের প্রচেষ্টা যদি কেবল তর্কবিতর্কের দিকে চলে যায়, তাহলে এমনটা হতে পারে যে, আপনারা হয়তো সেই বিষয়গুলোর ওপর অত্যধিক মনোযোগ দিচ্ছেন, যে-বিষয়গুলোতে আপনারা একমত নন। এর পরিবর্তে, সেই বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করুন, যেগুলোতে আপনারা একমত। যে-বিষয়গুলোতে একমত, সেগুলো খুঁজে বের করার জন্য এটা করে দেখুন:

আপনারা প্রত্যেকে দুটো কলাম দেওয়া একটা তালিকা তৈরি করুন। প্রথম কলামে লিখুন যে, আলোচ্য বিষয়ের কোন কোন দিককে আপনি মেনে নিতে পারবেন না। দ্বিতীয় কলামে লিখুন যে, কোন কোন দিককে আপনি মেনে নিতে পারবেন। এরপর, দু-জনে তালিকা নিয়ে আলোচনা করুন। আপনারা হয়তো দেখতে পাবেন, আপনারা যতটা মনে করেছিলেন, সেটার চেয়েও বেশি বিষয়ে আপনারা একমত। যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে মানিয়ে নেওয়া ততটা কঠিন হবে না। আপনাদের মতের মধ্যে মিল যদি না-ও থাকে, তবুও আলোচ্য বিষয়ের প্রতিটা দিক লিখে রাখা আপনাদেরকে বিষয়টা আরও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে সাহায্য করবে।

সমাধানে পৌঁছানোর জন্য নিজেদের মতামত প্রকাশ করুন। কোনো কোনো বিষয় সমাধান করা হয়তো তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু, জটিল সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী নিজেদের মতামত প্রকাশ করার মাধ্যমে এমন কোনো সমাধান খুঁজে বের করতে পারেন, যেটা হয়তো তারা একাকী বের করতে পারতেন না। এইধরনের কাজ তাদের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে পারে।—বাইবেলের নীতি: উপদেশক ৪:৯.

আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে রদবদল করতে ইচ্ছুক হোন। বাইবেল বলে: “তোমরাও প্রত্যেকে আপন আপন স্ত্রীকে তদ্রূপ আপনার মত প্রেম কর; কিন্তু স্ত্রীর উচিত যেন সে স্বামীকে ভয় [“সম্মান,” বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন] করে।” (ইফিষীয় ৫:৩৩) যখন একে অপরের প্রতি প্রেম ও সম্মান থাকে, তখন দু-জনেই একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করতে আর এমনকী নিজেদের মতামত পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক থাকেন। ক্যামেরন নামে একজন স্বামী বলেন, “আপনি হয়তো কিছু কিছু বিষয় করতে পছন্দ করেন না কিন্তু আপনার বিবাহসাথির কারণে পরবর্তীকালে আপনি তা-ই করতে পছন্দ করেন।”—বাইবেলের নীতি: আদিপুস্তক ২:১৮. ▪ (g১৪-E ১২)

^ অনু. 12 বিয়েকে সফল করার জন্য সাতটা নীতি (ইংরেজি) বই থেকে।

আরও জানুন

বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়?

আপনার পারিবারিক জীবনকে যেভাবে সুখী করা যায়

যিশু যে-প্রেম দেখিয়েছিলেন, তা স্বামী, স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তানরা অনুকরণ করতে পারে। আমরা তাঁর কাছ থেকে কী শিখতে পারি?