সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  জানুয়ারি ২০১৫

 বাইবেলের দৃষ্টিভঙ্গি | পৃথিবী

পৃথিবী

পৃথিবী

পৃথিবীর জন্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্য কী?

“সদাপ্রভু . . . যিনি পৃথিবীকে সংগঠন করিয়া নির্ম্মাণ করিয়াছেন, . . . অনর্থক সৃষ্টি না করিয়া বাসস্থানার্থে নির্ম্মাণ করিয়াছেন।”যিশাইয় ৪৫:১৮.

লোকেরা যা বলে

অনেকে দাবি করে থাকে যে, পৃথিবীকে কোনো সৃষ্টিকর্তার মাধ্যমে তৈরি করা হয়নি। কিছু ধর্ম শিক্ষা দেয়, পৃথিবী হল এমন একটা জায়গা, যেখানে ঈশ্বর লোকেদের পরীক্ষা করে দেখেন, তারা স্বর্গীয় জীবনের পুরস্কার লাভ করবে, না কি অগ্নিময় নরকে কষ্টভোগ করবে।

বাইবেল যা বলে

বাইবেল বলে, “আদিতে ঈশ্বর আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি করিলেন।” (আদিপুস্তক ১:১) তিনি প্রথম মানবদম্পতিকে বলেছিলেন: “তোমরা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও, এবং পৃথিবী পরিপূর্ণ ও বশীভূত কর, আর . . . ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় জীবজন্তুর উপরে কর্ত্তৃত্ব কর।” (আদিপুস্তক ১:২৮) তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তারা যদি অবাধ্য হয়, তাহলে তারা মারা যাবে। (আদিপুস্তক ২:১৭) তাই, ঈশ্বর চেয়েছিলেন যেন মানবজাতি পৃথিবীতে চিরকাল ধরে বাস করে। তিনি আরও চেয়েছিলেন, যেন পৃথিবী বাধ্য মানবজাতির দ্বারা পরিপূর্ণ হয়, যারা এটার যত্ন নেবে এবং চিরকাল বাস করবে।

 পৃথিবীকে কি ধ্বংস করা হবে?

“তিনি পৃথিবীকে তাহার ভিত্তিমূলের উপরে স্থাপন করিয়াছেন; তাহা অনন্তকালেও বিচলিত হইবে না।”গীতসংহিতা ১০৪:৫.

লোকেরা যা বলে

বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন মতবাদ দেয় যে, পৃথিবী কীভাবে ধ্বংস হবে অথবা বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। এই মতবাদের অন্তর্ভুক্ত হল, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন, গ্রহাণু বা ধূমকেতুর সঙ্গে সংঘর্ষ, বড়ো বড়ো আগ্নেয়গিরি, সূর্যের বিলুপ্তি কিংবা বিশ্ব উষ্ণায়ণ আর সেইসঙ্গে মানুষের দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন দুর্যোগ যেমন, পারমাণবিক যুদ্ধ অথবা জৈব সন্ত্রাসবাদ, যা জীবনকে অস্তিত্বহীন করে দিতে পারে।

বাইবেল যা বলে

পৃথিবীর জন্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্য পরিবর্তন হয়নি। ঈশ্বরের বাক্য স্পষ্টভাবে বলে: “পৃথিবী নিত্যস্থায়ী।” (উপদেশক ১:৪) শুধু তা-ই নয়, মানুষ এই পৃথিবীতে চিরকাল থাকবে: “ধার্ম্মিকেরা দেশের অধিকারী হইবে, তাহারা নিয়ত তথায় বাস করিবে।”—গীতসংহিতা ৩৭:২৯.

কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

পৃথিবী শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাবে এই ভেবে অনেকে পৃথিবীর মূল্যবান সম্পদগুলো নষ্ট করে দেয়। এই রকম ধারণার কারণে অনেকেই ভবিষ্যতের জন্য আশা হারিয়ে ফেলে এবং শুধু বর্তমানের জন্য জীবনযাপন করে। এর ফলে, তাদের জীবনে কোনো অর্থ বা উদ্দেশ্য থাকে না। অপরদিকে, আমরা যদি বিশ্বাস করি যে, আমরা পৃথিবীতে চিরকাল বাস করতে পারব, তাহলে আমরা সম্ভবত এমন সিদ্ধান্তগুলো নেব, যেগুলো আমাদের এবং আমাদের পরিবারের জন্য এমনকী সুদূর ভবিষ্যতেও উপকার নিয়ে আসবে।

মানুষ কি স্বর্গে যাবে?

“স্বর্গ সদাপ্রভুরই স্বর্গ, কিন্তু তিনি পৃথিবী মনুষ্য-সন্তানদিগকে দিয়াছেন।”—গীতসংহিতা ১১৫:১৬.

লোকেরা যা বলে

অনেকে বিশ্বাস করে, সমস্ত ভালো লোক স্বর্গে যাবে।

বাইবেল যা বলে

স্বর্গ হল ঈশ্বরের কিন্তু পৃথিবী মানুষের। বাইবেল এমন “পৃথিবীর” বিষয়ে বলে, যেখানে “বসতি” থাকবে। (২ পিতর ৩:১৩) যিশু হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি স্বর্গে গিয়েছিলেন আর বাইবেল দেখায় যে, বিশেষ উদ্দেশ্যের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি স্বর্গে যাবে। যিশুর সঙ্গে তারা “পৃথিবীর উপরে রাজত্ব করিবে।”—প্রকাশিত বাক্য ৫:৯, ১০; লূক ১২:৩২; যোহন ৩:১৩.

কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

সমস্ত ভালো লোক যে-স্বর্গে যাবে এই ধারণা বাইবেলের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ঈশ্বর যদি সমস্ত ভালো লোককে স্বর্গে নিয়ে যেতেন, তাহলে এটা প্রকাশ করত যে, পৃথিবীর জন্য তাঁর আদি উদ্দেশ্য সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ এবং পৃথিবীতে অনন্তজীবনের বিষয়ে তাঁর প্রতিজ্ঞা সত্য নয়। অন্যদিকে, ঈশ্বরের বাক্য প্রতিজ্ঞা করে: “সদাপ্রভুর অপেক্ষায় থাক, তাঁহার পথে চল; তাহাতে তিনি তোমাকে দেশের অধিকার ভোগের জন্য উন্নত করিবেন।”—গীতসংহিতা ৩৭:৩৪. ▪ (g১৪-E ১২)