সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  অক্টোবর ২০১৪

 প্রচ্ছদ বিষয় | মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে যেভাবে মোকাবিলা করতে পারেন

বিষয়সম্পত্তি হারানো

বিষয়সম্পত্তি হারানো

দিনটা ছিল শুক্রবার, ২০১১ সালের মার্চ মাসের ১১ তারিখ। এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে সমগ্র জাপান কেঁপে ওঠে, রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৯.০ আর এর ফলে প্রায় ১৫,০০০-রেরও বেশি জন নিহত হয় এবং ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারেরও অধিক পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়। আসন্ন সুনামির সতর্কবার্তা পেয়ে ৩২ বছর বয়সি কেই এক উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, ‘পরের দিন সকালে আমি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য ঘরে ফিরে যাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি, বাড়ির ভিত ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, সমুদ্রের জলে সব কিছুই ধুয়ে-মুছে গেছে।’

“তখন আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না যে, আমি শুধু আমার নিজস্ব জিনিসপত্রই নয় কিন্তু আমার সব কিছুই হারিয়ে ফেলেছি। আমি আমার গাড়ি, কাজের কম্পিউটার, টেবিল, চেয়ার, সোফা—যেটায় বসে আমি অতিথিদের সঙ্গে সময় কাটাতাম, কিবোর্ড, গিটার, ইউকালেলি (হাওয়াই গিটার), বাঁশি, এমনকী আমার ছবি আঁকার সরঞ্জাম, আমার নিজহাতে আঁকা ছবি, সব কিছু হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলাম।”

মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে মোকাবিলা করা

আপনি যা হারিয়েছেন, সেটার ওপর নয় বরং আপনার কাছে এখনও যা রয়েছে, সেটার ওপর মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন। বাইবেল বলে: “উপচিয়া পড়িলেও মনুষ্যের সম্পত্তিতে তাহার জীবন হয় না।” (লূক ১২:১৫) কেই নিজের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে বলেন: ‘প্রথমে আমি আমার চাহিদা অনুযায়ী একটা লিস্ট তৈরি করেছিলাম কিন্তু এটা শুধু আমাকে সেই জিনিসপত্রের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছিল, যেগুলো আমি হারিয়েছিলাম। তাই পরে, আমি শুধু সেই জিনিসগুলোরই একটা লিস্ট তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিই, যেগুলো আমার সত্যিই প্রয়োজন ছিল। আমি আমার প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে লিস্টে রদবদল করি। সেই লিস্ট আমাকে পুনরায় নতুন করে জীবন শুরু করতে সাহায্য করেছিল।’

সবসময় শুধু নিজের কথা চিন্তা করার পরিবর্তে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যদের সান্ত্বনা দিন। কেই বলেন: ‘ত্রাণ সাহায্য এবং বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে আমি অনেক সহায়তা পেয়েছি কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যদের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়া আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল আর এর ফলে আমি আমার আত্মসম্মানবোধ হারিয়ে ফেলছিলাম। সেইসময় প্রেরিত ২০:৩৫ পদে বলা বাইবেলের এই কথাগুলো আমার মনে পড়ে যায়, “গ্রহণ করা অপেক্ষা বরং দান করা ধন্য হইবার বিষয়।” যেহেতু তখন আমার কাছে অন্যদের দেওয়ার মতো বেশি কিছু ছিল না, তাই আমি বিপর্যয়গ্রস্ত ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নিই। এইভাবে উদারতা দেখিয়ে অন্যদের সাহায্য করতে পেরে আমি অনেক উপকার লাভ করেছি।’

আপনার পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য ব্যাবহারিক প্রজ্ঞা চেয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন। বাইবেলের এই আশ্বাসের প্রতি কেই আস্থা রেখেছিলেন যে, ঈশ্বর “সর্বহারাদের প্রার্থনার উত্তর দেবেন।” (গীতসংহিতা ১০২:১৭, বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন) আপনিও একই আস্থা রাখতে পারেন।

আপনি কি জানতেন? বাইবেল এমন এক সময় সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করে, যখন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কারোরই আর কোনো কিছু হারানোর ভয় থাকবে না। *যিশাইয় ৬৫:২১-২৩. (g১৪-E ০৭)

^ অনু. 9 পৃথিবীর জন্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্য কী, তা জানার জন্য যিহোবার সাক্ষিদের দ্বারা প্রকাশিত বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়? বইয়ের ৩ অধ্যায় দেখুন। এই বইটা অনলাইনে www.jw.org ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।