সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  অক্টোবর ২০১৪

 প্রচ্ছদ বিষয় | মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে যেভাবে মোকাবিলা করতে পারেন

কোনো প্রিয়জনকে হারানো

কোনো প্রিয়জনকে হারানো

ব্রাজিলের রোনাল্ডো একটা গাড়ি দুর্ঘটনায় নিজের বাবা-মা-সহ পরিবারের পাঁচ জন সদস্যকে হারান। তিনি বলেন, “হাসপাতালে ভর্তি থাকার দু-মাস পর আমি জানতে পারি যে, তারা আর কেউ বেঁচে নেই।

“প্রথমে আমি কিছুতেই এটা মেনে নিতে পারিনি। কীভাবে তারা সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে? কিন্তু আমি যখন বুঝতে পারি যে, ঠিক এটাই ঘটেছে, তখন আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। আমি কখনো এ-রকম যন্ত্রণা অনুভব করিনি। পরবর্তী দিনগুলোতে আমার মনে হতে থাকে, তাদের ছাড়া বেঁচে থেকে আর কোনো লাভ নেই। আমার এমন একটা দিনও কেটেছে কিনা সন্দেহ, যে-দিন আমি চোখের জল ফেলিনি! এইরকম চিন্তা করে আমি নিজেকে দোষারোপ করতাম যে, কেন আমি অন্যকে গাড়ি চালাতে দিয়েছিলাম। সে-দিন যদি আমি গাড়ি চালাতাম, তাহলে তারা হয়তো আজও বেঁচে থাকত।

“তারপর ষোলোটা বছর কেটে গেছে; আমি আবার জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করেছি। কিন্তু তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু আমার জীবনে যে-শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, তা এখনও পূর্ণ হয়নি।”

মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে মোকাবিলা করা

মন খুলে কাঁদুন। বাইবেল বলে যে, “রোদন করিবার কাল” আছে। (উপদেশক ৩:১, ৪) রোনাল্ডো বলেন: “যখনই আমার খুব কষ্ট হতো, আমি কাঁদতাম। আসলে চোখের জল আটকে রেখে কোনো লাভ নেই আর একবার কাঁদার পর আমার নিজেকে খুব হালকা লাগত।” এটা ঠিক যে, সবাই এভাবে দুঃখপ্রকাশ করতে পারে না। তাই আপনি যদি কেঁদে দুঃখপ্রকাশ করতে না পারেন, তার মানে এই নয় যে, আপনি আপনার অনুভূতি চেপে রাখছেন অথবা তা প্রকাশ করার জন্য আপনাকে জোর করে কাঁদতেই হবে।

নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন না। (হিতোপদেশ ১৮:১) রোনাল্ডো বলেন, ‘আমি সবসময় অন্যদের মাঝে থাকার চেষ্টা করতাম। লোকেরা আমার সঙ্গে দেখা করতে এলে আমি তাদের সঙ্গে সময় কাটাতাম। আর সেইসঙ্গে আমার স্ত্রী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে হৃদয় উজাড় করে কথা বলে নিজেকে হালকা মনে করতাম।’

অন্যের কথায় আঘাত পেলেও শান্ত থাকুন। তারা হয়তো এইরকমটা বলতে পারে, “যা হয়েছে, ভালোর জন্যই হয়েছে।” আগের কথা মনে করে রোনাল্ডো বলেন, “সান্ত্বনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেউ কেউ এমন মন্তব্য করত, যা শুনে আমি কষ্ট পেতাম।” আঘাত দেওয়ার মতো কথাগুলো গায়ে মাখার পরিবর্তে, বাইবেলের এই বিজ্ঞ পরামর্শ কাজে লাগান: “লোকে যা বলে তার সব কথায় কান দিয়ো না।”—উপদেশক ৭:২১, বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন।

মৃতদের অবস্থা সম্বন্ধে সত্য বিষয়টা জানুন। রোনাল্ডোর কথায়: “উপদেশক ৯:৫ পদে বাইবেল বলে যে, মৃতেরা কোনো কষ্ট পাচ্ছে না আর এটা জানা, আমাকে অনেক মানসিক শান্তি জোগায়। শুধু তা-ই নয়, বাইবেল এও জানায় যে, ভবিষ্যতে মৃত ব্যক্তিরা পুনরুত্থিত হবে অর্থাৎ তারা আবার জীবিত হয়ে উঠবে। তাই আমি মনে করি, মৃত্যুতে যে-প্রিয়জনদের আমি হারিয়েছি, তারা যেন কোথাও ঘুরতে গেছে।”—প্রেরিত ২৪:১৫.

আপনি কি জানতেন? বাইবেল এমন এক সময় সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করে, যখন ঈশ্বর “মৃত্যুকে অনন্তকালের জন্য বিনষ্ট” করবেন। *যিশাইয় ২৫:৮. ▪ (g১৪-E ০৭)

^ অনু. 11 আরও তথ্যের জন্য বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়? বইয়ের ৭ অধ্যায় দেখুন। এই বইটা অনলাইনে www.jw.org ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।

আরও জানুন

প্রহরীদুর্গ

ভালো লোকেদের প্রতি মন্দ বিষয়গুলো ঘটে—কেন?

বাইবেল মানুষের দুঃখকষ্টের জন্য তিনটে মূল কারণ শনাক্ত করে।