সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  অক্টোবর ২০১৪

 পরিবারের জন্য সাহায্য | বিবাহ

যেভাবে বিরক্তিভাব দূর করা যায়

যেভাবে বিরক্তিভাব দূর করা যায়

প্রতিদ্বন্দ্বিতা

আপনার বিবাহসাথি আপনাকে যা বলেছেন বা আপনার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেছেন, সেটা আপনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না; বার বার তার সেই কটুক্তি ও রূঢ় ব্যবহার আপনার মনে পড়ে যাচ্ছে। ফলে, একসময় তার প্রতি আপনার যে-অনুরাগ ছিল, সেই জায়গায় এখন একরাশ বিরক্তি এসে জমা হয়েছে। ভালোবাসাবিহীন এক বিবাহিত জীবনকে মেনে নেওয়া ছাড়া আপনার সামনে আর কোনো রাস্তা খোলা নেই বলে মনে হতে পারে। আর এই কারণে, আপনি আপনার সাথির প্রতি বিরক্ত।

আপনি নিশ্চিত থাকুন যে, অবস্থার উন্নতি হতে পারে। তবে, প্রথমে আসুন আমরা বিরক্তিভাব সম্বন্ধে কয়েকটা বাস্তব সত্য বিবেচনা করি।

আপনার যা জানা দরকার

বিরক্তি পুষে রাখা ঠিক যেন আপনার বিবাহকে কোনো ভারী বস্তু দিয়ে টেনে ধরে রাখার মতো, যা আপনাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে বাধা দেয়

বিরক্তি পুষে রাখা একটা বিয়েকে ভেঙে দিতে পারে। কেন? কারণ এটা ভালোবাসা, নির্ভরতা ও বিশ্বস্ততার মতো গুণগুলোকে নষ্ট করে দেয়, যে-গুণগুলোই হল একটা বিবাহের ভিত্তি। তাই বলা যায় যে, বৈবাহিক সমস্যার কারণে যে বিরক্তিবোধ আসে তা নয়, বরং বিরক্তিবোধই হল একটা বৈবাহিক সমস্যা। ভালোর জন্যই বাইবেল পরামর্শ দেয়: “সব রকমের তিক্ততা . . . তোমাদের থেকে দূরে রাখ।”—ইফিষীয় ৪:৩১, ইজি-টু-রিড ভারশন।

আপনি যদি বিরক্তি পুষে রাখেন, তাহলে আপনি নিজেকেই কষ্ট দিচ্ছেন। বিরক্তি পুষে রাখা অনেকটা, নিজের গালে চড় মেরে এমনটা আশা করা যে, অন্য জন ব্যথা পাবে। পারিবারিক দূরত্বের সমাধান (ইংরেজি) বইয়ে মার্ক জিকাল লেখেন, “পরিবারে যার ওপর আপনি বিরক্ত হয়ে আছেন, তিনি হয়তো ভালোই আছেন, দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আর এর চেয়েও বড়ো কথা হল তিনি হয়তো জানেনই না যে, আপনি তার ওপর রেগে আছেন।” তাহলে, বিষয়টা কী দাঁড়াল? জিকাল বলেন, “বিরক্তি পুষে রাখার কারণে যার ওপর রেগে আছেন, তার থেকেও বেশি আপনি নিজে কষ্ট পাচ্ছেন।”

বিরক্তি পুষে রাখা অনেকটা, নিজের গালে চড় মেরে এমনটা আশা করা যে, অন্য জন ব্যথা পাবে

বিরক্ত হওয়ার বিষয়টা একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। অনেকে এই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে থাকে। তারা বলতে পারে, ‘আমার বিরক্তির জন্য আমার স্বামী (অথবা স্ত্রী) দায়ী।’ সমস্যা হল, এইরকম চিন্তাভাবনা করায় একজন ব্যক্তি এমন কিছুর ওপর মনোযোগ দেন, যেটা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে আর তা হল অপর সাথির আচরণ। বাইবেল এর বিকল্প উপায় সম্বন্ধে বলতে গিয়ে জানায়: “প্রত্যেক জন নিজ নিজ কর্ম্মের পরীক্ষা করুক।” (গালাতীয় ৬:৪) যদিও আমরা অন্য জনের কথা বা কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না কিন্তু সেটার প্রতি আমরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাই, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। বিরক্তি প্রকাশ করাই একমাত্র উপায় নয়।

 আপনি যা করতে পারেন

বিরক্ত হওয়ার জন্য আপনি যে নিজে দায়ী, তা স্বীকার করে পদক্ষেপ নিন। এটা ঠিক যে, আপনার সাথির ঘাড়ে দোষ চাপানো খুবই সহজ। কিন্তু মনে রাখবেন, বিরক্ত হওয়ার বিষয়টা যেমন আপনি নিজে বেছে নিয়েছেন, একইভাবে ক্ষমা করার বিষয়টাও আপনি বেছে নিতে পারেন। আপনি বাইবেলের পরামর্শ অনুযায়ী এই কাজটা করতে পারেন: “সূর্য্য অস্ত না যাইতে যাইতে তোমাদের কোপাবেশ শান্ত হউক।” (ইফিষীয় ৪:২৬) ক্ষমা করার মনোভাব আপনাকে বৈবাহিক সমস্যার সঙ্গে আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে।—বাইবেলের নীতি: কলসীয় ৩:১৩.

নিজেকে ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। বাইবেল বলে যে, কিছু ব্যক্তি “রাগী” স্বভাবের হয়ে থাকে, যারা “সহজেই রেগে যায়।” (হিতোপদেশ ২৯:২২, ইজি-টু-রিড ভারশন) আপনি কি এই ধরনের ব্যক্তি? নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘আমি কি সহজেই বিরক্ত হই? আমি কি খুব তাড়াতাড়ি রেগে যাই? আমি কি তিলকে তাল করি?’ বাইবেল বলে, “যে পুনঃ পুনঃ এক কথা বলে, সে মিত্রভেদ জন্মায়।” (হিতোপদেশ ১৭:৯; উপদেশক ৭:৯) বিবাহের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তাই, আপনি যদি সহজেই বিরক্ত হয়ে পড়েন, তাহলে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘আমি কি আমার বিবাহসাথির প্রতি আরও একটু ধৈর্য ধরতে পারি?’—বাইবেলের নীতি: ১ পিতর ৪:৮.

কোন বিষয়টা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্ধারণ করুন। বাইবেল আমাদের জানায় “নীরব থাকিবার কাল ও কথা কহিবার কাল” আছে। (উপদেশক ৩:৭) কোনো বিষয়ে বিরক্ত হলেই যে তা নিয়ে কথা বলতে হবে, এমন নয়; একেক সময় আপনি হয়তো, ‘শয্যার উপরে মনে মনে কথা কহিতে, ও নীরব হইতে’ পারেন। (গীতসংহিতা ৪:৪) যদি আপনার মনে হয়ে যে, কোনো একটা অভিযোগের কথা না বললেই নয়, তখন তা বলার জন্য আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন, যতক্ষণ না আপনার বিরক্তি দূর হয়। বেয়ত্রিস নামে একজন স্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন রেগে যেতাম, তখন আমি প্রথমে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতাম। অনেক সময়, শান্ত হওয়ার পর আমি বুঝতে পারতাম যে, বিষয়টা ততটা গুরুতর ছিল না আর তা আমাকে আরও সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে সাহায্য করত।’—বাইবেলের নীতি: হিতোপদেশ ১৯:১১.

‘ক্ষমা’ করার অর্থ উপলব্ধি করুন। বাইবেলে যে-মূল শব্দটাকে কখনো কখনো ‘ক্ষমা’ হিসাবে অনুবাদ করা হয়েছে, সেটা কোনো কিছু ভুলে যাওয়াকে ইঙ্গিত করে। আর তাই, ক্ষমা করার অর্থ এই নয় যে, আমরা সেই ভুলগুলো ছোটো করে দেখব অথবা এমনভাবে উপেক্ষা করব যে, সেগুলো ঘটেইনি বরং এর অর্থ হল শুধুমাত্র সেই ভুলগুলোকে এই মনে করে ভুলে যাওয়া যে, সেগুলো আপনার যত না ক্ষতি করবে, বিরক্তি পুষে রাখলে তা আপনার স্বাস্থ্য ও বৈবাহিক জীবনের আরও বেশি ক্ষতি করবে। ▪ (g১৪-E ০৯)