সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  অক্টোবর ২০১৪

ডায়াবেটিস—আপনি কি এর শিকার হওয়া এড়াতে পারেন?

ডায়াবেটিস—আপনি কি এর শিকার হওয়া এড়াতে পারেন?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন এত দ্রুত বেড়ে চলেছে যে, তা এক বিশ্বব্যাপী মহামারীতে পরিণত হয়েছে। ডায়াবেটিস মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। প্রথমটা হল টাইপ ১ ডায়াবেটিস, যা সাধারণত ছোটোবেলায় শুরু হয় এবং এর প্রতিকারের উপায় এখনও পর্যন্ত ডাক্তারদের জানা নেই। এই প্রবন্ধে টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেটা সমস্ত ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যক্তির হয়ে থাকে।

আগে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদেরই টাইপ ২ ডায়াবেটিস হতো কিন্তু সম্প্রতি ছোটো বাচ্চারাও এই রোগে আক্রান্ত হয়। তবে, বিশেষজ্ঞরা দাবি করে যে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসের শিকার হওয়া এড়ানো যেতে পারে। এই সুপ্ত রোগ সম্বন্ধে আপনার একটু জানা থাকলে, তা সাহায্যকারী বলে প্রমাণিত হতে পারে। *

ডায়াবেটিস কাকে বলে?

একজন ব্যক্তির রক্তে অতিরিক্ত মাত্রায় শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে, তাকে ডায়াবেটিস বলা হয়। এই রোগের কারণে রক্তপ্রবাহ থেকে কোষে শর্করা স্থানান্তরিত হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যে-শর্করা শক্তির জন্য অপরিহার্য। এর ফলে, দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়, কখনো কখনো পা বা পায়ের আঙুল বাদ দিতে হয়, চোখের জ্যোতি চলে যায়, কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। ডায়াবেটিস রোগীদের অধিকাংশই হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকে মারা যায়।

শরীরে অতিরিক্ত মেদের বৃদ্ধি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেটে ও কোমরে মেদ জমা হতে থাকলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, অগ্ন্যাশয় ও লিভারে (যকৃৎ) জমতে থাকা মেদ শরীরে ব্লাড সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এর শিকার হওয়া এড়ানোর জন্য আপনি কী করতে পারেন?

 ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাব্য তিনটে পদক্ষেপ

১. যদি আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাহলে রক্তপরীক্ষা করান। টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার আগে প্রায়ই যে-সমস্যা দেখা দেয় সেটাকে বলা হয় প্রিডায়াবেটিস। এই সময় শরীরে ব্লাড সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে। যদিও প্রিডায়াবেটিস ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস উভয়ই স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, তবুও দুটোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও এর থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হওয়া যায় না। অপরদিকে, প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত কেউ কেউ তাদের ব্লাড সুগারের মাত্রাকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। আপাতদৃষ্টিতে প্রিডায়াবেটিসের কোনো লক্ষণ ধরা পড়ে না। তাই, লোকেরা হয়তো এটা সহজে বুঝতে পারে না। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, পৃথিবীব্যাপী প্রায় ৩১ কোটি ৬০ লক্ষ লোকের প্রিডায়াবেটিস রয়েছে; কিন্তু এদের মধ্যে বেশিরভাগই তা জানে না। যেমন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ৯০ শতাংশ লোক জানেই না যে, তাদের এই রোগ আছে।

এর মানে এই নয় যে, প্রিডায়াবেটিস ক্ষতিকর নয়। বর্তমানে মনে করা হচ্ছে যে, এটা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের দিকে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। আপনার ওজন যদি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়, শারীরিক পরিশ্রম কম করেন অথবা আপনার বংশে ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে আপনার হয়তো ইতিমধ্যেই প্রিডায়াবেটিস আছে। রক্তপরীক্ষা করালে, তা ধরা পড়তে পারে।

২. স্বাস্থ্যকর খাদ্য খান। যদি সম্ভব হয় ও কাজে লাগানো যায়, তাহলে নীচে দেওয়া পরামর্শ প্রয়োগ করে, আপনি উপকার পেতে পারেন: একসঙ্গে অনেকটা না খেয়ে কিছুক্ষণ পর পর অল্প পরিমাণে খান। মিষ্টি ফলের রস ও কোক-জাতীয় পানীয় খাওয়ার পরিবর্তে জল, চা বা কফি খান। প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার পরিবর্তে পরিমিত মাত্রায় ভুসিযুক্ত রুটি ও পাস্তা এবং লাল চালের ভাত খান। চর্বি ছাড়া মাংস, মাছ, বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের ডাল খান।

৩. শারীরিক পরিশ্রম করুন। শরীরচর্চা করলে আপনার ব্লাড সুগারের মাত্রা কমে যেতে পারে এবং তা স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে। একজন বিশেষজ্ঞ সুপারিশ করেন যে, টিভি দেখার সময় কমিয়ে ব্যায়াম করুন।

আপনি আপনার জিনগত (উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া) বৈশিষ্ট্য পালটাতে পারেন না কিন্তু আপনার জীবনযাত্রা পালটাতে পারেন। স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য করা আমাদের প্রাণপণ প্রচেষ্টা অবশ্যই সার্থক হবে। ▪ (g১৪-E ০৯)

^ অনু. 3 সচেতন থাক! পত্রিকা কোনো বিশেষ ধরনের খাদ্য তালিকা অথবা শরীরচর্চার তালিকা সুপারিশ করে না। প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্কতার সঙ্গে সেগুলো বাছাই করা উচিত এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।