সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  এপ্রিল ২০১৪

 সাক্ষাৎকার | ফেং-লিং ইয়ং

একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট তার বিশ্বাস সম্বন্ধে বলেন

একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট তার বিশ্বাস সম্বন্ধে বলেন

ফেং-লিং ইয়ং হলেন তাইওয়ানের তাইপে শহরের সেন্ট্রাল রিসার্চ একাডেমির একজন সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট। তার গবেষণার বিষয়গুলো বিভিন্ন বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু, পরে তিনি তার চিন্তাধারা পরিবর্তন করেন। সচেতন থাক! তাকে তার বিজ্ঞান ও তার বিশ্বাস সম্বন্ধে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিল।

আপনার ছোটোবেলা সম্বন্ধে আমাদের কিছু বলুন।

আমার বাবা-মা ছিল খুবই গরিব আর আমার মা পড়তে জানতেন না। আমরা তাইপে শহরের কাছে এক বন্যাপ্রবণ এলাকায় থাকতাম আর আমরা শূকর প্রতিপালন করতাম এবং শাকসবজি চাষ করতাম। আমার বাবা-মা আমাকে কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার মূল্য শিখিয়েছিল আর সেইসঙ্গে অন্যদের সাহায্য করতেও শিখিয়েছিল।

আপনার পরিবারের লোকেদের কি ধর্মের বিষয়ে আগ্রহ ছিল?

আমরা তাও ধর্মাবলম্বী ছিলাম। আমরা “স্বর্গদেবতার” কাছে উৎসর্গ করতাম, কিন্তু তার সম্বন্ধে কিছুই জানতাম না। আমি অনেক সময় চিন্তা করতাম: ‘কেন লোকেরা কষ্টভোগ করে? কেন লোকেরা স্বার্থপর?’ আমি তাও এবং বৌদ্ধ ধর্মের বই আর সেইসঙ্গে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ইতিহাস পড়তাম। আমি এমনকী কয়েকটা গির্জাতেও গিয়েছিলাম। কিন্তু, আমি আমার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাইনি।

কেন আপনি বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন?

আমি অঙ্ক করতে ভালোবাসতাম আর ভৌত এবং রাসায়নিক সূত্র যেভাবে কোনো বস্তুর গঠনকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা দেখে আমি অবাক হয়ে যেতাম। এই বিশাল নিখিলবিশ্ব থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আণবিক প্রাণী পর্যন্ত সমস্তকিছুর গঠন একটা নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আর আমি সেই নিয়মগুলো বোঝার চেষ্টা করতাম।

কেন আপনি বিবর্তনবাদকে সত্য বলে মেনে নিয়েছিলেন?

আমাকে এটাই শেখানো হয়েছিল। প্রাথমিক স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিবর্তনকেই একমাত্র কারণ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। আর তারপর যেহেতু আমি জীবন বিজ্ঞানের একজন গবেষক হয়েছিলাম, তাই আশা করা হতো যে, আমি বিবর্তনকে মেনে নেব।

যেহেতু আমি জীবন বিজ্ঞানের একজন গবেষক ছিলাম, তাই আশা করা হতো যে, আমি বিবর্তনকে মেনে নেব

 কেন আপনি বাইবেল পড়তে শুরু করেছিলেন?

আমি ১৯৯৬ সালে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করার জন্য জার্মানিতে গিয়েছিলাম। পরের বছর আমার সঙ্গে সিমোন নামে একজন মহিলার সাক্ষাৎ হয়। তিনি ছিলেন একজন যিহোবার সাক্ষি আর তিনি আমাকে বাইবেল থেকে আমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রস্তাব দেন। যখন তিনি আমাকে বলেন যে, বাইবেল জীবনের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করে, তখন আমার কৌতূহল বেড়ে যায়। আমি প্রত্যেক দিন ভোর সাড়ে চারটেয় উঠে এক ঘন্টা করে বাইবেল পড়তাম। এরপর আমি যা পড়েছি, তা নিয়ে চিন্তা করার জন্য হাঁটতে যেতাম। পরের বছরের মধ্যে, আমি পুরো বাইবেল পড়ে শেষ করি। আমি বাইবেলের ভবিষ্যদ্‌বাণীগুলোর সঠিকতা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ধীরে ধীরে আমি এই বিষয়ে দৃঢ়নিশ্চিত হয়েছিলাম যে, বাইবেল ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রাপ্ত বই।

জীবনের উৎপত্তি সম্বন্ধে আপনি কী মনে করতেন?

১৯৯০ সালের শেষের দিকে আমি যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে শুরু করেছিলাম, সেই সময় মাইক্রোবায়োলজিস্টরা উপলব্ধি করতে শুরু করেছিল যে, জীবিত বস্তুর আভ্যন্তরীণ গঠন সম্বন্ধে পূর্বে তাদের যে-ধারণা ছিল, সেটা থেকে তা অনেক জটিল। অবশ্য, বিজ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই জানত যে, সজীব কোষের মধ্যে প্রোটিন অণুর রাসায়নিক গঠন হল সবচেয়ে জটিল। কিন্তু এখন তারা আবিষ্কার করতে পেরেছে যে, কীভাবে সমস্ত প্রোটিন একতাবদ্ধ হয়ে সচল সুসংগঠিত তন্ত্র তৈরি করে। একটা অণুর মধ্যে ৫০টারও বেশি প্রোটিন থাকতে পারে। একটা সাধারণ কোষেরও অনেক প্রকারের কাজ করার প্রয়োজন হয়, যেমন শক্তি উৎপন্ন করা, একইরকম তথ্য উৎপাদন করা আর কোষের পর্দার মধ্যে দিয়ে আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করা।

আপনি কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন?

আমি চিন্তা করতে শুরু করেছিলাম, ‘কীভাবে ওই প্রোটিনগুলো এত সুষ্ঠভাবে কাজ করে থাকে?’ সেই সময়, কোষের আভ্যন্তরীণ গঠনের অভাবনীয় জটিলতা বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানীকেও একই প্রশ্ন করতে পরিচালিত করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বায়োকেমিস্ট্রিব একজন অধ্যাপক তার প্রকাশিত একটা বইয়ে এই যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, জীবিত কোষের আণবিক গঠন এত জটিল যে, তা আকস্মিকভাবে নিজে থেকে অস্তিত্বে আসতে পারে না। আমিও তা-ই মনে করতাম। আমি বুঝতে পেরেছিলাম, জীবনকে নিশ্চয়ই সৃষ্টি করা হয়েছে।

আমি চিন্তা করতে শুরু করেছিলাম, ‘কীভাবে ওই প্রোটিনগুলো এত সুষ্ঠভাবে কাজ করে থাকে?’

কেন আপনি একজন যিহোবার সাক্ষি হয়েছিলেন?

আমি সত্যিই অবাক হয়ে যেতাম যে, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও সিমোন প্রত্যেক সপ্তাহে প্রায় ৩৫ মাইল (৫৬ কিলোমিটার) দূর থেকে আমার সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করার জন্য আসতেন। আমি জানতে পেরেছিলাম, জার্মানির নাতসি আমলে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার জন্য কিছু সাক্ষিকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তাদের সাহসের কথা শুনে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি যখন দেখেছিলাম যে, সাক্ষিরা ঈশ্বরকে কতটা ভালোবাসে, তখন আমিও তাদের মতো হতে চেয়েছিলাম।

ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস করার ফলে আপনি কি উপকৃত হয়েছেন?

আমার সহকর্মীরা বলে, আমি এখন আগের চেয়ে অনেক সুখী। গরিব পরিবার থেকে এসেছিলাম বলে, আমি নিজেকে খুব ছোটো মনে করতাম আর তাই আমি কখনো অন্যদেরকে আমার ছোটোবেলা সম্বন্ধে কিংবা আমার বাবা-মা সম্বন্ধে কিছু বলতাম না। কিন্তু, আমি বাইবেল থেকে শিখেছিলাম যে, ঈশ্বরের কাছে কারোর সামাজিক পদমর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আসলে, যিশুও সম্ভবত আমার মতোই একটা গরিব পরিবারে বড়ো হয়ে উঠেছিলেন। এখন আমি আমার বাবা-মায়ের যত্ন নিই আর খুশি মনে তাদের সম্বন্ধে আমার বন্ধুবান্ধবদের জানাই। ▪ (g14-E 01)