সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  এপ্রিল ২০১৪

 বাইবেলের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রেতচর্চা

প্রেতচর্চা

মৃতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা কি ভুল?

“তোমরা ভূতড়িয়াদের . . . অভিমুখ হইও না . . . , করিলে আপনাদিগকে অশুচি করিবে।”লেবীয় পুস্তক ১৯:৩১.

লোকেরা যা বলে

এটা ঠিক, লোকেরা আশ্বস্ত হতে চায় যে, তাদের মৃত প্রিয়জনেরা কষ্টভোগ করছে না। তাই, তারা বলে: “ভূতুড়িয়া বা যাদের ওপর আত্মা ভর করে এমন কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে, সেই মৃত ব্যক্তির সঙ্গে যোগোযোগের চেষ্টা করলে কেমন হয়? তারা হয়তো আমাদেরকে শোক কাটিয়ে উঠতে এবং মনের শান্তি পেতে সাহায্য করতে পারে।”

বাইবেল যা বলে

মৃতদের সঙ্গে জীবিতদের যোগোযোগ করার চেষ্টার বিষয়ে, বাইবেলের নির্দেশনা একেবারে স্পষ্ট। প্রাচীনকালে এই অভ্যাস ছিল এক সাধারণ বিষয়। উদাহরণ স্বরূপ, ইস্রায়েল জাতিকে যিহোবা ঈশ্বর যে-ব্যবস্থা দিয়েছিলেন, সেটা বলে: “তোমার মধ্যে যেন এমন কোন লোক পাওয়া না যায়, যে . . . গণক, বা . . . প্রেতসাধক। কেননা সদাপ্রভু এই সকল কার্য্যকারীকে ঘৃণা করেন।” (দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১০-১২) এ ছাড়া, বাইবেল বলে, যারা কোনো ধরনের প্রেতচর্চা করে, তারা “ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না।”—গালাতীয় ৫:১৯-২১.

 মৃতেরা কি জীবিতদের প্রভাবিত করতে পারে?

“জীবিত লোকেরা জানে যে, তাহারা মরিবে; কিন্তু মৃতেরা কিছুই জানে না।” উপদেশক ৯:৫.

লোকেরা যা বলে

অনেক লোক দাবি করে যে, মৃতেরা অন্য কোনোভাবে বেঁচে থাকে। তাই, তারা হয়তো মৃতদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে, সম্ভবত কিছু তথ্য পাওয়ার জন্য অথবা মৃতদের তুষ্ট করার আশায়, যাতে তারা জীবিতদের শান্তিতে থাকতে দেয়।

বাইবেল যা বলে

“জীবিত লোকেরা জানে যে, তাহারা মরিবে; কিন্তু মৃতেরা কিছুই জানে না। . . . তাহাদের প্রেম, তাহাদের দ্বেষ ও তাহাদের ঈর্ষা [জীবিত থাকিবার সময় তাহারা যাহা কিছু অনুভব করিত] সকলই বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে।” (উপদেশক ৯:৫, ৬) হ্যাঁ, বাইবেল শিক্ষা দেয় যে, মৃতেরা সম্পূর্ণরূপেই মারা গিয়েছে! তারা চিন্তা করতে, কাজ করতে এমনকী ঈশ্বরের উপাসনাও করতে পারে না। গীতসংহিতা ১১৫:১৭ পদ বলে: “মৃতেরা সদাপ্রভুর প্রশংসা করে না, যাহারা নিস্তব্ধ স্থানে নামে, তাহারা কেহ করে না।”

ভূতুড়িয়ারা কি মাঝে মাঝে সঠিক তথ্য দেয় না?

[লোকেরা] জীবিতদের জন্য কি মৃতদের কাছে [অন্বেষণ করিবে]?”—যিশাইয় ৮:১৯.

লোকেরা যা বলে

কেউ কেউ দাবি করে যে, ভূতুড়িয়ারা সেইসমস্ত তথ্য দিতে সমর্থ, যা কেবলমাত্র সেই মৃত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবার অথবা বন্ধুবান্ধবদের পক্ষেই জানা সম্ভব।

বাইবেল যা বলে

১ শমূয়েল ২৮ অধ্যায় বলে যে, কীভাবে শৌল নামে একজন অবিশ্বস্ত রাজা, ভূতুড়িয়াদের কাছ থেকে পরামর্শ না নেওয়ার বিষয়ে ঈশ্বরের আজ্ঞা লঙ্ঘন করেছিলেন। তিনি একজন ভূতুড়িয়া মহিলার কাছে গিয়েছিলেন, যিনি ঈশ্বরের একজন মৃত দাস শমূয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু, তিনি কি সত্যিই শমূয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন? না! তিনি আসলে একজন প্রতারকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, যে মৃত শমূয়েলের রূপ ধারণ করেছিল।

সেই প্রতারক ছিল একজন মন্দদূত, ‘মিথ্যাবাদীর পিতা’ শয়তানের একজন সঙ্গী। (যোহন ৮:৪৪) কেন মন্দদূতেরা এই ধারণা ছড়িয়ে দিতে চায় যে, মৃতেরা বেঁচে থাকে? তাদের লক্ষ্য হল, ঈশ্বরের ওপর দূর্নাম নিয়ে আসা এবং তাঁর লিখিত বাক্য বাইবেলকে অসম্মান করা।—২ তীমথিয় ৩:১৬.

ওপরে যা-কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, তার অর্থ কি এই যে, মৃতদের কোনো আশাই নেই? একেবারেই না! যারা কবরে “নিদ্রা গিয়াছে” তাদের সম্বন্ধে বাইবেল প্রতিজ্ঞা করে যে, তারা ভবিষ্যতে পুনরুত্থিত হবে। * (যোহন ১১:১১-১৩; প্রেরিত ২৪:১৫) সেই দিন না আসা পর্যন্ত, আমরা আশ্বস্ত থাকতে পারি যে, আমাদের মৃত প্রিয়জনরা কোনোভাবেই কষ্টভোগ করছে না। ▪ (g14-E 02)

^ অনু. 16 বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়? বইয়ের ৭ অধ্যায়ের শিরোনাম হল, “আপনার মৃত প্রিয়জনদের জন্য প্রকৃত আশা।” www.jw.org ওয়েবসাইটে অনলাইনে আপনি এটা পড়তে পারেন।