সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  এপ্রিল ২০১৪

আপনার রহস্যময় অশ্রু

আপনার রহস্যময় অশ্রু

জন্মের দিন থেকে কান্না আমাদের সঙ্গী হয়ে আছে। একজন বিশেষজ্ঞের মতে, শিশু অবস্থায় আমরা আমাদের কান্নার মাধ্যমে আমাদের কী দরকার, তা বোঝাতে চাই কারণ আমরা আমাদের আবেগগত ও শারীরিক প্রয়োজনীয়তা পূরণ করার জন্য কাঁদি। কিন্তু প্রশ্ন হল, বড়ো হওয়ার পরও যখন আমরা অন্য উপায়ে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি, তখনও কেন আমরা অশ্রু বা চোখের জল ফেলি?

বিভিন্ন আবেগগত কারণে আমাদের চোখ জলে ভরে যায়। আমাদের প্রচণ্ড শোক, হতাশা কিংবা শারীরিক অথবা মানসিক কষ্ট হলে, আমরা হয়তো কেঁদে ফেলি। কিন্তু আবার আনন্দের কোনো মুহূর্ত, স্বস্তি আর কোনো সাফল্যও চোখে জল এনে দিতে পারে, যাকে বলে আনন্দাশ্রু। অন্যের চোখে জল দেখেও আমরা কেঁদে ফেলতে পারি। মারিয়া নামে একজন মহিলা বলেন, “আমি যখন অন্যকে কাঁদতে দেখি, তা যেকোনো কারণেই হোক না কেন, তখন আমি নিজেকে সামলাতে পারি না, আমিও কেঁদে ফেলি।’ কোনো সিনেমা অথবা কোনো বইয়ের ঘটনাও আপনার চোখে জল এনে দিতে পারে।

কারণ যা-ই হোক না কেন, কান্না হল অতীব কার্যকরী এক অনুচ্চারিত ভাষা। প্রাপ্তবয়স্কদের কান্না (ইংরেজি) নামে একটা বই ব্যাখ্যা করে, “এত অল্প সময়ে এত বেশি কথা বলার এইরকম উপায় খুব কমই আছে।” চোখের জল আমাদের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। উদাহরণ স্বরূপ, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই দুঃখের কান্না দেখে প্রভাবিত না হয়ে থাকতে পারে না কারণ সেটা আমাদের বলে দেয় যে, কেউ কষ্ট পাচ্ছে। আর সেই কারণেই আমরা হয়তো যিনি কাঁদছেন, তাকে সান্ত্বনা দিই কিংবা সাহায্য করি।

কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করে যে, কান্না আমাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশের এক কার্যকরী উপায় আর সেই কান্নাকে বার বার চেপে রাখলে, তা হয়তো আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। আবার অন্যেরা যুক্তি দেখায়, কান্না যে শারীরিক অথবা মানসিকভাবে উপকার করে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তবুও সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ৮৫ শতাংশ মহিলা ও ৭৩ শতাংশ পুরুষ কাঁদার পর নিজেকে হালকা মনে করে থাকে। নোয়িমি নামে একজন মহিলা বলেন, “কখনো কখনো আমি বুঝতে পারি যে, আমার কাঁদা উচিত। আর কাঁদার পর আমার নিজেকে হালকা লাগে আর আমি বিষয়গুলোকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পাই।”

সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ৮৫ শতাংশ মহিলা ও ৭৩ শতাংশ পুরুষ কাঁদার পর নিজেকে হালকা মনে করে থাকে

কিন্তু, এই ধরণের স্বস্তির অনুভূতি হয়তো শুধুমাত্র কাঁদার ওপর নির্ভর করে না। আমাদের কান্নার প্রতি  অন্যেরা যেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন, যখন আমাদের কান্না দেখে অন্যেরা আমাদের সান্ত্বনা দেয় অথবা আমাদের সাহায্য করে, তখন আমরা স্বস্তি পাই। কিন্তু, যদি কেউ সেদিকে নজর না দেয়, তবে আমরা হয়তো লজ্জিত বোধ করি কিংবা অবহেলিত মনে করি।

তবে এটা ঠিক যে, চোখের জল সম্পর্কে রহস্য অধরাই থেকে গিয়েছে। তবে আমরা যা জানি তা হল, চোখের জল আমাদের আবেগকে প্রকাশ করার এক অন্যতম উপায়, যা ঈশ্বর আমাদেরকে দিয়েছেন। ▪ (g14-E 03)