সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  এপ্রিল ২০১৪

 পরিবারের জন্য সাহায্য | বিবাহ

আপনি যখন আপনার বিবাহিত জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন

আপনি যখন আপনার বিবাহিত জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন

প্রতিদ্বন্দ্বিতা

বিয়ের আগে মনে হত, আপনার সাথির সঙ্গে আপনার কত মিল রয়েছে। কিন্তু এখন, সেই মোহ ভেঙে গিয়ে আপনাদের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরেছে। ভালোবাসার সেই সম্পর্ক এখন আপনাদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনি আপনাদের সম্পর্ককে উন্নত করতে পারেন। কিন্তু, প্রথমে আসুন আমরা দেখি যে, কেন আপনার মোহভঙ্গ হল।

যে-কারণে এটা হয়ে থাকে

বাস্তবের মুখোমুখি হতে হয়। প্রত্যেক দিনের কাজের চাপে, সন্তানদের বড়ো করে তুলতে গিয়ে আর শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকতে থাকতে, আপনার বিবাহিত জীবনের আনন্দ যেন ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। সেইসঙ্গে অপ্রত্যাশিত সমস্যাগুলো, হতে পারে অর্থনৈতিক সমস্যা অথবা পরিবারের কোনো সদস্যের দীর্ঘ দিনের কোনো অসুস্থতা আপনার বিবাহ বন্ধনকে দুর্বল করে দিতে পারে।

মতভেদগুলো যা মেনে নেওয়া অসম্ভব বলে মনে হয়। বিয়ের আগে মেলামেশা করার সময় আপনি হয়তো মতপার্থক্যগুলোকে ততটা গুরুত্ব দিতেন না। কিন্তু বিয়ের পর, একজন স্বামী এবং স্ত্রী দেখেন যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন কথা বলার ধরণ, টাকাপয়সা খরচ করা এবং কোনো সমস্যা সমাধান করার বিষয়ে, তারা কত আলাদা। যে-পার্থক্যগুলো একসময় শুধুমাত্র সামান্য বিরক্তির কারণ ছিল, সেগুলো এখন হয়তো অসহ্য বলে মনে হতে পারে।

আপনারা একে অপরের অনুভূতিগুলো নিয়ে আর চিন্তা করেন না। নিষ্ঠুর কথা কিংবা আচরণ অনেক দিন ধরে চলতে থাকলে এবং ঝগড়ার মীমাংসা করা না হলে, একসময় স্বামী অথবা স্ত্রী নিজেকে মানসিকভাবে গুটিয়ে নিতে পারেন। এর থেকেও খারাপ বিষয় হল, তারা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে আবেগগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে।

আপনার প্রত্যাশাগুলো অবাস্তব ছিল। কোনো কোনো ব্যক্তি বিয়ে করার সময় চিন্তা করেন যে, তিনি এমন একজন সাথি খুঁজে পেয়েছেন, যাকে শুধু তার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। এই চিন্তা যদিও বেশ রোমান্টিক বলে মনে হতে পারে, কিন্তু তা সমস্যা নিয়ে আসতে পারে। যখনই সমস্যা আসে, ‘তুমি শুধু আমার’ এই ধারণা ভেঙে খানখান হয়ে যায়, আর উভয় সাথিই মনে করে যে, তাদের বাছাই ভুল ছিল।

 আপনি যা করতে পারেন

আপনার সাথির ভালো গুণাবলির ওপর মনোযোগ দিন। এটা করে দেখুন: আপনার সাথির তিনটে ভালো গুণ লিখে রাখুন। সেই লেখাটা আপনার কাছে রাখুন, হতে পারে আপনার কাছে থাকা আপনাদের বিয়ের একটা ছবির পিছনের দিকে কিংবা মোবাইল ফোনে লিখে রাখুন। নিয়মিত সেটা দেখুন, যাতে আপনার মনে পড়ে যে, কেন আপনি তাকে বিয়ে করেছিলেন। আপনার সাথির ভালো গুণগুলোর ওপর মনোযোগ দেওয়া আপনাদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখবে আর কোনো মতপার্থক্য হলে, তা মিটিয়ে ফেলতে সাহায্য করবে।—বাইবেলের নীতি: রোমীয় ১৪:১৯.

একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য পরিকল্পনা করুন। বিয়ের আগে আপনারা দু-জনে হয়তো একসঙ্গে কিছু করার জন্য সময় আলাদা করে রাখতেন। ডেটিং করা রোমাঞ্চকর বলে মনে হতো আর তার জন্যও আপনি আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখতেন। এখনও একইরকম করুন না কেন? ঠিক সেই ডেটিং-এর মতো আপনি ও আপনার সাথি একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য পরিকল্পনা করুন। তা করা আপনাদেরকে একে অন্যের আরও কাছে আসতে আর জীবনে আসা অপ্রত্যাশিত সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে।—বাইবেলের নীতি: হিতোপদেশ ৫:১৮.

নিজের অনুভূতির কথা বলুন। আপনার সাথি যদি আপনাকে তার কথায় অথবা কাজে দুঃখ দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি কি তা উপেক্ষা করতে পারেন? যদি না পারেন, তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেবেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, হতে পারে সেই দিনই, আপনার সাথির সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে শান্তভাবে কথা বলুন।—বাইবেলের নীতি: ইফিষীয় ৪:২৬.

আপনার সাথি যদি আপনাকে তার কথায় অথবা কাজে দুঃখ দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি কি তা উপেক্ষা করতে পারেন?

আপনার অনুভূতি আর আপনার সাথি আসলে যা বলতে চেয়েছেন, তা নিয়ে একটু চিন্তা করুন। সম্ভবত, আপনারা কেউই একে অপরকে আঘাত দিতে চান না। আপনি যদি তাকে দুঃখ দিয়ে থাকেন, তাহলে তার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে তাকে বলুন যে, আপনি তাকে আঘাত দিতে চাননি। এরপর, অনিচ্ছাকৃতভাবে দুঃখ দেওয়া এড়িয়ে চলার জন্য আপনারা দু-জনে কী কী করতে পারেন, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করুন। বাইবেলের এই পরামর্শ অনুসরণ করুন: “তোমরা পরস্পর মধুরস্বভাব ও করুণচিত্ত হও, পরস্পর ক্ষমা কর।”—ইফিষীয় ৪:৩২.

আপনার প্রত্যাশাগুলো যেন বাস্তবসম্মত হয়। বাইবেল স্বীকার করে যে, যারা বিয়ে করে তাদের “ক্লেশ ঘটিবে।” (১ করিন্থীয় ৭:২৮) আপনি যখন এই ধরনের ক্লেশ ভোগ করে থাকেন, তখন দ্রুত এই সিদ্ধান্তে আসবেন না যে, বিয়ে করে আপনি ভুল করেছেন। এর পরিবর্তে, মতপার্থক্য মিটিয়ে ফেলার জন্য আপনারা পদক্ষেপ নিন আর ‘পরস্পর সহনশীল হোন, এবং যদি কাহাকেও দোষ দিবার কারণ থাকে, তবে পরস্পর ক্ষমা করুন।’—কলসীয় ৩:১৩. ▪ (g14-E 03)