সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

সজাগ হোন!  |  জানুয়ারি ২০১৪

 বাইবেলের দৃষ্টিভঙ্গি

অবসাদ

অবসাদ

অবসাদ বলতে কী বোঝায়?

“আমি কুব্জ হইয়াছি, অত্যন্ত নুইয়া পড়িয়াছি, আমি সমস্ত দিন বিষণ্ণ হইয়া বেড়াইতেছি।”—গীতসংহিতা ৩৮:৬.

গবেষকরা যা বলে

প্রত্যেকেই কখনো-না-কখনো হতাশ হয়ে পড়ে, কিন্তু ডাক্তারি পরিভাষায় যেটাকে অবসাদ (ডিপ্রেশন) বলা হয়, সেটা হল নিস্তেজ করে দেওয়ার মতো এমন এক অসুখ, যেটা ক্রমাগত চলতেই থাকে আর একজন ব্যক্তির প্রাত্যহিক জীবনকে ব্যাহত করে। এটা মনে রাখা উচিত, সমস্ত বিশেষজ্ঞ এই বিষয়ে একমত নয় যে, কোনটা “স্বাভাবিক” বিষন্নতা আর কোনটা “অসুস্থতা।” কিন্তু সচরাচর দেখা যায় যে, কেউ কেউ খুবই নেতিবাচক আবেগের দ্বারা জর্জরিত হয়ে থাকে আর কখনো কখনো এটার সঙ্গে যুক্ত হয়, অযোগ্যতার অনুভূতি ও অত্যধিক অপরাধবোধ।

বাইবেল যা বলে

বাইবেল এমন অনেক পুরুষ ও নারীর বিষয়ে বলে, যারা নেতিবাচক আবেগের দ্বারা জর্জরিত হয়েছিল। উদাহরণ স্বরূপ, হান্না “তিক্তপ্রাণা” হয়েছিলেন, যেটাকে “দুঃখিনী” এবং ‘মর্মজ্বালা’ হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে। (১ শমূয়েল ১:১০) অন্য এক সময়, ভাববাদী এলিয় দুঃখে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, তিনি নিজের মৃত্যুকামনা করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন।—১ রাজাবলি ১৯:৪.

প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানদেরকে ‘ক্ষীণসাহসদিগকে সান্ত্বনা করিতে [‘বিষন্নদের প্রতি সান্ত্বনার বাক্য বলতে’ NW]’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। (১ থিষলনীকীয় ৫:১৪) একটা তথ্যগ্রন্থ অনুসারে ‘বিষণ্ণ’ বলতে সেই ব্যক্তিদের বোঝাতে পারে “যারা তাদের জীবনে আসা বিভিন্ন চাপের কারণে সাময়িকভাবে দিশাহারা হয়ে যায়।” স্পষ্টতই, এমনকী বাইবেলের বিশ্বস্ত পুরুষ ও নারীরাও কখনো কখনো অবসাদে ভুগত।

 অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তি কি তার নিজের কষ্টের জন্য দায়ী?

‘সমস্ত সৃষ্টি একসঙ্গে আর্ত্তস্বর করিতেছে, ও একসঙ্গে ব্যথা খাইতেছে।’—রোমীয় ৮:২২.

বাইবেল যা বলে

বাইবেল শিক্ষা দেয় যে, প্রথম মানবদম্পতির বিদ্রোহের একটা ফল হল অসুস্থতা। উদাহরণ স্বরূপ, গীতসংহিতা ৫১:৫ পদ বলে: “অপরাধে আমার জন্ম হইয়াছে, পাপে আমার মাতা আমাকে গর্ব্ভে ধারণ করিয়াছিলেন।” আর রোমীয় ৫:১২ পদ জানায় যে, “এক মনুষ্য [প্রথম মানব আদম] দ্বারা পাপ, ও পাপ দ্বারা মৃত্যু জগতে প্রবেশ করিল; আর এই প্রকারে মৃত্যু সমুদয় মনুষ্যের কাছে উপস্থিত হইল, কেননা সকলেই পাপ করিল।” যেহেতু আমরা আদমের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে অসিদ্ধতা পেয়েছি, তাই আমরা প্রত্যেকে সহজেই শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক দিয়েই অসুস্থ হই। বাইবেল জানায়, এর ফলে ‘সমস্ত সৃষ্টি একসঙ্গে আর্ত্তস্বর করিতেছে, ও একসঙ্গে ব্যথা খাইতেছে।’ (রোমীয় ৮:২২) তবে, বাইবেল এমন একটা আশা দেয়, যা কোনো ডাক্তার দিতে পারে না আর তা হল, শান্তিপূর্ণ নতুন জগৎ সম্বন্ধে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা, যেখানে অবসাদ-সহ সমস্ত অসুস্থতা এবং বিষন্নতা দূর হয়ে যাবে।—প্রকাশিত বাক্য ২১:৪.

আপনি কীভাবে অবসাদ কাটিয়ে উঠতে পারেন?

“সদাপ্রভু ভগ্নচিত্তদের নিকটবর্ত্তী, তিনি চূর্ণমনাদের পরিত্রাণ করেন।”—গীতসংহিতা ৩৪:১৮.

যে-কারণে এটা গুরুত্বপূর্ণ

আপনি সবসময় আপনার পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না আর কখনো কখনো আপনার প্রতি মন্দ বিষয়গুলো ঘটতে পারে। (উপদেশক ৯:১১, ১২) কিন্তু, আপনি কিছু ব্যবহারিক পদক্ষেপ নিতে পারেন, যাতে নেতিবাচক অনুভূতি আপনার জীবনকে গ্রাস করে না ফেলে।

বাইবেল যা বলে

বাইবেল স্বীকার করে যে, অসুস্থ ব্যক্তিদের ডাক্তারের প্রয়োজন। (লূক ৫:৩১) আপনি যদি কোনো মুড ডিসঅর্ডারে (এক প্রকার মানসিক রোগ) ভোগেন, তাহলে ডাক্তারি সাহায্য নেওয়ার মধ্যে ভুল কিছু নেই। এ ছাড়া, বাইবেল প্রার্থনার গুরুত্বের ওপরও জোর দেয়। উদাহরণ স্বরূপ, গীতসংহিতা ৫৫:২২ পদ বলে: “তুমি সদাপ্রভুতে আপনার ভার অর্পণ কর; তিনিই তোমাকে ধরিয়া রাখিবেন, কখনও ধার্ম্মিককে বিচলিত হইতে দিবেন না।” প্রার্থনা শুধু আপনাকে ভালো বোধ করানোর কোনো উপায় নয়; এটা সত্যিই যিহোবা ঈশ্বরের সঙ্গে কথোপকথনের একটা উপায়, যিনি “ভগ্নচিত্তদের নিকটবর্ত্তী।”—গীতসংহিতা ৩৪:১৮.

আপনি হয়তো কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে আপনার অনুভূতির কথা খুলে বলার দ্বারাও উপকার পেতে পারেন। (হিতোপদেশ ১৭:১৭) ড্যানিয়েলা নামে একজন যিহোবার সাক্ষি বলেন, ‘একজন সহবিশ্বাসী কোমলভাবে আমাকে আমার অবসাদের বিষয়ে বলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। যদিও আমি বিগত কয়েক বছর এই বিষয়ে কথা বলা এড়িয়ে চলতাম, তবুও আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমার এটাই করার প্রয়োজন ছিল। পরে আমি কত স্বস্তি পেয়েছিলাম, তা দেখে আমি নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।’ ▪ (g13-E 10)