ঠাণ্ডা জলে থাকে এমন বহু জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণীর চামড়ার নীচে মোটা চর্বির স্তর থাকে, যা তাদেরকে উষ্ণ থাকতে সমর্থ করে। সামুদ্রিক ভোঁদড় আরেকটা উপায়ে নিজের দেহকে উষ্ণ রাখে আর তা হল মোটা লোমের কোট বা আস্তরণ।

বিবেচনা করুন: অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর চেয়ে সামুদ্রিক ভোঁদড়ের দেহে যে-লোম থাকে, তা বেশি ঘন। এদের দেহে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে প্রায় ১০ লক্ষ (প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে ১,৫৫,০০০) লোম থাকে। ভোঁদড় যখন জলে সাঁতার কাটে, তখন এর লোম বাতাসের স্তরকে নিজের দেহের উপরিভাগে আবদ্ধ করে নেয়। এই বাতাস ইনসুলেটর বা অন্তরক হিসেবে কাজ করে, যা ঠাণ্ডা জলকে সরাসরি চামড়ার সংস্পর্শে আসতে ও দেহের তাপমাত্রা হ্রাস করতে বাধা সৃষ্টি করে।

বৈজ্ঞানিকরা মনে করেন, সামুদ্রিক ভোঁদড়ের লোম থেকে কিছু শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। তারা বেশ কয়েক প্রকারের কৃত্রিম লোমের কোট নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন, যেগুলোতে লোমের দীর্ঘতা ও পারস্পরিক ব্যবধানের পার্থক্য রয়েছে। গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, “লোমের দীর্ঘতা ও ঘনত্ব যত বেশি হবে, লোমের উপরিতল তত শুষ্ক থাকবে অর্থাৎ জল নিরোধক হবে।” আরেকভাবে বললে, সামুদ্রিক ভোঁদড়ের লোমের কোট এতটাই উৎকৃষ্ট যে, সেটা নিয়ে এরা গর্ব করতে পারে।

গবেষকরা আশা করেন, তাদের এই পরীক্ষানিরীক্ষা অভিনব জলনিরোধী জামাকাপড় ডিজাইন ও তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নতির এক পথ খুলে দেবে। এটা হয়তো অনেককে এই বিষয়ে ভেবে দেখতে সাহায্য করবে যে, যাদের ঠাণ্ডা জলে ডুব দিতে হয়, তারা যদি সামুদ্রিক ভোঁদড়ের মতো লোমের পোশাক পরত, তা হলে কতই-না ভালো হতো!

আপনি কী মনে করেন? সামুদ্রিক ভোদড়ের তাপ-অন্তরক লোম কি ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে এসেছে? না কি এটাকে সুপরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? ▪