সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  নং  ৩ ২০১৬

 প্রচ্ছদ বিষয় | প্রিয়জনের মৃত্যু

শোক করা কি ভুল?

শোক করা কি ভুল?

আপনি কি কখনো ছোটোখাটো কোনো অসুস্থতায় ভুগেছেন? হতে পারে, আপনি এত তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন যে, সেই অসুস্থতার কথা আপনার মনেই নেই। কিন্তু, শোকের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। একজন সাথির শোকার্ত হৃদয়ের আরোগ্য (ইংরেজি) নামক বইয়ে ড. অ্যালান উলফেল্ট লেখেন, ‘শোক কখনোই পুরোপুরিভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় না। কিন্তু, সময়ের স্রোতে ও অন্যদের সমর্থনে শোকের বোঝা কিছুটা হালকা হয়ে যায়।’

উদাহরণ হিসেবে কুলপতি অব্রাহামের কথা বিবেচনা করুন। স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে বাইবেলের মূল পাঠ্যাংশে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, “অব্রাহাম সারার নিমিত্তে শোক ও রোদন করিতে শুরু করিলেন।” এখানে “শুরু করিলেন” অভিব্যক্তিটা দেখায়, সেই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য অব্রাহামের বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল। * আমরা যাকোবের উদাহরণও বিবেচনা করতে পারি। তাকে এই কথা বলে প্রতারিত করা হয়েছিল, তার ছেলে যোষেফকে একটা বন্যপশু হত্যা করেছে। তিনি “অনেক দিন” পর্যন্ত শোক করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সান্ত্বনা পাওয়ার পরও তিনি সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বেশ কয়েক বছর পর্যন্ত তিনি যোষেফের জন্য কেঁদেছিলেন।—আদিপুস্তক ২৩:২; ৩৭:৩৪, ৩৫; ৪২:৩৬; ৪৫:২৮.

অব্রাহাম তার প্রিয় স্ত্রী সারাকে মৃত্যুতে হারিয়ে কাঁদছেন

কোনো প্রিয়জন মারা গেলে আজও অনেকে একইভাবে শোক করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে দুটো ঘটনার কথা বিবেচনা করে দেখুন।

  • “আমার স্বামীর নাম রবি। ২০০৮ সালের জুলাই মাসের ৯ তারিখে এক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। সেই দিনটা আর পাঁচটা দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। প্রতিদিনের মতো সকালের জলখাবারের পর কাজে যাওয়ার আগে আমার স্বামী আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করেছিলেন। সেই দিনের পর ছ-বছর কেটে গিয়েছে কিন্তু আমি এখনও তাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি। আমার মনে হয় না, আমি কখনো আমার স্বামীকে ভুলতে পারব।”—৬০ বছর বয়সি গীতা।

  • “আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দেখতে দেখতে ১৮টা বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু, এখনও আমি তাকে ভুলতে পারিনি আর তার জন্য কাঁদি। প্রকৃতিতে কোনো সুন্দর জিনিস দেখলেই, আমার তার কথা মনে পড়ে। আমি ভাবি, সে আজ বেঁচে থাকলে এটা দেখে কতই-না আনন্দিত হতো!”—৮৪ বছর বয়সি এরিক।

এখান থেকে আমার বুঝতে পারি, মনের মধ্যে জমে থাকা এই ধরনের বেদনাদায়ক অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করাটা অস্বাভাবিক নয়। একেক জন একেকভাবে শোক প্রকাশ করে আর তাই দুঃখজনক পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা নিয়ে আমাদের সমালোচনা করা উচিত নয়। অন্যদিকে, কেউ যদি বলে মৃত্যুতে কোনো প্রিয়জনকে হারিয়ে আমরা অতিরিক্ত শোক প্রকাশ করছি, তখন নিজেদের দোষী মনে করা উচিত নয়। এখন প্রশ্ন হল, কীভাবে আমরা শোক কাটিয়ে উঠতে পারি? (w16-E No. 3)

^ অনু. 4 অব্রাহামের ছেলে ইস্‌হাকও অনেক দিন পর্যন্ত তার মা সারার জন্য শোক করেছিলেন। সারা মারা যাওয়ার তিন বছর পরেও, ইস্‌হাক তাকে ভুলতে পারেননি।—আদিপুস্তক ২৪:৬৭.