সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জুন ২০১৭

আপনি কি জানতেন?

আপনি কি জানতেন?

যে-বণিকেরা যিরূশালেমের মন্দিরে পশু বিক্রি করত, তাদের ‘দস্যুগণ’ বলা কি সঠিক হবে?

মথির লেখা সুসমাচারের বিবরণ অনুযায়ী, “যীশু ঈশ্বরের ধর্ম্মধামে প্রবেশ করিলেন, এবং যত লোক ধর্ম্মধামে ক্রয়বিক্রয় করিতেছিল, সেই সকলকে বাহির করিয়া দিলেন, এবং পোদ্দারদের মেজ ও যাহারা কপোত বিক্রয় করিতেছিল, তাহাদের আসন সকল উল্টাইয়া ফেলিলেন, আর তাহাদিগকে কহিলেন, লেখা আছে, ‘আমার গৃহ প্রার্থনাগৃহ বলিয়া আখ্যাত হইবে,’ কিন্তু তোমরা ইহা ‘দস্যুগণের গহ্বর’ করিতেছ।”—মথি ২১:১২, ১৩.

যিহুদি ঐতিহাসিক নথি দেখায় যে, মন্দিরের বণিকেরা চড়া দামে পশুপাখি বিক্রি করার মাধ্যমে তাদের ক্রেতাদের স্বীয়স্বার্থে ব্যবহার করত। উদাহরণ স্বরূপ, প্রাচীন যিহুদি নথিতে প্রথম শতাব্দীর এমন এক সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যখন বলিদানের জন্য ব্যবহৃত এক জোড়া কপোতের দাম বেড়ে গিয়ে এক স্বর্ণ দিনারে পরিণত হয়েছিল। সেটা ছিল, একজন অনভিজ্ঞ শ্রমিকের প্রায় ২৫ দিনের পারিশ্রমিকের সমতুল্য। গরিব ব্যক্তিদের দ্বারা উৎসর্গীকৃত এক জোড়া কপোত বা ঘুঘুও গ্রহণযোগ্য বলিদান ছিল; কিন্তু, এমনকী এই পাখিগুলোকেও আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি করা হয়েছিল। (লেবীয়. ১:১৪; ৫:৭; ১২:৬-৮) এই পরিস্থিতির কারণে রব্বি শিমিয়োন বেন গ্যামালিয়েল এতটাই রেগে গিয়েছিলেন যে, তিনি বাধ্যতামূলক বলিদানগুলোর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছিলেন আর এর ফলে দ্রুত এই পাখিগুলোর দাম এতটাই কমে গিয়েছিল যে, একজন অনভিজ্ঞ শ্রমিক যদি তিন ঘণ্টা কাজ করতেন, তা হলেই তিনি এক জোড়া কপোত কিনতে পারতেন।

উপরের এই তথ্যগুলোর ভিত্তিতে, যিশু ন্যায্যভাবেই মন্দিরের বণিকদের ‘দস্যুগণ’ বলেছিলেন কারণ তারা স্বীয়স্বার্থে লোকেদের ব্যবহার করেছিল এবং লোভী মনোভাব দেখিয়েছিল।